মেঘ রোদ্দুর-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

যারা আমার লেখা আগে পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই ভাবছেন বিষয়টা কি।
এটা আমার রান্নার প্রথম এবং খুব সম্ভবত শেষ পোস্ট। অল্পবিস্তর সবারই রান্না করা হয়ে থাকে। আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি, তাদেরতো আরও বেশী। ছুটির দিনে হঠাৎ মাথায় আসলো আমার অতি সমাদৃত এবং খুবই সহজ একটা রান্নার পোস্ট দিলে কেমন হয়? আমার স্ত্রীকে জানাতেই সেও খুশী মনে সহযোগিতা করলো।
এই পোস্টটা তৈরি করতে যেয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, আমাদের সবার প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাইকে আসলে কত কিছু করতে হয় তার প্রতিটা রান্নার পোস্টের জন্য। প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাইএর প্রতি অনেক শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পোস্টটা দিলাম। সবার ভালো লাগলেই পোস্টের সফলতা। সাহাদাত উদরাজী ভাই, ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা রাখি।
শাহী ডিম ভুনা
(এই পোস্টটা লিখতে যেয়ে মনে পড়ে গেলো, হুমায়ূন আহমেদের ‘সমুদ্র বিলাস প্রাঃ লিঃ’ নামক নাটকে ডিম রান্নায় পারদর্শী, কুয়েত ফেরত বাবুর্চির (ডাঃ এজাজ) কথা।)
প্রথমেই রান্নার জন্য যা যা লাগবে তা রেডি করে নিন। রান্নার পাত্র, নাড়ার জন্য একটি বড় চামচ, ছুরি, ছোট চামচ, এগুলো ধুয়ে মুছে নিন। রান্নার সময় হাতের কাছে ছোট্ট একটা তয়লা রাখা ভালো। এটা বেশ কয়েকবার কাজে লাগবে, রান্নার বাইরেই।
এবার শুরু করুন শাহী ডিম ভুনা রান্নার প্রথম ধাপ। প্রথমে ডিমগুলোকে ভালো করে ধুয়ে, একটি পানি ভরা পাত্রে দিয়ে চুলায় বসান। মধ্যম আঁচে ডিমগুলো সিদ্ধ করুন কম পক্ষে ৮ - ১০ মিনিট। সিদ্ধ হয়ে গেলে খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিন।
এবার ডিমগুলোর গায়ে কাটা চামচ দিয়ে কিছু ছিদ্র করে নিন। এতে মশলা ভিতরে যেয়ে স্বাদ বাড়িয়ে দিবে।
এবারে আদা রশুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া ও জিরার গুঁড়া, লবন, তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, দারচিনি, এলাচি, তেজপাতা, ধনে পাতা, এবং এই রান্নার বিশেষ অথিতি কাজু বাদাম ও কিসমিস আন্দাজ মত নিয়ে নিন। আমি ৬ টা ডিমের জন্য নীচে ছবিতে দেখানো পরিমাণে এগুলো নিয়েছি। ঝাল কম খেলে কম মরিচ, বেশী খেলে বেশী। বাদবাকি মশলার ক্ষেত্রেও একই ফর্মুলা প্রযোজ্য। তবে শাহী ডিম ভুনা বলে কথা, একটু মশলা বেশী না হলে কি আর স্বাদ হবে ?
এবারের কাজটা আমার আবিষ্কৃত (জানিনা অন্য কেও করেন কিনা)। একটু লবন ও মরিচের গুঁড়া মিলিয়ে ডিমগুলোর গায়ে মাখিয়ে নিন।
পেঁয়াজ, ধনে পাতা কেটে নিন।
রান্নার পাত্র চুলায় চাপিয়ে, চুলা জ্বালিয়ে নিন। পাত্র একটু গরম হলেই, তাতে একটু তেল দিয়ে ডিমগুলোকে হালকা ভেজে উঠিয়ে নিন।
পাত্রে এবার রান্নার জন্য পরিমাণ মত তেল নিন, আগের তেলের সাথেই নিতে পারেন। তেজপাতা, দারচিনী, এলাচি গরম তেলে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন।
এরপর কাটা পেঁয়াজ দিয়ে মধ্যম আঁচে কিছুক্ষণ নাড়ুন।
পেঁয়াজের রঙ একটু লালচে হয়ে আসলে, একে একে, আদা রশুন বাটা, হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনের গুঁড়া, লবন দিয়ে নাড়তে থাকুন।
কিছুক্ষণ নাড়ার পর, একটু পানি দিয়ে নিন।
এভাবে ১-২ মিনিট রেখে, নেড়ে নিয়ে ডিমগুলো দিয়ে দিন। ডিমগুলোকে নেড়ে নেড়ে ঘুরিয়ে দিতে থাকুন তাতে মশলা সবদিকে লাগবে।
এবারে কাজু বাদাম, কিসমিস দিয়ে দিন।
একটু নেড়ে অল্প আঁচে ঢেকে রাখুন ২-৩ মিনিট। প্রয়োজনে একটু পানি দিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু বেশী যেন না হয়।
এবারে কাঁচা মরিচ দিয়ে আবার একটু ঢেকে রাখুন।
সব শেষে ধনে পাতা দিয়ে একটু নেড়ে ১-২ মিনিট চুলায় রাখুন।
ব্যাস তৈরি হয়ে গেলো শাহী ডিম ভুনা। এবার উপভোগ করুন পুরো দমে, আর মতামত দিন।
মন্তব্য
দেখেই মনে হচ্ছে খুবই মজার হবে।
এই মাত্র ডিম ভুনা করে এলাম।
ডিম আমি ভাজিনা, কারন তাতে উপরের চামড়াটা শক্ত হয়ে যায়!
আর একটি টিপস দেই, রান্নার সময় যখন পেঁয়াজ ভাজবেন তখন অল্প লবন দিয়ে নিবেন। এতে পেঁয়াজ তাড়াতাড়ি নরম হবে। আর ডিমের পেঁয়াজটা যদি বেরেস্তার মত লাল করে ভেজে তারপর অল্প পানি দিয়ে মসলা দেন তাহলে এর ফ্লেভার অনেক সুন্দর আসবে।
লেখকের মন্তব্য
সময় করে পড়ে মন্তব্য আর টিপস দিয়েছেন তাই অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা...
পরেরবার আপনার টিপসটা কাজে লাগাবো... অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা...
কি কমেন্ট করবো বুঝতে পারছিনা
লেখকের মন্তব্য
না বুঝার কমেন্টটাই তো বেশ লাগলো...
হাহাহা।
লেখকের মন্তব্য
রান্না ভালো হয় নাই তাই না নয়ন ভাই... ?
অসাধারণ লাগল। আপনার রেসিপি দেখে মনে পড়ল, অনেকদিন ডিম ভুনা খাওয়া হয় নাই, যদিও ডিম পোস, মামলেট খেয়েছি। একদিন বানিয়ে ফেলব। তবে দ্রব্য মুল্যে যা অবস্থা। কাজু বাদামের কথা আর ভাবতেই পারছি না! ধন্যবাদ। অসাধারণ ছবি।
এটা মানা যাচ্ছে না, মাঝে মাঞ্ঝে নুতন কিছু রান্না করলে দিতে পারেন। হা, রান্নার ছবি তোলা অনেক ধৈর্যের ব্যাপার। আর নিজে রান্না করে নিজে ছবি তোলা বেশ পরিশ্রমের কাজ। কতবার হাত ধোয়া মোছা করতে হয়।
ভাবীকে সালাম জানাবেন। নিঃসন্দেহে তিনি ভাল রান্না করেন।
শুভেচ্ছা আপনার পরিবারের সবার জন্য। ভাল থাকুন।
রান্নার সময়টায় একটা নতুন কবিতার জন্ম ব্যাহত হয়। তাই আপনার পোষ্টে মাইনাস দিলাম।
প্রিয় কবির কবিতা চাই । মাইন্ড করলেও আমি তাই বলব। সবসময় ।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় আপু, কবিতায় কি আর পেট ভরে...?

খুদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়...
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

আপনার খাটুনিটা একটু হলেও বুঝতে পেরেছি...
আপনার সালাম ও শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেয়া হোল। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা...
একটা অনুরোধ থাকবে (হা হা হা।।।) রান্নায় ভাবীকে সাহায্য করবেন প্রতিদিন। এতে ভাল পারিবারিক সময় কাটবে, গল্প গুজবে। আর নিজে (পিতা) রান্না করে সন্তানদের খাওয়ালে দেখুন তারা কি খুশি হয়! ভালবাসা বেড়ে যায় অনেকগুন।
আমি নিজেও এটা জানতাম না, এখনো শিখছি। রান্না আর ছাড়ছি না।।।। দুনিয়ার সেরা ভালবাসা এটা।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাই, আপনার মন্তব্যটা চিরদিন মনে থাকবে।
"রান্না আর ছাড়ছি না।।।। দুনিয়ার সেরা ভালবাসা এটা।"
এই কথাটাও মাথার ডিকশনারিতে বসে গেলো...
সাথে দোয়া করবেন আমরা সবাই যেন আমাদের সংসারকে এভাবেই ভালবাসতে পারি...
ধন্যবাদ মেঘ ভাই। আমার দোয়া সাথে থাকবে সব সময়।
আপনি দেশের বাইরে থাকেন, কোন দেশে আছেন বর্তমানে।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ভালো লাগলো আপনার দোয়া জেনে সাহাদাত উদরাজী ভাই।
আমি ও আমার স্ত্রী বর্তমানে কুয়ালা লুম্পুর, মালায়সিয়ায় চাকুরীরত আছি।
সিদ্ধ ডিমে কাটা চামচ দিয়ে ছিদ্র করলে মসলা ভিতরে যেয়ে স্বাদ বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু ছিদ্র না করলে কী হতে পারে জানেন? তেলে ভাজবার সময় ঠাস করে ফেটে যেতে পারে, এতে নানান বিপত্তি ঘটাও বিচিত্র নয়!
ডিম আমার পছন্দের আইটেম। কিন্তু এখন আর তেমন সহ্য হয় না। অতিরিক্ত সিদ্ধ করা হলে, বেশিক্ষণ জ্বাল দিলে কুসুমের চারপাশে যদি কালো হয়ে যায়, তবে তা পেটের জন্য বেশ ক্ষতিকর।
নিজে রান্না করুন, আনন্দে ভোজন করুন, রেসিপি দিন, আমাদের জিহবায় জল আসুক।
শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় নাজমুল হুদা ভাই, আপনার সুন্দর আর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য বরাবর আনন্দ দেয়।
অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আপনার মন্তব্য আমার মত সব অপটু রান্ধুনীদের কাজে লাগবে...
ছবি,উপস্থাপনা, রান্না সবি ভাল লাগলো। প্রিয়তে---
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ।
আমার এই পোস্ট প্রিয়তে যাবে কোনদিনও ভাবি নাই।
মেঘ রোদ্দুর ভাই, অনুমতি দিলে আপনার এই লেখাটা আমি এখানে রাখতে পারি।
অনেকদিন দেখছি না, কেমন আছেন?
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় সাহাদাত ভাই, আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? চতুরে বেশ কিছুদিন যাবত অনিয়মিত হয়ে গেছি একটু।
মহান আল্লাহ্র রহমতে, গত ২৪ তারিখে, রাত ০০:২৪ টায় আমাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করেছে।
আপনাদের সবার দোয়া কাম্য।
আপনার রেসিপির সাইটটা দেখে সত্যি খুবই খুশি হলাম।
আপনার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও আপনার এই বাড়তি শ্রম যে দারুণ সফল তা আবারো প্রমাণ হোল।
আমার এই ক্ষুদ্র রেসিপিটা আপনার সাইটে রাখবেন, এটা তো আমার সৌভাগ্য। কিন্তু এরকম অতি সাধারণ পোস্ট, নিজের কাছেই লজ্জা লাগছে। আপনার মেসেজ পেয়ে সত্যি খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন। আপনার পরিবারের সবার জন্য দোয়া ও শুভেচ্ছা রইলো।
মেঘ রোদ্দুর ভাই,
কনগ্রেচুলেশন। মিষ্টি খেতে চাই। আল্লাহ, আমাদের ভাতিজাকে ভাল রাখুন। দোয়া করি। (একটা ছবি বসিয়ে দিতে পারতেন।) আপনার সকলের প্রতি শুভকামনা থাকল। ভাল থাকুন, হ্যাপি লাইফ হউক।
আপনার রেসিপিটা এখানে উঠিয়ে দিলাম। আশা করে দেখে আসবেন। যদি কিছু পরিবর্তন করতে হয় বা যোগ করতে হয় তা জানালে খুশি হব।
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার উদারতার কথা আজীবন মনে থাকবে।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় সাহাদাত ভাই,
অনেক অনেক ধন্যবাদ। রিপ্লাই দিতে অনেক দেরি করে ফেলায় ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আপনার দোয়ায় খুব খুশি হলাম। আমাদের সন্তানকে ঘিরে নতুন জীবন, ভালোই লাগছে।
খুব শিঘ্রই দেশে একটা ঝটিকা সফরের পরিকল্পনা চলছে। ইনশা আল্লাহ্, চতুর পরিবারের একটা আড্ডার আশা রাখি,
সাথে এই উপলক্ষে মিষ্টি মুখও হবে। এই পোস্টে আর ছবি দিলাম না।
তবে আমার সন্তানকে নিয়ে একটা লেখা দেবার ইচ্ছা আছে, সেখানে একটা ছবি জুড়ে দিবো।
আমি সত্যি এতোটা আশা করিনি। আমার ব্লগ জীবনে এই প্রথম এমন দারুণ উপহার পেলাম। আপনার সাইটে আমার লেখা রেখে আমাকে কৃতজ্ঞ করলেন। বেশ কয়েকবার দেখে আসলাম। আরও যাবো। রান্নার এরকম বাংলা সাইট আর আছে বলে আমার জানা নাই। খুবই উপকারি আর দারুণ সুন্দর উপস্থাপনায় সাজানো প্রতিটা রেসিপি। আমি মুগ্ধ হয়ে পড়ি। আপনাকে আবারো অনেক ধন্যবাদ। আপনার ও পরিবারের সবার জন্য দোয়া করছি।
মন্তব্য করুন