মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

"France was saved by her school elude students" ছোটবেলায় পড়া দৈববাণীটা অনেকদিন আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত।স্কুল পালালে জগত কি করে উদ্ধার হয়, সে রহস্য ভেদ করতে লেগেছিল পাকা একটি দশক।তাই বলে নিজের পালানো থেমে রইল না। আমার নিজের জীবনটাই তখন আমার জগৎ, সে জগৎ উদ্ধার করতে পারলে মন্দ কি?স্কুলে যাই না, তাতেও বা কি , সবার চোখ এড়িয়ে ঘর পালানো যে আরো বেশি রোমাঞ্চকর।
আমার বাবা সে সময়টায় কান মলায় কিংবদন্তীতূল্য। মনের সাথে যুদ্ধ করে , শেষমেশ কানের মায়া ত্যাগ করে বাসার পেছনের জানালা দিয়ে বাইরে ঝুলে পড়তাম দুপুর আর বিকেলের পালাবদলের ফাঁকে। অনেক দিন পরে বুঝলাম, জগতের কোন মঙ্গল না হলেও ,এমন করে পালানোই চোখ খুলে দিল একবার।
ঘটনার শুরুটা এভাবে-- কথা ছিল এক বন্ধুর সাথে পাহাড়ে মাশরুম তুলতে যাব। তার বাসায় গিয়ে দেখলাম তাহার মোঘলাই বাবা কোন জাদুমন্ত্রবলে ঘরে বসে আছেন।সূর্য সবে তখন পশ্চিমে হেলি হেলি করে,এমন ভরদুপুরে তার বাবার মত কর্মক্ষম লোকের ঘরে থাকাটা ভীষণ বেমানান। খাপ্পা মেজাজটা সামাল দিয়ে কি যেন কিসের নাম করে ঢুকলাম বন্ধুর বাসায়। এমনিতে বিদেশী হিসেবে আমার যথেষ্ট কদর ছিল, সুবোধ বালক হিসেবেও নাম-ডাক ভালই ছিল । ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতির প্রশ্নই আসে না, তবে আমার সৌজন্যে আংকেল তার সাথে আমাদের দু'জনার খেলা দেখার সুযোগ করে দিলেন।
দুঃখ ভুলে গেলাম নিমিষেই , এ যে আকাশী-সাদার আর্জেন্টিনা । বিপক্ষের দেশটার নাম জানি , কিন্তু তাদের খেলা কেমন তা নিয়ে কোন ধারণাও নেই আমার , জার্সির রংটাও ভাল লাগেনি। এত কিছু ভেবে কাজ কি? সারাদিন আর্জেন্টিনা-চর্চা করি, কিন্তু পুরোপুরি খেলা দেখছি তাদের সেদিনই সম্ভবত প্রথম।এত দিনের জানাশোনা থেকে শুধু জানি আর্জেন্টিনা জিতবে, আর্জেন্টিনা সবার সাথে জেতে , সব ম্যাচ জেতে।
খেলা শুরু হল , কমেন্ট্রিতে অদ্ভূত টান , তন্ময় হয়ে কমেন্ট্রি শুনছি, ভাষাটা অচেনা , ভীষণ মায়াবী। অবাক করা ব্যাপার হল , আকাশী-সাদারা খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না , ক্যাটকেটে রঙের জার্সিওয়ালারা বারবার এপাশ ওপাশ দিয়ে সাঁড়াশি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে । তারপর হঠাৎ গোল , কমেনটেটর এর ঝাড়া এক মিনিট ব্যাপী চিৎকার------ "গোওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওলললললললললল"। শেষ পর্যন্ত খেলাটা ড্র হল ১-১ এ ।
ছোটবেলায় মানুষের ভাবনাগুলো ভীষণ অদ্ভূত হয় , ঠিক সেটাই যেন ঘটল আমার বেলাতেও ।মনের ভেতর হাজার প্রশ্ন:: "আমার স্বপ্নের দলও না জিতে পারে ? ক্যাটকেটে রঙের জার্সি পড়া ছেলেগুলি কারা ? কোন দুঃসাহসে ওরা জিততে বসেছিল?কমেন্টেটর রা কোন ভাষায় কথা বলছিল ? গোলের পর কি করে পারল ওমন সুন্দর করে শ্বাস বন্ধ রেখে গোওওওল বলতে ?"
সেই শুরু , একটু একটু ভাল লাগার শুরু। ক্যাটকেটে রঙের সেই ব্রাজিল।
ফুটবল নিয়ে নেশাটা তখন তুঙ্গে উঠতে যেন শুরু করেছে , কার্টুন দেখার সময়টা ভাগ করে ফুটবলের পেছনেও দিতে শুরু করেছি । কিছুদিন পরেই ৯৩ এর জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসল ৪ জাতি ফুটবলের আসর । ব্রাজিল,জার্মানী,ইংল্যান্ড,যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানীর শক্তিমত্তা নিয়ে আমার ধারণা বেশ উঁচুতেই ছিল , চুরি করুক আর যাই করুক , বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বলে কথা , অজেয় আর্জেন্টিনার বাইরে বলতে গেলে বোধ হয় একটা দলকেই চিনতাম।
আমার বাবা জার্মানীর ফ্যান , তাই ইংল্যান্ডকে দেখতে পারেন না মোটেও, সেখান থেকেই ফিরিঙ্গিদের নিয়ে দু'চার ছত্র শুনেছি । হাবে ভাবে বুঝলাম ইংল্যান্ড দলটাও বেশ ত্যাঁদড়। আর আছে সেই রহস্যময় ব্রাজিল । সবগুলো খেলাই সেবার সরাসরি প্রচারিত হল ইরান টেলিভিশনে।
ব্রাজিল-জার্মানীর খেলায় জার্মানী জিতবে ধরেই খেলা দেখতে শুরু করলাম। প্রথমার্ধটাও শেষ হতে পারল না, রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । ব্রাজিল ততক্ষণে ৩-০ গোলে এগিয়ে গেছে । মাঠ জুড়ে ৩/৪ জন ব্রাজিলীয়ানের কারিকুরিও মস্তিষ্কে গেঁথে যেতে শুরু করেছে ততক্ষণে -- মাঝে কারেকা , একপাশে মুলার , অন্যপাশে ছোটখাট মতন বেবেতো । লিডটা যদিও ধরে রাখা গেল না শেষমেশ । শেষ ৭/৮ মিনিটে গোল খেয়ে ফলাফল হয়ে গেল ৩-৩ ।

জিতল না কেন , সে কথা তখন আমি মোটেও ভাবছি না। ভাবছি তখন অন্য কথা , কোন গ্রহ থেকে এল তবে এই ফুটবল দল ?অজেয় দল আর্জেন্টিনাকে যারা প্রায় হারিয়ে দেয় । ভীষণ স্পর্ধায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানীকে আধা ঘন্টার মাঝে দিয়ে বসে তিন গোল ? দু'টো মাত্র ম্যাচ, বাস্তবিক অর্থে আমার স্মৃতির খাতায় আঁকা প্রথম দু'টো পুরো ৯০ মিনিটের ম্যাচ , আমার পুরো দৃষ্টিভঙ্গী বদলে দিল
আর পেছনে ফিরে তাকানো হল না কোনদিন , সেই যে সম্মোহিত হলাম , ব্রাজিল ছাড়া আর কারও কথা ভাবতে পারিনি।
পাদটিকা:
ইন্টারনেট ঘেঁটে পরে জেনেছি সেই ম্যাচগুলোর সময়কাল:
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী , বুয়েন্স আয়ের্সে আর্জেন্টাইন ফুটবলের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক টুর্নামেন্টে ।
ব্রাজিল-জার্মানীর খেলাটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে । দিনটি ছিল ১০ জুন , ১৯৯৩
কারেকা ছিলেন ১৯৮৭ সাল থেকে ৯৩ সালের মাঝে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। ন্যাপোলিতে ম্যারাডোনা যে ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন , সে দলটিতে কারেকার ছিল অনন্য ভূমিকা।
মুলার ছিলেন ৯০ দশকের শুরুর দিককার ব্রাজিল দলের ফরোয়ার্ড।
বেবোতোকে কি পরিচয় করিয়ে দেয়ার দরকার আছে আর ?
আর হ্যাঁ , বলার অপেক্ষা রাখে না , প্রথম খেলার কমেন্ট্রির ভাষা ছিল স্প্যানিশ । ল্যাটিন কমেন্ট্রির ধাঁচটাই অন্য সবার থেকে সবসময় আলাদা , ইংরেজি-ফার্সি কমেন্ট্রিতে অভ্যস্ত কারও কানে ল্যাটিন কমেন্ট্রি প্রথমবার ভীষণ অদ্ভূত লাগারই কথা
মন্তব্য
স্কুল পালানোর ঐ কোট টা ছোটবেলাতে আমি এক প্রকার ওয়েপন হিসাবে ইউস করতাম!
হা হা হা! স্কুল থেকে ফিরে আমিও মাঝে মাঝে বাসার পিছনার দেয়াল টপকে খেলাম মাঠে ছুট দিতাম যদিও বাসায় টিচার আসার কথা তখন!
বেবেতো আর রোমারিও খেলার কথা স্পষ্ট মনে আছে! মুলার আর ক্যারেকার খেলা তেমন্টা মনে পড়ে না! আন্টি-টিম বৈলা কথা
পোষ্ট পড়ে ছোট বেলার ফুটবল খেলা দেখার স্মৃতি গুলো মনে পড়ছে! 
লেখকের মন্তব্য
৯০ বিশ্বকাপে হঠাৎ ব্রাজিলের বিদায় না হলে কারেকা সম্ভবত অনেক বেশি পরিচিত হতে পারত । ক্লাব ফুটবলেও কারেকা ঢেকে গিয়েছিল ম্যারাডোনার আড়ালে । মুলারের ভাল খেলা এরপর খুব একটা মনে পড়ে না, ৯৮ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ব্রাজিল দলে যদিও মুলার খেলেছে ।
স্কুল পালানোর সৌভাগ্য আমার হয়নি । আমার স্কুলে পালালে পরিণতি এত ভয়াবহ হত বলে স্কুল পালানোর কথা ঘূর্ণাক্ষরেও মনে আনতে পারতাম না ।জীবনে আসলেই একটা বড় কিছু মিস হয়ে গেল।
আপনার স্মৃতি শোনার অপেক্ষায় থাকলাম
পড়লাম।
এক জায়গায় আমার সাথে তোমার বেশ মিলে গেল। ব্রাজিলের দেখা আমার প্রথ লাইভ খেলাতে কারেকা মূলার দুইজনেই গোল দিয়েছিলো (১৯৯০ বিশ্বকাপ বিপক্ষ সুইডেন)। কারেকার বিরাট ভক্ত ছিলাম। তবে মাঝে মাঝে কারেকা বলতে গিয়ে কেদারা (চেয়ারের বাংলা যা স্কুলে শেখানো হতো) ব্যাপক হাস্যাম্পদ হয়েছি।
খেলায় ১৯৯০ এ আমার সাপোর্ট ছিলো ইতালি। কারণ সেবার বিশ্বকাপে শুনতাম ইতালি স্বাগতিক। আর তাদের খেলা হয় অনেক রাতে । সেই খেলা আমরা ছোটরা দেখতে পারি না। শুধু সকালে শুনি। এই দল গোল খায় না কোন ম্যাচেই। সেই সময় ইতালির স্টার প্লেয়ার ছিলো ঝিয়াল্লুকা ভিয়াল্লি ( পরবর্তীতে চেলসির কোচ কাম প্লেয়ার) । তখন আমরা স্কুলে আওয়াজ তুলতাম ঝিয়াল্লুকা ভিয়াল্লি, ইতালি ইতালি।
প্রথম দিকে আরেকদল ছিলো ক্যামেরুণ। যাদের নিশ্চিত হার ধরে নিয়ে খেলা দেখতে বসেছিলাম আর্জেন্টিনার সাথে। খেলার টেকনিক্যাল দিক কিছুই মনে নাই। শুধু মনে আছে ম্যারাডোনা নড়তেই পারে নাই ঐ ম্যাচে মার খেয়া। আরো অনেক স্মৃতি শেয়ার করে যাবো সময় করে।
লেখকের মন্তব্য
কারেকার বেশ কিছু স্টিকার জমিয়েছিলাম বলে মনে পড়ে ।
আমার একবন্ধু ছিল == চিড়িয়াখানাকে বলত চেয়ারাখানা , কেদারার কথা শুনে মনে পড়ল।
জিয়ানলুকা ভিয়াল্লির কথা মনে আছে , সাদা চুলো , সাম্পাদোরিয়া নাকি জুভেন্টাসে খেলত পরে ? ৯০ এ ভিয়াল্লি মনে হয় ভাল করতে পারেনি , সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে শিলাচি মাতিয়ে তুলেছিল চারিদিক । ভিয়াল্লি সম্ভবত পরেও আর ইটালি দলে সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি। খেলা দেখিনি , কিন্তু মুখে শুনে শুনে আমি একজনের ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম -- ওয়াল্টার জেঙ্গা । ৫৭০ মিনিট গোল না খাওয়া ইটালির গোলরক্ষক । ৯৮ এ আরেকজনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই - রাভেনাল্লি । রাশিয়ার সাথে প্লে-অফে গোল করে ইটালিকে বিশ্বকাপে জায়গা করে দিয়েছিল কাসিরাঘি, কিন্তু দলে জায়গা হয়নি এরপর, সেই কাসিরাঘির কথা কি মনে আছে? সেটা নিয়ে পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হত ।
৯০ এর ক্যামেরুনের কথা শুনে মহা উৎসাহে ৯৪ এ খেলা দেখতে বসেছিলাম , ঘুমের কারণে ব্রাজিলের সাথে প্রথম খেলা মিস হয়ে গেল । এরপর দেখলাম রাশিয়ার কাছে ৬ গোল খাওয়া সেই ম্যাচ । ক্যামেরুনকে ফলো করে গেছি এরপর প্রতিটা বিশ্বকাপেই , ইম্প্রেসিভ কিছু খুঁজে পাইনি কখনোই ।
৯৪ এর বিশ্বকাপ তো রোমারিও বিশ্বকাপ - রোমারিওর নাম নিলেন না কেন - অদ্ভুত লাগলো ।
বেবেতোর কথা ভালো মনে আছে - ৯৪ এর বিশ্বকাপ দারুন জমজমাট হয়েছিলো -
আমার দল হল্যান্ড প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েছিলো মনে হয়
ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতায় ব্যাপক খুশী হয়েছিলাম । আমার প্রথম দল হল্যান্ড - হল্যান্ড হেরে গেলে ব্রাজিল
বস আমি যতটুকু বুঝছি লেখাটা মনে হয় শুধু বিশ্বকাপে আটকে নাই। পুরো ফুটবল খেলা দেখারই স্মৃতি। বাই দ্য ওয়ে ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ড কোয়ার্টারে ব্রাজিলের কাছে হেরে বাদ পড়ছিল। ব্রাজিল হল্যান্ড ম্যাচ ঐ বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলার একটা।
মনে নাই সেই ম্যাচের কথা - তবে দেখছি শিওর -
ভ্যান বাস্তেন আমার অলটাইম ফেবরিট খেলোয়াড় ছিলো - আসলে ৮৮ এর হল্যান্ডকে নিয়ে পড়ে পড়ে হল্যান্ডের ভক্ত হওয়া
=============
ওহ চারজাতি ফুটবল আসরের ব্যাপারটা চোখে পড়ে নাই - আমি ভাবছি - বিশ্বকাপের কথা শুরু হয়ে গেছে
লেখকের মন্তব্য
৯৪ পর্যন্ত লেখাটা আসলে পৌছেনি এখনও । আগের পর্ব ছিল ৯২ নিয়ে , এবার ৯৩ । বেবেতোকে চিনি সেই ৯৩ তেই , রোমারিওকে চিনেছি আরও বছর খানেক পরে , রোমারিওর কথা তখন বাদ পড়ার প্রশ্নই আসবে না।
আমিন যেমন বলল , ৯৪ এর কোয়ার্টার ফাইনালের ব্রাজিল-হল্যান্ড ম্যাচটা সারা জীবন মনে রাখার মত ম্যাচ । হল্যান্ডের বিশ্বকাপটা সেবার ছিল অম্ল মধুর । নবাগত সৌদি আরবের সাথে প্রথম ম্যাচে শুরুতে গোল খেয়েও কোনভাবে ম্যাচটা রক্ষা করতে পেরেছিল দলটি , কিন্তু গ্রুপে প্রতিবেশি বেলজিয়ামের কাছে হেরে বসে ।
"France was saved by her school elude students"
এই ব্যাপারটা পড়েনি কখনো বা জানতাম না - আজকে তাজ্জব ভাবে পর পর দুইপোস্ট একই ঘটনা দেখলাম -
লিংক দিতে পারেন কোন ?
লেখকের মন্তব্য
ইন্টারনেটে খুঁজলাম , তেমন কোথাও পেলাম না , অবাক ব্যাপার । তাহলে কি কথাটা বাঙালীদের আবিষ্কার(ফেসবুকে একটা বাংলাদেশী শিক্ষাবিষয়ক গ্রুপে কেবল কথাটা পেলাম)? ছোটবেলার রচনা বইগুলোতে অনেকবার কথাটা পড়েছি , এটা স্পষ্ট মনে আছে । আমি যেটা লিখেছি সেটা থাকত কিংবা থাকত "france was saved by her idlers"। আমিনের এসব ভাল মনে থাকে , দেখি ও কিছু মনে করতে পারে কিনা
আমিও নেটে খুজে না পেয়ে আপনাকে জিগাইলাম -
বাঙালীরা হুট করে তো আবিস্কার করবে না - নিশ্চয়ই কোন ইতিহাস আছে - নেটে নাই (সার্চের প্রথম পেজে ) কেন সেটাই তাজ্জব ব্যাপার। !
লেখকের মন্তব্য
ফরাসী বিপ্লব এর সূত্র ধরে কথাগুলো বলা হত । "France was saved by her idlers" এটা লিখে সার্চ দিলাম , রেজাল্ট খুবই ইন্টারেস্টিং : ৪ টা লিংক , একটা নয়াদিগন্ত , একটা প্রথম আলো , দুইটা স্লাইডশো , সেই দুইটাও বাংলাদেশের । মজার ব্যাপার
লেখকের মন্তব্য
ইউটিউবের ভিডিও এমবেড করার পদ্ধতিটা খুঁজে পেলাম না , পরামর্শ চাইছি
http: // www .youtube.com/watch?v=n_EUvSN2g
সামনে এইচ টি টি পি দিয়ে দেখতে পারেন
লিংকটা কপি পেষ্ট করলেই কাজ করার কথা ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ , এমবেড করা গেছে
ফুটবল নিয়ে বেশ ঝরঝরে ভাষায় স্মৃতিচারণ ভালো লাগছে।
"ফ্রান্স ওয়াজ সেভড বাই হার আইডলস" জানতাম, আজ জানলাম অন্য রকম দু'টো।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে , আরও লেখার উৎসাহ পাব । আমি এ পর্যন্ত প্রায় ১০ টি সিরিজ শুরু করে , এরপর আর দ্বিতীয় পর্ব লিখিনি , অনেকদিন হয়ে যাবার পর উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছি । এই প্রথম দ্বিতীয় পর্বে পৌছুতে পারলাম , মনে হচ্ছে ধীরে হলেও সবগুলো লেখা লিখতে পারব।
আইডলস কি ? আমার মনে পড়ে কথাটা ছিল -- "france was saved by her idlers"
ধন্যবাদ। হ্যাঁ ঠিক, আমার 'রেফ' গেল কোথায়?
এক কথায় দারুন লাগল পড়ে, খুব প্রাণবন্ত লেখা
লেখকের মন্তব্য
শুভকামনা রইল
নব্বইয়ের বিশ্বকাপের সময় আমি থাকতাম বেশির ভাগ সময় নানা বাসায়!খালা, মামা, কাজিনরাও বেশির ভাগ ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থক! বড় দুই মামা আর দুই কাজিন ছিল জার্মানির সমর্থক!আমার তখন ছেলেবেলা! যাষ্ট কয়দিন মনে হয় স্কুলে গিয়েছি! তেমনটা বুঝতাম না সবকিছু! তবে কাজিন, মায়া, এলাকার বড়ভাইদের দেখতাম খেলা নিয়ে ব্যাপক্স উত্তেজিত, ক্রেইজি! সে উত্তেজনায় আমিও সামিল!
প্রথম খেলা ছিল আর্জেন্টিনার সাথে ক্যামেরুনের! বাসায় ব্যাপক আয়োজন! সময় মত সব টিভির সামনে! কি একটা সমস্যা হৈসিলো! গেল কারেন্ট! দশ মিনিটের মধ্যে মামা ব্যাটারির ব্যাবস্থা করলো! দুইটা লাল কার্ড পাইয়াও ক্যামেরুন ১-০ তে জিতে গেল! বাসায় মনে হৈতাসিলো বড়সড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেছে!
সেকেন্ড রাউন্ডের ব্রাজিল হারায় বাসার সবাই চরম খুশি হৈসিলো, এক্সেপ্ট বড় মামা! মামা সবসময় এন্টি আর্জেন্টিনা! ক্যানেজিয়ার কথা স্পেশালী মনে আছে! আর গয়কোচিয়া! ডোনাডুনির পেনাল্টি শট সেমি ফাইনালে ঠেকাইছিল সে! রজার মিলার গোল দিয়েছিল কয়েক্টা! ফাইনালে প্রথমে এক্সট্রা অভিনয়ের জন্য লাল্কার্ড দেয়া হৈল! মনে পড়ে পেনাল্টি আসলে চাপিয়ে দেয়া ছিল! শটটা নিয়েছিল গোল্কিপারের ডানে! সব শেষেও একটা নাটক হৈসিলো! টাইম কিল করতাছিল জার্মানি, সেটার প্রটেষ্ট করতে যেয়ে আর্জেন্টিনার প্লেয়ার পাইলো লালকার্ড! জার্মানির লোথার ম্যাথিউস আর ক্লিন্সম্যানের কথাই শুধু মনে আছে!
ক্যানেজিয়াই কিন্তু ওয়াল্টার জেঙ্গার রেকর্ডটা ভাঙছিল!শীলাচির কথাও মনে পড়ে! ইটালি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে থার্ড হৈসিলো!এই বিশ্বকাপ্টাকে কিন্তু এখঙ্কার হিসাবে পান্সে বিশ্বকাপ ধরা হয়! এখন মনে হয় সেবার আসলে সব টিমই গোল না খাওয়ার ধান্ধায় থাক্তো!
১৯৯৪ এ আমি ছিলাম ব্যজিও এর বিরাট ফ্যান! সে এমন একটা পেনাল্টি মিস করলো!
কলম্বিয়ার এস্কোবার এর আত্মঘাতি গোলটার কথা মনে আছে! খেলাটা দেখেছিলাম! এই গোলের জন্য পরে তারে দেশে ফিরলে গুলি কৈরা মারা হৈসিলো! আম্রিকার টনি মেওলা, সুইডেনের লারসেন, ইটালির মালদিনি, দুই বেজিও, বুলগেরিয়া চমক দেখাইছিল, স্টয়োচকভ সেরা গোলদাতা ছিল! কয়টা যেন গোল দিছিলো? এক ম্যাচে ছয়গোল হৈসিল! রাসিয়া যেন কারে দিসিলো!
এখানেই থামি ! প্রায় আধা ঘন্টা ধইরা মনে করতে করতে এই টুকু স্মরনে আসলো! আবছাআবছা মনে পড়ছে অনেক কিছু!! ক্রিকেটের স্মৃতি গুলো আমার বেশি মনে আছে ফুটবলের থেকে!
লেখকের মন্তব্য
দারুণ সংযোজন , অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । স্টয়চকভ দিয়েছিল ৬ গোল , আর রাশিয়ার ভিকটিম ছিল ক্যামেরুন , এর মাঝে ওলেগ সালেঙ্কোর ছিল ৫ টা , সেই ম্যাচে ক্যামেরুনের একমাত্র গোলটি ছিল ৪২ বছর বয়েসী রজার মিলার
আরেকবার মন্তব্য করে গেছি বোধহয়; পাচ্ছি না
তথ্য আর স্মৃতি মিলে এই সিরিজটা দারুণ হচ্ছে। স্প্যানিশ কমেন্ট্রি শুনতে হবে তো, গো-ও-ল বলার কায়দা মনে হচ্ছে দারুণ হবে!
ফুটনোটে ফার্সি কমেন্ট্রির জায়গায় বোধহয় ফরাসি হবে।
লেখকের মন্তব্য
স্প্যানিশ কমেন্ট্রি শুনতে যে কোন কোপা আমেরিকার ম্যাচ টার্গেট করতে পারেন । গোল হওয়ার পর এদের মাথায় সম্ভবত শর্ট সার্কিট হয়ে যায়
আর কমেন্ট্রির ভাষাটা ফার্সীই হবে , তখন বেশির ভাগ ম্যাচ ফার্সিতেই শোনা হত
মন্তব্য করুন