মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Robert Browning এর Patriot এর গল্পটা ঠিক যেন আমারও গল্প। Patriot এর বদলে কেবল আমি , আর পাথর ছোঁড়া জনতার বদলে আমার দেশের সোনার ফুটবলাররা।
৮/৯ বছর বয়স যখন ,ইরানে ঘরেই পড়াশোনা চলত , বই যায় দেশ থেকে। আমার প্রিয় বইগুলোর একটা হল সাধারণ জ্ঞান, ঘুরে ফিরে সেই সাধারণ জ্ঞানই পড়ি, তার উপর এটাই একমাত্র বই যেটা বেশি পড়লে বাবা-মা কে সন্তুষ্ট করা যায় না। ৯২/৯৩ তে যতগুলো সাধারণজ্ঞান বই দেখেছি , তার সব ক'টায় একটা তথ্য জ্বলজ্বল করে :
অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের বিশ্ব আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। ডানা কাপের ফাইনালে ব্রাজিল পরাস্ত ৫-০ গোলে , গোথিয়া কাপের ফাইনালে একই প্রতিপক্ষ, এবার ব্যবধান ৬-০। অন্ধভাবে আর্জেন্টিনা সমর্থন বন্ধ করে ব্রাজিলের মুনশিয়ানায় মুগ্ধতার রেশ যখন জোরেশোরে টের পাচ্ছি , ঠিক তখনই ব্রাজিলের যমের নেমপ্লেটে বাংলাদেশের নাম দেখে স্বর্গীয় একটা অনুভূতি হয়। লাফ দিয়ে আমি তখন পারলে আকাশ ছুঁই , গর্বে ছোট বুকের ছাতিটা অস্বাভাবিক ফুলে ওঠে।
বাসায় তখন কালেভদ্রে বিচিত্রা যায়। ৮০ আর ৯০ দশকের বাংলাদেশ কাঁপানো পত্রিকা ছিল সম্ভবত বিচিত্রা।ইরানে বাংলাদেশী ডাক্তারদের মাঝে বিচিত্রার জনপ্রিয়তা দেখে আমার অন্তত তাই ধারণা হয়। মলাট উল্টালেই রনবী'র কার্টুন টোকাই। টোকাই থেকে শুরু করে রাজনীতি , দেশ , খেলা, প্রবাসের চিঠি সবই তখন পড়ি। একটা দু'টো করে পড়ার পর দেখি সাম্প্রতিক সময়ের মোটামুটি সব পড়ে ফেলেছি। ধুলো বালি ঝেড়ে আব্বুর কালেকশন থেকে পুরনো পত্রিকা পড়তে শুরু করি । ৯০ এর কোন এক সংখ্যায় আবার ফিরে আসে ডানা কাপ , গোথিয়া কাপ। ফার্স্ট লেডি রওশন এরশাদ নিজের হাতে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন কাপ নিয়ে ফিরে আসা সোনার ছেলেদের। দু'চারজন খেলোয়াড়ের নামও শিখে ফেলি - বখতিয়ার, ডন !! আমি যখন এ খবর পড়ছি তার দু'/আড়াই বছর আগেই এরশাদের পতন হয়েছে। রওশন এরশাদের হাতে মিষ্টি খাওয়ার কথা ভেবেও তবুও কেন যেন একটা অহংবোধ হয় ।
৮/৯ বছরের ছেলেমেয়েগুলির মাঝে ক্ষণে ক্ষণে বিরাট পন্ডিতি ভর করে বসে।সেবার আমারও সেরকম কিছুই একটা হয়। বাংলাদেশী পত্রিকা আর সাধারণ জ্ঞানের বইগুলোর তথ্য পরিবেশনের ঢং দেখে ডানা কাপ আর গোথিয়া কাপকে বিশ্বকাপের চেয়ে কোন অংশেই কম মনে হয় না , শুধু খেলোয়াড়গুলি একটু ছেলেমানুষ , এইতো। রাতদিন ভাবি এই ছেলেগুলি ১০ বছর পর বিশ্বকাপ যখন জিতে ঘরে ফিরবে , অনুভূতিটা কেমন হবে।
রোজ বিকেলে ইরানী বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলতে বেরিয়ে পড়ি। ফুটবল নিয়ে দু'চারখানা রাজা-উজির মারতে দ্বিধা করি না, একটু বেশি তথ্য জানি বলে আমার কথাগুলো সবাই বেদবাক্যের মত মেনেও নেয়। আগের তিন বিশ্বকাপে ইরান বাছাইপর্ব পেরুতে পারেনি , আমি কিংবা আমার বন্ধুদের প্রজন্মের কেউ তখনও ইরানকে সেভাবে ভাল ফুটবল খেলতে দেখেনি। সময় সুযোগ পেলেই ওদেরকে বলি বাংলাদেশের ফুটবলের শক্তিমত্তার কথা , ওরাও প্রতিবাদ করে না।সত্যি সত্যিই ধরে নেয় , বাংলাদেশ ফুটবলে অসীম শক্তিধর কোন দেশ।
৯৩ জুড়ে চলে ৯৪ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। ইরানের প্রতিটা খেলা তখন টেলিভিশনে ব্রডকাস্ট হয়, ইরান তার গ্রুপে সিরিয়া , তাইওয়ান আর ওমান তিন দলকেই পালাক্রমে এক হালি করে গোল দিয়ে দেয়। বাংলাদেশও এই বাছাই পর্ব খেলছে জানার পর, খেলার খবর আর সংবাদপত্রের দিকে কড়া নজর রাখি । ধুর ছাই , বাংলাদেশের কোন খবরই আসে না :(। অবশেষে একদিন সারাংশ টাইপের একটা খবর আসে , বাংলাদেশ তার গ্রুপে জাপানের কাছে খেয়েছে ৭ গোল আর আমিরাতের কাছে ৮ গোল । ক'দিন বাদে বিচিত্রা আসে , আরও বিস্তারিত জানতে পারি আমিরাতের সাথে খেলায় গোলরক্ষকের চোখে সানগ্লাস পড়ে নামার কথা। আমার অনুভূতিটা প্যাট্রিয়টের মতই হয় । ঠিক যেন :
বাছাই পর্বের পরের ধাপ শুরু হওয়ার আগেই আমরা ছোট পাহাড়ী শহরটা ছেড়ে যাই ।পরের পর্বে বাংলাদেশকে না পেয়ে বন্ধুদের কি অনুভূতি হয়েছিল , সে কথা আর জানা হয়না।
পাদটিকা:
ডানা কাপ , গোথিয়া কাপ এখনও প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় । তবে জাতীয় পর্যায়ের কোন দল সেখানে প্রতিনিধিত্ব করে না , ব্রাজিল থেকেই অন্তত ৩০/৪০ টা দল (স্কুলদল থেকে শুরু করে ছোটদের সৌখিন দল) এই টুর্নামেন্টে খেলে। কাজেই ব্রাজিলের কোন দলকে ব্রাজিল বলে চালিয়ে দেয়াটা হয় অজ্ঞতা , নয়ত হলুদ সাংবাদিকতা ।
বাংলাদেশের সব মহলেই শুনেছি , ৯০ এর প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ১৪ এর ক্যাটেগরিতে অংশ নেয়া বাংলাদেশ দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ের বয়স ছিল ১৭/১৮ বছর । ১৩/১৪ বছরের স্কুল দলগুলির তাই সাধ্য ছিল না , তাদেরকে রুখে দেবার
ডানা কাপ , গোথিয়া কাপের বাংলাদেশী কোন খেলো্য়াড় পরবর্তীতে জাতীয় দলে দাপটের সাথে খেলেছে এমন তথ্যও কখনও শুনিনি।
ইরান ফুটবল দল নিয়ে ইরানে থাকা অবস্থায় যে নিচু ধারণা ছিল , সেটা কেটে যায় খেলাটা ঠিকমত বুঝে ওঠার পর। বিশ্ব ফুটবলে শক্তি না হলেও এশিয়ান ফুটবলে ইরান জায়ান্ট
মন্তব্য
ভ্রাত, তুমি তো বিরাট কামেল লোক দেখি। শ্রীলংকাকে নিয়ে আর ফুটবলের তিনটা লেখাই একটানে পড়লাম, খেলাধুলা নিয়ে এত ভাল লেখা বাংলায় আমি পড়িনি! তুমি স্পোর্টস সাংবাদিক হলে না কেন হে? এইসব উৎপলদের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতাম। চালিয়ে যাও!
সাংবাদিক বলছেন কেন, বিশ্লেষক বলুন! ক্রীড়া সাংবাদিকতার জন্য মেহরাব ওভার-টুদ্যপাওয়ারইনফিনিটি-ওভারকোয়ালিফাইড
ডানাকাপ-গোথিয়াকাপে বাংলাদেশের জাতীয় দল হিসেবে খেলে নি বখতিয়ার-ডনরা। টিমটা ছিলো বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) ব্যানারে।
সেই সীমাহীন উচ্ছ্বাস আর লজ্জার কথা মনে পড়ে। বিমান বন্দরে ফার্স্টলেডি রওশন এরশাদ পুরো ক্যাবিনেট নিয়ে অপেক্ষমান... ধেড়ে ধেড়ে ব্যাটাগুলোকে মাতৃস্নেহে বুকে টেনে কপালে চুমু খেয়ে গলায় মালা পরিয়ে নিজের হাতে মিষ্টিমুখ করিয়ে দিচ্ছেন... খেলোয়াড়দের অন্তত ৬/৭জনের দাড়িগোঁফে নিয়মিত ক্ষৌরকর্মের চিহ্ন... ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তখন উপরাষ্ট্রপতি; উনার সন্দেশ চাবানোর দৃশ্যটা অন্তত আধামিনিট ধরে দেখিয়েছিলো বিটিভিতে...
ইয়োরোপিয়ান কোনো দলের (সম্ভবত ডেনমার্ক) সঙ্গে বিকেএসপির খেলায় দেখা গেলো শিশু বনাম তরুণের একপেশে খেলা। খেলা শেষে পিচ্চি বাচ্চাগুলো কোলাকুলি করতে গিয়ে বিকেএসপির ধেড়েগুলোর কোলেই চড়ে বসলো-- এমন অবস্থা। ঐ ভিডিও বিটিভতে প্রচার হবার পর জনগণের উল্লাস-উচ্ছ্বাস রাতারাতি লজ্জায় পরিণত হয়।
বিকেএসপির ঐ দলের রানা (মাসুদ রানা) আবাহনী এবং বখতিয়ার ব্রাদার্সে যোগ দিয়ে তারকা খেলোয়াড় বনে যান। জাতীয় দলেও খেলেন। আরো কেউ খেলে থাকতে পারেন; ওই দুজনের সাক্ষাৎকারে পড়েছি বলে নিশ্চিত জানি, তারা ডানা-গোথিয়া কাপের বিজয়ী (?)।
ঐ দলের আরেকজন সুপারসাব শাহজুদ্দিন টিপু। যিনি সাব হিসাবে নেমে ভারতের বিরুদ্ধে সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে গোল করে জিতিয়েছিলেন।
লেখকের মন্তব্য
@আমিন , টিপু কি খেলা বাদ্দিসে ? বছর দুই কি তিন আগেও মনে হয় আবাহনীর হয়ে খেলতে শুনেছি , সারাজীবন সম্ভবত সাব হিসেবেই খেলে গেছে । আর যেদিনই গোল করত , পত্রিকায় লেখা হত -- সুপার সাব । সাথে থাকত টিপুর সাক্ষাৎকার -- কোচ মনে করেন আমার ফিটনেস নেই , কিন্তু আমি আমার সামর্থের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি
লেখকের মন্তব্য
@ নুশেরাপা , ক্লাসিক কমেন্ট । আমার তো পুরোটাই পত্রিকা পড়ে লেখা , আপনি পুরো প্রত্যক্ষদর্শী ।
আমি নিজের অজান্তেই উদাস হয়ে আধা মিনিটব্যাপী সন্দেশ চাবানোর দৃশ্যটা সিমুলেট করলাম । বীভৎস দৃশ্য , গরুও মুষড়ে পড়বে।
মাসুদ রানাকে ৯৪ তে দেখেছি , ৪ বছর আগেই যে সে শিশু ছিল তার কোন লক্ষণই দেখিনি।
রওশন এরশাদ নিয়ে কিছু শিবের প্যাঁচাল পারি , কান খাড়া করে বড়দের মুখে গল্প শুনতাম , রওশন এরশাদকে ১৫/২০ হাজার টাকার শাড়ি দিলে অনেক বড় বড় কাজ করিয়ে নেয়া সম্ভব । ৯৩/৯৪ এ পুরোনো পত্রিকা ঘাঁটার সময় বিচিত্তা কিংবা বিচিন্তা নামে একটা পত্রিকা চোখে পড়েছিল, সম্ভবত ৮৯ সালের পত্রিকা । বর্ষশেষ সংখ্যায় লেখা ছিল , বছরের সেরা সুন্দরী -- রওশন এরশাদ । আমিও সরল বিশ্বাসে মেনে নিলাম । রওশন এরশাদকে সম্ভবত তখনও দেখিনি , বা দেখলেও ভুলে গিয়েছি । মহা উৎসাহ জেগে উঠলো , অবাকও হলাম , যিনি প্রেসিডেন্টের বউ , তিনিই আবার দেশের সেরা সুন্দরী , কি অবাক ব্যাপার , শাবানা-ববিতার চেয়েও সুন্দরী , না জানি কি না কি । পরে যখন দেখলাম মোহভঙ্গ হল । এখন মনে হয় , সেটা সম্ভবত স্যাটায়ার করে লেখা ছিল
লেখকের মন্তব্য
@নরাধম ভাই, প্রথমে একটু খুশি হয়েই সাথে সাথে কেঁপে উঠলাম । দেখেন , লেখার মাঝে কাব্য করেছি , লোকজন তো গালি দিয়ে ভাসিয়ে দিত
লাইফে সব কিছুই আধাআধি করি, কোনটাই ভালমতন করতে পারি না আসলে
যে দুইটা কাপের নাম বললেন,সেগুলোর নাম বাপের জন্মেও শুনিনি।আপনি খেলাধুলার খবর একটু বেশিই জানেন মনে হচ্ছে।
লেখা পড়ে ভালো লাগল।
লেখকের মন্তব্য
আমরা মনে হয় আপনার চেয়ে একটু পেছনের সময়ের , ৯৪ এর পরে এই কাপের নাম হাওয়ায় মিলিয়ে যাবার কথা । তোলপাড়টার সময়কাল ৯০/৯১
ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম
আরে মেহরাব দারুন।
তুমি তো পুরা আমার শৈশবরেই ফিরায়া আনলা।
১৯৯০ এর বিশ্বকাপ দিয়েই ফুটবলের প্রতি ভালো লাগা শুরু।
তারপর বিটিভিতে প্রচারিত হতো স্পোর্টস প্রোগ্রাম ফুটবল সোমবার ক্রিকেট রবিবার। ক্রিকেটরে তেমন একটা বেল দিতাম না (১৯৯২ এর পর ঐটাও দেখতাম রেগুলার)। তখনই ম্যারাডোনার নাপোলি আর রুডখুলিতের এসি মিলান রে চিনি। শুনতাম এসি মিলান হইলো বড়লোকের দল সব ভালো প্লয়ার ভাড়া কইরা লয়া গেছে। নাপোলির ম্যারাডোনা একাই বস। আর আরেক ফেভারিট শিলাচি খেলে জুভে। ব্যাজিও নামে একজন ক্ষুদে জাদুকরের নামও তখন শোনা।
সে আমলে মোহামেডান আবাহনী খেলা খুব হতো। হলে একটা সাজ সাজ রব পরে যেতো। আমার চাচাত ভাইকে দেখতাম মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে আর আবাহনী হারলে কাঁদতে। তখন থেকেই আমি তার রাইভাল। মোহামেডান।
ইরানের কথা যখন বললা এইবারে আমি ১৯৯৩ তে ফিরে যাই। ঢাকায় এশিয়ান ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশীপ হইছিলো। ঐ টাতে ইরানের ইস্তেগলাল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হইছিলো। সেইখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোহামেডান তিন ম্যাচ ড্র করে গ্রুপে বাদ পড়ে। তাতে কী?? ঐ ইস্তেগলালের মোহামেডানের সাথে ড্র করতে খবর হয়ে গেছিলো। কায়সার হামিদ গোল দিয়ে আগয়ে দিছিলো। তারপরে কিনা ইস্তেগলালরে বাচাইলো নালজেগার যে কিনা দুই বছর আগে মোহামেডানে খেলে গেছে। এখানে উল্লেখ্য মোহামেডানের মোড়কে আসলে তখন জাতীয় দল খেলছিলো।
বিচিত্রার সাথে ামার প্রেম সেই ছোটবেলা থেকেই। বিচিত্রা কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গোল টেবিল বসাইতো। তাছাড়া ক্রীড়াজগত তখন খুব চলতো। ঐ খানে ফুটবলের মাতামাতি ছিলো সেই রকম। সেখানেই গোথিয়া ডানা কাপ জয়ী বিকেএসপি র পরিচয় পাই। ঐখানে পুরা দলের পোস্টার ছিলো। যেটা অনেকদিন আমার সংগ্রহে ছিলো। টিপু বখতিয়ার নয়ন নবু ডন নামগুলোও মুখস্ত হয়ে গেছিলো প্রায়। নিজেও রোমান্টিক হয়ে যাই। সামনে যা পাই লাথি মারতে শুরু করি। বখতিয়ার টিপুদের মত গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বজয়ের ভাবালু স্বপ্নে মেতে উঠি।
সেই বারেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই খেলতে গেছিলো। জাপানের সাথে স্কোর ছিলো ৮-০। সেটা বিটিভির খবরে শুনে খুবই টাস্কি খাইছিলাম। সেবার ক্রীড়াগগতের হেডিং ছিলো এমন " বলতে হবে জাপানিরা খুব কিপটে। জনপ্রতি একটা মাত্র গোল তাও তারা দিলো না। যাতে ৮ গোল নিয়ে এগারো জনের মধ্যে গোলমাল পেকে যায়।" সে যাই হোক আরব আমিরাতের সাথে খেলার আগে আমি খুব কনফিডেন্ট ছিলাম। কারণ কয়েকদিন আগেি বিশ্বকাপে ওদের নাকানি চুবানি খেতে দেখেছি। বাংলাদেশ হারলো ১-০ গোলে তাও পেনাল্টিতে। তখন পেনাল্টিতে কেউ গোল দিয়ে জিতলেই বলতাম চুরি করে জিতেছে। সো আমিরাতের শেখদের চৌর্যবৃত্তি নিয়ে ধুয়ে দিলাম। এই অপরাধেই কিনা ফিরতি লিগে ৭-০ দিয়ে ওরাই আমাদের ধুয়ে দিলো। জাপানের জালে অবশ্য ফিরতি লিগে একটা বল পাঠানো গেছিলো। তার আঘে অবশ্য এক হালি হজম করতে হয়েছিলো। গ্রুপের অপর দুর্বল দল ছিলো থাইল্যান্ড অথবা মালয়েশিয়া। তারা যখন আমাদের হালি গোল দিয়ে দিলো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে সকল রোমান্টিকতার অবসান ঘটে।
http://www.rsssf.com/tablesa/ascup91.html
গুগল করে এশিয়ান ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের রেজাল্টগুলো পেলাম। ওখানে অবশ্য দুটা খেলা নিয়ে ডাউট দেয়া আছে। তার মাঝে মোহামেদান ইস্তেগলাল খেলা একটি। সেটা কোন কোন সোর্স ০-০ দাবি করলেও আসলে তা ১-১ আর এপ্রিল ২৫ (উত্তর কোরিয়া) ও ব্যাংকক ব্যাংক (থাইল্যান্ড) এর খেলার রেজাল্ট ৪-৩ এটাই ঠিক আছে।
আর বাই দ্য ওয়ে টুর্নামেন্টের সময়কাল আসলে ১৯৯০-৯১।
লেখকের মন্তব্য
@আমিন , এইসব লেখা তোমার লেখা উচিত , তোমার কানাকড়ি পরিমাণ জেনেও লিখছি আমি
৯৪ এ টিভিতে রবিবারের ক্রিকেটের কথা মনে পড়ে , রিচি বেনোরা উপস্থাপনায় অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইনের ধারণকৃত ৯২ বিশ্বকাপ দেখাত ।
ইরানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভালই হল । ইস্তেগলাল এর কথা মনে পড়ল , সাথে আরেকটা ক্লাব -- পিরুজি । বাংলাদেশে আসার আগে ইরানের মানুষের মুখে মুখে এই দু'টো ক্লাবেরই নাম শুনতাম বেশি করে । ইরানে সারা দেশ জুড়ে অনেক ক্লাব আছে , তবে এই দু'টি ক্লাবের ফ্যানবেজ সারা দেশ জুড়ে। ইস্তেগলালের জার্সি ছিল সাদা রঙের আর পিরুজি লাল । এই দুই দলের খেলাকে বলা হত তেহরান ডার্বি (উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এটা ওয়ার্ল্ডের ষষ্ঠ বৃহত্তম ডার্বি, ১ লাখ ১০ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে একটা সিটও ফাঁকা থাকে না)। আমার ৯১ এর কোন ফুটবল-স্মৃতি নেই । তোমার দেয়া লিংক থেকে জানলাম , ৯১ এ ইস্তেগলাল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতে , আর পিরুজি জেতে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপ । পিরুজি দলের নাম এখন অবশ্য বদলে গিয়ে পার্সপোলিস হয়েছে । আমার বন্ধুদের বেশিরভাগ পিরুজি পিরুজি করত বলে আমি ইস্তেগলাল ছিলাম (পুরাই আন্দাজে
)। পরে জেনেছি , পিরুজির সমর্থকরা খেটে খাওয়া মানুষ , ইস্তেগলাল হল ধনীক শ্রেনীর ক্লাব । একই রকম একটা বিভেদ আছে এসি মিলান , ইন্টার মিলানের বেলায় , সেটা কি জানো ? ওয়ার্কিং ক্লাসের ক্লাব ছিল এসিমিলান । দুনিয়ার সব খানেই আমি দেখি পুঁজিবাদী ক্লাবের সমর্থক 
মোহামেডানের ফলাফল দেখে অবাক হলাম , দারুণ পার্ফরমেন্স বলতেই হবে । একটানা তিন ম্যাচ মনে হয়না বাংলাদেশের কোন ক্লাব এভাবে খেলেছে , নাকি ? আরও অবাক হলাম নর্থ কোরিয়ান ক্লাব দেখে । ৯৪ কি ৯৫ তে মোহামেডানের এশিয়ান লেভেলে আরেকবার খেলতে দেখেছিলাম , লাওসের কোন একটা ক্লাবকে সেবার সম্ভবত ৮ গোলে পরাজিত করেছিল। পরের রাউন্ডে কোরিয়ার পোহাং স্টিলার্স (??) এর সাথে ফলাফল ছিল ০-৫ এবং ১-৩ ।
ক্রীড়াজগত ছাড়াও সম্ভবত আরেকটা পত্রিকা ছিল ক্রীড়ালোক । বিশাল জনপ্রিয়তা ছিল এই পত্রিকাগুলোর । আমি হাভাতের মত এই পত্রিকাগুলো গিলতাম তখন । গ্রামে গেলে আমার কাজ ছিল বিকেল হলেই লাইব্রেরীতে চলে যাওয়া , তারপর ৭/৮ বছরের পুরনো থেকে শুরু করে যাবতীয় খেলার পত্রিকা বের করে পড়তে শুরু করা ।
পরের পর্বে আরও কিছু লিখব মনে করে করে
ডানা কাপ আর গোথিয়া কাপ নিয়া যা করসিলো, ভুলার মত না। আমি তখন অল্পস্বল্প খেলা দেখি, আমার ধারণা ছিল ২টা বিশ্বকাপ পরেই আমরা খেলতেসি। অনেক পরে জানলাম, বুইড়াদের নিয়া পোলাপানরে হারাইসে, তবে তার আগেই জেনে গেছি, আমাদের জীবদ্দশায় ফুটবলে তেমন কিছু হবার সুযোগ কম।
লেখকের মন্তব্য
বয়সভিত্তিক ফুটবলে বয়স নির্ণয়ের জন্য এখন এক্সরে অথবা কিছু একটা করা হয় । এটা শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের দাপট হারিয়ে গেছে । ২০০০ পর্যন্তও বাংলাদেশকে দেখতাম এশিয়ান অনূর্ধ্ব ১৬/১৭ গুলির চূড়ান্ত পর্বে খেলতে
পরের পার্ট কৈ
মন্তব্য করুন