মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

অনেকদিন পর উত্তপ্ত বাংলাদেশ । ঢাকার রাস্তায় গাড়ি পুড়ল , ভাঙচুর চলল । কি ভীষণ ক্ষোভ , শুধু একটা বাড়ির মোহে । রাজনীতিবিদদের নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই , কিন্তু আরেকবার তাদের স্বরুপটা উন্মোচিত হয়েই গেল । দু'দিন পর ঈদ , ঘরমুখো মানুষের স্রোত , তার মাঝে রাজনীতির যুদ্ধ , বলি জনগণ , প্রিয়জনকে কাছে পাবার সম্ভাবনায় ঘোরতর অনিশ্চয়তা ।
স্বার্থপরতা :
খালেদা জিয়ার উচিৎ ছিল অনেক আগেই এ বাড়িটি ছেড়ে দেয়া, এটা সময়ের দাবী , জনগণের দাবী । যে পরিস্থিতিতে তাকে এ বাড়িটি দেয়া হয় , সেটি সেসময়ের প্রেক্ষিতে অবশ্যই যুক্তিযুক্ত ছিল । প্রেসিডেন্ট জিয়ার যে যত বড় বিরোধিই হোক না কেন , তার সততা নিয়ে প্রশ্ন কেবল অজ্ঞরাই তুলতে পারে । কিন্তু বাড়িটি ধরে রাখার যৌক্তিকতা অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে , সে কথা নতুন করে আর বলতে হয় না । সে সময়ের পরে প্রায় ৩০ টি বছর পেরিয়ে গেছে । খালেদা দু'বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন , তার দুই সন্তানের অঢেল লুটপাটের কথা যদি বাদও দেয়া হয় , তবুও তিনি বিপুল পরিমাণ বিত্ত প্রতিপত্তির অধিকারী । নিজ উদ্যোগে তিনি অনেক আগে যদি বাড়িটি ছেড়ে দিতেন , তবে তার মাহাত্মই বাড়ত । তবে বাংলাদেশের রেওয়াজ বলে , খালেদা বাড়ি ছাড়বেন না । নিজের লোভ-স্বার্থের কাছে এসব মহান হওয়ার চেষ্টাগুলোকে নেতৃবৃন্দ চিরকাল অপচয় হিসেবেই দেখে এসেছেন ।
প্রতিহিংসা:
খালেদাকে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হলো যে পন্থায় , তাতে কিন্তু জনগণের ন্যায্য দাবীর প্রতিধ্বনি শোনা গেল না , কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসাটাই উচ্চস্বরে বাজল । ২০০১ চলে এল সামনে , যখন জননেত্রী নিজের নামে গণভবন লিখে নিয়েছিলেন । গণভবনের মত রাষ্ট্রীয় বাসভবন কেউ নিজের নামে লিখে নিতে হলে কতটা বেশি উদ্ধত হতে হয় , সে কথা আর নতুন করে বলার নেই । যারা অবশ্য গণভবনের সাথে সেনানিবাসের বাসভবনকে মিলিয়ে সাম্যাবস্থা দেখছেন , তাদের ঘুম ভাঙানোটাও জরুরী । গণভবন লিখে নেয়াটা ছিল নির্লজ্জ নোংরামী , সেটা থেকে হাসিনার বহিষ্কারাদেশ ছিল পাপমোচনের সমতূল্য । বিপরীতে সেনানিবাসের বাড়িটি ছেড়ে দেয়া ছিল কেবলই সু-বিবেচনা আর বিবেকের প্রশ্ন , যে বিবেক জাগ্রত হওয়ার আশা জনগণ কখনও করতে পারেনি।
দু'জনার কান্না:
শেষ বিকেলে খালেদা কাঁদলেন । এই মহিলা কদাচিৎ কাঁদেন । খালেদার কান্না দেখলে নিশ্চিত হই , এই মহিলার ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি হয়ে গেছে । দেশের জন্য কখনও তার ভেতরটা কেঁদেছে কিনা জানিনা , তবে নিজের জন্য যতটুকু জল তিনি ফেলেন , সেটা জেনুইন ।
হাসিনার কান্না দেখে অবশ্য সবসময়ই কনফিউজড হয়ে যেতাম , এখনও যাই। এই মহিলা যত্রতত্র কাঁদেন , নাকি কান্না , মেকি কান্না। নিজের জন্য কাঁদেন , যেখানেই কাঁদলে খানিক সুবিধে হবে সেখানেই দক্ষ অভিনেত্রী হয়ে জল উগড়ে দেন।
আরেকবার পিষ্ট বাংলাদেশ :
দেশে অনেক ইস্যু ছিল , দিনরাত বিদ্যুত থাকে না , কলকারখানা চলে না । দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশচুম্বী । ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে বিনা-শুল্কে , টিপাইমুখ দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে মেঘনা । বিএনপির হাতে হাজারটা ইস্যু ছিল , জনগণ তাদের টিকির সন্ধানটাও পেল না । সবাইকে বোঝানো হল , বিএনপি দূর্বল , দেশের পক্ষে কথা বলার শক্তিটুকুও তাদের নেই। দেশ বেচার যে বুলি বিএনপির এত পছন্দ তার সবটুকু সুযোগ সরকার তাদের হাতে তুলে দিল , তবুও লজ্জাবতীর মত তারা নীরব রইল । আজ কেবল একটা ঘর বেহাত হতেই ঢাকার রাজপথে যে আসুরিক শক্তি এল সেই মৃত শরীরে , তা আরেকবার দলের মহিমা , ব্যক্তির মহিমাকেই ঘোষণা করল , দেশ আরেকবার লাঞ্চিত হলো ।
মন্তব্য
ঘটনা হইলো, সব কিছু শান্ত দেখলে আমাদের রাজনীতিবিদদের পশ্চাদ্দেশে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। যেহেতু দুর্বল এবং নৈতিকভাবে ছিন্নবিচ্ছিন্ন বিএনপি এখন ঘাপটি মেরে আছে, আরেক নেত্রীর মনে হলো কাজটা ঠিক হচ্ছে না, দে একটা হেঁইয়ো। ফলাফল দেখাই গেল। জনগণের তারা থোড়াই কেয়ার করেন, এইটা নিয়ে এখন কথা বলা মানে সময় নষ্ট। জনগণ যাদের ভোট দিসে, তাদের কাছ থেকে তারা উপযুক্ত ব্যবহারই পাচ্ছে, এই নিয়া কান্নাকাটি করে লাভ নাই।
কিছুই বলার নেই । কিছুই করার নেই । আমরাই এদের ভোট দেই । ধন্যবাদ সুন্দর সাবলীল লেখাটির জন্য । ভাল থাকবেন, শুভকামনা সতত ।
যে পরিস্থিতিতে তাকে এ বাড়িটি দেয়া হয় , সেটি সেসময়ের প্রেক্ষিতে অবশ্যই যুক্তিযুক্ত ছিল ।
-তখন সেনা ছাউনীর বাইরেও অনেক বাড়ি ছিল, অথচ বাড়িটি ছিল খুব সম্ভবতঃ সেনাবাহিনীর উপর থেকে দ্বিতীয় পদাধিকারীর। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব বা পদে না থেকে সেনা ছাউনিতে বাড়ী রাখাটাকে অনৈতিক বলে বিবেচনা করি।
খালেদাকে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হলো যে পন্থায় , তাতে কিন্তু জনগণের ন্যায্য দাবীর প্রতিধ্বনি শোনা গেল না , কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসাটাই উচ্চস্বরে বাজল ।
- হিংসা হোক, প্রতিহিংসা হোক, কিন্তু এটা সময়ের দাবী , জনগণের দাবী, যা আপনি নিজেই উল্লেখ করলেন। জনগনের ন্যায্য দাবী যদি (অ)সচেতন জনগন এতদিনেও না তুলে, তবে তাদের (অ)বিবেচিত জনপ্রতিনিধিরা (অ)হিংসার বশে করবেন, তাই তো দেশীয় বাস্তবতায় স্বাভাবিক।
বিপরীতে সেনানিবাসের বাড়িটি ছেড়ে দেয়া ছিল কেবলই সু-বিবেচনা আর বিবেকের প্রশ্ন , যে বিবেক জাগ্রত হওয়ার আশা জনগণ কখনও করতে পারেনি।
- জনগণ আশা করবে কী করে, যেখানে তারাই তাদের প্রিয় জনপ্রতিনিধিদের বারে বারে নির্বাচনে ক্ষমতায় নিয়ে আসছেন। নেতারা তো জন্ম নিচ্ছে এ দেশের জনগণ থেকে। সুতরাং জনগণের চরিত্র, জনপ্রতিনিধিদের চরিত্র। তাই এই জনগণই দলের মহিমা , ব্যক্তির মহিমাকেই আরেকবার নয় বারবারেই ঘোষণা করছে।
আত্মসম্মানজ্ঞান থাকলে আজকের ঘাড়ধাক্কার জন্য অপেক্ষা করতো না খালেদা জিয়া।
ছোটবেলায় একটা প্রবাদ প্রায়ই শোনতাম, "পাটায় পোতায় ঘষাঘষি, মরিচের কাম সারা"। আমাদের জনগনের অবস্থা এখন ঠিক তাই হয়েছে।ঈদের আগ দিয়ে ঘরমুখো মানুষের মিছিলে বাস লঞ্চে যেখানে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে সেখানে হরতাল দিয়ে জনগণকে ভোগান্তি বৃদ্ধিকরণে ফেলা দুদলের ইগো এবং নিজস্ব লাভ চরিতার্থ করার জন্য ---- কী বলার আছে। আমরা আবাল হয়ে এদেরকেই পালাক্রমে ভোট দিয়ে তাদেরকে সুযোগ করে দেই সাধারণ মানুষকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার।
একটা বাড়িতে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে যাওয়ার পর হয়ত ছাড়তে ইচ্ছা করে না
তবু ভাল লাগত , যদি খালেদা স্বইচ্ছ্াই চলে যেতেন , বহু আগেই ।
তবু ভাল লাগত , যদি হাসিনা এ ব্যবস্থাটা না নিতেন ।
আফসোস , আমাদের কি ভাল লাগল , তাতে কারও মাথা ব্যাথা হয় না।
মন্তব্য করুন