মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ক্রিকেট খেলাটা বুঝতে একটু দেরীই হয়ে গেল , দোষটা অবশ্য আমার নয় , দোষটা ক্রিকেট না চেনা পৃথিবীর সে অংশের, যেখানে আমি দীর্ঘদিন কাটিয়েছি ।
ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম পত্রিকার পোকা , খেলার পাতাগুলি পড়তে পড়তে যেমন উইপোকার মত কাটতাম , তেমনি খেলার রেজাল্ট মুখস্থ করে , খাতায় লিখে বা কাউকে বলে জাবর কাটতাম গরুর মত।
৯৪ সালের কথা , ভোরবেলা ইত্তেফাক আসত , আমি জীবনে প্রথম বাংলা পত্রিকা পড়ছি । ইত্তেফাক বরাবরই খেলার খবরে ফাঁকি দিত , দেশের বাইরের খেলাধুলা নিয়ে যা এক আধটা খবর থাকত সেটাও ক্রিকেট নিয়ে । খবর পড়ে পড়ে ক্রিকেট জ্ঞান বাড়াতে মনযোগ দিলাম ।
স্কোরকার্ড আর রেজাল্ট দেখে ক্রিকেট বুঝা চাট্টিখানি কথা নয় । সবচেয়ে খটকা লেগে যেত রানসংখ্যা দেখে । একদল যদি করে ২০৭ , বেশিরভাগ সময়ই বিপক্ষ দল করে ২০৮ । আমি ভাবি , একি আজিব অলৌকিক সুলেমানী ব্যাপার স্যাপার ? একদল যে স্কোর করে আরেকদল কি করে ঠিক তার এক বেশি স্কোর করে ? বলা দরকার , দু'দল আলাদা করে ব্যাটিং করে সে কথাটা তখনও জানা হয়ে ওঠেনি , ফুটবলের মত ক্রিকেটকেও আমি ভাবতাম ৫/৬ ঘন্টার খেলা , যেখানে দু'দল হাতাহাতি করে সময় সুযোগ বের করে যার যার মত রান বাড়িয়ে নেয় ।
ক্রিকেট-কান্ডের এহেন বেহাল দশা অবশ্য খুব বেশিদিন স্থায়ী হল না । মোটামুটি ৫/৬ মাসের মাঝে ক্রিকেট খেলার অলি-গলি চেনা হল তো বটেই , অলি গলির পক্ষ প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাল একটা ধারণা হয়ে গেল ।
৯৪/৯৫ এর সে সময়টায় ক্রিকেট খেলত মোটে ৯ টি দেশ । জিম্বাবুয়ে দলটি তখন ৯ নম্বরে , তাদের কম্ম ছিল সবার কাছে নিয়ম করে হারা । নিয়মিত হারলেও জিম্বাবুয়ে ফেলনা দল ছিল না , গো-হারার বদলে তারা চেষ্টা করত সম্মান রেখে ছাগ-হার হারত । শ্রীলংকা দলটি তখন ৮ নম্বরে । তাদের যত ওস্তাদি , পন্ডিতি মোটামুটি সবই চলত জিম্বাবুয়ের উপরে । বাকি দলগুলি শ্রীলংকাকে খানিক বেশি সমীহ করত বলে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ছিনিমিনি খেললেও লংকার মানের দিকে খেয়াল রেখে তাদের নিয়ে ছিনিমিনির বদলে কিঞ্চিত সম্মানজনক ছোটখাটো ছেলে-খেলায় মেতে উঠত।
ক্রিকেট খেলার ধাঁচটা তখন অন্যরকম ছিল বটে । কোনদল ২৪০ করলেই বিজয় নিশ্চিত ভেবে গোঁফে তা দিত , কখনও কেউ ভুলে ৩০০ করে ফেললে আমরা বিস্ময়ে ভাষা হারাতাম । আর ২০০ করলে চড়া গলায় বলতাম -- "ফাইটিং স্কোর"
পুরো ৯৪ সালটি জুড়ে আমার ক্রিকেট শেখার পর ৯৫ সালেও শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় দুধ-ভাত টিমই রয়ে গেল । ক্রিকেট বিশ্বের বড় ৭ টি দেশের যত রাগ , যত ক্ষোভ , যত ঝড় যেন এই লংকা আর জিম্বাবুয়ের ওপর । কারও ফর্ম খারাপ হলে ফর্ম ফেরাতে শ্রীলংকা, টানা সিরিজ হারার কষ্ট ভুলতে শ্রীলংকা , আর রেকর্ড করতে চাইলে জিম্বাবুয়ে ।
আমার জীবনের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ -- ৯৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাস চারেক আগের ঘটনা । ৯৫ এর অক্টোবরে শারজাহ বসল ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট , অংশ নিল পাকিস্তান , শ্রীলংকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ । শারজাহকে পাকিস্তান তখন ভাবে মামার বাড়ি , আর শারজাহর কাপগুলি যেন তাদের বাপের বাড়ির সম্পত্তি । টুর্নামেন্টে বাজি ধরার মত কিছু যদি থেকে থাকে , তবে সেটা একটাই -- তিন নম্বর বাচ্চা শ্রীলংকাকে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কে কত বেশি ধোলাই দেবে।
লংকাকে আমি তখন ডাকতাম মেহনতী-মুটে-মজুরের দল । মুটে মজুররা ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় করেছিল বলশেভিক বিপ্লব । মেহনতী শ্রীলংকা হয়ত ভাবল এই অক্টোবরে তারাও বিপ্লব করবে । প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়ার পর খানিক বিস্মিয়ের জন্ম দিল , কিন্তু "সাম টাইম শিট হ্যাপেনস" ভেবে কেউই সেভাবে গুরুত্ব দিল না । ক্রিকেট বিশ্ব তখনও জানে না কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে । শ্রীলংকা ইন্ডিজের ম্যাচটিতে মনে হল লংকা-ধোলাইয়ের পুরনো প্রচলিত ইনসাফি নিয়ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সময়টায় ৩০০ রান যেখানে প্রবাদ-প্রতীম , শ্রীলংকাকে মেরে ধরে ইন্ডিজ করে ফেলল ৩৩৩ । বিপক্ষ শ্রীলংকা বলে আমরা কেউ অবাক হলাম না । লংকানদের আস্পর্ধা সব সীমা ছাড়িয়ে ৪৯.২ ওভারে পৌঁছে গেল ৩২৯ রানে । ভাগ্য সেদিন অবশ্য সহায় হল না , জিততে জিততেও হেরে গেল তারা। কিন্তু টনিক সেবার পেল শ্রীলংকা স্রষ্টাই জানেন , ফাইনাল সহ পরের দু'টি ম্যাচে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারল নৃশংস কায়দায় ।
রাবণদের পুনর্জীবন দেখে আমি রীতিমত উল্লসিত হয়ে উঠলাম , শারজাহ-বিস্ময়ে তখন আমার চোখে ঘোর কাটেনি। ক্রিকেট দুনিয়া তখন খানিক নড়ে চড়ে বসলেও ভাবল লংকা-ভেল্কির সেই শেষ , সারাজীবন জিম্বাবুয়েকে হারানো দলটির বেলুন ফুটো হতে কতক্ষণ ?
ডিসেম্বরে শ্রীলংকা গেল অস্ট্রেলিয়ায় , বিতর্কে আর উত্তেজনায় ভরা অনন্য একটি সিরিজের জন্ম। মুরালিধরণের বলে নো ডাকায় শ্রীলংকা মাঠ ছেড়ে শুধু বেরোলই না , অস্ট্রেলিয়াকে ২ ম্যাচে হারিয়ে সিরিজও ড্র করে ফেলল ।
আমি তখন ছোটমানুষ , ক্রিকেটের মারপ্যাঁচ বুঝি না । শুধু বুঝি একটা দল ২/৩ মাসে হঠাৎ আহত বাঘের মত একের পর এক শিকার করে চলেছে । বিপুল জোশে বন্ধুদের বললাম , শ্রীলংকাই চ্যাম্পিয়ন ।
বোদ্ধারা অবশ্য আবেগের লাগাম হারালেন না , শ্রীলংকাকে হিসেবের মাঝে রাখলেন না প্রায় কেউই, স্যার রিচার্ড হ্যাডলি শুধু নিচু স্বরে বললেন -- "ডার্ক হর্স"
উপমহাদেশের মাটিতে ৯৬ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসছে । হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়ার কি হল , লঙ্কায় যেতে ভয় লাগে , তামিলরা যদি মারে -- এসব হেন-যেন-তেন কারণ দেখিয়ে তারা লংকায় যাবে না বলে ঠিক করল । পরের দিনই তাদের পথ ধরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ । গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার বড় ম্যাচ প্রতিপক্ষ বলতে রইল কেবল ভারত ।
ভারতের বিরুদ্ধ খেলাটি হল দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে । শচীন টেন্ডুলকারের অনবদ্য ১৩৭ রানের উপর ভর করে ভারত সেদিন সংগ্রহ করল ২৭০ রান । ১৯৯৬ সালে , ২৭০ রান চেজ করা রীতিমত অসম্ভবতম কাজগুলির একটি । খেলার মাঝ বিরতির পর টিভি খুলতে খানিক দেরী করে ফেললাম -- যে বিস্ময়কর ঘটনা দেখলাম টি-২০ এর যুগে সেটা বুঝিয়ে বলার সাধ্য নেই আমার । ৪.২ ওভারে শ্রীলংকা ১ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তুলে ফেলেছে , স্কোর ঠিকমত দেখছি কিনা , সেটা বুঝতে আমার আদতেই দু'চারবার চোখ কচলাতে হল । ২৫ , ৩০ না , একেবারে ৪৯ রান । পাঠকদের অবগতির জন্য বলি , প্রথম ৪ ওভারে ২৫ রান তুললেই তখন ধরা হত স্বপ্নীল সূচনা , ২০ রানকে হলে অনবদ্য ।সে ম্যাচটি জিতেই ছাড়ল শ্রীলংকা , ৭ নম্বরে নামা হাশান তিল্কারত্নে করলেন অপরাজিত ৭০ ।
অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লংকার রাগটা গিয়ে পড়ল বুঝি কেনিয়ার উপর , কেনিয়া সবে তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে , সেসবের কোন তোয়াক্কা করল না লংকানরা । কেনীয়দের চাবকে তুলল তৎকালীন রেকর্ড ৩৯৮ রান ।
ক্রিকেট দুনিয়া তখন একটু নড়ে চড়ে বসেছে ।অন্য দলগুলির কাছে লংকা দলটি তখন হয়ে উঠেছে মহাযন্ত্রণা , দলটির ৮ টি উইকেটের পতন ঘটিয়েও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায় না , ৯ নম্বরে নামেন কুমারা ধর্মসেনা । ১ থেকে ৯ পর্যন্ত লম্বা সলিড ব্যাটিং লাইন আপ । প্রথম ৫ ওভারে বলকে পিটিয়ে দড়ির ওপারে আছড়ে ফেলে ৫০ রান না তুললে যেন জয়সুরিয়া - কালুভিথারানার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়।
জয়সুরিয়া শব্দটার মার-দাঙ্গার মিলেমিশে গেছে বিশ্বকাপ শুরুর পরেই , ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়সুরিয়া শব্দটির অর্থ যেন আরেকবার বদলাল -- ইংল্যান্ডের বোলারদের নাকির পানি , চোখের পানি একাকার করে জয়সুরিয়া বল অন্তত দু'বার বল আছড়ে ফেললেন বিশাল আকৃতির স্টেডিয়ামের ছাদে ।
ফ্যান্টাসীর জগতে বিচরণ করতে থাকা লংকাকে সেমিফাইনালে মাটিতে নামাবার দায়িত্ব নিল ভারত । ইডেন গার্ডেন প্রাঙ্গনে ১ লাখ ১০ হাজার দর্শকের সামনে জয়সুরিয়া-কালুভিথারানা যখন প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন ,লংকান স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ১ । অনেকেই ততক্ষণে , কলম দিয়ে খাতায় লংকা নামটি কেটে দিয়েছেন , কিন্তু পুনর্জন্ম পাওয়া রাবণের ১১ মাথার মোটে তো দু'টো কাটা গিয়েছে । ৩ নম্বরে নেমে অরবিন্দ ডি সিলভা ৬৬ রানের ইনিংসটি কি মোহনীয় ছিল , সেটা লিখে বোঝানো সত্যিই দুষ্কর । আদর্শ ক্রিকেট বুকে স্থান করে নেবার দাবীদার ১৪ টি বাউন্ডারির প্রতিটি যেন ইঞ্চি ইঞ্চি করে মাপা , নিপুণ কারিগের সযতন হাতে মেপে মেপে আঁকা যেন প্রতিটি শট। ২৫১ রানের টার্গেট নিয়ে ভারত যখন নামছে , তখনও কেউ জানেনা কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য । ২ উইকেটে ৯৯ পর্যন্ত পৌছুল ভারত...
আচমকা ঘুরতে শুরু করল জয়সুরিয়া - মুরালি - ধর্মসেনার বল , এরপর ইডেন গার্ডেনে ঘুর্ণি-ঘূর্ণি-ঘূর্ণিঝড়। ঘোর কাটতে না কাটতেই ভারতবর্ষ দেখল ১২০ রানে ৮ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরত গেছেন । সম্বিত ফিরে পাওয়া দর্শকদের গ্যালারি থেকে মাঠ বরাবর ছুটে আসল বোতল , পটকা আরও অনেক কিছু । , খেলা শেষ হল না ... , ইডেনের কপালে সেঁটে গেল কলংকের দাগ
লংকান রুপকথার শেষ বাক্যটি লেখা হল তার তিনদিন পর, বিশ্বকাপ ৯৬ এর ফাইনালে , ধ্বংসযজ্ঞের সর্বশেষ শিকারের খাতায় লেখা হল অস্ট্রেলিয়ার নাম...
মন্তব্য
স্মৃতির পানাপুকুরে ঢিল ছুঁড়লো চমৎকার মেহরাবীয় লেখাটি।
=====================================
বিশ্বকাপের সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর খেলাটি বোধহয় ৮৩-র বিশ্বকাপে কপিল দেবের ভারত খেলেছিলো, কুড়িপঁচিশের মধ্যে ৫ উইকেট পড়ে যাবার পর কপিলের সেঞ্চুরি। টিভি ক্রুদের একটা ধর্মঘট থাকায় সেই ম্যাচের কোনো ভিডিও নেই। রোবোট নানার কাছ থেকে তথ্য আশা করছি।
কৈতে না কৈতেই বান্দা হাজির। ১৭ রানে ৫ উইকেট। সেই ম্যাচে ভারত করে ৬০ ওভারে (তখনো ইংল্যান্ডে ওয়ানডে হত ৬০ ওভারে- আর অনেক লিমিটেড ওভার ম্যাচই হত দেড়দিনে) ২৬৭/৮। কপিল ১৭৫। ভিভ রিচার্ডসের ১৮৯র আগে ওটা ছিলো সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্কোর ওয়ানডেতে। মজার ব্যাপার হলো কপিলের ওই একটাই সেন্চুরি ওয়ানডেতে। পরিসংখ্যান বা ওভারঅল পারফরমেন্স দিয়ে কপিলকে কখনো জাজ করা যায় না।
লেখকের মন্তব্য
@রোবট ভাই ,
ম্যাচটা ছিল জিম্বাবুয়ের সাথে , সেবার আইসিসি ট্রফি জিতে জিম্বাবুয়ে প্রথম খেলতে এসেই প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল , এরপর এই ম্যাচে তৈরি হল ভারত-বধের ক্ষেত্র । বাকিটা আপনিই বলে দিলেন (আমি অবশ্য হিস্ট্রি ঘেটে জেনেছি
) , সেসময় কি বিটিভি ম্যাচ টেলিকাস্ট করত?)
নাহ। বিটিভি ১ম খেলা দেখায় ৮৭র বিশ্বকাপ।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ নুশেরা আপু ।
ঠিক একই সময়ের কথা , যখন স্কোর বুঝতে মাথা কুটে মরছি -- চারপাশে বিপুল শোরগোল -- বাসিত আলী , বাসিত আলী । আমি ভেবে বসেছিলাম বাসিত আলী বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার । ক্রিকেটে যতদিনে ধাতস্থ হয়েছি , বাসিত আলী ততদিনে কর্পূরের মত উড়ে গেছে ।
জাহিদ ফজল, হাসান রাজা এদের পাও নাই? এরাও সব বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার।
লেখকের মন্তব্য
জাহিদ ফজলের কথা মনে করতে পারছি না । তবে একজন ছিল -- মোহাম্মদ জাহিদ , মারাত্মক তার গতি , পত্রপত্রিকায় কত নামডাক । তারপর কবে যে গেল , টেরই পাওয়া গেল না। হাসান রাজা তো ১৫ তে আসল , ১৬ তেই গেল , এরকম অবস্থার ক্রিকেটার
৯৬ সালে শ্রীলংকা সফরে নিরাপত্তার অভাব ছিলোই। সম্প্রতি পাকিসতানে শ্রীলংকা দলের উপর হামলা এটাই প্রমাণ করে যে ক্রিকেটাররাও সন্ত্রাসের শিকার হতে পারে।
৯৬র বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্টইন্ডিজ না জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে কি হত বলা মুশকিল। আমার মতে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা পারফর্ম্যান্স (খেলার মান অর্থে) ৯৬রটা।
শ্রীলংকার ব্যাটিং সবসময়ই ভালো ছিলো। এমনকি প্রি-টেস্ট স্ট্যাটাস যুগেও। সমস্যা ছিলো বোলিংএ। ভাস-মুরালি আশার পরই ওদের চেহারা পালটে যায়। জিম্বাবুইও তাই ছিলো। মাইনোদের মাঝে আয়ারল্যান্ডও তাই। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।
লেখা ভালো হৈসে।
আপনি যদি প্রি-টেস্ট স্ট্যাটাস যুগের কথা বিবেচনা করেন,তাহলে আমি বলব আয়ারল্যান্ড দলটা বাংলাদেশের চেয়ে ভাল খেলে।সে সময়ে বাংলাদেশ যা খেলত তার চেয়ে আয়ারল্যান্ড অনেক এগিয়ে।তাদের টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার কথা ICC এর বিবেচনা করা উচিত।
একমত।
যেটা বলেছি অন্যান্য মাইনোর বোলিংএর চেয়ে ব্যাটিং ভালো, বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। আমাদের বোলিং ভালো। আয়ারল্যান্ডের ভালো করার প্রধান কারণ ইংল্যান্ডের সাথে থাকা। আয়ারল্যান্ড তো দুরে থাক, অস্ট্রেলিয়া গত ১ বছরে যে ফর্ম তা আগামী ১ বছর থাকলে এক শ্রেণীর পন্ডিত অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়া টানাটানি শুরু করবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে বেইস, সেটা খুব কম টেস্ট দলেরই আছে। লাখ লাখ ছেলে টিন এজ লাইফে ক্রিকেট নিয়ে থাকে। এটা কিন্তু অন্য অনেক দেশেই নাই।
আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল।অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় এখন উঠে আসছে।তবে ব্যাটিং এ গুরুতর সমস্যা আছে।পুরো মিডল অর্ডার একেবারেই পারফর্ম করতে পারছে না।আমাদের ক্রিকেটে একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকা দরকার।আমাদের দেশে হাতে গোনা কয়েকটা খেলোয়াড় বাদে কেউই কিন্তু দলে দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে থাকতে পারছে না।এটাও একটা সমস্যা।এভাবে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলে সেটা দলের খেলাতেও প্রভাব ফেলে।
ক্রিকেটের উজ্জ্বল সম্ভাবনা যেমন দেখছেন, আমি তেমনি অশনি সংকেতও দেখতে পাচ্ছি। মাত্র ছ'মাসের ব্যবধানে আমার বাসার কাছাকাছি তিন-তিনটে মাঠ ভ্যানিশ! ওখানে এখন ডেভেলপারের দর্পিত "বহুতল কুঠুরী"! দেশে যদি খেলার পর্যাপ্ত মাঠই না থাকে, আর বড়জোর দেড় প্রজন্মের মধ্যেই নতুন ক্রিকেটারের সংকট দেখা দেয়া অস্বাভাবিক নয়। অথচ এর প্রতিকার নিয়ে কারও মাথাব্যাথা আছে কি?
লেখকের মন্তব্য
বাংলাদেশ দলে ঢোকার বয়েস ২১ , বিদায়ের বয়েস ২৫ । এই ধারা থেকে বের না হতে পারলে একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে হবে
লেখকের মন্তব্য
রোবোট ভাই , সাউথ আফ্রিকা জিতলে কি হত আমি বলি , পরের ম্যাচে ওরা অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারত । কারণ ওরা ভাল খেলে , এর চেয়ে অনেক শক্তিশালী কথা হল -- ওরা হারবে
। এবার বিশ্বকাপেও তো ওদের পার্ফরমেন্স সবচেয়ে ভাল ছিল শুরুতে
মাইনো দের বোলিং এর কথা সর্বাংশে ঠিক ।
হাহাহা। তবে ৯২-৯৬-৯৯র তুলনায় ওদের এবারেরে দল দুর্বল ছিলো আমার মতে।
আর স্মৃতিচারণ পড়ে ভাল লেগেছে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
আহ কতো স্মৃতি - এতো দারুন একটা লেখা এতো পরে পড়লাম ভাবতেই খারাপ লাগছে।
আমারো ক্রিকেট দেখা শুরু সেই সময়েই - তবে ৯২ এর বিশ্বকাপ দেখেছি আমি ।
আমিও খেলার পাতা - পরিসংখ্যান সব মুখস্থ করতাম । এখনো পেপারে খেলার পাতা সবার আগে পড়ি । পুরোনো অভ্যাস।
নাস্তার টেবিলে গরমাগরম খেলার খবর না পড়লে খাবার হজম হতো না ।
==========================
আমার শারজার সেই ম্যাচটার কথা মনে আছে - তিলকরত্নে বমি করছিলো সেই ম্যাচে ।
গুরুসিংহে নামে আরেকজন প্লেয়ার ছিলো -
আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে - সেই ম্যাচটা খেলার পর ওরা কেদেছিলো - আমার মতে সেই সময়টা শ্রীলংকার ক্রিকেটের ঘুরে দাড়ানোর সময় ।
তখন থেকে তারা বিশ্বাস করছে তারা আর হারবে না ।
হায়রে কবে আমার দেশটা এমন একটা ম্যাচ হেরে কাদবে ।
================================
৯৬ বিশ্বকাপে জয়সুরিয়ার নামক মার্ডারার টার কথা ভালো করেই খেয়াল আছে -
ক্রিকেট বিশ্বকে বদলে দেয়া ওপেনিং পেয়ার ছিলো সেটা। ।
থার্ডম্যানের উপর দিয়ে যে সব চার ।
অষ্ট্রেলিয়া শ্রীংলকায় খেলতে যায়নি --
শ্রীলংকা শুধু বলছিলো আমরা অষ্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিততে চাই ।
সেমিফাইনালে ভারত হারার পর কাম্বলী ছিলো মাঠে - কাম্বলী কান্নাটা মনে আছে স্পষ্ট।
আরেকজনের কথা না বলেই নয় -- অরবিন্দ ডি সিলভা নামক সিরিয়াস ক্রিকেটের মৃৎশিল্পী ।
এই লোকের মুখে প্রথম হাসির ভাব (তাও হাসি না) দেখেছিলাম বিশ্বকাপ জেতার পর।
আহ কতো স্মৃতি -
অনেক অনেক ইনিংস দেখেছি - ডি সিলভার ফাইনালের ইনিংসটা স্পেশালি মনে আছে এখনো।
লেখকের মন্তব্য
বাসায় পত্রিকা আসার পরই খেলার পাতা আলাদা করে ফেলতাম , চেটেপুটে শেষ করার পর কোথায় যে রাখতাম খেয়াল থাকত না , এই নিয়ে বাসার লোকজন অনেক চেঁচামেচি করত । পত্রিকা চেনজও করতাম খেলার নিউজের উপর বেজ করে , যে পত্রিকায় বেশি কাভারেজ সেই পত্রিকা রাখতাম ।
গুরুসিনহার চেহারা আসলেই মনে রাখার মত । এমন চেহারার ক্রিকেটার এখন একদমই হারিয়ে গেছে । মোটাসোটা , দাড়িয়াল , তার উপর চশমা । ৯৬ এ গুরুসিনহার পারফর্মেন্সও ভাল ছিল বেশ ।
৯৬ এর বিশ্বকাপের পরপরই হয়েছিল সিঙ্গার ট্রফি , ৪ ম্যাচে ডি সিলভার রান ছিল ৩২৪ , একবারও আউট হয়নি । চোখে লেগে আছে সেটাও
৯২ বিশ্বকাপ দিয়ে ক্রিকেটজ্ঞানের সূত্রপাত। কিন্তু, ৯৬ এর স্মৃতি অনবদ্য।
ওরে তায়েফ, তুই চতুরেও আছিস? তাইলে মুখে কুলুপ এঁটে বসি থাকস ক্যান?
(এইবার যদি কস আমারে চিনস নাই, তাইলে তোরে একটা কঠিন সাইজের গদাম!)
লেখকের মন্তব্য
হেহে , আপনারা পুরোনো প্রজন্ম
এই লেখাতে অনেকবার এসেছি কিন্তু কখনও কমেন্ট করা হয়নাই। অনেক কথা আর স্মৃতি এসে ভীড় করে। একটা বড় কমেন্ট পেন্ডিং রাখলাম!
লেখকের মন্তব্য
করে ফেলেন পেন্ডিং কমেন্ট টা । আমি পেন্ডিং রাখলে আর জীবনেও কমেন্ট করি না
এর আগে স্পোর্টস নিউজ নিয়ে একটা পোস্টেও আমাদের মিউচুয়াল কমেন্ট পেন্ডিং ছিল
শেষটায় এসে ধুম করে শেষ হয়ে গেল।
:(
লেখকের মন্তব্য
হু , আমার আর ধৈর্য কুলাইতেসিল না । ইদানিং কিছু লিখতে ইচ্ছা করে না , হঠাৎ লিখতে ইচ্ছা হলেও ভাবতে ইচ্ছা করে না , ভাবতে ইচ্ছা করলেও লেখা শেষ হওয়ার আগেই ইচ্ছা চলে যায়
অসাধারণ সব স্মৃতি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন