মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

(এই লেখাটির সব চরিত্র কাল্পনিক , কেহ উহার মাঝে কোন সাযুজ্য খুঁজিয়া পাইলে তাহা নিছক কাকতাল মাত্র)
১. প্রাক-কথন:
তিন কবির বেজায় শখ । বেজায় শখ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার । তাহাদের যুগে সায়েন্স ছিল , আর্টস ছিল । ছিল না শুধু কমার্স ।
তিনকবির ভীষণ পিপাসা , জ্ঞানার্জনের বিশাল চাওয়া । জ্ঞানসাগরে সাঁতার কাটার বয়েস নেই , তিন কবির কমার্স পড়ারও বাধা নেই ।
লোকে বলে শখের দাম লাখ টাকা ।রাজ্য জুড়ে ঢাক বাজে --- বিশ্ববিদ্যালয়ের "বিজনেস ক্লাসে" তিন কবি ফল সেশনে ভর্তি হবে । কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন বিরাট ফ্যাকরা । অনলাইনে টিপে টুপে করতে হবে রেজিষ্ট্রেশন । সে কি আর মুখের কথা ? অনলাইনে শিখতে শিখতে "বিজনেস ক্লাস" ওভারলোড । নতুন কেউ রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে না , কোর্স টিচারের সাফ কথা । উপায় তবে ? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যখন পণ , যেভাবেই হোক হবে তা পূরণ । আসন খালি মেলে "ইকোনমি(কস) ক্লাসে" তাই সই , রেজিষ্ট্রেশন হয় ইকোনমি(কস) ক্লাসেই।
১.১ প্রাক-কু-কথন এবং তাহার জওয়াব
ডেঁপো বদমায়েশারা কুকথা ছড়ায় । সায়েন্সজনেরা বলে "মুঠোফোনে তাঁহারা কাব্য লেখে , কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার জানে না বলেই বিজনেস ক্লাসটা নিতে পারলো না , চুক চুক" । কমার্সজনেরা বলে "এতাল বেতাল বুঝিনা , কমার্স কঠিন বলেই ভয়ে গুটিসুটি মেরে বিজনেস ক্লাস ছেড়ে দিয়েছে" ।
তিন কবির শক্ত চোয়াল , পাঁজিদের দিতে হবে দাঁতভাঙা জওয়াব ।
বিকেলে আসে যৌথ ঘোষণা "আমরা মানুষের কবি , সাম্যবাদের কবি । বিজনেস শব্দটার অর্থ মানে বাণিজ্য , বাণিজ্য মানেই মুক্তবাণিজ্য , মুক্তবাণিজ্য মানেই নার্কিন মুক্তরাষ্ট্র । আমরা জেনেশুনে বিজিনেস ক্লাস নিয়ে সেই মুক্তরাষ্ট্রের ধামাধরা হতে পারি না । তার চেয়ে ইকোনমি মানে ইকোনমিক , ইকোনোমিক মানেই সাশ্রয়ী , সাশ্রয় মানে সমতা , সাম্যবাদ ।
দুর্জনের চুপসে যায় , সমবেত জনতা হর্ষধ্বনি করে ওঠে ।
২. ক্রমণিকা
তিন কবি কবিতা লেখেন । মনে মনে প্রথম জনা নার্কিন মুক্তরাষ্ট্রকে চেপে ধরেন , দ্বিতীয়জনা চামড়া ছিলেন , তৃতীয়জনা লবণ মাখেন । হঠাৎ মালকিন হাঁক দেন "তোমরা রেডি হও , নার্কিনের কাছে যাবো , তোমরা সঙ্গী হবে ।"
তিন কবি বেজায় খুশি । নার্কিনের ঘরে নাকি অনেক সাদা মেয়েদের দেখা মেলে । নারী মানেই নিত্য নতুন কবিতা , আহা আহা ।
যেতে হবে বিমানে চড়ে ,তিনকবি বসবে সামনের দিকে , সিটগুলো সেথায় বড় বড় , খানিক পরপরই আসতে থাকে বিমান বালা । হাতে থাকে চকোলেট কুকিজ , ক্যাশিউ নাট , আর জুস , স্যামন মাছ , পেপার জ্যাক চিজ, মাখখন , ঘনদুধের কফি। তিন কবির ভীষণ প্রেশার , বড্ড বেশি ব্লাড প্রেশার । এসব খেতে ডাক্তারের সাফ মানা ।
তিন কবি ভীষণ রসিক , বড্ড বেশি ভোজনরসিক । বিমানবালাদের খাদ্যাহ্বান আর কাঁহাতক এড়িয়ে যাবেন । শেষে এসব খেয়ে মরার উপক্রম না হয় । তৃতীয় কবির কাছে খবর আসে , বিমানের পেছন দিকটায় খানিক ঘিঞ্জি । তবে খাবার দাবার সে তুলনায় অতিশয় কম । লজ্জা ভেঙে চেয়ে বসলেও বুড়ো ভাম হওয়ার অজুহাতে দিতে অস্বীকার করে লজ্জা ফিরিয়ে দেবে । তবে তাই সই , চল ইকোনমিতেই । আগে জীবন বাঁচুক , তারপর হবে সব ।
২.২ আ-ক্রমণিকা এবং তাহার জওয়াব:
হতচ্ছাড়া ছোঁকরাগুলি কুকথা ছড়ায় , "ছ্যাঁ ছ্যাঁ , নার্কিনের বিরুদ্ধে এত কথা বলে সেই নার্কিনের বাসায় দুধ সেমাই খেতে যাচ্চে ? তাও আরাম করে সামনে বসে বাদাম চিবু্তে চিবুতে? বলি , ঘোর কলিকাল এলো... মরি মরি" ।
তিন কবির শক্ত চোয়াল , পাঁজিদের দিতে হবে মোক্ষম জওয়াব । বিকেলে আসে যৌথ ঘোষণা "বিমানের সামনের দিকে লোক কম , পুঁজিবাদী খানা-দানা" । আমরা মানুষের সাথে থাকতে চাই , মানুষের জয়গান গাইতে চাই । তাই মানুষের ভীড়ে মিশে পেছনে চড়েই নার্কিনের বাসায় যেতে চাই ।
সমবেত জনতা হর্ষধ্বনি করে ওঠে ।
৩. লা-জওয়াব .....
নার্কিনের উপর তিন কবির তেমন আর রাগ নেই ।নার্কিন হাজার খারাপ হোক , ওদের ড্রইং রুমটা তো খারাপ না । কত মানুষ সেখানে আসে , আদর করে ড্রইং রুমটাকে ডাকে সাধারণ পরিষদ । অবশ্য হুগো শ্যাভেজ নামের লোকটা এসে নাকি ঐ ঘরে সালফারের গন্ধ পেয়েছিল , মুয়াম্মার গাদ্দাফী তো সোফায় বসে খিস্তি যে শুরু করেছিল , ওঠানোই যাচ্ছিল না । তিন কবি অবশ্য অমন কিছু করবে না । তারা গাইবে শুধু পবিত্র সে চরণ
"আমি এই ভালবাসা দিয়ে
গ্রীষ্মের রাত্রিকে করি স্নিগ্ধ ও সজল ,
কন্টকিত পথ করি পুষ্পময়"
উপবিষ্ট সভাসদরা শুনবে ,হবে তুমুল হর্ষদ্ধনি
৪ উপসংহার :
যাবার আগে শেষ বিকেল । বিশাল ময়দান , লাখো মানুষ এসেছে বিদায় দিতে । বিদায়যাত্রী ১০০ , সাথে আরও ৩ কবি । ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লাখো জনতা পশ্চাদ্দেশ পেতে দিয়েছে , তাহা না হইলে বিমানের ইঞ্জিন স্টার্ট হইবেক না। ১০৩ জনকে সরবরাহ করা হয়েছে একফুট ব্যাসের ১০৩ টি খাম্বা যাহা দ্বারা তারা জনগণের পশ্চাদ্দেশে "........" মারিবেন। তিন কবি দিল খোলা প্রাণ , মানুষের জন্য তাদের অসীম দরদ। শলাপরামর্শ করিয়া তিনকবি ঠিক করিয়াছেন একফুটের বদলে আট ইঞ্চি ব্যাসের খাম্বা দ্বারা তাঁহারা জনগণের "......." মারিবেন।
সে কথা জানিয়া উপস্থিত সমবেত জনগণ মারহাবা , মারহাবা বলিয়া হর্ষধ্বনি করিয়া উঠিল
টিপ্পনি : হর্ষধ্বনি শুনিতে এখানে টিপি দিন
মন্তব্য
এক্কেবারে ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকাল স্যাটায়ার দিয়া যাত্রা শুরু?
মারাতমক হয়েছে---
চতুর্মাত্রিকে আপনাকে স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
ব্লগ জীবনে নতুন করে প্রবেশের সুযোগ কি আছে বলুন ? শুরু করতে হলে তো ট্র্যাকের মাঝখান থেকেই শুরু করতে হয় ইদানিং । তাই শুরুটাও অনিশ্চিত কিছু দিয়ে ।
অনেক মানুষকে দেখছি এখানে , ব্লগটাও ভাল লাগল । আগে আসা হয়নি , আসলে হয়ত দৌড় শুরু করতে এত দেরিও হত না
অনেক ধন্যবাদ , প্রথম কমেন্ট সবসময়ই বিশেষ কিছু
সিম্পলি দুর্দান্ত!!
চতুর্মাত্রিকে স্বাগতম, মেহরাব। ভালো লাগছে তোমাকেও এখানে দেখে।
যে বাঁশ দিলে, সেটা ওই তিন কাল্পনিক কবির হজম হইলে হয়! কবিতা করে করে হয়তো তাঁদের চামড়া সুচিক্কণ হয়ে উঠেছে!
লেখকের মন্তব্য
চিক্কন হলে তো কাঠিতেই কাজ হত । মোটা হয়ে গেছে বরং , রাইট ?
তিনকবির অপমান তো তিনকবির উপর চাপিয়ে দিলাম , কিন্তু তারপরের মারপিটের লজ্জার ভার নিজের কাঁধেও অনুভব করছি । মুখে কুলুপ এঁটে দিলাম
অনেক থ্যাংকস , ভাল একটা সাইট পেয়ে ভাল লাগছে
একটু উপ্রে দিয়া গেছে...
লেখকের মন্তব্য
http://prothom-alo.com/detail/date/2010-09-17/news/94059
এখানে লিংক পাবেন । প্রথমে আমারও যে খুব খারাপ লেগেছিল তা নয় । কিন্তু পরে ব্লগে ব্লগে আর প্রথম আলো তে হাততালির বন্যা দেখে ব্যাপারটাকে খারাপ না , নোংরামীই মনে হল
এক কথায় অসাধারণ।
আগে একবার পড়ছি কিন্তু খাবারের কথা শুনে পেট টা মোচড় দেয়াতে খাইতে গেসিলাম।ফিরে এসে আবার পড়লাম এবং আবারও শুধু একটা কথাই মাথায় আসলো।
অসাধারণ
লেখকের মন্তব্য
অসংখ্য ধন্যবাদ
অসাধারণ লেখা।
চতুর্মাত্রিকে স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
কৃতজ্ঞতা
তিন কবি!আহা!মধু!
বাঁশে তেল মনে হয় একটু কম হয়ে গেছে।
চতুরে স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
কি বললেন কালপুরুষদা ? তেল ? অল্প একটু তেল হলেও তো আফসোস থেকে যাবে
ঘুড়ি উড়ানোর আগে কাঁচগুড়ো করে সেদ্ধ আটা সহযোগে যেটা দেয়া হয় , সেটার নাম ভুলে গেছি । সেটা দিতে পারলে সবচেয়ে ভাল হত
ভাল লাগল আপনার মন্তব্য ।
অনেক ধন্যবাদ
মান্জা!শিরিষ কাগজও দেয় কেউ কেউ।

ও মাই গড!শুনেই কেমন জানি মায়া হচ্ছে।
দুর্দান্ত!!ও জটিল।

লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সাদরে গৃহীত হল। জন্মদিনের শুভেচ্ছাটাও নিলাম । ঠিক সময়ে আবারও নেব
পুরা তৈল ছাড়া আসলো আর গেল, classic satire

লেখকের মন্তব্য
তৈল ছাড়া ............... ভাবতেই বীভৎস লাগছে । আফসোস , সত্যিকার ভাবে যদি দেয়া যেত
ফেসবুকে পড়ছিলাম
লেখকের মন্তব্য
দুইটার থ্যাংকস একসাথে দিলাম
ওরে ওরে মেহরাবের আগমন, শুভেচ্ছার স্বাগতম! সেরম অইছে।

লেখকের মন্তব্য
তোমাকে দেখে তো মহাখুশি হয়ে গেলাম । আমি ভাবসিলাম , তুমি রিটায়ার্ড ।
কত এর মাঝে ৭ ? পাঁচ এর মাঝে হলে
পূর্বের মত দূর্দান্ত লেখা। চতুরে স্বাগতম
ভালো থাকুন
লেখকের মন্তব্য
কেমন আছেন ?
শুভেচ্ছা রইল
এত কঠিন বাঁশ কারে দিলেন ?
আপনে তো শান্ত শিষ্ট লোক ছিলেন - খেপলেন কেন?
বিষয়টা জানতে পারলে পুরা মজা পাইতাম - যা জানি না যেহেতু বাঁশা দেয়ার কাহিনী শুনেই হাসাহাসি করি :-b
লেখকের মন্তব্য
হাহা , লেখার নিচের দিকে একটু টিপি দিয়েন । তাহলে বুঝবেন , কিন্তু তারচেয়েও বড় ব্যাপার হল হাততালির চোটে অনেকে হাত এক সপ্তাহের জন্য অচল করে ফেলসে । তিনকবি পুরোই সফল
এই লেখাটা ভবিষ্যতে কেউ পড়লে বুঝবেই না
। তাই লেখাটা ইলিশ মাছ ক্যাটেগরি ছাড়া কোথাও ফেলতে পারলাম না
হাহাহাহা আমি ভাবসিলাম আপনার পরিচিত কোন কবি মনে হয় --
কঠিন জিনিস হৈসে
ফেইসবুকেই লাইক দিছিলাম। এইটা একটা কঠিন বাঁশ!
চতুরে স্বাগতম।
যেখানেই লেখেন, এট্টু নিয়মিত!! পিলিজ লাগে!
মেহরাব ভাই, জটিলস্য হইসে। লেখালেখিতে আবার রেগুলার হয়ে যান। চতুর ব্লগে স্বাগতম

টিপ্পনি টা উপরে দিলে ভালৈতো। পরে এসে কাহিনী বুঝছি।
-------
পোস্ট সেইরাম হইছে।
মন্তব্য করুন