মেহরাব শাহরিয়ার-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Marlboro -- এর চাইতে পৌরষদীপ্ত সিগারেট কল্পনা করা সত্যিই কঠিন।

অথচ Marlboro এর জন্মের গল্পটা একদমই অন্যরকম। ১৯২৪ সালে Philip Morris & Co. বাজারে নিয়ে এল মেয়েদের সিগারেটের ব্র্যান্ড Marlboro ।
এভাবেই চলছিল অনেকদিন । ৫০ দশকের শুরু থেকে ধূমপান নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা হঠাৎই বেড়ে যাবার পর অন্যান্য অনেক সিগারেটের ব্র্যান্ডের মতই Marlboro ও নিয়ে এলো ফিল্টার সহ শলাকা। আমেরিকায় May মাসের আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক , সেটার সাথে মিল রেখেই ফিল্টার সিগারেটের জন্য তাদের স্লোগান হল -- Mild as May ।
একে তো গায়ে গতরে নারীর তকমা , তার সাথে মে মাসের লাবণ্য যোগ হয়ে Marlboro হয়ে উঠল পুরোদস্তুর রমনীয় কমনীয় সিগারেটের প্রতীক। উপরন্তু কিছু মানুষের মাঝে ধারণা ছড়াল , ফিল্টার দেয়া সিগারেট মানেই লেডিস ভাবসাব। Marlboro তখন সবেমাত্র চেষ্টা করতে পুরুষদের বিশাল বাজার করায়ত্ত্ব করতে। কিন্তু ৩০ বছরের লেডিস ভাবসাব রাতারাতি ঝেড়ে ফেলাও চাট্টিখানি ব্যাপার না।
Philip Morris ভেবে দেখলেন , মধ্যবয়েসী দের মাঝে এ সিগারেট চালানো যাবে না, তাদের হাজার করে বললেও হাফ-লেডিস , ফুল-লেডিস গালই কপালে জুটবে। তার চেয়ে কিশোর বা তরুণদের মাঝে যারা সিগারেট ধরাচ্ছে তাদেরকে কোনভাবে পাকড়াও করতে হবে। ফিল্টার চালু করা অন্য কোম্পানীগুলো তখন সবাই একটাই রাস্তায় হাটছে, কাগজের বিজ্ঞাপনে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রতিযোগিতা করে গল্প বলছে ফিল্টার কি করে নিকোটিন আটকে, জীবনশক্তি বাড়িয়ে তোলে ।
নিজের পরিকল্পনার কথা বিজ্ঞাপন নির্মাতা Leo Burnett Co. কে খুলে বললেন Philip Morris। Leo Burnett ঠিক করলেন নতুন কিছু করবেন , ফিল্টার আর স্বাস্থ্যের কথা শুনতে শুনতে আপাতত সবাই ত্যাক্ত বিরক্ত। তার চেয়ে দুষ্ট কিছু কি করা যায়?কিশোর বা সদ্য তরুণর ছেলেরা কি চায় ? -- উন্মাতাল জীবন , বাবা মায়ের বন্ধন থেকে মুক্তি , পৌরষদীপ্ত কঠিন চাহনি -- এই তো।
ব্যস আইডিয়া পেয়ে গেলেন Burnett।কয়েক বছর আগে Life magazine এ ছাপা হওয়া এক Texan Cowboy এর ছবিটা তার মাথায় গেঁথেই ছিল । ঠিক করে ফেললেন , তামাটে বর্ণের কঠিন চোয়ালের Texan Cowboy, মাথায় কাউবয় হ্যাট আর হাতে ঘোড়ার লাগাম ধরে Marlboro ধরাবে। সেই যে Marlboro Man এর জন্ম হল , আর পেছনে ফিরে তাকাতেই হল না ।

নারী থেকে রাতারাতি বীরপুরুষে পরিণত হওয়া Marlboro কে নিয়ে মাঝের সময়টায় হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরেছে অন্য সিগারেট কোম্পানী সহ ধূমপান বিরোধী সংস্থা গুলো। কিছু সিগারেট নামল নিজেদের আরও বেশি পুরুষ প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় । Chesterfield সিগারেট ,টেক্সাসের বাবা আমেরিকাকে টেনে বলল "“Men of America” smoke Chesterfields" । Old Gold সিগারেট বলল , তাদেরকে পোড়ালে স্বাধীন মানুষের মত চিন্তা করা যায়। এসব করে তাদের বিক্রি-বাট্টাও বাড়ল বটে , কিন্তু Marlboro তখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। দু'বছরে তাদের বিক্রি বেড়ে গেল ৩০০ শতাংশ। কি করি , কি করি ভেবে প্রতিদ্বন্ধীরা তখন পিছু নিল Marlboro Man মডেলদের। ফলাফলও এসে গেল অবিশ্বাস্যভাবে । ৩ জন Marlboro Man -- ওয়েইন ম্যাকলারেন , ডেভিড ম্যাকলিন আর ডিক হ্যামার পরপর মারা গেলেন ফুসফুসের ক্যান্সারে। বাকিরা হৈচৈ করে Marlboro কে ডাকতে শুরু করল "Cowboy killers"। Philip Morris তখন রীতিমত বলেই বসলেন , "ম্যাকলারেন কোনদিন Marlboro Man ছিল না , কোন বিজ্ঞাপনও সে করেনি" । Marlboro Man শব্দের দাপট তখন এত বেশি , সব প্রমাণ বাতাসে মিইয়ে গেল।
৫০ টি বছর একটানা কেটেছে সেই দাপট নিয়েই । ঈগল পাখির দৃষ্টি নিয়ে , ১৯৯৯ পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিলবোর্ড আর ম্যাগাজিনগুলোতে Marlboro এর ধোঁয়া ছেড়েছেন টেক্সান কাউবয় Marlboro Man রা-ই।
মন্তব্য
দারুণ তো! আমি তো আরও অনেকের মতোই কঠিন পৌরুষদীপ্ত সিগারেট ভাবতাম এটাকে! হাহাহা!
অজানা তথ্য জেনে মজা পেলাম!
শুভ কামনা আপনার জন্য!
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য
হা হা হা।
ব্যাপক পোস্ট।
পড়ে খুব মজা পাইলাম।
তবে বাংলাদেশে যখন সিগারেটের টিভি বিজ্ঞাপন প্রচার জায়েজ ছিল সেটা ছিলো দেখার মতো বিনোদন। বিশেষ করে এটিএন বাংলায় নাসির গোল্ড টপটেনের গান ছিলো দারুণ আনন্দদায়ী। আর মি নেভী ইউর নেভী বলে জয়া আহসান যে ক্রেজ তৈরি করে ফেলল, সেটার কথা নাই বললাম। মজার কথা বলি একটা জয়ার এ্যাডের প্রভাব সম্পর্কে। আমাদের এক স্যার ছিলো কেতাব উদ্দিন, যিনি কিনা হ্যা কী বলে টান দিয়ে কথা বলতেন। আমরা কাল্পনিক এ্যাড বানাতাম, মি কেতাব, হ্যা কী, তখন তার দিকে বই ছুড়ে দিয়ে ইউর কেতাব।
সিগারেট ব্রান্ডিং এর আরেকটা লাইন বলি, গোল্ড লিফের প্যাকেটে লেখা থাকত, "তাদেরই মানায় , জীবনে যারা বহুদূর যায়"-- এটা কিন্তু মধ্যবয়সী দের আকৃষ্ট করতে মোক্ষম।
অনেক কথা বলে ফেললাম।
আপাতত অফ।
লেখকের মন্তব্য
দারুণ জিনিস মনে করায় দিসো । এটিএন বাংলার সেই সিগারেটময় রাত্রিগুলো । সারাটা রাত বাংলা সিনেমা(পারলে সবচেয়ে বাজেগুলি), সাথে অবিরত সিগারেটের বিজ্ঞাপন । প্রথম দু'টো বছর এটিএন দিনের ১০/১২ ঘন্টা সিগারেটের বিজ্ঞাপন করেই চালাত । বাংলাদেশে এত এত ব্র্যান্ডের সিগারেট আছে , তখন না দেখলে জানতামই না। "ফ্রেন্ডস" সিগারেটের অ্যাড বেশি মনে আছে , এক মেয়ে এসে দুই মারপিটরত পার্টির মাঝে কয়েক কার্টন সিগারেট আকাশে ছুঁড়ে দেয় , তারপর আকাশ থেকে বৃষ্টির মত খাড়া হয়ে পড়ে, একটা করে শলাকা সবার ঠোঁটে আটকে যায় , তারপর দুই দলের ফ্রেন্ডশীপ হয়ে যায় ।
নাসির গোল্ড এর অ্যাড মনে হয় বেশি দেখা যেত । রিগাল , রয়েল , মাউন্টেইন আরও কত কি । সবগুলি অ্যাডেই নারীদের উপস্থিতির ধরণটা বেশ লক্ষণীয় ছিল । জাহিদ হাসানের গোল্ডলিফের অ্যাডটা মনে আছে ? জয়া আহসানের অ্যাডটা তো বৈপ্লবিক, ভীষণ কুরুচিপূর্ণ। সেই অ্যাড করা জয়া এখন দারুণ সুরুচির অভিনেত্রী। ক্যারিয়ার গড়ার স্বার্থে মিডিয়ায় কি না করতে পারে আমাদের অভিনেত্রীরা
এ ব্যাপারে জ্ঞান এর লেভেল মাইনাস টেন। কাউবয়রা যে বিলবোর্ড কাঁপিয়ে আছে সে তো জানবার প্রশ্নই আসে না। নামটা জানতাম আর মনে মনে ভাবতাম এইটা বোধহয় মেয়েদের জন্য, কেন এরকম ভাবতাম সেটাও জানি না
লেখকের মন্তব্য
বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ম্যাগাজিন উল্টে পাল্টে দেখতে খুব ভাল লাগত ছোটবেলায় । তখন এই মার্লবোরোর বিজ্ঞাপনগুলিতে চোখ আটকে যেত খুব। টেক্সাসে আসার পর সেসব কথা মনে হল
আমাদের এখানে তো মার্লবোরো জামাকাপড় ও বানায়। এই মার্লবোরো আর সিগারেট মার্লবোরো সেইম নাকি কে জানে! ইউএস মার্কেটে ওরা কল্থ বিজনেস করে?
http://www.mcsapparel.com/index.html
লেখকের মন্তব্য
না , আলাদা খুব সম্ভবত । আর আপনার সাইটে USA থেকে ঢুকা অ্যালাউড না :s
ওহ হুম পাওয়া গেছে। ইতালীয়ান কাপড়ের কোম্পানী। ইউএস বাদে সব উন্নত দেশেই বিজনেস আছে দেখা যাচ্ছে। আর নামটা সিস্টেম করে নিছে
এইটার লাল প্যাকেটের বিড়িটা বেশ স্বাদের। আমার বেশি লাগে বইল্যা এইটার দাম দিয়া আমার পোষায় না।
লেখকের মন্তব্য
এই মার্ল্বোরো নামেরও একটা ইলেবোরেশন আছে - এক চা-মামার কাছে শুনেছিলাম। এখন মনে পড়ছে না, আপনার জানা আছে কি?
লেখকের মন্তব্য
শেয়ার করুন । উইকিপিডিয়ার দ্বারস্থ হলাম Marlboro brand cigarettes is named after Great Marlborough Street, the location of its original London factory (now changed to Richmond Virginia).
যে রাস্তায় ফ্যাক্টরি ছিল , তার নামেই নাকি সিগারেট
থ্যাঙ্ক ইউ ফর স্মোকিং মুভিটা কি দেখেছেন, এইটাও কিন্তু ব্যাপক একটা ইন্সাইট দেয়, সিগারেট এর মত বিষাক্ত পন্যের বিপননের ব্যাপারে
লেখকের মন্তব্য
না দেখিনি , কিন্তু অনেকদিন হার্ড ড্রাইভে পড়ে আছে । সাজেশন পেলাম যেহেতু , তাড়াতাড়িই দেখে ফেলব ইনশাআল্লাহ
বেয়াফক বিনুদন পাইলাম ।
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংকস
দারুণ লাগলো পোস্ট। তবে মার্লবোরো কিন্তু আসলেই লেডিজ সিগারেট। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে যারা মার্লবোরো খায় তাদেরকে নানাভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়
। আসলেই মার্লবোরোর মধ্যে কোনো ঝাঁজ নাই। মনে হয় যে কাগজের ঠোঙা বানায়া পিছনে আগুন লাগায়া টান্তাছি!
লেখকের মন্তব্য
তাই নাকি ? আমি সিগ্রেট টানি না তো , তাই জাজ করতে পারব না। তবে একটা ব্যাপার হতে পারে, মার্লবোরো তো বাংলাদেশে বিদেশী সিগারেট , রাইট? আর বাংলাদেশের জন্য বেনসন বাজারজাত করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো। বাইরের সিগারেটগুলি কমবেশি কম ঝাঁজওয়ালাই সম্ভবত। এখানে বাংলাদেশী যারা ধূমপান করেন , বেশিরভাগই মার্লবোরোই খান। বিদেশীদের মাঝেও যে ক'জনকে দেখেছি মার্লবোরোই দেখেছি বেশি । কিন্তু কোন বাংলাদেশী দেশ থেকে আসার সময় যদি বেনসন নিয়ে আসে , তার প্যাকেটটা নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যায় ।
৫৫৫ পাওয়া যেত আগে , সেটা নিয়ে সম্ভবত একটা ব্লগই পড়েছিলাম। এক ইতালীয় অভিযাত্রী দল বাংলাদেশীর কাছে "বাংলা পাঁচ" খেয়ে এটাকে গাঁজার শলাকা মনে করে বিশাল খাতির জমিয়ে ফেলেছিল
বিষের আবার ম্যানলি, উয়োম্যানলি।
লেখকের মন্তব্য
এইটা জোস হৈছে পোষ্ট। অফিসে বৈসা পড়লাম, আর মজা পাইলাম। ধন্যবাদ এই পোষ্টের জন্য।
জোসের চোটে দুইবার হৈয়া গেছে কমেন্ট।
বেনসন এন্ড হেজেসের বিজ্ঞাপন গুলা মনে আছে? "বেনসন" এন্ড "হেজেস" এর সাথে মিল রেখে ওদের থিম গুলি ছিল "অ্যাগোনি এন্ড এক্সটেসি", "জয় এন্ড সরো", এই টাইপ।
বিড়ির বিঙ্গাপনের এইসব কথা অর্থহীন-ফাঁকা বুলি।

পার্সোনালিটির সাথে বিড়ি মোটেও যায় না তবে ৭০/৮০-এর দশকে সেলিব্রেটিরা স্মোকিং প্রোমোট করতো ৯০-এর মাঝামাঝি থেকে এই ঝোঁক থেকে হিউম্যান বিং সরে আসতে চেষ্টা করেছে।
মন্তব্য করুন