লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

৯০ দশকের বিটিভি পর্দার বিজ্ঞাপনো-পিডিয়া

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যেখানে আছে ফুল , সুগন্ধ সেখানেই
স্কুল থাকলে , হোমওয়ার্ক থাকবেই
ড্রামের তালে আছে ছন্দের খেলা
যেখানে আনন্দ , সেখানে কোকা-কোলা
কোকা-কোলা .....


আকাশে তারা জ্বলবে, পাখিরা গাইবেই
সবার জীবনে তৃষ্ঞা থাকবেই
তৃষ্ঞা মেটাতে এইতো আসল ......
আনন্দ সবসময়
কোকা কোলা

ঠিকই ধরেছেন । ৯৫ কি ৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত কোকাকোলার বহুল জনপ্রিয় জিংগেল।

আরেকটু পেছনে, আমার প্রাইমারী স্কুল তথা শৈশবে জীবনে ফেরা যাক। ৯৪ এর জানুয়ারী, ভীষণ শীত , অথচ আমি অস্থির হয়ে আছি কোকা-কোলার তৃষ্ঞায় । কেবল আমার মত প্রাইমারী স্কুলের স্টুডেন্টরাই না , সেবার শীতে কোকা-কোলা তৃষ্ঞায় কাতর হয়ে রইল সারা দেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোকা-কোলার সেই মার্কেটিং প্রমোশনকে সম্ভবত আর কেউ কখনও ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

৯৩/৯৪ এর সেই বৈপ্লবিক কোকা-কোলার টিভি বিজ্ঞাপনে মডেল সিনেমার খলনায়ক জাম্বু। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় আরব্য রজনীর দৈত্য জাম্বুর কাছে গাড়ি চাইছে এক তরুণ। দৈত্য জাম্বু তাকে কোকা-কোলা খেতে বলে ।

রুপকথা নয় , সত্যিই সত্যিই। কোকা-কোলার ২৫০ এমএল বোতলের ছিপির ভেতরে স্ক্র্যাচ করলেই কপালে মিলতে পারত ৬ টি মারুতি গাড়ি , একাধিক মোটর সাইকেল সহ নানা ধরণের অসংখ্য পুরস্কারের যে কোন একটি। আমার ভাগ্যটা অবশ্য সু=প্রসন্ন হয়নি মোটেও। টিফিনের টাকা তিলে তিলে জমিয়ে খাওয়া কোকে সর্বোচ্চ দু'টাকা পেয়েছিলাম একবার।

বাংলাদেশে তাবানী বেভারেজের বিদায়ের সাথে সাথে কাঁচের বোতলে 'লিটার কোকও বিদায় হয়ে যায। কাঁচের বোতলে লিটার কোকের স্মৃতি ধরে রাখা আছে এই বিজ্ঞাপনে:

See video

তাবানী বেভারেকের কোকের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পেপসির নিয়ন্ত্রণভার তখনও ট্রান্সকমের অধীনে আসেনি। বাংলাদেশ বেভারেজের পরিচালনায় পেপসি বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মত ,সবসময়ই তাদের বিজ্ঞাপনে তারুণ্যকে উপস্থাপন করত ।ঘরে এসে রাত-দুপুরে পেপসি চেয়ে বসা তন্বী-তরুণীর আব্দার মেটাতে গিয়ে গায়ক শুভ্রদেবের সুপার হিরো হয়ে ওঠা বিজ্ঞাপনটি এবং তার ডায়ালগ সেসময় ভীষণ জনপ্রিয় হল ।

তারও আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করা পেপসির এই বিজ্ঞাপনটি সম্ভবত বেশ কয়েকবছর সমানভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখে ।

See video

আপনি যদি সেসময়কার প্রজন্মের হন , তবে বিজ্ঞাপনটি না দেখাটা বোধ করি অন্যায়ই হবে :) ।পেপসির এই গুপ্তধনসম বিজ্ঞাপনটির মাঝে সম্ভবত প্রচন্ড নষ্টালজিক কোন শক্তি লুকিয়ে আছে , যার রেশ ধরে ছোটবেলায় দেখা আরও অনেক বিজ্ঞাপনচিত্র একটা একটা করে ভেসে উঠতে শুরু করল।

..........................................
বিটিভিতে গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপন তখন বেশ নিয়মিত ।

মনে পড়ে,
মনে পড়ে , মনে পড়ে
হৃদয় মেলিতো পাখা
বাধা সব হত দূর
ছোট ছোট কথা
ভালবাসায় ভরপুর

আর মনে পড়ে রেড-কাউ,
পরিবারের পুষ্টির বন্ধন।

কিংবা রেড-কাউ এর ৯০ দশকের গোড়ার দিকের এই বিজ্ঞাপনটি :

See video

বাজারে তখন অস্ট্রেলিয়ার রেড-কাউ এর জয়জয়কার , তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ারই আরেক ব্র্যান্ড "ডিপ্লোমা"। দু'টো দুধই পাওয়া যেত একই রকমের হলুদ কৌটায়।

"ডিপ্লোমাআআ
দুধের সেরা দুধ ডিপ্লোমা"

সুরে সুরে দু'লাইনে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা ডিপ্লোমার বিজ্ঞাপনটিও দারুণ লাগত।

কাছাকাছি সময়ে অ্যাংকর মিল্কের সুবাদে টিভি দর্শকরা জানলো নিউজিল্যান্ড নামক দেশটির পরিচয়:

"যে দেশে গরু খায় বারোমাস
সবুজ ঘাস
সেই দেশ , দুধের দেশ নিউজিল্যান্ড"

আমরা যারা সে সময়ের সে অসাধারণ বিজ্ঞাপনটি পেয়েছি তাদের চোখে নিউজিল্যান্ড দেশটির সাথে সাথে ড্যানিয়েল ভে্ট্টরির ছবির বদলে বিশাল বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর আর তাতে চড়ে বেড়ানো গরুর ছবিটিই আগে ভাসে।

অ্যাংকর মিল্কের এই বিজ্ঞাপনটিও পেয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা:

See video

ছোট্টমণিটির "আম্মু তুমি লক্ষীইইই" কথাটি পুরো ৯০ দশকের টিভি বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে মায়া ভরা উক্তি ।

..........................................
আপনার প্রিয় চা-পাতা কোনটি ? মির্জাপুর ? লিপটন ? টেটলি ? শ'ওয়ালেস? নাকি অন্য কিছু ?
উত্তরটা যাই হোক, "আসল চা" ছিল কিন্তু একটাই --- ফিনলে চা ।

সেসময়কার বিজ্ঞাপনে অভিনেতা আবুল হায়াতের ভাষায় -- "ফিনলে চা, আসল চা" । চা খেতে খেতে বাবার মুখে "আসল চা" কথাটি শুনে মেয়ে নাতাশা হায়াত জানতে চায় , তার বাবা কেন ফিনলে চা খাওয়ার সময় "আসল চা" কথাটি উচ্চারণ করে। মেয়েকে কথার গুরুত্ব বোঝাতে আবুল হায়াত সোজা হাজির হন সিলেটে ফিনলের চা বাগানে । ফিনলের নিজেদের বাগানে উন্নতমানের পাতা তুলে বাগানেই প্যাক করা হয় এসব কিছু দেখানোর পর আবুল হায়াত আরেকবার বলেন "ফিনলে চা , আসল চা"

"আসল চা" জিনিসটা ফিনলের ট্রেড-মার্ক হয়ে যাবার পর ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে, ফিনলে একই কথা ব্যবহার করে এই বিজ্ঞাপন তৈরি করে , এবার মডেল হলেন আফসানা মিমি।

See video

অন্যদিকে , "নকল চা" কোম্পানীগুলোও বসে রইল না :) । "আসল চা" হওয়াই তো শেষ কথা নয়, ভাল চা তো হতে হবে। নোবেল যেমন বলতেন এইচ-আর-সি চা দিয়েই টি-ব্রেকটা নিতে:
Take take ...take a break...
take e hrc break.

অথবা বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া "ডানকান চা" এর সেই অসাধারণ বিজ্ঞাপনটি:

See video

..........................................
শুধুই কি চা হলেই চলবে? সাথে চাই ভাল কনডেন্সড মিল্ক ।
৯৪ এর দিকে বিটিভিতে সেসময় ব্লু-ক্রস কনডেন্সড মিল্কের মেলোডিয়াস সুরের ইংরজি ভাষার একটি বিজ্ঞাপন বেশ মনে ধরেছিল।

দশকের মাঝামাঝি সময়কার স্টার-শিপ কনডেন্সড মিল্কের হৈ-হল্লোড়ে ভরপুর সেই:

বেশি স্বাদ, বেশি স্বাদ , বেশি কাপ চা
স্টার-শিপ মানেই বেশি কাপ চা

বিজ্ঞাপনটি সেসময়কার সব দর্শকের মনে থাকার কথা ।

৯০ দশকের শেষদিকে ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্কের বাংলায় ডাব করা ভারতীয় এই বিজ্ঞাপনটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।

See video

..........................................
কসমেটিকসের বিজ্ঞাপনের মাঝে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ম্যানোলা ক্রিমের সুরেলা সেই বিজ্ঞাপনটির কথা:

ম্যানোলা মানে টলমল শিশিরের লাবণ্য
ম্যানোলা মানে কমনীয় সুরভী অনন্য।

সেসময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার পেছনের কাভার-পাতায় ম্যানোলার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। সম্ভবত ৯০ দশকেই ম্যানোলা কসমেটিকস ফ্যাক্টরিটি বন্ধ হয়ে যায়।

দশকের শুরুর দিকে স্কয়ার টয়লেট্রিজের "ফ্রেশজেল" টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনটি নিঃসন্দেহে কালোত্তীর্ণ ছিল । সেই বিজ্ঞাপনে রেড-জেলের মডেল লোপা প্রায় ২০ বছর পর এখনও সমানমাত্রায় সেই অ্যাডটি করার খ্যাতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। একটি মাত্র টিভিসি দিয়ে এত দীর্ঘ সময় আলোচিত হওয়ার ঘটনা অন্তত আমার জানা নেই ।

See video

"আমার মন এখনও হারায়" - এর চেয়ে সম্ভবত বেশি বলার প্রয়োজন নেই । হ্যাঁ, মডেল চৈতীর করা জুঁই নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনটি এখনও আমার শৈশবের সমস্ত ভাল লাগার অনুভূতিগুলো একটি বিন্দুটিতে এসে মিলিয়ে দেয়। আলিফ লায়লা , সিনবাদ কিংবা জনপ্রিয় নাটকের ফাঁকে ঘনঘন প্রচারিত এই বিজ্ঞাপন কখনও তার আবেদন হারায়নি।

See video

৯০ দশকের মাঝামাঝি কি শেষ সময়ে বাজারে এলো কেয়া কসমেটিকস। প্রথম দিককার প্রায় সবক'টি বিজ্ঞাপনে নোবেল-মৌ জুটিবদ্ধ হলেও আমার কাছে সেরা ছিল কেয়ার সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপনটি । মৌ বিহীন সে বিজ্ঞাপনে নোবেলের সাথে জুটিবদ্ধ মডেলটির নাম মনে নেই , কিন্তু সুরেলা জিংগেলটি আজও ভেতরে বাজে :

তারারা হারায় , হারায় চাঁদের আলো
তোমার চুল এমন আঁধার কালো

ভালবাসা মানে তুমি আর আমি শুধু দু'জনেই.....
ভালবাসা মানে দু'জনেই কবি

ঝাকড়া চুলের মডেল ফয়সাল(জয়া আহসানের স্বামী) সে সময়েই কিউট রোমান্সের এই অ্যাডটি করে দারুণ আলোচিত হন:

See video

বিজ্ঞাপনের কথাগুলো আর সুর ছিল অসাধারণ , অনেক অনেকদিন মনে রাখার মত :
তুমি ছাড়া আমি যেন আমি নই, অন্য মানুষ কোন....
সৌরভে অনুভবে তুমি ................।
তুমি আছো তাই , প্রতিদিন কোমলতা পাই ।
রোমান্স .........

দাড়ির মাজেজা শৈশবে ঠিকমত বোঝা দায় বলে মডেল শিমুলের বিপুল জনপ্রিয় "কুল শেভিং ক্রিমের" বিজ্ঞাপন দেখে বিরক্তই হতাম । তার চাইতেও বেশি বিরক্ত লাগত সুন্দরী মডেল ফারদিনের করা "তিব্বত ল্যাদার শেভিং ক্রিম" এর এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি :

See video

আলিফ-লায়লার মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতিতে মেরিল বেবি লোশন এর অ্যাডের কথাগুলো মুখে মুখে ফিরত :
তু রু রু তাত-তা
উল লি লি লি পাপ্পা ...।।।। উম্মা
জু জু জু জা ।।।।। সোনাজাদুমনি
পা রা প্পা পা , পারাপ্পা
সোনাজাদুমনি লে, সোনাজাদুমনি লে

তিব্বত বেবী লোশনের এই বিজ্ঞাপনটি মেরিলের মত জনপ্রিয়তা না পেলেও এটির সূত্র ধরেই মেরিল বেবী লোশনের স্মৃ্তিগুলো সাড়া দিল:

See video

ডেটল বা স্যাভলনের বিজ্ঞাপনগুলি এখনও কমবেশি এমনই রয়ে গেছে:

See video

..........................................
৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে কমার্শিয়াল ব্রেকগুলোর একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল নানান প্রিন্টের শাড়ি।
শাড়ির বেশির ভাগ বিজ্ঞাপন ছিল সলো , অর্থাৎ মডেল কেন্দ্রিক । ৩০ সেকেন্ডে শাড়ির প্রশংসা সম্বলিত জিংগেলের সাথে ইনডোর সেটে মডেলরা যতসংখ্যক বেশি শাড়ি পড়ে কখনও আঁচল উড়িয়ে , কখনও বা পাখির মত হাত প্রসারিত করে , কিংবা আঁচল চারদিকে ছড়িয়ে মাঝে চুপটি মেরে বসে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতেন। বিটিভির পর্দায় , বিশেষ করে শুক্রবারের বাংলা সিনেমা চলাকালে বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে বিজরী বরকতুল্লাহ নন্দিনী প্রিন্ট শাড়ি পড়ে হাজির হতেন:

See video

সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হত ঢালিউডের তৎকালীন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী "দিতি"র পাকিজা প্রিন্ট শাড়ির এই বিজ্ঞাপন-চিত্রটি:

See video

জনী প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপনে শাবনূরকে দেখা যেত স্টেজ কাঁপিয়ে দ্রুম-দ্রুম নাচ নাচতে। সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি পড়তেন সুন্দরী মৌসুমী,
বিজ্ঞাপনের সুরে:

প্রিয় প্রিয় প্রিয়,
সুন্দরি সুন্দরি সুন্দরী........
প্রিয় প্রিয় সুন্দরী
সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি সুন্দরী

বৌরানী প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপনটি ছিল দারুণ মজার। অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীর শা্র্টের পেছনে বৌরানী শাড়ি কেনার নোটিশ সেঁটে দেয় স্ত্রী । অতঃপর , যার সাথেই দেখা হয় ........

"আপনার স্ত্রীর জন্য বৌরানী প্রিন্ট শাড়ি কিনতে ভুলবেন না কিন্তু।"
-"ঘরের কথা পরে জানলো ক্যামনে?"
"এই যে, এ্যামনে"

গায়ক আগুনের কন্ঠে
"তুমি সেই তুলনাহীনা
অপলক আমার এ নয়ন
চেয়ে থাকে শুধু সারাক্ষন"-

জিংগেলের সাথে অভিনেত্রী বিপাশার করা জনী প্রিন্ট শাড়ির অপর আরেকটি বিজ্ঞাপন অন্য শাড়ির বিজ্ঞাপনগুলো থেকে কিছুটা হলেও আলাদা ছিল ।

................................................
বিপাশার করা এই বিজ্ঞাপনটি

See video

অন্য আরেকটি বিজ্ঞাপনের কথা খুব মনে করিয়ে দেয় , সেটি ছিল মধুমতি লবণের বিজ্ঞাপন।

রান্নাঘরে ত্রস্ত পায়ে প্রবেশ করে স্ত্রীকে নতুন একটা লবণের প্যাকেট দেয় স্বামী।
নতুন লবণ দেখে
--ও লবণ , নাম কি ?(একটু ভাব নিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে স্ত্রী)
-মধুমতি (স্বামী , একটু কাশি দিয়ে)
-- তফাৎটা কি ? (গলায় ঝাঁজ টেনে স্ত্রী)

স্বামী রান্নাঘরের বাতি অন আর অফ করতে থাকে ক্রমাগত । স্ত্রীর চাহনিতে প্রশ্ন এর অর্থ কি?

এরপর সুরে সুরে শুরু হয় স্বামীর পার্থক্যের বর্ণনা :

-- রাত আর দিন ভাই , রাত আর দিন
মধুমতি লবণে আছে আয়োডিন

লবণটা মিহি ভাই , লবণ মিহি
মধুমতি
তফাৎটা তাই আয়োডিন

................................................
শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে বিটিভিতে প্রচারিত টারজান, মোগলী কার্টুন কিংবা স্পেল-বাইন্ডারস সিরিজের ফাঁকে অবিচ্ছেদ্দ্য অংশই যেন হয়ে গিয়েছিল বাটার সেই বিজ্ঞাপন:
I wanna gain,
We go out of range
I am going to be formal
I am going to be normal
I am going for style
We are going for smile
I am changing my look,
Going by the book,
I all for design
We are for the new line
I am going for fashion,
To makes a passion,
We making the write book,
I am to the groove,
we are going for sweet
We are going for making......
Bata papa bata papa bata............."

পরবর্তীতে বাংলায় বাটার স্লোগান হল -- "পায়ে পায়ে বাটা"। সেই স্লোগানসম্বলিত তুলনামূলক সমসাময়িককালের একটি বিজ্ঞাপন :

See video

একই সময়ে ছোটদের মাঝে দারুণ ক্রেজ তৈরি করেছিল কেডসের গোড়ালিতে আলো জ্বালা

জাম্প, জাম্প , জাম্প কেডস

এর বিজ্ঞাপনটি।

হারিয়ে যাওয়া রূপসা চপ্পলের কথাই বা বাদ দিই কি করে ? চপ্পলের প্রচলন আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেলেও সেসময়টায় চপ্পলই ছিল আপামর জনসাধারণ প্রথম পছন্দ

সমুদ্র-সৈকতে চপ্পল পড়ে একদল ছেলেমেয়েকে রূপসা চপ্পল পড়ে লাফ-ঝাঁপ , সাথে মাথা নাড়িয়ে গেয়ে যাওয়া সেই :
রুপসা রুপসা রুপসা,
নরম নরম হাওয়াই চপ্পল রুপসা

................................................
সেসময় রঙের বিজ্ঞাপনের জিংগেলের ব্যবহারে নতুন মাত্রা আনলো রোমানা , ওদের বেশ কিছু বিজ্ঞাপন খুব জনপ্রিয়তা পেল।

রোমানার প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল:

"দেখো দেখো দেখোরে রঙেরই বাহার
দেখো রোমানার বাহার"

আরও দেখুন তো মনে পড়ে কিনা:

সময়তো বদলায়
বদলায় বদলায় মন
মনের গভীরে আছে চির আপন
রোমানা আপন রঙ , চির আপন

বাজারের অন্যান্য অনেক রঙের থেকে খারাপ কোয়ালিটি হওয়া সত্ত্বেও কেবল বিজ্ঞাপনের জোড়ে রোমানা পরিণত হল সর্বাধিক বিক্রিত রঙে ।

টিভি স্ক্রীণে রোমানার সাথে বিজ্ঞাপন-যুদ্ধে অংশ নেয়া পেইলাকের
"রং রং রং রং রং
পেইলাক মনের মত রং" ,

বা অ্যাকুয়া পেইন্টসের এই বিজ্ঞাপনটিও বেশ সমাদৃত হয়েছিল:

See video

..........................................
যুগের সাথে চলো
ইকোনো লিখে ভাল
ইকোনো সবার প্রিয়
ইকোনো বলপেন

আক্ষরিক অর্থেই পুরো ৯০ এর দশক জুড়ে বাংলাদেশ ইকোনো দিয়ে লিখে গেছে। পাশাপাশি ছিল "রাইটার বলপেন" , কিংবা প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবালের মডেলিং করা :

সাব্বাস!!
বলপেন ক্যাম্পাস।।
লেখে ভাল, চলে ভাল...
বলপেন ক্যাম্পাস ...সাব্বাস!!

৯৩/৯৪ এর দিকে অলিম্পিক বলপেনের এই অ্যাডটি নিয়মিতই দেখা যেত :

See video

দশকের শেষভাগে "অলিম্পিক বলপেন"ও বেশ ভাল বাজার পায়।

................................................
ডালডা , বনস্পতি ঘি এর কথা এখন বলতে গেলেই শোনাই যায় না , অথচ সে সময়কার বিজ্ঞাপুনগুলিতে এসব বেশ দেখা যেত, যার মাঝে অন্যতম ছিল "পাঞ্জা বনস্পতি"র এই বিজ্ঞাপনটি:

See video

আরও ছিল রেড-কাউ বাটার ওয়েল:

খাবার টেবিলে কথপোকথন:
--আচ্ছা ভাবি , তোমার হাতে কি জাদু আছে? (দেবর/ননদের প্রশ্ন)
-জাদু আমার হাতে নেই , আছে অস্ট্রেলিয়ার রেড কাউ বাটার ওয়েলে ।মা-ই তো আমাকে শিখিয়েছেন।
**বউমা ঠিকই বলেছেন , রেড-কাউ বাটার ওয়েলে রান্না করলে... (শ্বাশুড়ি)
## হ্যাঁ, রেড-কাউ বাটার ওয়েল আমিই তো কিনি (শ্বশুর)

..........................................
ঢাকায় রিয়েল এস্টেট তথা নিজের ফ্ল্যাটের ধারণাটি জোরেশোরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে ৯০ দশকের শুরুর দিকেই। তার ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইসলাম গ্রুপের কিছু বিজ্ঞাপন টিভিতে প্রচারিত হত । কিন্তু রিয়েল এস্টেট বিজ্ঞাপনের প্রথম চমকটা প্রথম নিয়ে আসে বেক্সিমকো গ্রুপ। ৯৮ কি ৯৯ এ টিভিতে প্রচারিত তিনটি বিজ্ঞাপন সে সময়কার দর্শকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। শুধু তিনটি বাক্য দিয়েই আলাদা করে বিজ্ঞাপন তিনটি এখনও বেঁচে আছে।

"সুন্দর বাড়ি হলো, এবার সুন্দর দেখে একটা বউ আন"

See video

"এই যে শোন! ব্রিজের কন্ট্রাক্টটা পেয়ে গেলাম

See video

"বাড়ী?? আমার জন্য বাড়ী ?"

See video

................................................

যে দু'টো বিজ্ঞাপনের কথা না বললে ৯০ দশকের বিজ্ঞাপনোস্মৃতিচারণ অসম্পূর্ণ রয়ে যায় , তার একটি হল মিতা নূরের সেই

See video

"আলো , আলো , বেশি আলো"র অলিম্পিক ব্যাটারির বিজ্ঞাপনটি।

অন্যটি হল:
বাতির রাজা ফিলিপস

See video

অসম্ভব মজা পাওয়া যে বিজ্ঞাপনটিকে ক্লাসিকের মর্যাদা দেয়া যায় , সেটি হল ফেরদৌস ওয়াহিদ( হাবীব ওয়াহিদের পিতা) এর খুশখুশে কাশি দূরকারী ম্যাটসিলস লজেন্সের টিভি কমার্শিয়ালটি :

See video

......................................................
এমন কোন বিজ্ঞাপন কি ছিল যেটি সে সময়ের গন্ডিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল । আমার চোখে সেরকম একটি বিজ্ঞাপন ছিল -- নিউ জড়োয়া হাউজের বিজ্ঞাপন। জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের চিরাচরিত ধারা থেকে বেরিয়ে নিউ জরোয়া হাউজের বিজ্ঞাপনটি পেয়েছিল নতুন মাত্রা। ৯৬ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ফুটবল বা এশিয়া কাপের মত বড় আসরের ফাঁকে বারবার স্ক্রীণে ভেসে আসা আসাদুজ্জামান নূরের আবৃত্তিতে বিজ্ঞাপনের জিংগেলটি সে সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে দিয়েছিল বিজ্ঞাপনটিকে

See video

তুমি সুন্দর
সূর্যের তীব্রতায় জ্বলে উঠো
খরতাপ মুছে দিয়ে বর্ষার প্রশান্তি নামাও
হাসিতে তোমার
শরতের রুপে তোমারই হাসির সুর
হেমন্তের ঝরা পাতায় তোমার বন্দনা
নিঃসঙ্গ শীতের মত তুমি অচেনা সুদূর
বসন্তের যৌবন তুমি হে সুন্দর আমার

----------------------------------
কৃ্তজ্ঞতা : ব্লগার আমিন শিমুল , যিনি আমার আধো মনে থাকা ভীষণ লম্বা জিংগেলগুলো অবিশ্বাস্য স্ম্বতিশক্তি সহ ধরে রেখেছেন।

6.93875
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: ৬.৯ (১৬ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭০৯(১)    

তু রু রু তাত-তা
উল লি লি লি পাপ্পা ...।।।। উম্মা
জু জু জু জা ।।।।। সোনাজাদুমনি
পা রা প্পা পা , পারাপ্পা
সোনাজাদুমনি লে, সোনাজাদুমনি লে
আমার খুবই পছন্দের ছিলো এটা
আর মৌসুমির শাড়ীর এ্যাড টা যখন প্রথম আসে তখন স্কুলে কিছু একটা পরীক্ষা চলছিলো কিন্তু আমি ওিটা শুরু হলেই পড়ার টেবিল থেকে টিভি রুমে
হায় কত কি মনে পড়লো এই পোস্ট পড়ে

একটা ছিলো আর সি কোলার
তোমার জন্য মরতে পারি ও সুন্দরি
এটা মনে হয় আরো পরের দিকের

See video
 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৪(২)    
লেখকের মন্তব্য

মৌসুমী তিব্বত বল সাবানের একটি বিজ্ঞাপনও করত সম্ভবত। আমার বেশি মনে পড়ে শাবনূরের শাড়ির বিজ্ঞাপন। ক্লাস সেভেন-এইটে ওঠার পর শুক্রবার দুপুরে সিনেমা চলাকালে বিজ্ঞাপন বিরতির সময় এলাকা কাঁপিয়ে ঝমঝম শব্দ শুনলেই বুঝতাম শাবনূর কাঁপছে :)

আর সি কোলার অ্যাডটা সম্ভবত ২০০০ কি ২০০১ সালের , বাংলাদেশের বাজারে আরসি এসেছিল অবশ্য নব্বই এর দশকেই । ৯৯ তে আমাদের স্কুলে জয়েন করা এক স্যারের নাম হয়েছিল আরসি , সেটার সাথে মিলিয়ে বের করলাম।

তারপরও দারুণ অ্যাডটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৭(৩)    

শাবনূরের শাড়ির এ্যাডটার কথা মনে পড়লো । ঐটার জিঙ্গেল মনে হয় এমন

প্রতিটি সাজে মানায় ভালো
তাই সবার পছন্দ
জনি প্রিন্ট শাড়ি পরে দেখো
আহা আা
আহা আ
আহা কী আনন্দ !!!

শামীমা শাড়ির আরেকটা এ্যাড ছিলো। বিয়ের আসরে কন্যা মুখ ভার করে বসে আছে। পিছনে গান বাজছে

কনের চাওয়া কোন সে শাড়ি
না পেলে মন হয় যে ভারি

এমন সময় এক ফ্যামিলি আসে গিফট নিয়ে

আমরা জানি কোন সে শাড়ি কনের পছন্দ
তাই এনেছি
শামীমা প্রিন্ট শাড়ি।
রূপের বহর ও মনোরম
সবার পছন্দ
টেকসই শাড়ি শামীমা
শামীমা প্রিন্ট শাড়ি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৪৭(৪)    

শিমু আপার মনে হইতেছে শাড়ীর এ্যাড অনেক পছন্দের D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৫৩(৫)    

খিক খিক। না শুধু শাড়ি না সব এ্যাডই আমার পছন্দ। তবে আপনে যখন শাড়ির এ্যাডের কথা তুললেন আরেকটা শাড়ির এ্যাডের জিঞ্গেল আনি। এই হইলো চান প্রিন্ট শাড়ি।

বউ জামাইরে কইতাসে
আমার প্রিয় শাড়ি আইনা দিছো তুমি
চান প্রিন্ট শাড়ি হয় না তুলনা

এইটার প্যারোডি ছিলো

আমার প্রিয় জামা আইনা দিছো মামা ( হা হা হা)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৭৩(৬)    

মনেই করতে পারলাম না চান প্রিন্ট :(

উল্টা শাইন পুকুর মনে আসলো
''বাড়ী আমার জন্য বাড়ী''
এইটা সেই সময়ে দারুণ লাগতো, একদম পরিচ্ছন্ন এ্যাড মনে হইত
মডেল তো আবার তোমার মিতা :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৯৯(৭)    

হা হা হা। সালমান এফ রহমান নিজে ধান্ধাবাজ হইলেও শাইন পুকুরের এ্যাড গুলো বেশ বানাইছিলো। আমার মিতা মনির খান শিমুলের আরেকটা এ্যাডও ছিলো। গাড়ি থেকে ফোন করে বউরে " এই শোনে ব্রিজের কন্ট্রাক্ট টা পেয়ে গেলাম। একটা স্বপ্ন পূরণ হলো এবার আরেকটা স্বপ্ন" -- ছোট থাকলেও ঐ এ্যাড দেখে আমার মাথায় বদ্ধমূল ধারণা ছিলো ব্রিজের কন্ট্রাক্টের সাথে ঘুষ খাওয়ার সম্পর্ক। আর ঘুষের সাথে শাইনপুকুরের সম্পর্ক।

ওহ শাইনপুকুরের আরেকটা এ্যাড ছিলো । মা ছেলেকে বলে
" সুন্দর বাড়ি হলো, এইবার সুন্দর দেখে একটা বউ আন। "

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫২২(৮)    
লেখকের মন্তব্য

@আমিন , শাইনপুকুরের অ্যাডগুলো সেই সময়কার খুব গুরুত্বপূর্ণ রিপ্রেজেন্টেটিভ । মনে করিয়ে দেয়ার পর যোগ করে দিলাম পোস্টে ।

আচ্ছা , "আমার জন্য বাড়ি??" এই অ্যাডের মেয়ে মডেলটার নাম কি ছিল যেন ? শিমুলই নাকি ? যতদূর মনে পড়ে এমন নাম ছিল , যেটা ছেলে মেয়ে উভয়ের হয়। স্যাভলন এর অ্যাডও করত , আর শামস সুমনের সাথে "গরু মার্কা ঢেউটিন?"

"তোমার শর্তে রাজি
তাইলে ডাকো কাজী"

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫২৪(৯)    

মেয়ে মডেলটার নামটা খেয়াল করতে পারতেসি না। বুঝতে পারতাসি মেয়েটা কোনটা । কিন্তু নাম খেয়াল নাই :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১২৬(১০)    
লেখকের মন্তব্য

সম্ভবত টুলি বা টুলু

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫২১(১১)    
লেখকের মন্তব্য

এই পোস্টটা যদি আমিন শিমুল লিখত , আমি নিশ্চিত যে এত এত বড় হত যে কেউ লোডই করতে পারত না :)

আপনি চান প্রিন্ট মনে করতে পারছেন না , আমি তো শামীমা প্রিন্টও মনে করতে পারছি না। ৯৪ এর আগের হলে অবশ্য আমি দেখিনি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩০(১২)    

শামীমা শাড়ির এ্যাডটা খুঁজে পাইলাম না কিছুতেই। তবে আমার প্রিয় জামা আইনা দিছো মামা নামের প্যারোডিটা আনন্দমেলায় প্রচার হইছিলো। ৯৪ এর আশেপাশেরই হবে।

বৌরানী শাড়ির এ্যাডটা আমি ব্যাপাক পাইতাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমার জানার ইচ্ছা যে তার পিছনে যে কাগজটা ঝুলায় সেটায় আসলে ঠিক কী লিখা ছিলো?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩২(১৩)    

জলাপা আপনারা কেউই চান প্রিন্ট শাড়ি মনে করতে পারতেসেন না বলে চান প্রিন্ট শাড়ির আরো দুটো জিঙ্গেল,

এই মেয়ে বিভিন্ন পজিশনে নাচতে নাচতে দৌঁড়ায়

"চান প্রিন্ট শাড়ি আমি পরবোই তো
চুপি চুপি মনের খবর আসবেই তো,
কলসি কাঁখে ভর করে
চান প্রিন্টে মন ভরে
মন আমার রু রু (রু রু কি জানি না) করবেই তো
চান প্রিন্ট শাড়ি আমি পরবোই তো"

আরেকটা জিঙ্গেল অদ্ভুত

"চান প্রিন্ট শাড়ি পরে আরাম আআ রাআম আরাআআম
মন মাতানো চোখ জুড়ানো
চান প্রিন্ট শাড়ি
হাওয়া হাওয়া হাওআআআআ (শাড়ি কেম্নে হাওয়া হয় আল্লাহই জানে)"

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৮৬(১৪)    

আজ বসে বসে খুঁজলাম চান প্রিন্ট, পাওয়া গেলো না
তোমার তো দেখি ব্যাপক অবস্থা সবই মনে আছে।
একটা উদ্ভট এ্যাড ছিলো ব্রিটল বিস্কুটের এইটা কারো মনে আছে?

@মেহরাব আজগুবি এ্যাড নিয়েও কিন্তু একটা পোস্ট হতে পারে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৯০(১৫)    

ব্রিটল বিস্কুটের এ্যাডটা ছিলো ২০০১ -২০০২ এর দিকে । জিঙ্গেল হইলো,

রাগ কইরো না বন্ধু আমার রাগ কইরো না তুমি
তোমার জন্য আনছি দেখো
তোমার জন্য আনছি দেখো
ব্রিটল বিস্কুট আমি
ও সজনী ব্রিটল বিস্কুট খাওয়াইয়া এই মন নিলা।
মচমচে ব্রিটল বিস্কুট সব সময়ের তাজা ,
দুজান মিলে ব্রিটল বিস্কুট
দুজন মিলে ব্রিটল বিস্কুট
খাইতে যায় যে বেলা,
ও বন্ধুরে
ব্রিটল বিস্কুট খাইতে খাইতে যায় বেলা।"

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৯৪(১৬)    

আজগুবি এড আরেকটা বলে যাই। এপি ১৫ এর এড,

আকা ছবি মুভ করতো রাজকন্যা বড় চুল নিয়ে হেঁটে যায়, তার সখীরা চুল ধরে হাঁটতে থাকে পিছনে। আড় গান বাজে

রূপবতী সখী তোরে
কেশবতী করে দেবে
এপি ১৫ কেশ তেল।
মিস্টি সুবাসে ঘুম ঘুম আবেশে
জড়িয়ে দেবে মন ভরিয়ে দেবে
সাজাবে সখী তোরে
কেশবতী করে দিবে
এপি ১৫ কেশ তেল।

আরেকটা ছিলো এপি ১৫ পাউডার এর

সকাল দুপুর সন্ধা বেলায় বেলায় বেলায়
ছোট বড় সবাই যে চায় যে চায় য চায়
এপি ফিফটিন
ত্যালকম পাউডার।

এপি কোম্পানি যদি আমাড় এই কমেন্ট দেখে শিউর আমারে ব্র্যান্ড এম্বাসেডর বানাইবো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৮০(১৭)    
লেখকের মন্তব্য

কিংবদন্তী আমিনকে আরেকবার স্যালুট

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬১৬৯(১৮)    

"মন আমার উড়ু উড়ু করবেই তো"- হবে।
আমিন, তুমি আসলেই মানুষ না!এতো কিছু কেমনে মনে রাখলা?

-সাকেব

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৪০৬(১৯)    

আমি বুঝতেসি না এটা সাকেব ভাই নাকি বন্ধু সাকিব। যেই হোক ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭১৩(২০)    

ওহ, ফ্যান্টাস্টিক।
ভিডিও দেইখা টেইখা কত খানি সময় কাটানো গেলো এই পোষ্টে। দারুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৫(২১)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম ।

পুরনো সেসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগই ইন্টারনেটে কখনও পাওয়া যাবে না বলে আমার ধারণা । দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজে মাত্র এই কয়েকটির সন্ধান পেয়েছি । সে কারণে প্রতিটা খুঁজে পাবার পর একধরণের আবিষ্কার অনুভূতি কাজ করছিল ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭২০(২২)    

খুব ই ভাল লাগা পোস্ট। (সাতে সাত)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৬(২৩)    
লেখকের মন্তব্য

অসংখ্য ধন্যবাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭২৭(২৪)    

বিপাশার জনী প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপনটাও দিবেন নাকি? বিপাশাআআ বলে জোরে একজন ডাক দেয় ঐটা? :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৮(২৫)    
লেখকের মন্তব্য

জনী প্রিন্ট শাড়ির জন্য বিপাশার দু'টো বিজ্ঞাপন ছিল । একটি ইনডোরে করা , অন্য শাড়ির বিজ্ঞাপনগুলোর মত , অপরটি আউটডোরে । মাথায় গোল টুপি পড়া লম্বা চুলের একটা ছেলে (যাকে দেখলেই মেজাজ বিগড়ে যেত) শাড়ি পড়া বিপাশার নানান ভঙ্গিমার ছবি তোলে। এর মাঝে কোন একটির জিংগেলে বিপাশা শব্দটি ছিল সেটা স্পষ্ট মনে আছে , কিন্তু কথাটা ঠিক কি ছিল , বা কোনটিতে ছিল , সেটা মনে পড়ছে না

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৩৯(২৬)    

এ্যাড এর কথা বলতে টুথপেস্টের এ্যাড কথা মনে পড়লো আরেকটা । অপি করিমের শুরু হয়েছিলো সেই এ্যাড এর হাত ধরে। পল্লবও ছিলো ওি এ্যাড এ। হোয়াইট প্লাস এর

সাদা সাদা আরও সাদা।
এর চেয়ে বেশি সাদা
এর চেয়ে বেশি সাদা!!

আরও সাদা দাঁত আর হাসিতে চমক ( একটা ফোকলা পিচ্চিও ছিলো এই এ্যাডে)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫২৩(২৭)    
লেখকের মন্তব্য

হোয়াইট প্লাসের পুরো বিজ্ঞাপনটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো , অনেক ধন্যবাদ ।

বিলুপ্ত দু'টি টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনের কথাও মনে পড়ছে । একটা হল পেপস-জেল । দেশে ফেরার পর আমার ব্যবহার করা প্রথম পেস্ট ।

অন্যটা ছিল ডি-ফাইভ , ৯৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় খুব দেখাত। ঝাপসা যতটুকু মনে আছে -- অ্যাডে তিনতলা বাড়ির দো্তালা থেকে ছেলের ফুলের বোকেট নামিয়ে দেয় দোতালার ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েকে উদ্দেশ্য করে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪৬(২৮)    

পেপস জেল এর ভালো কিছু এ্যাড ছিলো আগে। ডি ফাইভের এ্যাডটা মনে করতে পারলাম না। প্রাচীন আমলে বিলুপ্ত পেস্ট কিউট এর এ্যাড করতেন আবুল হায়াত ।ঐটাও ভালো পাইতাম। আবুল হায়াতের মেয়ের জামাই শাহেদের ক্লোজ আপের এডটাও বেশ।
আপনি সাজিয়া।
হ্যা
ব্যাডমিন্টন খেলেন।
হ্যা
ফার্স্ট ইয়ার কেমিস্ট্রি।
হ্যা
তো চা হয়ে যাক।
হ্যা উহ হা।

আবুল হায়াতের কথা যখন আসলো তখন কিন্তু উনার সাম্প্রতিক করা এরাবিয়ান হর্স টিনের কথাও কইতে হয়।

ভাইজান , হাসুর বউ ঘরে তোলার আগে উমম (ছেলের বাপ বলবে, হাসু লজ্জা পাবে)
মানে ঘরটা একটু বড় করবা??(আবুল হায়াত)
তয় কি টিন লাগাইবো?
কেন এরাবিয়ান হর্স।
চাচা মার্কাটাতো জব্বর।
শুধু মার্কাই না। এরাবিয়ান হর্স মাপে সঠিক মানে আধুনিক ।

এই এডে হাসির কিছু নাই। কিন্তু পরে যখন এইটার সিকুয়েলে এরাবিয়ান হর্স সুপার আইলো, আবুল হায়াতরে দেইখা না চাইলেও আমার হাসি এসে পড়ে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৪০(২৯)    

জাম্প কেডর এর বাতি ওয়ালা জুতার জিঙ্গেল হইলো এই রকম

আলো জ্বেলে পথে
দাও দূরে পাড়ি
ছোট পায়ে দেখো
তারার সারি
জাম্প জাম্প কেডস
পরো তাড়াতাড়ি।

অভিযাত্রিক জুতার আরেকটা এ্যাড ছিলো

বিট বিট ড্রাম বিট
আহা আহা
গতিময় ছন্দে ( নাকি প্রতি পছন্দে)
দারুণ আনন্দে
চলার গতি
অভিযাত্রী।
হিপ হিপ তারুণ্যেরও প্রতীক।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫২৯(৩০)    
লেখকের মন্তব্য

এই পোস্ট দেয়ার পর আরেকটা মজার ব্যাপার হল , আমার বউয়ের কাছে অনেকগুলো গল্প শোনা হল । একদম ছোটমানুষরা অ্যাডগুলো দেখে কি ভাবত , তার একটা ধারণা পেলাম। জাম্প কেডস কেনার ভীষণ শখ ছিল আমার , কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারি নাই অথবা প্রথমবার বলার পরে নাকচ হয়ে গেছে , আমি তারপর যথারীতি আর কিছু বলতে পারিনি। আমার বন্ধু রূমী জাম্প কেডস পড়ে আমার সাথে স্কুলে যেত যখন , তখন কেমন যে লাগত , কিভাবে বুঝাই ?

আমার বউ তখন ক্লাস টু তে , জানালো যে টিভিতে আসার পরপরই তার অনশন কর্মসূচী শুরু হলে বাধ্য হয়ে তার বাবা জাম্প কেডস কিনে দেয়। স্কুলে নাকি সবাই সেই কেডস দেখতে আসত ।

আরেকটা বিজ্ঞাপনের কথা তোমার মনে থাকার কথা : সন্ধান সুজ । দেশীয় জুতাগুলোর বিজ্ঞাপনগুলো বেশ মজার ছিল । ছেলে মেয়ে গ্রুপ ধরে আর্মির মার্চ পাস্টের স্টাইলে প্যারেড করত , ক্যামেরা ধরা থাকত তাদের পা বরাবর

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪৮(৩১)    

সেইম হেয়ার। আমার শখ আহলাদ কম বলে লাইটওয়ালা জুতার আবদার করতে করতেও করা হয় না। আমার চাচাতো ভাই আমার ৫ বছরের ছোট চিল্লাফাল্লা করে ঠিকই লাইটওয়ালা জুতা কিনে ফেলে। সেসবের কথা মনে পড়লেও হাসি পায়।

জুতার এ্যাডের কথা বলতেই পেগাসাস এর এ্যাডের কথা বলে হইলো। বেশ বদখত চেহারার একজন হেভি ভাব নিয়ে কইতো, ব্যাক্তিত্ব আর আধুনিকতা ফুটিয়ে তুলতে এক জোড়া জুতার গুরুত্ব অপরীসীম। এই কথা যারা বিশ্বাস করেন তাদের জন্য পেগাসাস ব্লা ব্লা।

আমি মোগল চপ্পল ব্যবহার করতাম । কিন্তু রূপসা চপ্পল প্যারেড দেখে আমিও ব্রান্ড বদলাইছিলাম।

সন্ধান সুজ শুনে অনুসন্ধান লুঙ্গির কথাও মনে পড়লো। সাদেক আলী ওরফে সুজা খন্দকার বলতো, আমি রেডি। ভাগনী, এইভাবে লুঙ্গি পরে, আমার বান্ধবীর বাসায়।তোর বান্ধবীর বাবা আমার বন্ধু, লুঙ্গি পড়েই তো যাবো।

তো এই এ্যাডের কথা বলতে গিয়ে আমি একদিন ভুলে বলে ফেললাম, তোর বান্ধবীর বাবা আমার লুঙ্গি, বন্ধু পড়েই তো যাবো।

আমার আশেপাশের লোকদের পঁচানি কেয়ে যে অবস্থা হইলো ভাবতেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৪৪(৩২)    

পোস্ট প্রিয়তে এবং সাততারা।

শেষের চারটার কথাই আগে বলি। মানিক , জামাই আইছে হাটে যা -- এইটা যতবারই দেখি ততোবারই পুরান দিনের কথা বেশ মনে পরে। আর মামুনিয়া ফেরদৌস ওয়াহিদের ম্যাটসিলস তো সেইরকম হিট। এইখানে আফজাল শরীফের ভূমিকা বিশেষভাবে বিনোদন দিতো।আর মিতা নূরের এ্যাডভারটাইজ দেখে আমার এক আপু ছিলেন মিতা আপা উনি খুব গর্বিত হতেন (হা হা হা)।
জড়োয়া হাউসের এ্যাডভারটাইজটা খুব ভালো পাই। নূর ভাইয়ের আবৃত্তিতে যে কবিতাটা আছে এই আমি স্কুল কলেজ এমনকি ইন্টারেও রূপসী বাংলাদেশ কিংবা ষড়ঋতু টাইপ সব রচনায় ব্যবহার করছি !!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩১(৩৩)    
লেখকের মন্তব্য

মিতা নূরকে ভাল লাগত সবসময় , ঐ অ্যাড থেকেই শুরু :)

ফেরদৌস ওয়াহিদের মামনিয়া শুনে দেখো আরেকবার :

See video

আমার কাছে কিন্তু গানটা ভাল লাগত না , কিন্তু পুরো প্যাকেজটা বিনোদনে ভরা ছিল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪৫(৩৪)    

হা হা হা। আবার শুনলাম। ফেরদৌস ওয়াহিদরে ভালো পাই। বাই দ্যা ওয়ে উনি কিন্তু নায়ক জসীমের কাজিন। জসীমের হাত ধরে উনার ছবিতে নামার কথা ছিলো। জসীম মারা যাওয়াতে আর হয়নি সেইভাবে। মজার ব্যাপার আরো আছে। মামুনিয়ার আসল গান হলো লাকী আকন্দের। আর এই গানের সেইম সুরে আরেকটা লিরিক আছে , সেটাই কিন্তু বেড়াল বাবুই নাই। পুরা লিরিকটা মনে নাই, লিরিকটা কিছুটা এই রকম

তোমাকে আমি বেসেছি ভালো,
ভাআলো বেসেছি তোমায়,
মনে মনে ভালো বাসি বোঝাতে তো পারি না।
মামুনিয়া মামুনিয়া মামুনিয়া মামুনিয়া

এই রকম কিছু । হা হা হা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৮১১(৩৫)    

"ও মায়াবিনী চোখে চেয়ে থেকে থেকে বেলা যে আর কাটেনা
মনে মনে ভালোবাসি মুখে তো বোঝাতে পারিনা
হেই মামণিয়া, মামণিয়া, মামণি মামণিয়া
তোমাকেই আমি বেসেছি ভালো নিজেই প্রাণেই জ্বেলেছি আলো
সারাখন আমি তোমাকেই খুজি তুমিতো হায় সাড়া দাওনা
হৃদয়ের কথা হৃদয়ে রাখি স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে যে থাকি _____"
এ জাতীয় কিছু মনে হয়। ভুলে গেছি। বয়স হৈসে না

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৮৮(৩৬)    

জাহিদ ভাই অনেক ধন্যবাদ লিরিকটার জন্য।
মাত্র একবার শুনেছিলাম গানটয়া। সেইরকম ধন্দে পরে গেছিলাম প্রথম শুনে।
কালকে সারাদিন খুঁজেও পাই নাই। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৮১২(৩৭)    

এইসব পোস্ট পড়তে মজা। কমেন্ট পড়তে আরো মজা। এই পোস্টে কমেন্ট ২০০ ছাড়াবে।
শিমুলের কমেন্ট পডে মনে হৈলো, তোমরা ২জন মিলে লেখলে বিজ্ঞাপন বিশ্বকোষ লিখতে পারবা।

"পরেছি কপালে তিপ, চোখে কাজল। আংটি অনামিকায়"- এটা কি পাকিজা প্রিন্ট শাড়ীর?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৮৯(৩৮)    

এইটা পাকিজা প্রিন্ট শাড়ির এ্যাড। পরের লাইন গুলো ছিলো,
পরেছি কপালে তিপ, চোখে কাজল। আংটি অনামিকায়,
কাচের নাকফুল।

পিছন থেকে একজন দারুণ লাগছে।
হি হি করে দিতির হাসি।
তারপরে
রেশমী চুরি দেলোয়ারী পরেছি কোন শাড়ী
বল না
পাকিজা
পাকিজা ব্লা ব্লা ব্লা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৭২(৩৯)    
লেখকের মন্তব্য

রোবোট ভাই , দিতির অ্যাডের ক্লিপসটা কিন্তু পোস্টে আছে । ইয়ে , দিতির চুল সুন্দর ছিল , কেউ তাকে দিয়ে নারিকেল তেলের অ্যাড করালো না কেন ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৭৫(৪০)    
লেখকের মন্তব্য

এই লোকের গান শুনে আমি খালি হাসি কেন ? :প :p
মাঝে একবার একটা গুরুগম্ভীর ভাব আনার চেষ্টা করেছিলাম , কিন্তু ছেলে হাবীব ওয়াহিদের অ্যালবামে "দারোয়ান" গানটা শুনার পরে হাসির মাঝেই রয়ে গেলাম :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৪১০(৪১)    

তুমি কি পাহারাদার গানটার কথা বলছো?

See video
 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৫২(৪২)    

দারুন পোষ্ট! পড়তে পড়তে এবং ভিডিও দেখতে সেসময়ের অনেক কথা মনে পড়ে গেল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩৩(৪৩)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ,
শুভকামনা রইল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৫৯(৪৪)    

ভাই আপনি কি কাজ করেন ? বিজ্ঞাপন সংস্থায় ? ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩৪(৪৫)    
লেখকের মন্তব্য

না ভাই , মিডিয়ার ধারে কাছেও নাই আমি । সাধারণ দর্শক , পড়াশোনা করি এখন প্রকৌশলে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৬৩(৪৬)    

৩ মাস ধরে কোক পেপসি খাই না ।
আপনি তো আমার ব্রত ভাংগার কাজ করসেন দেখা যায় :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৩৫(৪৭)    
লেখকের মন্তব্য

খেয়ে দেখেন শুধু একবার , কেমন লাগে :প :p

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৭১(৪৮)    

না দেখেই সাত তারা এবং প্রিয়তে। দেখে মন্তব্য করছি। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪০(৪৯)    
লেখকের মন্তব্য

জানার অপেক্ষায় রইলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৮৬(৫০)    

ওহ!! বেশ বেশ !!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪১(৫১)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৭৯১(৫২)    

ভাইয়া কোন একসময় পেপসির সাথে ইয়ো ইয়ো দিত। ঐ সময়টায় পেপসি বিক্রিও সেরকম বেড়ে গিয়েছিল। সময়টা হয়ত ৯৩-৯৪ হবে। আমি অনেক ছোট ছিলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪২(৫৩)    
লেখকের মন্তব্য

ইয়ো-ইয়ো ক্রেজের কথা আর কি বলব , ওটাও একটা ভাইরাল ক্যাম্পেইন ছিল । পেপসি না , ওটাও কোকা-কোলার । ট্রান্সকমের হাতে আসার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোক , পেপসিকে ভালই কোনঠাসা করে রেখেছিল ।

আমারও ইয়ো-ইয়ো ছিল , কিন্তু কোন ক্যারিকেচার করতে পারতাম না , নর্মাল কিছু শট ছিল শুধু :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫২(৫৪)    

হুম্ম আমিও এতসব পারতাম না, তবে কয়টা ইয়ো ইয়ো জমা দিলে একটা কালো চকমকি ইয়ো-ইয়ো দিত, ওইটা কালেক্ট করেছিলাম। আমি নাকি সেরকম কান্নাকাটি করতাম কোক খেয়ে ইয়ো-ইয়ো নিতে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৪৩(৫৫)    
লেখকের মন্তব্য

একটা ভিডিও পেলাম , পাশ্চাত্যের উপর দিয়েও কোকের ইয়ো-ইয়ো ঝড় গেছে , তবে আরও আগে , এইটিজ এ

See video
 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৭১(৫৬)    

ইয়ো ইয়ো আরো আগের হবে - আমার মনে হয় ৯০ এর দিকে -
ইয়োর কথা ভালোই মনে আছে আমার - পোলাপান নানান কসরৎ জানতো - দেখে তাক লেগে যেতে হতো ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১২০২৬(৫৭)    

নাহ্‌ ৯৩-৯৪ হবে কারণ ঐ বছর আমার বাবা ট্রান্সফার হয়ে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি চলে যান, এটা আমার মনে আছে। আর সেটা ৯৩ এর মাঝামাঝি। ৯৪ এ আমরাও রাঙ্গামাটি চলে যাই, তখন চট্টগ্রামের এক আত্মীয়ের বাসায় ইয়ো ইয়ো খেলেছিলাম মামাদের সাথে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৮০৮(৫৮)    

দারুণ একটা পোস্ট ভাইয়া D
অনেক পিচ্চি ছিলাম তখন,তবে মধুমতি লবন,নন্দিনী শাড়ী,অ্যাংকর মিল্ক,মেরিল বেবি লোশনের অ্যাডগুলা মনে আছে।বাকিগুলো দেখলাম।কত কিছু মনে পড়ে গেল।
(সাতে সাত) ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৭৬(৫৯)    
লেখকের মন্তব্য

সেই অ্যাডগুলো ভাল লাগার আরও একটা কারণ আছে আমার । সেসময় তো এখনকার মত বিচ্ছিন্ন এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে হঠাৎ টিভি দেখা হত না। বরং রুটিন বেঁধে টিভি দেখতে হত । সে কারণে যেসব অনুষ্ঠান দেখতাম সবগুলোকেই ভীষণ ভালবাসতাম, খুব মনযোগ দিয়ে দেখতাম ,আর সারা সপ্তাহ ধরে সেগুলোর জন্য অপেক্ষা করতাম । সেসব অনুষ্ঠানের অনুষঙ্গ হিসেবে অ্যাডগুলোও যথেষ্ট মনযোগ পেত , সে কারণেই ......... :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৮৮১(৬০)    

দারুণ পোস্ট।
আপনার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র প্রিজারভেটিভবিহীন ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ) ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৭৭(৬১)    
লেখকের মন্তব্য

নিখাদ ধন্যবাদের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৯০২(৬২)    

হু হা হা, শিমুল ভাই ফেবুতে এই পোষ্টের লিঙ্কু শেয়ার করায় পোষ্টটা পড়া হল। আর মন্তব্য করার লোভ সামলাতে পারলাম না। সেই পিচ্চিকালের কথা মনে হল। আপুদের দেখতাম এই সব জিঙ্গেল গুনগুন করে। আর আমিও মাথা ঝাঁকাইতাম। ডিসকো বান্দর ডিগবাজী

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৮২(৬৩)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার ভাল লেগেছে জেনে সম্মানিত বোধ করলাম , :)

ভাল থাকবেন

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৯১৩(৬৪)    

একঝলক শৈশব দেখলাম যেন..........এই বিজ্ঞাপনগুলোর সাথে বর্তমানে ঐসব পণ্যের বিজ্ঞাপনের তুলনা করতে গিয়ে আর একটা বিজ্ঞাপনের কথা মনে পরে গেল।গাজী ট্যাংকের বিজ্ঞাপনে গোলাম মোস্তফা বলতেন, ''ভাবতে ভালই লাগে,দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।'' আমার মন বলছে, ''ভাবলেই মেজাজ খারাপ লাগে,দেশে অশ্লীল বিজ্ঞাপন বেড়েই যাচ্ছে।''
অনেক ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন..........

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৮৬(৬৫)    
লেখকের মন্তব্য

গোলাম মোস্তফার ঐ বিজ্ঞাপনটা সত্যিকার অর্থেও দেশে নতুন কিছুর একটা সূচনা ছিল , দেশে তৈরি হওয়া প্রথম প্লাস্টিক ট্যাংক । দারুণ ডিসেন্ট একটা অ্যাড ছিল । ইদানিংকালের বিজ্ঞাপনগুলোর মাঝে অনেকগুলোই দারুণ কনসেপ্টের, আবার কিছু কিছু একেবারেই অর্থহীন , আমাদের সংস্কৃতির সাথে বেমানান। সেগুলো নাকি দর্শক চাহিদাকে সামনে রেখে বানানো , কে জানে , একটু কমই বুঝি , নয়ত এসব চাহিদা কেন টের পাই না :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৯৪৭(৬৬)    

ছোটবেলায় টিভি দেখা হতো বিজ্ঞাপনের লোভে! সেই বিজ্ঞাপনগুলো আবার দেখে বেশ ভালো লাগছে!
পোষ্টে (সাতে সাত)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৮৮(৬৭)    
লেখকের মন্তব্য

আমি যখন বিটিভি দেখতে শুরু করলাম অধিবেশন শুরু হত বিকাল ৫:৩০ এ , শেষ হত ১২ টার আগেই । সে কারণে বিজ্ঞাপনগুলোও ওতপ্রোতভাবে বিনোদনের অংশই ছিল ।

আপনার কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৯৭২(৬৮)    

ছোটবেলা ও কৈশোরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য লেখক কে ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৬৯(৬৯)    
লেখকের মন্তব্য

ধন্যবাদ আপনাকেও , শৈশবে ফিরিয়ে নিতে যদি পারি , লেখা স্বার্থক

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৪৯৮৭(৭০)    

ব্যাপক কালেকশন। পুরাই নস্টালজিক হৈলাম আহা প্রিয়তে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৬৮(৭১)    
লেখকের মন্তব্য

থ্যাংকস অ্যা লট

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫০৯২(৭২)    

ঝাকে ঝাকে জাটকা, কারেন্ট জালে আটকা...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫৮(৭৩)    
লেখকের মন্তব্য

ইলিশ মাছের পোনারে
ট্যাকার খবর শোনারে .............

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৩৪৬(৭৪)    

জোশ পুস্ট। আগের জিঙ্গেল গুলাই ভালা আছিল, সাইজে ছোট প্রোডাক্টের সাথে মিলযুক্ত মিষ্টি। সুমনা হকের জিঙ্গেল মাশাল্লা :) ঐ আপা আমার ফেবারিট। এখনো বাই দ্যা ওয়ে আপনি কি আগে সামুতে ব্লগিং কর্তেন? আমার ক্যান জানি মনে হৈতাসে এই রকম আরো একটা পোস্ট আমি সামুতে দেখছি এর আগে :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫৬(৭৫)    
লেখকের মন্তব্য

তখনকার ধাঁচ অনেকটাই আলাদা ছিল , গল্পের মধ্য দিয়ে না গিয়ে সরাসরি প্রোডাক্ট রিপ্রেজেন্ট করার চেষ্টা ছিল । বেশ সুইট ছিল , বলতেই হবে।

সামুতে আগে বেশ রেগুলার ছিলাম , বিজ্ঞাপন বিষয়ক একটা পোস্ট ৩/৪ বছর আগে পড়েছিলাম । লিখেছিলেন অলৌকিক হাসান নামে এক ব্লগার , তবে সেগুলো মূলত জনপ্রিয় জিংগেলগুলো নিয়ে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৪২৮(৭৬)    

দারুণ স্মৃতিকাতর-করা পোস্ট! ফাঁকফোকরের টুকরো বর্ণনাতে যথারীতি মেহরাবীয় ছোঁয়া।
ডানকান চা আর নিউ জড়োয়া হাউজের বিজ্ঞাপনদুটো খুব প্রিয় ছিল।
আচ্ছা, নোবেল-তানিয়ার করা আজাদ বলপেনের অ্যাডটা (আইয়ুব বাচ্চুর দারুণ একটা ইংরেজি জিঙ্গেলসহ ৯৩ সালে আসে) কি বাদ পড়ল পোস্টে? তানিয়া-মৌ-সুইটি-নোবেল-ফয়সাল-পল্লব-রিয়া-সাব্বির-চৈতীরা মডেলিংয়ে একটা স্মার্ট প্রজন্মের সূচনা করেছিল নব্বইয়ের দশকে। সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি নিয়ে চিত্রনায়িকা মৌসুমীও ভাল সাড়া ফেলেছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে একসঙ্গে অনেকগুলো নতুন বিজ্ঞাপনের জন্ম হতো মূলত বিশ্বকাপ ফুটবল আর ক্রিকেটের মৌসুমে। প্রচুর দৈনিক পত্রিকার বিজ্ঞাপন শুরু হয়েছিল, এটা একটা নতুন ট্রেন্ড তখনকার জন্য। সচেতনতাভিত্তিক প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে সুজা খোন্দকার, কুদ্দুস বয়াতী, সুফিয়া কাঙালিনী দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন।
পোস্টের বাতির রাজা ফিলিপস, রেড কাউ বাটার অয়েল ইত্যাদি পরিচিত বিজ্ঞাপন আশির দশকেও দেখাত। রেড কাউ বাটার অয়েলের অ্যাডে মজার ব্যাপার ছিল সব পাত্রপাত্রীই ভ্রু উঁচিয়ে সংলাপ বলছেন হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫৫(৭৭)    
লেখকের মন্তব্য

নুশেরাপু , আপনার কমেন্ট আবারও ধন্য করল আমাকে। দারুণ !!

আপনি আর আমিন শিমুল একসাথে হলে গত ৩০ বছরের প্রতিটা অ্যাড রিক্রিয়েট করে ফেলতে পারবেন ব্লগের পাতায় ।

আমার বিটিভি দেখার শুরু ৯৪ তে , আজাদ বলপেন কি তারও আগের ? মনে পড়ছে না আমার ।

এক ঝাঁক তরুণ মডেলের সমরোহে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন আসলেই তখন নতুন চেহারা নিয়েছে। এদের মাঝে মডেল রিয়া কেন নাটক করে না এটা নিয়ে মনে খেদ ছিল :)

আপনাকে পেয়ে আরও পুরনো কিছু ঝাপসা স্মৃতিচারণের চেষ্টা করি। ৮৮ কি ৯০ এ দেশে এসে যেসব অ্যাড দেখেছিলাম তার মাঝে ৩ টি খুব অস্পষ্টভাবে মনে করার চেষ্টা করি ।

প্রথমটা ছিল সম্ভবত মশার কয়েল বা অ্যারোসল এর :
ওয়াইফ ঠাস করে হাজবেন্ডের গালে চড় কষে দেয় । ভ্যাবাচেকা খেয়ে হাজবেন্ড জিজ্ঞেস করে :
মারলে কেন ??
--মশা !!

সুবর্ণা মোস্তফার লাক্স : শুধু মনে আছে ট্র্যাক স্যুট পরে সুবর্ণা জিম করছে ।

ফুটবলার সালাউদ্দিনের লাইফবয় , এবং আরেকটা লাইফবয় , যেখানে শুধু একটা ট্যাকল করে মাটিতে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা শুধু মনে পড়ে ।

শাইনপুকুরের অ্যাডগুলো মনে করিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ , ওগুলো যোগ না করলে পোস্ট অসম্পূর্ণ থেকে যেত ।
আমার দাদাবাড়িতে নিপ্পন টিভি ছিল , সেটার অ্যাডও ভুলে যাবার নয় ।

সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনগুলি সত্যিকার অর্থেই দারুণ ছিল , সেসব নিয়ে আরেকটা পর্বই করে ফেলা যায় ।

হাহাহা, সংলাপ বলার কায়দাগুলো খেয়াল করলাম , আসলেই অদ্ভূত । নাটক কি সিনেমাতেও তখন আর্টিফিশিয়াল একটা কায়দা ফলো করে ডায়ালগ দিত । অবশ্য ঐ কায়দা হলিউড বলিউড থেকে শুরু করে সব জায়গার জন্যই তখন প্রযোজ্য ছিল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৮১৩(৭৮)    

লাইফবয়ের আরেকটা এ্যাড মনে হয় রাজ্জাক নামে এক ফুটবলারের করা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৯৬২(৭৯)    

জাহিদ ভাই, ঐ এ্যাডটা করছিলো ওয়ারীর প্লেয়ার রাজু (আসল নাম রাজ্জাক কিনা বলতে পারি না। )
কথোপকথন হলো এমন
রাজু , দেখ শহর থেকে চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ এসেছেন।
তুমি তো বেশ খেল। চ্যাম্পিয়ন দলে খেলবে?
চ্যাম্পিয়ন দলে!! আমি !!
পরের দৃশ্যে তাকে গোসল করতে দেখা যায়। কোচ বলে,
কাপড় কাচার সাবান তো কাপড় ধোয়ার জন্য।
আর গোসলের জন্য।
লাইফবয়!!
লাইফবয় কেন??
কারণ লাইফবয় শরীর থেকে ধূলা ময়লা রোগজীবানু দূর করে স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে।

তারপরে সেই গান,

স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে লাইফবয়,
লইফবয় যেখানে স্বাস্থ্য সেখানে!!
লাইফবয় ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৬৬(৮০)    

শিমুলের মেমোরি নমস্য না শুধু, একেবারে প্রণম্য! গুরু-মানি-ওস্তাদ

হুইল, লাইফবয় আর হারপিকের চরম বিরক্তিকর আইডিয়াপ্রসূত অ্যাড শুরু হয়েছিল মিড নাইন্টিজে।
মিসেস অমুকতমুক বসে থাকতেন সোফায়, উনার পায়ের কাছে কার্পেটে বসে লাঠি-মাইক বাড়িয়ে ধরে সালেক খান আর মুহম্মদ জাহাঙ্গীর জানতে চাইতেন, আচ্ছা আপনি হুইল ব্যবহার করেন কেন?

কৌতুকঅভিনেতা কাজল মানুষের ঘরের দরজায় বা কলতলায় গিয়ে প্রশ্ন করতেন, সুস্থ আছেন তো?

হারপিকের অ্যাডটাতে কী ঢেলে কমোড-প্যানের ওই রং বানানো হয় সেটা একটা রহস্য। এখনও ওই বিবমিষাকর থিমের অ্যাড চলে, তারকা অভিনেতারা অংশ নেন!

লাক্সের অ্যাডে নামী স্টারদের থেকে "লাক্স তারকা" ঘোষণার চল ছিল। আশির দশকে সুবর্ণার পর নব্বইতে এসে শাকিলা জাফর গোলাপি (পরে শমী), বিপাশা সাদা (পরে ঈশিতা), শামীম আরা নীপা হানিক্রিম (পরে বোধহয় অপি)-- এরকম কিছু।

"হেনো হেনোলাক্স/ কম্প্লেকশান ক্রিম"-এর বিশালবপু মডেল আর ভয়াবহ জিঙ্গেল মনে পড়ে না? ৯৫-৯৬এর ছিল।

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন নির্ঘাত আজাদ বলপেন; আইয়ুব বাচ্চুর "লোনলি ডেইজ লোনলি নাইটস...ইউ আর ফার অ্যাওয়ে" এই ধরণের লিরিকের জিঙ্গেল, তানিয়ার চোখ মোছা আর স্টাইলিশ নোবেল... এটা কারো মনে নেই???!!! :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬০৮২(৮১)    

জাহাঙ্গীরের হুইল খুলনা চট্টগ্রাম ঘুরে ঢাকায় এসেছিলো। একটা ডায়লগ বেশ মনে পরে "মা হুইল ব্যবহার করতেন আমিও করি" (হা হা হা)।

কাজলের সেই এ্যাড দরজায় টক টক করে বলবো সুস্থ আছেন তো?? :)

লাক্সের এ্যাড গুলোর শুরুতে তারকাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হতো
যেমন : শিল্পী নীপা। নাচের ছন্দে হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

মজার আরেকটা তথ্য দিবো। হেনো হেনো লাক্সেন এর পুরুষ মডেল আমার দুসম্পর্কের মামা হন। মাদ্রাসা পাস করা ছেলের এই কীর্তি দেখে উনার বাবাও বিষম খেয়েছিলেন!!!

আজাদ বলপেন এর এ্যাডটা আসলেই স্মৃতিতে আসছে না।
আরেকটা মজার এ্যাড ছিলো গোয়ালিনীর । জিঙ্গেল হলো এরকম,
"এক দুই তিন চার পাঁচ ছয়,
এটা নয় ওটা নয় কোনটাতে গোয়ালিনী
চুমুকেই বুঝা যায়।
পেয়েছি পেয়েছি গোয়ালিনী। আসল চায়ের মজা গোয়ালিনী "

স্টার শিপের বেশি স্বাদ বেশি লাভ বেশি কাপ চা এর এ্যাডে হাবলুর ওম্মাহ সেই রকম ছিলো ।

আরো অনেক আছে স্মৃতিতে। আড্ডা দিতে থাকলে বেরিয়ে আসবে!!! D D

নুশেরা আপুর কমেন্টে বেশ সম্মানিত বোধ করলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৬৯(৮২)    
লেখকের মন্তব্য

মুহম্মদ জাহাঙ্গীরের শুরুটা হত এভাবে ?

আমি এখন বরিশাল/খুলনা/রাজশাহীতে । মিসেস _____ এর কাছে জানতে চাইবো তিনি হুইল ব্যবহার করেন কেন ?

(কেন টা বেশ জোর দিয়ে)

এই নানান মিসেস গুলোর নাম মনে নেই । তবে একজনের কথা মনে আছে বেশ মোটাসোটা ছিলেন , অন্য আরেকজন বেশ সুন্দরী ছিলেন :প :p

আচ্ছা , গোয়ালিনীর মডেল এর নামটা ভুলে গেলাম কেন ? জাহিদ হাসানের একমাত্র সিনেমার নায়িকা

হানিক্রিম লাক্সে বিপাশা-শমীর আমলকার মডেল ছিলেন আরও একজন -- আফসানা মিমি

নুশেরাপা , বিশাল বপু হেনোলাক্স মডেলের কথাও মনে আছে । বিজ্ঞাপনেও সে বিশেষ একটা নড়াচড়া করত না সম্ভবত

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৪৪(৮৩)    

জাহিদ হাসানের সিনেমার নায়িকার নাম শাম্মা। রহস্যজনক ভাবে সে খুন হয় পরবর্তীতে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৬৬(৮৪)    
লেখকের মন্তব্য

নুশেরাপা , আমিন একটা জিংগেল দিয়ে গেছে :
ঐ শোন জীবনের সুর
ছন্দে গাণনথা কত যে মধুর
রূপ রূপে অপরূপা
আনে ত্বকে কমনীয়তা।

যে গান থেকে সুর নেয়া হয়েছে সেই অ্যাডের , সেটা আমি আরেকবার সবার জন্য শেয়ার করি :

See video

মডেলের নামও বলে দিই : রুবাইয়া পারভীন রুবা (নাট্যাভিনেত্রী)

এবার কুইজ : প্রোডাক্টটা কি ছিল ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৬০৫(৮৫)    

তাজ্জব ব্যাপার, মডেলের নামও মেহরাবের মনে আছে!!! ম্যানোলা? নাকি কিউট? ধুর, সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আবার মনে হয় ঘোড়া আঁকা হেজলিন স্নো অথবা তাসমেরী... :(

ব্ল্যাক আনোয়ারের লুকাস ব্যাটারির কথা মনে পড়ছে (ওস্তাদ এস্টার্টতো লইছে না... ধুর মিয়া কী বাসে উঠলাম, আইজ মনে হয় ফেরিটা ধরতে পারলাম না... পারবেন পারবেন আপনেরা সবতে মিলা একটু ধাক্কা দিলেই...)

বাকের ভাইয়ের সঙ্গী বদি হিট হবার পর আবদুল কাদের অনেক বিজ্ঞাপন করেছিলেন। একটা মশার কয়েলের অ্যাড দেখাত, খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ (কী নতুন জামাই...)

আর এসএমসি-র অ্যাডের মধ্যে ওরস্যালাইনের একটা ছিল, আসলেই ডায়রিয়া রোগীর মতো দেখাত মডেলকে (ফরিদভাই তোমার দোকানে কি... আছে মানে, এসএমসির ওরস্যালাইনই আছে)।
আর কিছু অ্যাডের শেষে শুধু একটা কথাই থাকত-- "যেন কাশফুলের নরম ছোঁয়া" হিঃহিঃহিঃ  হাহাহা

আচ্ছা, বেক্সি ফেব্রিক্সের তিরু-কে মনে নেই? লিরিকের জিঙ্গেল বাদ দিয়ে শুধু ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো বিজ্ঞাপন হিসেবেই বেক্সি ফেব্রিক্স আর বার্জার বিজ্ঞাপনে নতুনত্ব এনেছিল। যত যাই বলি, আমাদের দেশে সবচেয়ে স্মার্ট মেয়ে মডেল ছিল আশির দশকের শেষদিকের কালার জোনস কার্পেটের অ্যাড করা স্টেপকাট চুলের মেয়েটা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৬৬১(৮৬)    

লুকাস ব্যাটারির এ্যাডটার কথা বেশ মনে আছে। ঐটার প্রথমে ছিলো, নামেন ভাই নামেন সবাই মিল্লা একটু ধাক্কা লাগান। এখ যাত্রীর ডায়লগ ছিলো, এটা কেমুন বাস মিয়া, পয়সায় দিমু ধাক্কাও লাগামু। আইজকা ফেরিটা ধরতে পারমু কিনা সন্দেহ।

কাশফুলের নরম ছোঁয়ার এ্যাডের তারাভাইরে ভালো পাইতাম। ডায়লগ ছিলো এমন, তারা ভাই আমার পরিবার এইটা নিতে কইছে। তারা ভাই তখন বলে, তোমার ভাবীও ফেমিকন খায় ।

আরেকটা লিরিক দিছে চাইছিলাম। কিন্তু সবাই কী মনে করে ভাইবা দিতেছিলাম না। নুশেরাপু যেহেতু কাশফুলের নরম ছোঁয়ার এ্যাডের কথা বললেন, মায়ার এ্যাডের লিরিকটা লিখি। বাচ্চাকালে না বুঝেই এই লিরিকটা গাইয়া ফ্যামিলিতে বিরাট ঝাড়ি খাইছিলাম

আহা মিষ্টি কী যে মিষ্টি
এই সুন্দর ছোট সংসার
মায়া আছে এ জীবনে আপন হয়ে
জীবনের সবটুকু সুখ ছুঁয়ে

এই মায়া করে জীবন
ব্লা ব্লা।

চাঁপা কেশ তেলের আরেকটা এ্যাড ভালো পাইতাম

কিছু ছেলে একটা মেয়েকে বলে, ও কেশবতী কন্যা, ফুল নেবে গো ফুলো।নাও না চাঁপা ফুল।

মেয়েটা গাইতে গাইতে বলে, চুলে আমার চাপা মাখা চাই না চাপা ফুল।

চাপা!! চাপা মাখা??

চাপা ফুলের নাম নিয়ে, খাটি তেলের গুণ নিয়ে
এলো চাপা এলোরে এলো এলো এলো রে !!!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৭৩৩৬(৮৭)    

মনে পড়েছে, ৮৮-৮৯র দিকে দেখাত “চুলে আমার চাপা মাখা” (জিঙ্গেলের গায়িকা নাকিসুরে গাইলেও চাঁপার বদলে চাপা উচ্চারণ করতেন), মডেলের চুল আর অ্যাপিয়ারেন্স উল্লেখযোগ্যরকম বিশ্রী ছিল, নির্মাতা আফজাল বলেছিলেন ওটা নাকি ইচ্ছাকৃত; প্রথা ভাঙার স্বার্থে!

মৌসুমী নায়িকা বা এমনকি ফটোসুন্দরী হবারও আগে মেরিল স্কিন কেয়ার ক্রিম আর মেরিল ইমপেল শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন করেছিলেন। প্রথমটাতে খালিদ হাসান মিলুর জিঙ্গেল ছিল “শিল্পীর বিমূর্ত শিল্প তুমি প্রথম প্রেমের মতো সুন্দর, তোমাকে ভাবলে হাজার স্মৃতি হৃদয়ে এসে তোলে ঝড়”, দারুণ স্মার্ট আর সুন্দর অথচ বিজ্ঞাপনটা তেমন দেখায়নি প্রোডাক্টটা স্কয়ার বন্ধ করে দিয়েছিল বলে। শ্যাম্পুরটা অনেকদিন দেখিয়েছিল, পরে শমী কায়সারও ওটার বিজ্ঞাপন করেন।

কোথাও পড়েছিলাম, বাংলাদেশে রেডিও-টিভিতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রচারিত জিঙ্গেল দুটির একটি মায়া-র, আরেকটি চান্দা ব্যাটারির (“চান্দা চান্দা চান্দা চান্দা...” দিতির ডেব্যু)। মায়ার অ্যাডটা তৈরি লেইট সেভেন্টিজে। নবাগতা রোজিনার কিছু সাদাকালো স্টিল ফটোগ্রাফ ব্যবহৃত হয়েছিল, সম্মানী পেয়েছিলেন ৫০০ টাকা। চিত্রনায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর তিনি নাকি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপনটি বন্ধ করার প্রস্তাব দেন, কর্তৃপক্ষ রাজি হয় নি! মায়া আর ওভাকনের (পিয়ানো বাজিয়ে তরুণী মডেল গাইতেন, “জলতরঙ্গের ছন্দে দুলিয়ে দিল দুটি মন”) জিঙ্গেল গেয়ে ঝাড়ি খাওয়াটা আশির দশকে শিশুদের নিয়তির মতো ছিল। নাইন্টিজে এসে অনেক পরিণত গল্প দেখানো হল নরডেট২৮ বা সেরকম কিছুর বিজ্ঞাপনে, রুবিনা পারভীন রুনার করা “সেই প্রথম দেখা প্রথম ভাল লাগা...” জিঙ্গেলের সাথে পাত্রের ফটো-বিয়েশাদিবাচ্চা সব দেখানো প্রায় নাটকের স্ক্রিপ্টের মতো!

আরেকটা বিজ্ঞাপন আশি-নব্বই দুই দশক ধরে চলেছিল। শুভ্র ফেনায় কাপড় কাচে কোন সাবান? কোন সাবান? নিরালা, নিরালা, নিরালা বল সাবান। তিন মডেলের মাঝেরজন বিশাখা। তিব্বত ব্লু বারের একটা আজিব কিছিমের অ্যাড ছিল নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের করা, সেটাও বহুবছর চলেছিল। বছর চারেকের ছোট্ট বাচ্চা স্কুলে একাই যাচ্ছে, গাড়ির ছিটানো কাদা মেখে ফিরে এসেছে ড্রইংরুমে গল্পে বসা সাজুগুজু মা আর আন্টির কাছে, মা বলে, “এ কী!” আন্টি বলে, “কিহিচ্ছু ভাববেন না...”

তারিনের “মা দিয়েছে কোকোলা লজেন্স আর তো কিছু চাই না”...
ঈশিতার ওভালটিন না মাল্টোভা কী যেন একটা...
মা চরিত্রে দিতি আর চারটা বাচ্চার “মা করছে রান্না খেলাধুলা আর না... কোকোলা নুডলস”
কৌতুকাভিনেতা মিঠুর “দাদখানি চাল মসুরের ডাল লবণটা যেন কী... আপামণি... মোল্লা সল্ট”

স্যান্ডালিনার বিজ্ঞাপন অনেকদিন চলেছিল। মডেল শামা আরও করেছিল কী একটা পিলের বিজ্ঞাপন, সেখানে চিতাবাঘের বাচ্চা কোলে নিয়ে আদর করত, মেয়েটা জাহিদ হাসানের সাথে একটা সিনেমাও করে, নাইন্টিজের শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
অনেকটা শামার মতো দেখতে আরেকটা মেয়ে মেরিলের কিছু বিজ্ঞাপন করেছিল, “ওগো সুকন্যা... তুমি আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা”

নাইন্টিজের শুরুতে হাস্যকর বিজ্ঞাপন ছিল শিমুরা ইলেকট্রনিক্সের। পৃথুলা গড়নের রথী (গায়ক জেমসের সাবেক স্ত্রী; চাঁদনী নাম নিয়ে সিনেমাও করেছিলেন) চুল কার্ল ভরে উদ্ভট পোশাকে হাজির হয়ে প্রতিবার একই কায়দায় বলতেন, “শিমুরা মিউজিক সিস্টেমে (টিভিতে) গান শোনার (ছবি দেখার) এত আনন্দ, ঝাআআন্তাম নাআআ...”

অথচ এই রথী অসাধারণ এক্সপ্রেশন দিয়েছিলেন ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের একটামাত্র দৃশ্যেই, চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চোখের পাতা বন্ধ করতেন, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চমৎকার পুরুষকণ্ঠে বলা হতো, “সম্ভবত বাংলাদেশের সেরা চা!” “সম্ভবত” শব্দটা সত্যিই দারুণ উপস্থাপনা ছিল!

নাইন্টিজে নারীমডেল ছাড়াই এসেছিল পেপসোডেন্ট টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন; স্যুটটাই-পরা পুরুষটি দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন, তার পরা চশমার ফ্রেম সুপারহিট হয়েছিল দেশজুড়ে, অনেক চশমার দোকানে “পেপসোডেন্ট ফ্রেম পাওয়া যায়” লেখা দেখা যেত!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৭৪৭১(৮৮)    
লেখকের মন্তব্য

নুশেরাপা , আপনার জবাব নেই । আমি অ্যামনেশিয়া রোগীর মত গভীরভাবে মগ্ন হয়ে স্মৃতি খোঁড়ার চেষ্টা করছি , কিছু কিছু ছিঁটে ফোঁটা মনে পড়ছে , কিছু মনে পড়ছে না । ৯৪ এর আগের মিস করা অ্যাডগুলোর কথা ভেবে আফসোসও হচ্ছে ।

"চুলে আমার চাপা মাখা" -- এটাকে "চুলে আমার চাপা মাথা" পড়ে খানিকটা সময় তব্দা খেয়ে ছিলাম। :)

কালার জোনসের অ্যাডটা যদিও আমি দেখিনি , তবে একজন জানালো ১৯৮৮ সালের দিকে করা এই বিজ্ঞাপনটিতে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রয়োগ হয় ।

বেক্সিফেব্রিকসের ব্যাপারে একটা কথা বলে রাখি , যেটা এতদিন গোপন ছিল । তখন ক্লাস সিক্স কি সেভেনে পড়ি। মডেলকে দেখে ভাবতাম -- এত সুন্দর কেন মেয়েটা ? যেমন চেহারা , তেমন চুল ...... (আবার নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিতাম, ছিঃ , কিসব ভাবো , বেশি পেকে গেছো)

জিংগেল গেয়ে ঝাড়ি না খাইলেও কাছাকাছি লেভেলের বিব্রত হয়েছিলাম । ওভাকনের সেই অ্যাডটাই সম্ভবত (নাকি ওভস্ট্যাট?) ।প্রথমাংশে স্বামীর মুখে রোদ ফেলে ঘুম ভাঙিয়ে দেয় স্ত্রী, শেষাংশে একমাত্র সন্তানকে বাইসাইকেল চালানো শেখায় । "দাম্পত্য জীবন , সুখে সুমধুর , ভালোবাসার এই বন্ধন" --- এই টাইপের জিংগেল ছিল। ক্লাস ফাইভে থাকতে একদিন বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা বসেছে -- কার কোন বিজ্ঞাপন প্রিয় । স্কুলে আমার একটা বেশ রাশভারি পরিচিতি ছিল সে সময়ে , আবার ফার্স্ট বয়ও ছিলাম । আমার পালা আসতেই যেই সেই জিংগেলটা গাইলাম , ওমনি চারদিকে হাসির ফোয়ারা , আর সবাই সমস্বরে বলতে লাগল -- "ছিঃ ছিঃ ছিঃ , তুমি এত খারাপ" (রুপনগর নাটকের কারণে তখনকার জনপ্রিয় ডায়ালগ)। আমি বুঝলাম -- সামথিং ইজ টেরিবলি রং , কোথাও কোন লজ্জার ব্যাপার ঘটছে :প :p

ইমপেল শ্যাম্পুর অ্যাডটা মনে পড়ছে, নাকি পড়ছে না । সবুজ থিমের সেটে মডেল বৃষ্টির মত ঝড়তে থাকা পানিতে চুল ভিজিয়ে নেয়।

নিরালা সাবানের অ্যাডটির কথাও মনে পড়ল, বিজ্ঞাপনটির পরের অংশ ছিল:

সবাই জানে , সবাই মানে
কাপড় কাচার সেরা সাবান নিরালা , নিরালা বল সাবান

"কাপড় কাচে , হাতও বাঁচে" এমন জিংগেল নিয়ে মৌসুমীও পরের দিকে একটি বল সাবানের বিজ্ঞাপন করেছিলেন।

৯৬ কি ৯৭ তেই বাজারে এল ভারতীয় ওয়াশিং পাউডার নিরমা ।

ওয়াশিং পাউডার নিরমা , ওয়াশিং পাউডার নিরমা
দুধের মত সাদা নিরমা যে ধোবে
রঙিন কাপড়ও ঝলমলে হবে
সবার প্রিয় নিরমা

৯৪ এর দিকে সুজা খন্দকারের করা একটা অ্যাডের কথা বলি (অ্যাডটি সম্ভবত আরও আগের)
" মামা মামা . মামি আসে নাই? "
--মামি আসে নাই তবে মিমি আসছে!!!"

এই বলে তুলে ধরতো ইয়া বিশাল একটা বাক্স । আমি ভাবতাম এই বক্স ভর্তি যদি মিমি চকোলেট থাকে , তবে না জানি একেকজনের ভাগে কত কত চকোলেটে পড়েছিল।

মিমি চকলেট খেতে অবশ্য অতটা জুইতের লাগত না , তার চেয়ে ঐ সময়েই বাজারে পাওয়া যেত "আজিজ মিল্ক চকোলেট"। সেটার অ্যাডটাও বেশ দারুণ ছিল "আজিজ মিল্ক চকোলেট দল(??) , মজাআআ"

কোকোলা নুডলসের বিজ্ঞাপন দেখে আমার মনে পড়ল আরেকটা বিজ্ঞাপনের কথা :
ইত্যাদির নানা-নাতি একটা বিজ্ঞাপন করসিল :

নাতি হঠাৎ করে রাতে ঘুম থেকে উঠে চিক্কুর দেয় : বিস্কুট চাই , বিস্কুট চাই
নানা : এত রাতে বিস্কুট কোথায় পাই ?

(ব্যাকগ্রাউন্ডে): আছে কী ?
---- আছেএএ একটাইইই .........
কোকোলা চ্যাম্পিয়ন বিস্কুট ভাই

"ওগো সুকন্যা , জানো কি তুমি জানো কি ?" -- এই অ্যাডের মডেলটার চেহারা স্পষ্ট মনে আছে । ইমরোজ নামে একজন অভিনেত্রী ছিল একইরকম চেহারা আর গড়নের , মনে করতে পারছি না এই মেয়েটি ইমরোজই ছিল কিনা।

এই অ্যডটা খুব বেশি বেশি দেখাত আলিফ লায়লা বা সিন্দবাদের মাঝে । মডেল সুমীর আরেকটা মেরিলের অ্যাডও একই সময়ে দেখতাম:

যেন চাঁদ থেকে এনেছে সে চাঁদ মাখা রুপ
চুপ চুপ চুপ

৯৪ এ লাইফবয় গোল্ডের আরেকটা অ্যাড সম্ভবত দারুণ হিট খেয়েছিল । গর্জিয়াস মডেলের নাম ছিল সম্ভবত ফিমা ।

লিফটের মাঝে --
আপনাকে পৌঁছে দিই
-- (ভ্রু কুঁচকে) না না আরেকদিন

ছেলে তো ভেঙে পড়ে , ঘামের দুর্গন্ধের জন্য এই হাল , সেটাও বুঝতে পারে। এরপর ব্যবহার করে লাইফবয় গোল্ড

এইবার লিফটে উঠে মেয়েই শুরু করে
-- আপনাকে এ্ত সজীব লাগছে যে
- জ্বী , আপনাকে পৌঁছে দিই ? :) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৮৬৭০(৮৯)    

নাইন্টিজের বিজ্ঞাপনে অ্যারোম্যাটিকের কথা না বললেই নয়। ম্যানোলা বন্ধ হয়ে গেল, তারও কিছু আগে পেপস জেলের উৎপাদক কোম্পানি ফাইজার গুটিয়ে গেলে লিভার ব্রাদার্স ওই প্রোডাক্টগুলো কিছুদিন রেখেছিল। তিব্বত যাকে বলে "ক্ষ্যাত" টাইপের কিছু , স্কয়ার (মেরিল) আর এসিআই তখনও শুধুমাত্র ওষুধ কোম্পানি। ওই অবস্থায় লিভার প্রথম বড় ধাক্কাটা খায় অ্যারোম্যাটিকের কাছে। মডেলবিহীন বিজ্ঞাপনে হালাল সাবানের কনসেপ্টটা তুমুল সাড়া পায় পাবলিকের কাছে। তারপর বালিকা বা কিশোরী রোমানাকে দিয়ে বিজ্ঞাপন করা হয়। কটাচোখের সেই মেয়েটি এখন দুই দশক পার করে নাটক-সিনেমার নায়িকা! "হালাল সাবান" কথাটা পরে এসিআই (জয়া আহসান তখন জয়া মাসউদ, প্রথম বিজ্ঞাপন করেছিলেন এসিআই বিউটি সোপের) আর কেয়া- এই দুই কোম্পানিও ব্যবহার করে।

মেয়ে মডেলদের মধ্যে নাইন্টিজের ক্রেজ মৌ। আজিজুল হাকিমের সাথে পেপস জেলের অ্যাড দিয়ে শুরু। একটা হাসির দৃশ্যে তার কালচে মাড়ি দেখা গেলে সেই দৃশ্যটা রিশুট করে অ্যাডটা দেখাত! তারপর বাউন্স শ্যাম্পু, নোবেলের সাথে বার্জার পেইন্ট আর সিলভারক্রস কনডেন্সড মিল্ক, আরো পরে কেয়ার কিছু প্রোডাক্ট, আপন জুয়েলার্স, পরের দশকে এসে আরসি কোলার দুটো। আফসানা মিমি মেরিল বিউটি সোপের প্রথম মডেল। ওটা করার জন্য তাকে লাক্স তারকার পদবী খোয়াতে হয়েছিল। সুইটিও একটা সাবানের বিজ্ঞাপন করত ঐশ্বরিয়ার সাজগোজ অনুকরণ করে- ল্যাকপে সোপ, লালবাগ কেমিক্যাল-এর। লালবাগ বললেই মনে পড়ে হাঁস মার্কা গন্ধরাজ নারিকেল তেল। সিনেমার চরিত্রাভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনার বিজ্ঞাপনটা অনেকদিন চলেছিল- সেদিন আমার মেয়ের বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেল... মা মেয়ের এত চুল এমন পরিবারই তো খুঁজছিলাম।
================

নাইন্টিজের শেষদিকে তিন্নি নামের এক সুন্দরী মডেল খুব সাড়া ফেলেছিল, মার্কস দুধ, কী একটা মেহেদি, হেয়ার অয়েল... পরে অভি-সংশ্লিষ্টতায় খুন হয়।

ইয়ে মানে মেহরাব, বেক্সি ফেব্রিক্স্রের সেই স্মার্ট সুন্দরী তিরু আমার মামী (মায়ের কাজিনের বউ!) হয়, এখন এক ছেলের মা ;)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬৭৮(৯০)    
লেখকের মন্তব্য

বলেন কি ??

মামীকে সালাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৭৭(৯১)    
লেখকের মন্তব্য

আমিন , খেলোয়াড়-কোচের কথপোকথন কনসেপ্টে আরেকটা অ্যাডের কথা মনে আছে ? হোয়াইট প্লাস টুথ পাউডার ?

সেটার প্রথম ভার্শনে শহীদুল আলম বাচ্চু কি মামা হয় ? সাথে তার ভাগ্নের স্মৃতিচারণ ?

আকরাম খান করেছিল না তৃতীয় আরেকটা ভারশন ?

আমার মেমোরি দেখি সব আধাআধি মনে রাখে :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৬৬৪(৯২)    

ঐটা ছিলো এমন, শরীরের প্রতি যত্নবান দাঁতের এতো অযত্ন।
আমি তো এসব পাউডারেই দাঁত মাজি।
এতে কি জিবানু ধ্বংস হয় ব্লা ব্লা।

সাচ্চুর টা ছিলো এমন । ছাইপাশ দিয়ে মেজে দাঁতের এ কী অবস্থা করেছো। এখন থেকে ম্যাজিক।

আকরামের এ্যাডটা পুরা মনে নাই। ঐটার থিম ছিলো সুস্থ দাঁতে অলরাউন্ডার (আক্কু বস কেমনে অলরাউন্ডার হইলো আল্লাহই জানে)

হাল আমলে এটার নতুন ভারসন আমাদের রফিক ভাই। ঐটা দেখছো??

খেলোয়াড়দের আরেকটা এ্যাড আইসিসি ট্রফির পরে। খালেদ মাসুদ পাইলটের ভালোবাসি ক্রিকেট, ভালোবাসি বাবল আপ !!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫০(৯৩)    

আরো তিনটা জিঙ্গেল দিয়ে গেলাম, আমার নিজের খুব প্রিয়,এগুলা নব্বই দশকের শেষের দিকের।

অনন্যা তুমি ভালো বাসা তুমি
তুমি এ হৃদয়ে জুড়ে থাকো,
সারাবেলা।
এই জগত জানে শুধু আমি কেন
কী যে রূপের আঁধার শুধু তুমি
সারাবেলা।

সবসময় তাকে দেখি অনরাগে অনুভবে
তার হাসি চির অমলিন
ছড়িয়ে দিলেই যায় মনে প্রাণে
বাতাসে ছোঁয়ার তার ভালোবাসা এসে লাগে
দৃষ্টির আড়ালে গেলেও তার
সৌরভ জড়িয়ে থাকে।

ঐ শোন জীবনের সুর
ছন্দে গাণনথা কত যে মধুর
রূপ রূপে অপরূপা
আনে ত্বকে কমনীয়তা।

শেষেরটার ইউরোপীয়ান ভার্সনের ভিড্যু মনে হয় তুমি শেয়ার দিসিলা।

ওহহ আরেকটা এডের কবিতা যোগ করে দেই

ভোরের প্রথম রবির কিরণে উঠিল গোলাপ ফুটি
তোমায় রাখিবো চিরকাল মনে
বলিয়া গোলাপ পড়িল ধরায় টুটে
তোমায় রাখিবো চিরকাল মনে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৭০(৯৪)    
লেখকের মন্তব্য

খাইসে , সাথে প্রোডাক্টগুলির নামও বলো ।

আচ্ছা , এসিআই বিউটি সোপের অ্যাডগুলি মনে আছে ? সাদা , গোলাপী বা বেগুনী কালার থিমে ? আমি ঐ অ্যাডগুলির প্রেমে পড়েছিলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫৩(৯৫)    

প্রথম মন্তব্যে জলরঙ এর দেয়া প্রথম জিংগেলটি ছিলো সে সময়ে আমার সবচে' প্রিয় বিজ্ঞাপন ।
ভীষণ ভালো লাগতো,-- 'মৎস্য মারিবো তাতেও আইন, যা শুনাইলেন স্যার সত্যিই ফাইন !'
এই লোকের বিজ্ঞাপন না শুধু, অভিনয়ও ছিলো দুর্দান্ত, অকালপ্রয়াত তিনি, নামটি বোধকরি সুজা খন্দকার ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৫৫৯(৯৬)    
লেখকের মন্তব্য

সেই বিজ্ঞাপনে সুজা খন্দকারের নাম ছিল "সাদেক আলী" , আসলেই অসাধারণ প্রতিভা ছিলেন তিনি ।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে শিপন ভাই

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৬২৬(৯৭)    

শাইন পুকুরের আডগুলোর কারণে মনে পড়লো "ইত্যাদি" দেখার কথা। তখন ইত্যাদির মাঝখানে শাইন পুকুরের আডগুলো দেখাতো!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৫৯(৯৮)    
লেখকের মন্তব্য

অ্যাডের সাথে অনুষ্ঠানের স্মৃতি চলে আসে , ইত্যাদির সাথে শাইনপুকুর , ইত্যাদির সাথে কেয়া কসমেটিকস । আলিফ লায়লার সাথে মেরিল বেবি লোশন- বডি লোশন (তুমি আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা), মেরিল কোল্ড ক্রিম(চুপ চুপ চুপ), মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলী (শীতের শুষ্কতায় ........) , জুঁই নারকেল তেল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৬২৮(৯৯)    
See video
 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৫৩(১০০)    
লেখকের মন্তব্য

ডায়ালগটা দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল এই অ্যাডের

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৭৩৪(১০১)    

গুরু-মানি-ওস্তাদ গ্যাঁদাকালের কথা মনে পইড়া গেল, কি দিনই না ছিল, আহারে...........

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৪০(১০২)    
লেখকের মন্তব্য

আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম... আহা.. আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৫৭৮৬(১০৩)    

দারুন লাগলো। কিউট, জনি শাড়ির আড টা আসলেই মনে দাগ কেটে আছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৪৯(১০৪)    
লেখকের মন্তব্য

থ্যাংকস :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬২৫৬(১০৫)    

আপনার ব্লগে আমার এই প্রথম পদার্পন বোধহয়!
আমার কী ভাগ্য(নাকি আপনার ;) ), আপনার পোস্ট পড়তে এসে প্রথমটাই প্রিয়তে নিয়ে গেলাম।
আমি কিন্তু ওইদিনই প্রিয়তে নিয়েছিলাম।

ভাল থাকুন অবিরত!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭২৩(১০৬)    
লেখকের মন্তব্য

স্বাগতম ।সম্মানিত বোধ করলাম :)
আপনার বেশ কিছু ব্লগ পড়েছি , কিন্তু মন্তব্য করা হয় অনেক কম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩১৫(১০৭)    

আপনার মতো মানুষ যে আমার ব্লগ পড়েছেন, তাতেই আমি মারাত্মকরকম খুশি।
থ্যাংকস!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৬৪৩৬(১০৮)    

ভাই বেশি কিছু বলার নাই। পোষ্ট প্রিয়তে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭২০(১০৯)    
লেখকের মন্তব্য

শুভকামনা রইল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৭৪৪৪(১১০)    

ভাল পোষ্ট। অসাধারণ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭১৯(১১১)    
লেখকের মন্তব্য

অসংখ্য ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৮৭২৯(১১২)    

আমিন শিমুল ভাই, মেহ্‌রাব ভাই এবং নুশেরাপু আপনাদের ৩ জন কে দিয়ে পুরা ৯০'স রিজেনারেট করা পসিবল। অনেক অনেক মজা পাইলাম । আমিন ভাই আমি আরো একবার অভিভুত, আপনার মেমরী ভয়ঙ্কর!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১২০(১১৩)    

থ্যাঙ্কু! আপনি রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন চতুরে, প্রথম মন্তব্য এই পোস্টেই করুন :)
==========================

সমঝদারিত্বের উপহার হিসেবে নিন শাড়ির বিজ্ঞাপনের স্মৃতি ;)

বৌরাণী প্রিন্ট শাড়ি একটা অ্যাড আফজাল বানিয়েছিলেন: রাণী রাণী রাণী রাণী কোন্ রাণী? রাণী রাণী রাণী রাণী বৌরাণী। নায়িকা চম্পা বহুরকম মেকআপে, মডেল শিমুল ঢোল হাতে, আর একটা বাচ্চা ছিল।
কটা চোখের বিশালবপু নায়িকা সুনেত্রা করতেন রকি প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপন। পরে আসে শাবনুর।
অঞ্জনা আর নতুন আরো আগে করতেন জনি প্রিন্ট শাড়ি। নাইন্টিজে জনি শাড়ির খুব স্মার্ট অ্যাড করার চেষ্টা করেন তানিয়া, ক্যাটওয়াক টাইপের কিছু, অ্যাডটা চলে নি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১২২(১১৪)    

নুশেরা আপু দেখি এই পোস্ট পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন আমার মত করেই।
শাড়ির এ্যাডের আরেকটা জিঙ্গেল। বোম্বে প্রিন্ট শাড়ির
(পুরুষ কণ্ঠে)
ও রূপসী সেজেছে কোন শাড়িতে
ও ঝলমল রঙে হৃদয় মেতেছে
রূপের শোভা কে বাড়ালো
নতুন দীপ্তি কে ছড়ালো
(নারী কণ্ঠে)
নতুনের ছন্দে
মহুয়ানন্দে
বোম্বে প্রিন্ট শাড়ি ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১২১(১১৫)    

যারা এই বিজ্ঞাপন ট্রিভিয়া চালাচ্ছেন - তাগো প্রতি প্রশ্ন আপনারা এইসব মনে রাখেন কিভাবে ??
আপনাদের খাদ্য তালিকায় তিন বেলা মাছ থাকে ?
২নং পয়েন্ট - আপনারা একত্রে একটা এ্যাড ফার্ম খুলেন না কেন ? বিজ্ঞাপনে যে পরিমান আসক্তি - সহজেই ব্যবসা জমে যাবে । রথ দেখা কলা বেচা দুইটাই হবে :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১২৪(১১৬)    

বাকিদেরটা বলতে পারি না। আমি যখন বিজ্ঞাপনের স্মৃতিচারণ করি চোখের সামনে সেই বিজ্ঞাপনটি দেখতে থাকি কিংবা জিঙ্গেল শুনতে থাকি ।
২ নং পয়েন্টে আমি নাই। কারণ আমার ক্রিয়েটিভিটি নাই। আসক্তি আসলে আমার ছন্দ আর সুরের প্রতি ছন্দবদ্ধ কবিতা কিংবা সুরেলা গান মনে থাকে সেই কারণেই !!! :) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯১৮৮(১১৭)    

ট্রিভিয়া, তিনবেলা মাছ, অ্যাডফার্ম এইসব হাবিজাবির আড়ালে “থামলে ভাল লাগে” বলতে চান? সেই গুড়ে করাবালু জিরোদা, পিকচার আভি বাকি হ্যায়!

------
লেমন ডিউ সাবান, ইংরেজি জিঙ্গেলের (কুল কুল ওয়াটার...) সাথে একটা স্লিম মেয়ে। গানটা বাংলা করে মডেল পাল্টে আসলো একটু মোটু মাহবুবা ইসলাম সুমী। হলুদ-সবুজ গেটআপ থাকত লেমন ডিউর অ্যাডে।
-------
মেরিল ফ্রেশজেলের অ্যাডে তিনটা মেয়ে তিন রঙের পেস্টের জন্য ছিল। লাল জেলের মডেল লোপার (লাল একটা চেরি বা করমচা মুখে পুরত) পরে মাহী বি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয়। সুরের জন্য ইংরেজি জিঙ্গেলটাই বেশি ভাল ছিল, সুমনা হকের গাওয়া বাংলা ভার্সনটা ভাল হয় নি।
-------
কসকো গ্লিসারিন সাবান, এটার অ্যাড প্রোডাক্টের মতোই বাজে হতো। ইটের টুকরার মত এই বস্তু কমিউনিটি সেন্টার টাইপের জায়গায় বহুল ব্যবহৃত ছিল।
-------
এরিয়েল টুনিটেক ডিটারজেন্ট। খোকার শার্টের কী অবস্থা (যা অবস্থা তাতে খোকার শার্টের সাইজটা নাবালকের হলেই মানাত)... বউমা আরো পাউডার লাগবে... আমি তুমি আর টুনি, আর কি চাই!
--------
মিল্লাত বাম আর মিল্লাত ঘামাচি পাউডার আদি অকৃত্রিম চেহারায় আশি-নব্বই দু্ই দশকেই চলে। জাহাজ, উড়োজাহাজ আর এরোপ্লেন মার্কা আলকাতরাও তাই। একটা অ্যাডে জিঙ্গেল ছিল- লাগা লাগা লাগা রে লাগা রে লাগা/ এরোপ্লেন মার্কা আলকাতরা...
--------
তীর, ফ্রেশ, নুরানী, এসিআইরা পরে আসে, নাইন্টিজে একাই ছিল সেনা কল্যাণ সংস্থার ফৌজি আটা-ময়দা-সুজি। আরও ছিল কনসোল মোজা, পুরোপুরি ভরসা!
--------
পাম্প- “অল্পচাপে বেশি পানির জন্য আর এফ এল”
“পানি রে পানি”,
“পানি নিয়ে ভাবনা আর না আর না”
--------
ইন্সুরেন্স কোম্পানির অ্যাড আসত বিশ্বকাপ ফুটবলের মৌসুমে। জিঙ্গেল ছিল একটাতেই, আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া-
দেয়ালটা ভেঙে গেলে
জাহাজটা ডুবে গেলে
কারখানা পুড়ে গেলে
গাড়ি ভেঙেচুরে গেলে
দুর্ঘটনায় যদি পড়ে রেলটা
ভয় নেই ভয় নেই আছে গ্রিন ডেল্টা
------------
বাংলাদেশ মেলামাইন আর শরীফ মেলামাইন। “এত দামী প্লেটটা ভেঙ্গে ফেললে বৌমা... না মা এটা শরিপ মেলামাইন”, পরে বলত মজবুত, টেকসই, দামেও সস্তা D
“মধুর সংসার খুশি ভরা দিন...” “শরীফ মেলামাইন প্রিয়, শরীফ মেলামাইন সেরা” এমন জিঙ্গেলের বিজ্ঞাপনও ছিল। তবে সেরা হাস্যকর অ্যাডটা এমন ছিল- শুধু পাগলের মত আবোলতাবোল আঁচড় কাটলেই শিল্পী হওয়া যায় না (দেঁতো হাসির পাগলের হাতের তুলি), এজন্য চাই... (তারপর শিল্পী যা আঁকেন সেটা হয়ে যায় মেলামাইনের প্লেটের নকশা)
----------
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের লটারি-
যদি লাইগ্যা যায়!
---------

আমি নিশ্চিত, শিমুল আর মেহরাবের আরো মনে পড়বে :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬১০(১১৮)    

কতো প্রতিভা ছড়ানো আছে তব বঙদেশে চেয়ে চেয়ে দেখি খালি ।
আফা - এইখানে খালি মুগ্ধতা ছিলো - আপনাদের চাচা চৌধুরীর মতো কম্পুটারে মেমরীর প্রতি - থামলে ভালো লাগে বলার প্রশ্নই উঠে না ।
তয় এর ফাকে ফাকে অনেক কিছু মনে পড়লো ছোট বেলার -
আমি অবশ্য - ৯৫-৯৬ এর পর আর টিভি দেখিনি তেমন একটা ।
এর আগে সবই মনে আছে :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৮২৮(১১৯)    

ঠাট্টাইসিলাম বস :)

সত্যিকারের প্রতিভা শিমুল আর মেহরাবের, আমার মেমোরিতে ঘুণপোকা চাষ শুরু করসে। সামান্য যা মনে আছে তার কারণ প্রথমত জীবনে জেনুইন আনন্দের স্মৃতি খুব বেশি হয়ত নাই, তাই এইরাম তুচ্ছ বিষয়ও মস্তিষ্ক সর্বশক্তি দিয়া আঁকড়ায় ধরে রাখছে। দ্বিতীয়ত নাইন্টিজের শেষদিকে বিজ্ঞাপন নিয়ে একটা সেমি-সিরিয়াস প্রবন্ধ লেখার জন্য কিঞ্চিত সময় আর শ্রম দিসিলাম (কাজটা ফরমায়েশি ছিল, যার বা যে প্রতিষ্ঠানের জন্য, তাদের কাছ থেকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে)।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬১৯(১২০)    

লেমন ডিউ এর জিঙ্গেলটা এরকম

কুল ওয়াটার অল দ্যা টাইম,
ফ্রেশ ফ্রেশ ফ্রেশনেস
লেমন লাইম
ফ্রেশ ফ্রেশ ফ্রেশনেস
এক্সাইটিং আ নিউ
এ গ্রেট গ্রেট ফিলিংস
লেমন ডিউ।
ইটস কুল
ইটস ফ্রেশ লেমন ডিউ।

এরপরে কেয়ার এ্যাডে মৌ একটা করেন কাছাকাছি জিঙ্গেল

স্টার্ট আ ডে উইথ লেমন ফ্রেশনেশ
নাথিং লাইক রিয়েল লেমন ফ্রেশনেস
ফ্রেশনেস দ্যাট গোওস অল ডে লং
কেয়া সুপার লেমন সোপ
ফ্রেশনেস দ্যাট গোওস অল ডে লং।
-------
মেরিল ফ্রেশজেলের এ্যাডে যে মাহীর বউ ছিলো এটা আগে খেয়াল করি নাই। ঐটার ইংলিশ জিঙ্গেল এর কথা ভালো মত মনে নাই। বাঙলা জিঙ্গেল মনে হয় এমন ছিলো

এলাচির অনুভবে
জীবনের সজীবতা
ফ্রেশ ফ্রেশ জেল।
-------
কসকো সাবানকে নিয়ে যতই এখন হাসাহাসি করি না কেন আগি যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন মামার বাড়ি যাইতে চাইতাম এইজন্য যে কসকো সাবান দিয়ে গোসল করা যাবে।
-------
এরিয়েল টুনিটেক ডিটারজেন্ট-- খোকার শার্টের কী অবস্থা!! টেল ময়লা ঝোলের দাগ। বউমা বড় তিনমুঠো পাউডারে চেষ্টা কর। না, মা আমার এরিয়েল টুনিটেক ঠিক সাফ করবে। এ্যাই টুনটুনি প্যাক ধোয়া এবার মাথায় উঠলো।বউমা আরো পাউডার লাগবে । লাগবে না মা।হুম বুঝছি আবার ধুতে হবে !! আমাকেই। (আমার এক পিচ্চি কাজিন আধো আঢো কথা বলে সে এই কথাটা প্রায়ই বলতো)... ... মা দেকেন। ওমা দাগ টাগ কিচ্ছু নাই। আর রঙ গুলোকেমন ঝকমক করছে। আমি তুমি আর টুনি, আর কি চাই!
--------
মিল্লাত ঘামাচি পাউডারের জিঙ্গেল ছিলো এমন
ঘামাচি পাউডার মিল্লাত ঘামাচি পাউডার।
প্রতিদিন শান্তি এনে দেয়,
সুখের পরশ আনে ঘামাচি পাউডার মিল্লাত ঘামাচি পাউডার।

আরেকটা ছিলো মেরিল প্রিকলি হিট পাউডার। ওটার জিঙ্গেল ছিলো

মেরিল প্রিকলি হিট পাউডার
ঘাম আর নয় ঘামাচিও নয়,
মেরিল প্রিকলি হিট পাউডার।

ঘামাচি পাউডার নিয়ে আরেকটা মজার এ্যাড আছে। জেসমিন।

আপনার নাম?
আমার নামে একটা ঘামাচি পাউডার আছে।
জেসমিন!!!
আপনার নিশ্চয়ই ঘামাচি আছে।
ছিলো এখন নেই।

এই এ্যাডের একটা ভার্সন আমি নিজের নামে বানাইছিলাম
আপনার নাম।
আমার নামে রসায়ন দ্বিতীয়তে একটা চাপ্টার আছে।
অ্যামিন!!!
আপনার নিশ্চয় রসায়ন আছে।
ছিলো । ফরল করার পরে এখন নাই। (ফ্লপ জুকস হইলো যদিও তাও বললাম।)
--------
তীর আটা ময়দা সুজির একটা এ্যাড ছিলো যেটায় বাচ্চারা কথা বলে। শেষ ডায়লগ, তীর ছাড়া 'মার চলে না। কনসল মোজার এ্যাডের কথা মনে করে হাস্তে হাস্তে শ্যাষ। সেইরকম এ্যাড।
--------
আরএফ লে, পানি নিয়ে ভাবনা এ্যাডের শুরুতে খুব মজা ছিলো। মাথায় সাবান দিয়ে ঢাকা একজন বাথরুমে চেচাচ্ছেন পানি !!! পানি ! পানি ! পানি
তারপরে জিঙ্গেল শুরু হয়।
--------

এত দামি প্লেট টা ভেঙে ফেললে বউমা শুনেও সেইরকম মজা পেলাম। ওিটায় একটা গান ছিলো।
এই অত্যাধুনিক শরীফের মেলামাইন
দেখতে অপরূপ ভারিও মজবুত
পড়লে ভাঙে না দাগ পড়ে না
রঙ নষ্ট হয় না। শরীফ মেলামাইন।

মধুর সংসার এর জিঙ্গেল টা ছিলো এমন

মধুর সকাল খুশি ভরা দিন, স্বপ্নে ও গানে কত যে রঙিন,
পাতায় ছড়ানো এত হাসি গান, প্রাণের সুবাস আনে প্রিয় নাম।
নিবিড় মধুর সেই সারা দিনমান, শরীফ মেলামাইন সেই প্রিয় নাম।

গান বানানোতে বাংলাদেশ মেলামাইন পিছিয়ে ছিলো না। আইয়ুব বাচ্চুর একটা বিদঘুটে গান ছিলো

নজর কেড়ে নিলো,ও হো হো,
তুমি প্রিয়তমা তুমি অপরূপা,
রা রা রা রা রা রা
হুউ হঊ হুউ
তুমি ছুড়ে দিলে নতুন জীবন ধারা
বাংলাদেশ মেলামাইন।
----------
সাদেক আলী ওরফে সুজা খন্দকারের যদি লাইগ্যা যায় মনে পড়লো। আমি আসলে উনার ফ্যান। এমন ফ্যান যে উনারে প্রায় নকল করতে পারি। তার বিভিন্ন নাটিকা ডায়লগ সহ তার মতো করে বলতে পারি। বন্ধু মহলে এইটা প্রায়ই করতে হয় বলে ডায়লগ ভুলা হয় না। উপরে তো লিখছি একটা তোর বান্ধবীর বাবা আমার লুঙ্গি, বন্ধু পরেই তো যাবো!!

হা হা হা।

আরো আসবে সময় করে!!!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭১২(১২১)    
লেখকের মন্তব্য

৯৪ তে নতুন ক্রেজ হয়ে এল সোহাগ পরিবহন । সম্ভবত ঢাকা-চিটাগাং রুটে তথা বাংলাদেশে প্রথম এসি বাস সার্ভিস। "চার ঘন্টায় চট্টগ্রাম" পৌঁছে দেবার শপথ নিয়ে সম্ভবত সে যাত্রার শুরু (৯৬ তে সাড়ে চারঘন্টায় গেছি , আর এখন কত সময় লাগে বলতে গেলে শুধু বলতে হয় স্মৃতি তুমি বেদানা)। সোহাগ পরিবহনের বিজ্ঞাপনের জিংগেলটা ছিল:

"চলো যাই যাই যাই .............."
----------------------------------------------------------------------

ঢাকা চট্টগ্রাম জার্নির কথা বলতে গিয়ে কোকা-কোলার আরেকটা অ্যাডের কথা মনে পড়ে গেল:

এক ছেলে বাসে উঠে কোকাকোলার বোতল হাতে , পাশে সুন্দরী এক মেয়ে। ছেলের তো উঠেই চরম তৃপ্তি সহকারে কোকে চুমুক দেয় । মেয়ের মনে হয় সহ্য হয় না তাকে রেখে কোকের দিকে এত মনযোগ(এই অংশটা বানোয়াট :) )

মেয়ে হেসে ছেলেকে জিজ্ঞেস করে -- "এই প্রথম?"
ছেলে থতমত খেয়ে বলে -- না , না , কোকা-কোলা আরও কত্ত খেয়েছি
খিলখিলিয়ে হেসে মেয়ে বলে - আমি কক্সবাজারের কথা বলছি :)
-----------------------------------------------------------------

টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনের কথা বলতে গিয়ে পেপসোডেন্টের কথা মনে পড়লো বেশি করে।

--বাবা , বাবা , আমাদের পেপসোডেন্ট । এতে আছে ফ্লু , ফ্লু
- ফ্লুরিয়াম , ফ্লুরাইড এবং ইউরিয়ামের অপূর্ব সমন্বয় । ইউরিয়াম দাঁতকে রাখে উজ্জ্বল , আর ফ্লুরাইড দাঁতের ক্ষয় রোধ করে দাঁতকে রাখে মজবুত (এরপর দাঁতে টোকা দিয়ে টক টক শব্দ)

-দাঁত মেজেছো ?
-- হ্যাঁ, দাঁত উজ্জ্বল রাখে , ক্ষয়রোধ করে । (এবার মেয়ে দাঁতে টোকা দিয়ে টক টক শব্দ করে )

পেপসোডেন্টের সব বিজ্ঞাপনের শেষেই সীলমোহর দেখিয়ে বলা হত --"বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির অনুমোদনপ্রাপ্ত" । আমার মনে হত , লিভার ব্রাদার্সের অন্যান্য টুথপেস্ট (যেমন- ক্লোজ আপ) কি তবে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ?

মজার ব্যাপার পরবর্তীতে প্রমাণিত হল ফ্লুরাইড দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এখন আর কোন বিজ্ঞাপনেই ফ্লুরাইডের কথা তাই শোনা যায় না

--------------------------------------------------------------------
সেই কালের আরেক হিট জিনিস ছিল "আলমের এক নম্বর পচা সাবান"। দেখতে যতটা সম্ভব বদখত , গন্ধটাও সেই রকম বাজে , অথচ কাপড় কাঁচার সাবানের বাজারে পচার আধিপত্য ছিল সবচেয়ে বেশি । আবুল খায়ের এর করা অ্যাডটাও ছিল মজার। মোটামুটি এমন ছিল সেটা:

আবুল খায়ের এক ছোকড়াকে পাঠায়া দোকান থেকে পচা সাবান আনতে

সাবান নিয়ে আসার পর সেটা দেখেই ছেলের কানে সজোরে টান দিয়ে -- "এটাতো নকল"
- তুমি যে কইলা নতুন প্যাকেট
-- নতুন প্যাকেটেও নকল বেরিয়েছে

তারপর দু'হাতে দু'টো প্যাকেট নিয়ে এই হল নকল সাবান , আর এই হল আলম সোপ ফ্যাক্টরির ১ নম্বর পচা সাবান

(ব্যাকগ্রাউন্ডে)(কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে আলম সোপ ফ্যাক্টরির ১ নম্বর পচা সাবান লেখা দেখে কিনবেন)

-------------------------------------------------------------------
এবার একটি ট্রিভিয়া : বিশ্বস্ত সূত্রে খবরপ্রাপ্ত , সেই কালে লম্বা সুন্দর চুলওয়ালী মেয়েদের অনেকেই চুলের সুরক্ষায় পচা সাবান ব্যবহার করতেন । ইদানিং কি তাহলে সবার চুলের অবস্থার এই শোচনীয় দশার পেছনে পচা সাবানের অবলুপ্তিই প্রধান কারণ ? :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩৬(১২২)    

পঁচা সাবানে আবুল খায়ের যে ছেলেটাকে কানে টেনে ধরে বলে, নতুন প্যাকেটেও নকল বেড়িয়েছে সেটা হলো গিটটু খ্যাত সোলায়মান দুলাল। গিটটু নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি গিটটু হিসাবেই খ্যাতি পান।এ্যাডের সাজ পোশাক গিটটুর আদলেই করা।

আরেকয়টা সাবানের এ্যাড হলো ইউরেকার বক মার্কা সাবান। চরিত্রটা এখানে সাইফুদ্দিন অথবা নাজমুল হুদা বাচ্চু। দেখা যায় একজন কাপড় পিটায়তাছে। আর বলে "মনে হয় কাপড়ের সাথে কুস্তি শুরু করছেন।"

সোহাগ পরিবহন কিন্তু আসলেই তুমুল আলোড়ন তুলছিলো। তখন েসি বাসের ব্যাপারে সাধারণ্যে একটা বিস্ময় থাকতো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭১৪(১২৩)    
লেখকের মন্তব্য

আরণ্যক ভাই , আমার নিজের স্মৃতির উপর আমার ভরসা নাই । এখানে যা যা স্মৃতিচারণ তার প্রায় সবক'টাই আমিন অথবা নুশেরা আপু কিংবা অন্য কারও স্মৃতিচারণের সূত্র ধরে মনে করা ।কিন্তু বিজ্ঞাপনগুলোর প্রায় কোনটাই নির্ভূল লিখতে পারছি না, হয় অনেক ভুলভাল লিখছি , অথবা আমিনের সাহায্য নিতে হচ্ছে । ঠিকঠাক মনে না রাখার অবশ্য কারণ আছে , আমি চিরকালীন অভ্যাস মোতাবেক প্রিয় জিনিসগুলিও আলতোভাবে স্কিম থ্রু করি , সেকারণে ঠিকমত ভেতরে গেঁথে যায় না (লোকে যদিও আমার এই কথাগুলি বিশ্বাস করবে বলে ভরসা পাচ্ছি না :) )

তবে আমিন কিংবা নুশেরাপার মেমোরি দেখলে আমি লিটারালি হতচকিত হয়ে বসে থাকি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬০৬(১২৪)    

১৯৯০র বিশ্বকাপের ফুটবলে একটা এ্যাড ছিলো না মেরিল বেবী শ্যাম্পুর-একটা বাচ্চা মেয়ে বলতো, "মেরিল বেবী শ্যাম্পু: চোখে লাগলে চোখ জ্বলে না কান্নাও পায়না"। এই পোস্টের লেখক আর মূল কমেন্টকদের একজন আমিন শিমুল বোধ হয় ঐ বয়সীই (৫/৬) তখন। নাকি এটার কথা অলরেডী কেউ বলে ফেলেছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬১২(১২৫)    

এটার কথা কেউ বলে নি।
ভাইয়া ঠিকই বলেছেন। ওি মেয়েটা আমার বয়সী। সেই ১৯৯০ এ যখন বড় ভাইরা খেলা দেখতো তাদের সাথে আমিও রাত জাগতাম। অল্প অল্প করে খেলা দেখা হতো কিন্তু এ্যাড প্রায় সবই দেখা হতো। মেরিলের সেই বাচ্চা মেয়েটি (আমি নিজেও তখন বাচ্চা) বেশ কোমল অনুভূতির জন্ম দিয়েছিলো।তার ডায়লগ পুরো টা মনে নাই। অল্প অল্প করে মনে আছে। "জাআনোও, মা আমাকে মেরিল বেবী শ্যাম্পু কিনে দিয়েছেন।শুধুমাত্র ছোটদের জন্য। চোখে লাগলে চোখ জ্বলে না। কান্নাও পায় না। কী মঅজাআর মেরিল বেবী শ্যাম্পু আমি ব্যবহার করি।" পরবর্তীতে ওর আরেকটি এ্যাড ছিলো যাতে ও ম্যাডামের ড্রেস পরে স্কুলের ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে , বলতো কিভাবে চুল সুস্থ রাখা যায়। একজন বলে গোসল করলে। ও তখন বলে আরেকজনকে তুমি বলো। সে বলে, মেরিল বেবী শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করলে। ও বলে, ঠিক বলেছ। প্রথম ছাত্র বলে শ্যাম্পু দিলে তো চোখ জ্বলে। দ্বিতীয় ছাত্র বলে, মেরিল বেবী শ্যাম্পু চোখে লাগলে চোখ জ্বলে না। কান্নাও পায় না। ও বলে, চমৎকার।

শ্যাম্পুর কথা যখন আসলো তখন আরেকটা এ্যাড মনে পড়লো। দুই বন্ধু দাবা খেলছে। খেলা শেষ। হারু বন্ধু মাথা চুলকাচ্ছে। আর ওর বন্ধু বলছে, যতই মাথা চুলকাও তোমার রাজা বাঁচাতে পারবে না। আরে ধ্যেৎ মাথা চুলকাচ্ছি কি তোমার চালের ভয়ে? তাহলে ? বোধ হয় খুশকি। ক্লিয়ার ব্যবহার কর। ক্লিয়ার? হ্যা ক্লিয়ার। খুব ভালো শ্যাম্পু খুশকিও দূর করে।

১৯৯০ এর বিশ্বকাপের সময় ইনকিলাব ভবনের একটা বদখত এ্যাড দিতো। জেট এর এ্যাড ছিলো একটা ওিটার জিঙ্গেল আমার খুব ভালো লাগতো
এই উজ্জ্বল দিনভর
যারা চায় জীবন
তাদের প্রয়োজন
জেট গুড়া সাবান।
উজ্জ্বল জীবনের শুভ্র সাথী
জেট গুড়া সাবান।

আরেকটা ইন্সুরেন্সের এ্যাড ছিলো। কিছু লোকদের অব্যাখ্যেয় কর্মকাণ্ড (আমার মনে নাই।) শেষে বলতো "রিলাক্স"

ইন্সুরেন্সের একটা দারুণ এ্যাড ছিলো জীবন বীমা কর্পোরেশন এর। একটা বাচ্চা মেয়ে পড়তে থাকে। লিখে। ক্যালেন্ডার উল্টায়। সে বড় হয় আস্তে আস্তে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় সে ডাক্তাযর হয়ে চিকিৎসা করছে। আধো আধো মনে আছে। নুশেরাপা হয়তো বলতে পারবেন।

আরেকটা মজার এ্যাড ছিলো নারকেল তেলের।
কিশোরীর বেণী চুল, তরুণী এলো চুল, গৃহিণীর খোঁপা চুল নিয়ে।

প্রত্যেকের আলাদা জিঙ্গেল ছিলো। গৃহিনীরটা মনে পড়তেছে। বাকি গুলো আধা আধা।

ছায়া ঘেরা বনানী
আর ঘর ভরা চুল
গৃহিণীর খোপা চুল
সুরভিত ফুল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭১৭(১২৬)    
লেখকের মন্তব্য

বিশ্বকাপ মৌসুমের দু'টো ব্যাংকের অ্যাড খুব দেখাত :

একটা ছিল আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকের । কৃষি , শিক্ষা , কলকারখানা এমন কিছু সেক্টরের কিছু ক্লিপস দেখাত সম্ভবত । ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে ।

অন্যটা ছিল ডাচ-বাংলা ব্যাংক । তখন মোটামুটি অখ্যাত ব্যাংক ছিল । কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে সমান্তরাল তিন রঙা তিনটা লাইন এক্সটেন্ড হতে থাকত । শেষে সম্ভবত বলত -- ডাচ বাংলা ব্যাংক , ইয়োর ট্রাস্টেড পার্টনার।

নাইনটিজে কোমল পানীয়ের বাজারে কোক-পেপসি ছাড়া কেবল আরেকটি কোম্পানী ছিল -- সান ক্রেস্ট, কোম্পানীর মালিক ছিলেন বিকল্প ধারার নেতা মেজর মান্নান । সান ক্রেস্ট কোলা , সাথে ছিল সেভেন-আপ এর মত বাবল-আপ । অবলুপ্তির আগে সানক্রেস্টের শেষ অ্যাডের জিংগেল ছিল -- "যদি বন্ধু হও , হাতটা বাড়াও"

২০০০ সালে ভার্জিনের একটা চরম হৈ-চৈ ওয়ালা বিজ্ঞাপনের সুবাদে ভার্জিন ক্যান সারাদেশে বছরখানেকের জন্য তুমুল ব্যবসা করে (জিনিসটা খেতে যে কত বাজে , সেটা সম্ভবত এরপর মানুষ বুঝতে পারে)।

-----------------------------------------------------------------------
একটি অনুরোধমূলক বিজ্ঞাপন:
মডেল রিয়ার করা "মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলী"র একটি অ্যাড খুব দেখাত । শীতের শুষ্কতায় ঝরে যায় পাতা ফেটে যায় ত্বক -- এরকম কথার কিছু ।

শেষাংশে দেখা যায় -- রাতে আগুন পোহানো অবস্থায় রিয়া ছিন্নমূল একটি শিশুকে ডেকে ত্বকে মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলী মেখে দেয়।

এটার পুরোটা কি কারও মনে আছে ?
----------------------------------------------------------------------

লিপজেল প্রথম বাজারে আনে মেরিল ৯৫ এর দিকে । লিপজেলের এই জিংগেলটা সবার মনে থাকার কথা :

"শীতে ফেটেছে ঠোঁট
হৃদয়ে লেগেছে চোট
সেই ফাটা ঠোঁট দেখে মনে লাগে চোট

আহা..........
শীতের কি দাপট..... "
--------------------------------------------------------------

পেড্রোলোর প্রথম বিজ্ঞাপনটার কথা অনেকেই বলেছে , পুরো জিংগেলটা নেট থেকে সংগৃহীত :

"পানি পানি পানি....
পানি নিয়ে ভাবনা , আর না আর না
পেডরোলো পাম্প আছে আর কি ভাবনা?

ঘর বাড়ি সংসারে পেডরোলো পাম্প
কল-কারখানাতে পেডরোলো পাম্প

মাঠে কৃষি কাজেতে পেডরোলো সাথী হে
ইতালির বিখ্যাত পেডরোলো পাম্প ..............

পেড্রোলো পাম্পের রিমেকে সম্ভবত কুদ্দুস বয়াতী গেয়েছিল ।

বয়াতীর আরেকটা অ্যাডের কথা মনে পড়ল :

"যদি ঘরে থাকে একখান হোসাফ মিটার
বাড়তি বিলের ঝামেলায় পড়বা না ভাই আর"

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭২৬(১২৭)    

ওরে এই পোস্টে আর আসা হয় নাই, এখন তো দেখি কোনো এ্যাডই বাকীনাই
কুদ্দুস বয়াতির কথায় মনে পড়লো সুফিয়া

''বুড়ি হইলাম তর কারণে''
এইটা যেন কিসের এ্যাডে ইউজ হইছিলো। কিসের?
আমীন বই না দেখে উত্তর করুক

--
নুশেরা দেখি টুনিটেক আনছে। মজার কথা মনে পড়লো
আমার এক চাচা ঐ সময় চাচীকে ডাকতো টুনিটেক হা হা আজকে টুনিটেক কে ফুনাইতে হবে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩১(১২৮)    

জলাপু কি আমারে পরীক্ষায় ফেললেন?? কাঙালিনী সুফিয়ার ঐ গান ইউস হইছিলো ছেলে মেয়ে মজুরির একটি শিক্ষামূলক নাটিকায়। নাম ছিলো মজুরি। শুরুতে ছিলো গান "পরানের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে/ কত কষ্ট কইরা আমি , কামাই রোজগার করে আনি/ মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/তবু দুঃখ গেলো না রে/বুড়ি হইলাম তোর কারণে।/ কোদালে কাটিয়া মাটি/ হাতুর দিয়া পাথর ভাঙি/মাথার ঘাম পায়ে ফেলি/ তবু তোর মন পাইলাম নারে / বুড়ি হইলাম তোর কারণে।"
তার পরের দৃশ্য দেখা যায় মালিক বসে আছে। লাইনে শ্রমিকরা ডাঁড়িয়ে । ডাকে আবুল হোসেন ( নামগুলো ঠিক খেয়াল নাই)। "তোমার তিনদিন ৩ পঞ্চাশে একশত পঞ্চাশ।
আইচ্ছা।
তারপরে আরেকজনকে ডাকে ।বলে,
তোমার তিনদিন । তিন পঞ্চাশে দেড়শো।
তারপরে একটা মেয়েকে দাকে ডাকে। বলে "আসছো। তোমার তিনদিন । তিন তিরিশে নব্বই।"
সবাই সমান সমান কাম করলাম আমার ষাইট টাকা কম কেন?
মাইনা মাইনষের মজুরির কমই হয়।
তারপরে মেয়েটা টাকা হাতে নেয় আর নিয়ে বলে এইটা আবার কোন বিচার ??

মোটামুটি এটুকুই।
আমি আসলে এই জাতীয় নাটিকাগুলোর খুব ফ্যান ছিলাম, যেমন মামুনুর রশীদ শীলার স্কুল নিয়া, আবুল খায়ের কবিরাজের গাছ নিয়ে, সাদেক আলীর মাছ গাছ এইগুলার ডায়লগ টু ডায়লগ অভিনয় করে বলতে পারি। কিন্তু আপনাদের ধৈর্যচ্যুতির ভয়ে বলি না। এইটা লিখে মজা পাইলাম। D D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩২(১২৯)    
লেখকের মন্তব্য

জলাপা , আমিনের জন্য এটা জলবৎ তরলং ।

আমি বরং বলে দিই । ওটা একটা সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের ছিল , মেয়েমানুষের মজুরি নিয়ে ।

সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে আরেকটা পোস্ট হতে পারে , ওটা আরও মজার হবে। লোকজন মাইর দিতে পারে বলে আর সাহস পাচ্ছি না

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩৩(১৩০)    

এইবেলা আর অবাক হই নাই মাথার ভেতরে কি আছে তোমাদের কে জানে!!!
@ মেহরাব ডরের কি আছে । দিয়ে দেন ঐটাও

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩৫(১৩১)    

শিমুল তোমার সাথে কখনো দেখা হইলে একটুস অভিনয়ও দেখার ইচ্ছা থাকলো
বেশ কয়টা এ্যাড দেখা যাইতে পারে, কি কও?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৪১(১৩২)    

হা হা হা। এ্যাড না, সাদেক আলী আবুল খায়ের মামুনুর রশীদ দের নাটিকা দেখাইতে পারতাম। এইটা নিয়ে মজার কাহিনী বলি। আমি তখন বুয়েটের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। তখন মনের মাঝে তুমি সিনেমাটা বেশ হিট। আমরা চারপাঁচ জন বন্ধু মিলে সিনেমা দেখে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে আড্ডা দিতে বসলাম। সেইখানে আমরা বিভিন্ন এ্যাডের জিঙ্গেল নাটিকার ডায়লাগ এইসব নিয়া জমাইতেসিলাম। তার মাঝে আমার বন্ধুরা এই সব আকাইমা ব্যাপারে আমার অস্বাভাবিক স্মৃতি দেখে খুব মজা পাইয়া যায়। পরে বুয়েট লাইফে অনেক বন্ধুদের সাথে অনেক জায়গাতেই সাদেক আলী কিংবা কবিরাজ সেজে জমাইতে হইছে। তবে এই জিনিসগুলো মূলত একেবারেই বন্ধুদের আড্ডার আসরের জন্য বরাদ্দ থাকতো। তবে আমার বন্ধুদের জন্যই এই জঞ্জালগুলো মাথা থেকে হারিয়ে যায়নি কখনোই।

ঢোল যখন পিটাইলাম আরেকটু পিটাই। আমার এক বন্ধু ছিলো বুয়েটে সুস্মিতা। আমার মোটামুটি ভালো বন্ধু। ও জানতো আমার মেমরি বেশ ভালো।একদিন বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে ওর রুমমেট বড় আপুর সাথে পরিচয় হলো। সুস ওর আপুরে বেশ গর্ব করে বলল, আপু আমিনের স্মৃতি খুব ভালো। ছোটবেলায় পড়া কবিতা গান এসব সব ওর মনে আছে। আমি প্রমাদ গুণনাল। ইত্যাদির স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানদের মতো মনে হচ্ছিলো নিজেকে। তার সাথে ভাবছিলাম আপু আমাকে আটকানোর জন্য ভয়ঙ্কর কিছু জিজ্ঞেস করলে আমার আর সুস দুইজনেরই প্রেস্টিজ নাই। আপু আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললো, কা্লাশ টুতে আমরা একটা গল্প পড়েছিলাম, ফল বিষয়ক। ঐখানে একটা ফলের ছড়া ছিলো বলতে পারো!! সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য ক্রমে সেটা মনে ছিলো আর তাই ঐ বেলায় শুধু প্রেস্টিজই বাঁচেনি বরং বড় আপুর কাছ থেকে বেশ পয়েন্ট জুটছিল।
আজকে হঠাৎ করেই সেইসব কথা মনে পরে গেল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩৪(১৩৩)    

মেহরাব কুদ্ডুস বয়াতির হোসাফ মিটারের পুরা জিঙ্গেল এইরকম,
জ্রিজ চালাও বাত্তি চালাও
ঘুরাও রেগুলেটর
বাড়তি বিলের ঝামেলায় পড়বা না ভাই আর
যদি ঘরে থাকে একখান হোসাফ মিটার।

ভালো কথা লিপজেলের এ্যাডের সাথে চুম্বন বিষয়ক রোমান্টিসিজমে দুষ্টু ছেলেরা ভুগতো। ঐটার ডায়লগ ছিলো এমন,
কি রে বিজয় সুন্দরী যে কিছুই বলছে না?
কী করে বলবে
শীতে যে ফেটেছে ঠোঁট।

শীতে ফেটেছে ঠোঁট
হৃদয়ে লেগেছে চোট
সেই ফাটা ঠোঁট দেখে মনে লাগে চোট

আহা শীতের কি দাপট।

এরকম আরেকটা জিঙ্গেল হলো,

বর্ষায় পরিচয় শীতে হলো বিয়ে
এই ফাটা ঠোঁট নিয়ে
ভালোবাসি কী দিয়ে

এই লিরিক আমাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলো।

পেডরোলো এ্যাডে "পেডরোলো সাথী হে" এটা বলতো নাটকে ভিলেন পার্ট করে একজন লোক। মাথায় টাক গোঁফওয়ালা। তার কোন একটা নাটকে ডায়লগ ছিলো "খেলা ফাইনাল ।" ওর নামটা মনে পড়ছে না।

রিয়ার এ্যাডটা মনে করতে পারলাম না।
নুশেরাপার কোর্টে বল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩৮(১৩৪)    

গুরু-মানি-ওস্তাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৮৩৬(১৩৫)    

রিয়ার এ্যাডটা মনে করতে পারলাম না। নুশেরাপার কোর্টে বল।

মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলির অ্যাডটা যখন বানানো হয় তখন রিয়া বেশ ছোট, ক্লাস সেভেনের ছাত্রী। শুরুর দৃশ্যটা কুয়াশা-কুয়াশা, তার মধ্যে বাঁশের সাঁকোর উপর লাফিয়ে লাফিয়ে রিয়া আসছে, পিছনে সাইকেল কাঁধে ছেলেটা। ওরা ক্যাম্পিংয়ে আসছে এমন থিম; পিছনে ঝাপসা দৃশ্যে ইয়ট অথবা টু-সিটার প্লেন। ক্যাম্পফায়ার করে রুপচাঁদা মাছ ঝলসানোও দেখাত। প্রথম দৃশ্যে রিয়া লংস্কার্ট পরা, সাদার উপর প্রিন্টেড আর বেগুনী টপ। আবার জিন্সের সাথে সাদা-বেগুনী-ম্যাজেন্টা কম্বিনেশনের একটা পুলোভার।

যাই হোক, এই বিজ্ঞাপনের উছিলায় কোর্টে বল যখন আছেই, আরেকটু খেলি। ওষুধের বাইরে স্কয়ার ফার্মার প্রথম প্রোডাক্ট হিসেবে আসে মেরিল ভেসলিন (মোড়কের ছবি একই রেখে পরে নাম পাল্টে পেট্রোলিয়াম জেলি হয়), প্রথম অ্যাড ৮৯-৯০ মৌসুমে আসে। মডেল কে? শাড়িপরা সদ্যতরুণী শারমিন লাকি! হাতে অ্যাম্ব্রয়ডারির রিং, সাদা কাপড়ে নীল অপরাজিতা আর প্রজাপতির নকশা বরাবর সুঁইসুতায় ফোঁড় তুলছেন। বিজ্ঞাপনের শেষ দৃশ্যে কাপড়ের সেই নকশাটা কৌটার ছবি হয়ে যায়। এই বিজ্ঞাপন করার প্রায় দেড় দশক পার করে শারমিন লাকি আবার টিভিতে ফেরেন সিদ্দিকা কবীরস রেসিপিতে।
=====================
মজার কথা মনে পড়ল, হেনোলাক্সের কোম্পানির নাম ছিল আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং ;)
একটা গান- দিনে দিনে সুন্দর আরো সুন্দর, আরো সুন্দর তুমি আরো সুন্দর, সুরভিত দিনভর কোমল ছোঁয়ায়...
=====================
নাইন্টিজে ক্লোজআপ টুথপেস্টের অ্যাডের কমন থিম ছিল সকালে ঘুম থেকে উঠে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তরুণ, গায়েবি আওয়াজ সহকারে পেস্ট নাজিল ("কী আরিফ, ..."), তারপর স্ট্রিট কনসার্টে একজোড়া ছেলেমেয়ের লাফাঝাঁপা নৃত্যগীত। একটা অ্যাড করেছিল হুমায়ূনকন্যা শীলা। আরেকটাতে পার্থ বড়ুয়া-মাহবুবা সুমী।
=====================
ল্যাবএইডের হাবিব-অপুর্ব কম্বিনেশনের বিজ্ঞাপনের আগ পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিকের অ্যাড তেমন সুবিধার ছিল না। কমপ্যাথ, পপুলার, ইবনে সিনা এইসব ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। একটা জিঙ্গেল মনে পড়ে, মিড নাইন্টিজে মেডিনোভা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চালু করার পর- “সময়ের সাথে সাথে মেডিনোভা-আ-আ-হা”
======================
গায়ক মাকসুদের (ফিডব্যাক) মেলায় যাইরে ব্যবহৃত হয় কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে। এছাড়া লরেট বেবি পাউডারের বিজ্ঞাপনের গানও করেছিলেন তিনি। ওটার থিম ছিল হ্যামেলিনের বাঁশিঅলা। বিশ্বকাপ ফুটবল ৯৪ আমলের অ্যাড।
======================
নাইন্টিজে আলআমিন, নাবিস্কো আর বেঙ্গল বিস্কুটের অ্যাড চলত বেশি। তানিয়া নোবেল সহ তরুণদের করা নাবিস্কো লেমন ক্রিমের অ্যাডটটা সুন্দর ছিল (আমাদের ভাললাগা ভালবাসা আহাহা হাহাহাহা নাবিস্কো লেমন ক্রিম) :)
======================
প্লাস্টিকের চেয়ারের অ্যাড নাইন্টিজে দেখাত তানিন- দেখুন মানায় চমৎকার, তানিন বেস্টওয়্যার ফার্নিচার। মডেল কান্তম হাসান।
======================
এত কষ্ট জীবন নষ্ট-- কীসের যেন বিজ্ঞাপনটা???
======================
ম্যাজিক টাচ লিপস্টিক আর নেইলপলিশের অ্যাড সুন্দর ছিল। থিমটা এমন, স্ট্র দিয়ে জুস টানতে টানতে, একটা গোলাপ ছুঁইয়ে দিতে দিতে... ... ঠোঁটে রঙ এসে গেল। ফাইজার বন্ধ হয়ে গেলে ওগুলো আর দেখাত না।
======================
দৈনিক পত্রিকার বিজ্ঞাপনে আজকের কাগজ দেখাত- আমাদের হাত বাঁধা নেই, আমাদের চোখ খোলা, আমরা বলতে পারি। আ-কা ভেঙে ভো-কা হলো, "মুক্ত চিন্তার দৈনিক, ভোরের কাগজ", তারপর দশকের শেষদিকে মুক্তকণ্ঠ, যুগান্তর, প্রথম আলো...
======================
নাইন্টিজে বাংলা সিনেমার বিজ্ঞাপনে মান্না-চম্পার প্রাধান্য ছিল। "বিকেডি-র পাষাণ", কাজী হায়াতের দেশপ্রেমিক, দারাশিকো পরিচালিত অঞ্জলি।
======================
সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারে বালিকা চাঁদনীকে (এখনকার মিসেস বাপ্পা মজুমদার) মনে পড়ে না? দাদাজানকে নিয়ে ঠাট্টা, “ঐ ঘরে নাকি তার দম বন্ধ হইয়া আসে...!”
কুদ্দুস বয়াতীর "এই দিন দিন নয়" তো সুপারহিট।
মনিরুল ইসলাম বাদলের দিক থেকে ক্যামেরার দিকে মুখ ঘুরিয়ে কাঙালিনী সুফিয়ার "এইডা আবার কোন্ বিচার"-এর লুকটা আজীবন মনে থাকবে।
নাজমা আনোয়ারের "মানুষই তো জজ-ব্যারিস্টার হয়, গরু ছাগল তো হয় না",
ভাত দিতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীকে (শান্তা ইসলাম?) তারিক আনাম খানের তিন তালাক...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৭৩(১৩৬)    

এত কষ্ট জীবন নষ্ট--

mone hoy kapor kachar saban/powderer

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৪৪৩৯(১৩৭)    
লেখকের মন্তব্য

গ্লাভস অফ আপু , ঠান্ডায় গ্লাভস পড়ে ছিলাম । আরও দু'চার ফোঁটা যোগ করি ।

কিছু বিজ্ঞাপন ছিল বছরকে স্বাক্ষী মানত :
যেমন --
তিব্বত কদুর তেল: চল্লিশ বছর ধরে মাখছি , মাথা ঠান্ডা রেখে আজও কাজ করছি ।
রক্সি পেইন্ট : সেই ১৯৫৩ সাল থেকে ..........
রুহ আফজা : ৯০ বছর ধরে উপমহাদেশের ঘরে ঘরে রুহ আফজা সুস্বাদু পানীয় হিসেবে খুবই জনপ্রিয় .........

মডেল চৈতির স্বল্প পরিসরের ক্যারিয়ারের অ্যাডগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল :

শিমুলের সাথে চৈতির করা বার্জারের অ্যাডের কথাগুলো ভাল করে মনে নেই , কিন্তু কি দেখাত মনে আছে ।
-বসার ঘরটা গোলাপী হবে
- শোয়ার ঘরটা নীল

শাব্বিরের সাথে চৈতির করা জুয়েলার্সের অ্যাডের সেই জিংগেল --

মাই প্রিটি গার্ল
প্রিটি গার্ল , ও প্রিটি গার্ল

...............................................................
ফ্রিজের বিজ্ঞাপনের বান ডেকেছিল একটা সময় :

স্যানিও , অ্যারিস্টোন , সিংগার , মিলিংস্টোন

অভিনেতা আব্দুল কাদেরের করা অ্যাডটা ছিল সম্ভবত
- অনেক খাবার , বিরাট আয়োজন !
-- নেই চিন্তা , আছে মিলিংস্টোন
......................................................
বোম্বে সুইটসের পটেটো স্টিকস: একা একা খেতে চাও , দরজা বন্ধ করে খাও

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৬৮৫(১৩৮)    

আচ্ছা মেহরাব ভাই, সবার মন্তব্যের উত্তর দিলেন, আমারটাই দিলেন না! বাচাল বলে আমাকে এই অপমান? হাতপা ছড়িয়ে কান্না
---

কমেন্টের মহাপ্লাবন এখানে, তাই জানিনা ওই এডটার কথা এসেছে কিনা! '৯৪বিশ্বকাপেরর সময় বোধহয় প্রথম প্রচারিত হয়।

পানি নিয়ে ভাবনা আর না আর না
পেডরোলো পাম্প আছে আর নেই/কি ভাবনা!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৭৩০(১৩৯)    
লেখকের মন্তব্য

সত্যিই দুঃখিত ভাই , প্লাবনের মাঝে হারিয়ে ফেলেছিলাম । তবে স্বস্তি লাগছে এই ভেবে যে আপনার এই কমেন্টটা দেখার আগেই আপনার পুরনো কমেন্টের রিপ্লাই দিয়ে ফেলেছি :)

আচ্ছা , একটা বিজ্ঞাপনের কথাও মনে পড়লো , বলে ফেলি। জাহিদ হাসান সিগারেটের একটা বিজ্ঞাপন করে মারাত্মক পচানি খেয়েছিলেন , সেটা মনে করতে পারেন ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৫৭(১৪০)    

এহ্ হে,এটিএন বাংলা শুরুই হয়েছিল নাসির গোল্ড আর নেভি সিগারেটের বিশ্রী সব বিজ্ঞাপনে ভর করে। শুধু জাহিদ হাসান কেন, এখনকার "চুজি" অভিনেত্রী জয়া আহসান যে ধরণের পোশাক আর ভঙ্গিতে নেভি সিগারেটের মডেল হয়েছিলেন, সেটা দেখলে তার ভক্তরা আহত বোধ করবে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৪৪৩৬(১৪১)    
লেখকের মন্তব্য

এটিএন বাংলা চ্যানেলটির পুরনো ইতিহাস হয়ত অনেকেরই অজানা । ৯৯ কি ২০০০ এ বাংলাদেশ জুড়ে চলছে রুপালী পর্দার অশ্লীলতা । ছোটপর্দায় সে অশ্লীলতার ঝান্ডা সেসময় বহন করছিলেন মাহফুজুর রহমান গং। রাত একটু বাড়লেই শুরু হত অসংখ্য কুরুচিকর বিজ্ঞাপন (যেগুলোকে আমি বিজ্ঞাপন ইতিহাসের কাটপিস বলব)। সেসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগই হত সিগারেটের। বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে চলত একই রকম অশ্লীলতায় ভরপুর সিনেমা । ছোট ছিলাম বলে দু'একবার টিভি অন করে বাবার ভয়ে টিভি অফ করে সটকে পড়তাম।

জয়া আহসানের সে অ্যাডটা সেসময় খুব আলোড়ন তুলেছিল । মিডিয়াতে সামান্য প্রতিষ্ঠা পেতে শিল্পীরা কতটা নিচে নামতে পারে তার ভাল উদাহরণ ছিল সম্ভবত সেটি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৯৩৬(১৪২)    

হু, মনে আছে। সিগারেটের নামটা কী ছিলো? এশিয়ান সিগ্রেট? |

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৪৪৩৭(১৪৩)    
লেখকের মন্তব্য

হ্যাঁ , ঠিক ধরেছেন :)। জাহিদের আলিঙ্গনের দৃশ্যটা সম্ভবত সেসময়কার প্রেক্ষিতে তার সমালোচিত হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল

ফ্রেন্ডস নামে আরেকটা সিগ্রেটের বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ছে । দু'দল ষন্ডা-পান্ডার মাঝে মারামারি , ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া । মিটমাট করতে আসে সুন্দরী এক তরুণী । ব্যাটলফিল্ডে ঠিক মাঝে দাঁড়িয়ে কয়েক কার্টন সিগ্রেটের বিস্ফোরণ ঘটায় সে । তারপর বিস্ফোরিত শলাকাগুলি আকাশ বরাবার উড়ে গিয়ে খাড়াভাবে নিচে নেমে এসে প্রত্যেক যুবকের ঠোঁটে একটি করে স্থান করে নেয় । ব্যাস , হয়ে গেল দু'দলের ফ্রেন্ডশীপ ।

গাঁজার দাম সম্ভবত অনেক কমে গিয়েছিল সে সময় :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৮৪৯(১৪৪)    

নুশেরাবু, আমিন শিপু আপা আর ফারহান দাউদ-------মানুষরে একদম কোনোরকম কমার্সিয়াল ব্রেক (!!!) ছাড়াই বিজ্ঞাপন দেখাইতে পেট মোটা টিভি'র সাম্নে গ্লু দিয়া বসাই দিছেন!!
নুশেরাপুর মাথায় বাউন্টি অলরেডী অনেক বেশি।
আমিন শিমুল সেইরকম পরিচিত হয়ে যাবার আগেই আমি বেচুম!
আর ফারহান দাউদের টা নিলামে তুলুম!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২০৯৯৬৯(১৪৫)    
লেখকের মন্তব্য

শাওন ভাই , ফারহান ভাই কে নিলামে তোলার নিন্দা জানাই । একবারও সে এই পোস্টে আসল না :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩০৮(১৪৬)    

খাইছে আমি তো মিলেনিয়াম ভুল করে ফেলছি!!!
বরাবর কানু গ্রুপ (কাক্না-নুশেরাপু) আসলেই আমার কথা বার্তা উল্টে যায়!!
কান ধরছি ভাই, মাফ চাই!! এমন ভুল দেখলে মানুষ মনে করবো তরল পানীয় খাইছি!!
থুক্কু দিয়া গেলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৮৩(১৪৭)    

ফারহান তবু সহ্য করা গেছে, কাক্না আসলো কৈত্থিকা! (কয় কী)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৪৪৬(১৪৮)    

বিষয়টা হৈলো, কাক্না নাই, কিন্তু গ্রুপ সদস্য তো আছে, সেই লিজেন্ড (আরবান লিজেন্ডের মত!)।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৮০(১৪৯)    

এপিক ফেইল -- স্ক্রিনশট শিকারীরা কুথায় চান্দিছিলা আহা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৮৬(১৫০)    

এই পোস্টে/পোস্টের কমেন্টে আসে নাই এমন কোন এ্যাড কি বিটিভিতে দেখাত?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১০৩৯০(১৫১)    

নিপপন টিভির একটা এ্যাড ছিলো বেশ ফেভারিট!!
নিপপন হাজির !!!

আরো অনেক এ্যাডই আছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১১০৭২(১৫২)    

মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে মাথাঘুরেঘুরে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৩৭৪০(১৫৩)    
লেখকের মন্তব্য

মাথা ঘোরা নিয়েও অনেকগুলো বিজ্ঞাপন ছিল :)

মজা করলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১১৯৯৬(১৫৪)    

আমিন, মেহরাব, অনেকদিন পরে এই পোস্টটা পড়লাম। দারুন লাগল। ব্লগে আসা হ্য় না। না হলে কিছু আ্যড করতে পারতাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১২০০১(১৫৫)    

আমিন আর মেহরাব, ব্লগে থাকিনা দেখে এই বিশাল মজা মিস করলাম। অনেক দিন পরে এই পোস্ট পড়লাম। দারুন। আমিও কিছু যোগ করতে পারতাম। অনেক ভাল লাগল।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১২০১১(১৫৬)    

(সাতে সাত)
আমিন,মেহরাব। মিস করে গেছি এই পোস্ট। আর ব্লগে নাই তাই কমেন্ট ও করা হয় না। আমি থাকলে আরও কিছু যোগ করতে পারতাম বোধহয়। অসাধারণ লাগল। তোদের দুইজনের মেমোরী নিয়ে কিছু বলার নাই। মানুষ পারে কীভাবে?? আবারও ধন্যবাদ এমন পোস্টএর জন্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৩৭৪২(১৫৭)    
লেখকের মন্তব্য

রানা , এই পোস্টে তোমারও ব্যাপক অবদান আছে । আমার আবছা মনে থাকা , কিংবা ভুলভাল জিংগেল গুলির বেশ কিছু কারেকশন এসেছে তোমার পক্ষ থেকে

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১২০৭৮(১৫৮)    

মাথাঘুরেঘুরে ব্যাপক গবেষণা!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৩৭৪৪(১৫৯)    
লেখকের মন্তব্য

আসলেই , আমার এক দোস্ত বলল যে একটু নাকি বাড়াবাড়িই হয়ে গেছে ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৪৪৪৫(১৬০)    

ঠিক করেছিলাম শুধু মাত্র আপডেট দেখে চলে যাবো, এই সকাল বেলায়।
ইদানিং ফেসবুক বাদ দিয়ে চতুরের চত্বরে ঢু মারার নেশাটা বেড়েই চলেছে।
(যদিও ফেসবুক দেখি আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবের খবর নিতেই)।
এই পোস্টটাতে যা দেখলাম...! ফিরে গেলাম সোনালী সেই সরল দিনে। পুরোটা দেখলে আজকে আর কাজ করা লাগবেনা, নস্টালজিক হয়ে কেটে যাবে সারা দিন। একটু যা দেখলাম তাতে সবাইকে, এই ব্লগের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি মনের মুকুরের দিন গুলোকে আবার চোখের সামনে নিয়ে আসার জন্য। আরও একটা বিষয় ভেবে খুব ভালো লাগছে, এই বিরল অ্যাড গুলো ‘এখন ইউ টিউবেও পাওয়া যায়’। যারা আপলোড করেছেন, অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই তাদের... পোস্টটা দেখে বিটিভির আরও দুইটা অনুষ্ঠানের কথা মনে পড়লো। ‘হিরামন’ আর ‘বিশ্ব নাটক’... কারো কাছে থাকলে কিছু ক্লিপ দিয়েন... শুভেচ্ছা সবাইকে...

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২১৪৫০৩(১৬১)    

বাব্বাহ! এত মনে রাখতে পারে এরা!!!
সেই যে "এক সাবানে কাপড় কাঁচা, সেই সাবানে গোসল"! আর "তারপর দিলাম ঘুটা" --- যেটাতে আসাদুজ্জামান নূরের স্থায়ী ঠিকানা ছিল টয়লেট??
এই প্রচেষ্টা খুব ভালো লাগলো। সময় নিয়ে পড়বো বলে ফেলে রেখে পড়তে অনেক দেরী হলো। নিজের কাজেই খারাপ লাগছে সে জন্য।
সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ভাই মেহরাব শাহরিয়ার।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২২৫২০৯(১৬২)    

ভাবা যায় এই পোস্টে রেটিং দেয়া হয়নাই। ৭ এর কম কিছুতেই না।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৮৪৬(১৬৩)    

ভাল লাগলো লেখা বিজ্ঞাপনী বার্তা

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
4 + 4 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।