শাপলা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তার আগে আসুন জেনে নেই, ২০০৫ এর ১ জানুয়ারি থেকে ২০০১১ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে domestic violence এর শিকার নারীদের একটা পরিসংখ্যান। মোট ১২৫৭ জন নারী খুন হয়েছেন, ৩৪৮ জন হয়েছেন নির্যাতনের শিকার। ২৪৩ জন যৌতুক সংক্রান্ত কারণে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্ম হত্যা করেছেন। ৫৬২ জন হয়েছেন এসিড নিক্ষেপের শিকার। ১৮৭৬ জন মহিলা ১৫৯৮ মেয়ে শিশু হয়েছেন ধর্ষনের শিকার। ২১৬ জন মেয়ে শিশু দীর্ঘ সময় ধরে যৌন কাজে নিযুক্ত থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্ব জুড়েই নারীরা কম বেশি এহেন violence এর শিকার। তাই বিশ্ব জুড়েই চলছে এগুলকে থামানোর চেষ্টা। তার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘে গঠিত হয়েছে , the committee for the elimination of all forms of discrimination against women (CEDAW).
সেটা নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে দেশের বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তারা (CEDAW) এর আলোকে বাংলাদেশ সরকার কে বাধ্য করছে নারীর পক্ষের আইন গুলোকে শক্ত করতে। কারণ বাংলাদেশের আইন বা পারিবারিক আইন কোনটাই পরিবার এবং রাষ্ট্রে নারীর সমতার কথা বলে না।
(CEDAW, General Recommendation 19, para 7) এ অনেক গুলো অধিকারের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,
(a) The right to life;
(b) The right not to be subject to torture or to cruel, inhuman or degrading treatment or punishment;
(e) The right to equal protection under the law;
(f) The right to equality in the family;
(g) The right to the highest standard attainable of physical and mental health;
CEDAW আরও বলছে, " By ratifying CEDAW the government undertakes to implement its provisions. ArticleTwo on State obligations states that “ State parties condemn discrimination against women in all its forms, agree to pursue by all appropriate means and without delay a policy of eliminating discrimination against women”. This includes abolishing all existing laws, customs and regulations that are discriminatory, establishing legal protection for women’s rights, and taking “appropriate measures to eliminate discrimination against women by any person, organisation or enterprise.
The Government of Bangladesh has the responsibility to enforce and ensure the implementation of the rights mentioned in the CEDAW Convention. For example, under article 2 (e)
The Convention calls on States parties to take all appropriate measures to eliminate discrimination against women by any person, organisation or enterprise. Under general international law and specific human rights covenants, States may also be responsible for private acts if they fail to act with due diligence to prevent violations of rights or to investigate and punish acts of violence, and for providing compensation (CEDAW GR
19, para 8, 9)."
তার মানে দাঁড়ালো প্রত্যেকটা নারীরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে, চাইলেই যখন তখন তাকে নির্যাতন করা যাবে না, তার সাথে নিষ্ঠুরতম আচরণ করা যাবে না। সেও সমাজের আইনের সকল সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখে। বাংলাদেশ যেহেতু CEDAW এর সদস্য সেহেতু বাংলাদেশ সরকারেরও দায়িত্ব যে সব আইনগুলো নারীর নিরাপত্তা রক্ষার পরিপন্থী সেই আইন গুলো সংষ্কার করা, যাতে সমাজে নারীর সমতা ফিরে আসে এবং নারী প্রয়োজনে সবরকম নিরাপত্তা পায়।
বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা
বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের শেকড় প্রোত্থিত আছে দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার(power and control) মধ্যে। সমাজের সকল স্তরে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই সৃষ্টি করে সামাজিক অব্যবস্থাপনা (ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারীকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা)এবং এই অব্যবস্থপনাই উদ্বুদ্ধ করে নারি নির্যাতন বিষয়টিকে।
তাছাড়াও তাৎক্ষণিক যে বিষয়গুলো একজন পুরুষকে নারী নির্যাতন করতে উদ্বুদ্ধ করে, সে গুলোর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রের নড়বড়ে বিচার ব্যবস্থা। সব সময়ই দূর্বল বিচার ব্যবস্থা হেরে যায়, পুরুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তির কাছে। রাষ্ট্র কর্তৃক প্রাপ্ত দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রণ য়ন/প্রয়োগ কারি সংস্থার দূর্বলতা ও দূর্নীতি (পুলিশের কাষ্টডিতে নারীরা নির্যাতিতা হন অনেক বেশী) এবং একজন নারীকে শুধু তার শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্য দেখে তাকে বিচার করার প্রবণতা থেকেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতিত হন,আক্রমণের সময় আত্মরক্ষা করতে পারেন না বলে এবং সর্বোপরি সে সব নারীই বেশী নির্যাতিত হন, যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নন। গ্রাম পর্যায়ে টাকা-পয়সার অভাবে নির্যাতিতা নারী বিনামূল্যে বিচার-শালিস মেনে নিতে গিয়ে হন community violence(ফতোয়া, শালিশ, দোররা) এর শিকার। গ্রাম পর্যায়ের নারীরা যে সব কারণে পারিবারিক আদালতে যান না, তার একটা অন্যতম কারণ অর্থের অভাব। আর শহুরে স্বচ্ছল নারীরা আদালত পর্যন্ত যান না, তার একটা অন্যতম কারণ লোক-লজ্জার ভয়।
বিচার না পাবার ভয়ে, প্রভাবশলীদের দ্বারা পুণরায় ক্ষতিগ্রস্ত হবার ভয়ে, সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ, ধর্মিয় গোঁড়ামির ও ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মহিলারা চেপে যান পারিবারিক নির্যাতনের কথা। ধারণা করা হয়, ৭০% ভাগ নারী যেখানে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন, সেখানে খুব বড়জোর ১৫% বাধ্য হয়ে প্রকাশ করেন তাদের প্রতি নির্যাতনের কথা।
ধর্মীয় গোঁড়ামি নিয়ে মজার একটা তথ্য হ ল, " Many believe that this right to be grounded in religious doctrine and some had heard that, according to Islamic texts, the parts of their bodies beaten by their
husbands would go to heaven" (Schuler, Hashemi and Riley, 1997).
আর ঠিক এসব কারণেই নির্যাতনকারীরা বার বার পার পেয়ে যায়। কখনও কখনও ধরা পড়লেও, রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে, অথবা আইনের ফাঁক গলে, কিম্বা নির্যাতিতা মেয়েরা আইনের সাহায্য না নেবার কারণে, এইসব পাষণ্ডরা ছাড়া পেয়ে যায়, সুযোগ পেলে একই অন্যায় প্রকাশ্যে বার বার করতে থাকে।
গাল ভরা বুলি,
বাংলা দেশে কি কি আছে?
আছেন সরকার, আছেন প্রধান মন্ত্রী(তিনি প্রয়োজনে তাতক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন)।আছে প্রশাসন, আছে পুলিশ প্রশাসন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আছে বিশেষ DB. আছে বিচার বিভাগ।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্র কর্তৃক আছে, “central cell on prevention of violence against women and children.” এগুলোর বিভিন্ন cell এবং ইউনিট আছে জেলা, থানা এবং ইউনিয়ন প র্যায়ে। আছে পারিবারিক আদালত।
আছে পুরো দেশ জুড়ে, ৬ টি one of crisis centre (OCC) women support center (WSC) safe custody home (SCH)
আর আছে দেশ জুড়ে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যারা নারীর অধিকার এবং সমাজে নারী-পুরুষের সমতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সত্যিই নিরলস কাজ করে নারী অধিকার রক্ষার আন্দোলকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। (এদের কথা বাদ দিয়ে, এগুলো বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। এদের আর ক্ষমতাই কতটুকু?)
এতসব কিছু থেকেও এদেশে কিছুই নেই, সবই এখন ফাঁকাবুলির মত। রাষ্ট্র যন্ত্রের কোন অংশই নির্যাতিতার পক্ষে তেমন কোন কাজে আসে না। পক্ষান্তরে, এসব প্রতিষ্ঠান গুলো শুধুই নির্যাতনকারীকে সাহস যোগায়, উদ্বুদ্ধ করে প্রকাশ্যে নির্যাতন করতে।
নারীর অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যে সব আইন বাংলাদেশ সরকারের আছে, তাও যথেষ্ট ও সময়োপযোগী নয় কোনভাবেই এবং যাও বা আছে উপরিল্লিখিত কারণে তার (আইনের) প্রয়োগ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নেই।
নারীর সমতার প্রতি মানুষের অসচেতনতা এবং বৈরী মনোভাবও নির্যাতনকারীকে সাহস যোগায়।
নারীর সমঅধিকার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা।
অনেকেই মনে করেন, নারীর সম অধিকার মানেই, নারীরা পুরুষের সমকক্ষ (বিশেষ করে শারীরিক শক্তিতে)হতে চায়।
বিষয়টা সে রকম নয়,
নারীর শিক্ষা, তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত এবং পরিবারে তার সমতা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা , পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর ক্ষমতায়নই হল নারীর অধিকার, এই অধিকারগুলো থেকে নারীরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন বলেই, বলা হচ্ছে-একজন পুরুষের এ সব অধিকার থকলে, নারীকেও তার সমঅধিকার দিতে হবে।
নারীরাও কেন নারীর বিপক্ষে যায়?
পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতার (power and control)জাঁতাকলে পড়ে নারী নিজেও ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আত্মবিশ্বাসী হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারার বদলে,
সুযোগ পেলেই ক্ষমতা দেখানো ও নিয়ন্ত্রন করবার চেষ্টা করছেন। বরং কথা বলছেন অন্যায়ের পক্ষে। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল, কখনও কখনও ছেলেকে এক মাত্র অবলম্বন ভেবে, ছেলের বউকে শাসন ও নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা। অনুরূপ ছেলের বউরাও চড়াও হচ্ছেন শাশুড়ির উপর। domestic violence তখন কোথাও কোথাও নানান আকার ধারণ করে।
নারী যে এই সমাজে শুধুই নারী হিসেবে নন, একজন মানুষ হিসেবে, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে, সকল পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখেন- সেটা আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি, রাষ্ট্রেরও বিশাল দায়িত্ব তার জণগনকে অবগত করা। যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার অনেকটাই ব্যার্থ।
যে সব নারীরা নির্যাতিতা হন, তারা শরীরের পাশাপাশি, মানসিকভাবেও দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এটা তো সবারই জানা, তবুও আসুন দেখি, এ ব্যাপারে আমাদের সাধারণ দৃষ্টভঙ্গি কেমন?
এসব বিষয়ে আমরা সাধারণরা খুব একটা গুরুত্ব দেই না বললেই চলে। যখনই এরকম একটা ঘটনা ঘটে, তখনই আমরা চট করে একটা সিদ্ধান্তে পোঁছে যাবার চেষ্টা করি, যা অনেক সময়ই নির্যাতিতার জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনঃ "কেন তুমি এমন করলে? কেন তুমি অমন করলে না? তোমার এমন করলেই ভালো হবে, তেমন করলেই ভালো হত। সব তোমার দোষ।" ইত্যাদি।
প্রতিনিয়ত পরিবারি অত্যাচারের শিকার হলে কি কি মানসিক সমস্যা হতে পারে-
-তারা তাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। সব সময় উদ্বিগ্নতায় ভোগেন।
- কোন ভুল হলেই অত্যাচারের শিকার হবেন বলে, সব কিছু অতিরিক্ত perfect ভাবে করতে গিয়ে জটিলতায় ভোগেন। নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, সব সময় সব কিছুতে নতি শিকার করে থাকেন।
-সব হতাশা এবং হীনমন্যতায় ভোগেন।
- এদের মধ্যে ঘুমের এবং খাবার-দাবারের ক্ষেত্র ভীষন সমস্যা দেখা দেয়।
- কেউ কেউ প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার কথা ভাবেন, নিজেই নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করেন।
- কারো সাথে মিশতে পারেন না বা চান না।
যারা ভীষনভাবে শারীরিক (শারীরিক আঘাতও যৌননির্যাতন) এর শিকার হন, তারা তাদের জীবনটা পার করেন এক গভীর বেদনার (trauma) মধ্য দিয়ে। (loss and grief) এর মধ্য দিয়ে। এদের মানসিক বৈকল্যের লক্ষণগুলো আরও জটিল হয়ে থাকে।
আমাদের খুব কাছের কেউ এ অবস্থার মধ্য দিয়ে গেলে কি কি ভাবে আমরা তাঁদের সাহায্য করতে পারি?
যারা নির্যাতিতা হয়েছেন এবং বেঁচে (surviving the loss)থাকবার লড়াই করছেন, তাদের প্রতি-
# নিজের মন ও শরীরের যত্ন নিন।
# প্রচুর বিশ্রাম নিন।
# এখুনি যুক্তি দিয়ে কিছু বিচার করতে যাবেন না।
# অন্যের সাহায্য নিন। মানুষই মানুষের জন্য।
# নতুন করে জীবনটাকে ভাবতে শিখুন।
# আত্মহত্যার ভাবনাটা স্বাভাবিক কিন্তু নিজের জীবনটা নষ্ট করবেন না, প্লীজ।
সবচেয়ে প্রথম যে কাজটি করা উচিত আমাদের সেটা হল, নারীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ দূর করা। আমাদের আশেপাশে এরকম কেউ থাকলে, বৈষম্য ভুলে, আসুন আমরা তাদের যত্ন নেই । তাদেরকে যুক্তি দিয়ে বিচার না করে, তাদের কথা শুনে- তাদেরকে মানুষের প্রতি আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করি প্রথম কিছুদিন।
একটু সুস্থ হলে যা করবেন,
# নিজের সাথে সদয় আচরণ করুন।
# যাদের আপনি বিশ্বাস করেন, সেরকম বন্ধুদের সাহায্য নিন। খুব খারাপ লাগলে তাদের সাথে কথা বলুন।
# নিজের উপর নিয়ন্ত্রন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, না খেয়ে থেকে শরীরের আরও ক্ষতি করবেন না, প্লীজ। নিজের পুষ্টির কথা ভাবুন।কারণ আপনি যথষ্ট দূর্বল।
# নিজের উপর ভীষন রাগ হবে জানি, রাগ করে নিজেকে আঘাত করবেন না, নিজেকে ঘৃণা করবেন না।
# মনে রাখবেন, আপনি কোনভাবেই মূল্যহীন নন। সুস্থ থাকুন। সুস্থ থাকলে সুস্থভাবে চিন্তা করতে পারবেন।
# নিজেকে প্রচুর সময় দিন, নিজের কথা ভাবুন।
# এসময়টায় খুব হতাশ লাগবে, বেশী করে কাঁদুন।
# নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন, বেড়াতে যান, সিনেমা দেখুন, গান শুনুন, গল্প করুন।
# যখন সুস্থ হতে থাকবেন, তখন দেখবেন নিজে থেকেই মনে অনেক জোর পাচ্ছেন।
আসুন আমরা আমাদের কাছের এরকম মানুষগুলোর ভালো এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হই। দেখবেন, বন্ধু হতে গি্য়ে আপনার আবেগ, যুক্তি দিয়ে কাউকে আঘাত করে ফেলবেন না। এসময় যুক্তি দেখাবার সময় নয়।
এই তো আপনি সেরে উঠছেন-
# এখন আপনি অনেক শক্ত। আপনার কষ্টগুলো আপনার সাথেই আছে কিন্তু তবুও আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।
#আপনার সুস্থতার জন্যই কিছু কিছু বিষয়ে অন্যকে ক্ষমা করে দিন। আপনি শান্তি পাবেন।
# নিজের প্রতি নিষ্ঠুর হবেন না। নিজেকেও ক্ষমা করে দিন।
# আপনি একজন অনেক ভালো মানুষ। অন্যেরা আপনাকে ভালোবাসে।
# নিজের জীবনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হন, নতুন করে এডযাস্টমেন্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন।
# নতুন করে কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ বাড়ান।
# নিজের অতীতকে সামলাতে শিখুন, অতীত আপনাকে তাড়াবেই কিন্তু আপনাকে জিততেই হবে।
# নিজের একাকীত্বকে উপভোগ করুন।
# নতুন কাউকে আপনার জীবনে আমণ্ত্রণ জানান।
# নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন।
# আপনি যখন তৈরী হয়ে যাবেন সব কিছুর জন্য, এবার নিজেকে একটা সাবাশ দিন যে- আপনি সত্যি জিতে গেছেন।
এটা লেখা যতটা সহজ, একজনের জীবন ততটা সহজ নয়। নিজের জীবনের ক্ষতগুলো সারাতে অনেক সময়ই নিজের জন্য বিষয়টা হয়ে দাঁড়ায় "অনেক বড় যুদ্ধ।" সে যুদ্ধ একা করা যায় না।
আসুন আমরা সেই সব মানুষের পাশে দাঁড়াই। তাদেরকে এগিয়ে যাবার সাহস ও বিশ্বাস দেই। আরেকবার দানব না হয়ে তাদের ভরসা হই।
মন্তব্য
মানুষ মানুষের জন্য!!! নির্যাতিত মানুষের পাশে আমরা দাড়াবো।
ধন্যবাদ শাপলা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সুরঞ্জনা।
সবাই সাইদ আনোয়ার এর বিচার নিয়ে ব্যাস্ত, আমিও মনে প্রাণে তাই চাই। কিন্তু তার চেয়ে বেশী চাওয়া রুমানা উঠে দাঁড়াক। রুমানা নতুন করে আবার মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখুন।
তাই সবার প্রতি অনুরোধ, রুমানার সম্পর্কে ছড়ানো অন্য গল্পগুলোয় কেউ কান দেবেন না প্লীজ। রুমানা কে এখন কোন যুক্তি দিয়ে বিচার করতে যাবেন না। যুক্তি দেখানোর সময় নয় এটা।
সমসাময়িক ইস্যুতে নিন্দামন্দ করা সহজ; এমন একটা জরুরি আর কনস্ট্রাকটিভ লেখা তৈরি খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটি ধৈর্য, পরিশ্রম ও গুরুত্ব দিয়ে সম্পন্ন করার জন্য শাপলাকে অভিনন্দন। তোমার জন্য আমরা গর্বিত বন্ধু।
এই লেখাটি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে; বিশেষ করে মেয়েরা যেন পড়ে নেয় আগাগোড়া।
সহমত।
চমৎকার কাজ! আপনার প্রচেষ্টাকে অসংখ্য সাধুবাদ।
আমরা সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মেকানিক্স।
আমি বিনীত।
লেখকের মন্তব্য
এতটা সাধুবাদ আশা করিনি কিন্তু। তুমি আইনের মানুষ। তুমি দেশের বিচার-আচার আইন সব কিছুর সাথে জড়িত। তুমি মেধেবী চৌকষ। তুমি আমার রোল মডেল,
তোমার এমন উৎসাহ পেয়ে আমার কিন্তু কাঁদতে ইচ্ছা করছে।
লেখকের মন্তব্য
উপরের মন্তব্যটা শুধুই নুশেরার জন্য।
নুশেরা, তুমি বিষয়গুলো আমার চেয়ে অনেক ভালো জানো। তাই আমার লেখার ভুল ভ্রান্তি গুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আরেকবার বিনীত ধন্যবাদ।
এই পর্বটা পড়া হয়নি। অনেক জায়গায় মনের কলুষতা নিয়ে অনেক লেখা এসেছে। এই লেখাটিও মনে হলো অনেকেরই পড়া উচিৎ। তাই লিংক দিলাম রুমানা মন্জুর ও আমরা বছর দুয়েক আগে মেহতাব খানম এমনি কিছু ঘটনা উল্লেখ পুর্বক একটা কলাম দিয়েছিলেন--কাল থেকে হন্য হয়ে খুজছি পাচ্ছি না। শিক্ষিত হলেই অনেক পশুত্ব দূর হয় না, শুধু ভিন্ন রুপ পায়। লেখাটা পেলেই দিয়ে যাবো।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ পদ্ম। আমি লেখাটা পড়েছি এবং মন্তব্যও করেছি।
মেহতাব খানম আমার সরাসরি শিক্ষক।
শাপলার এই পোস্ট সব সময়ের জন্য সময়োপযোগী। কোন কিছু মন্তব্য করার আছে বলে মনে হচ্ছে না। সকল মানুষের হৃদয়ে মানুষের জন্য প্রকৃত প্রেম জগরুক হোক, সকলে সকলকে মানুষ বলে গণ্য করুক এই কামনা করি। কেউ কারো চেয়ে তুচ্ছ নয়, সকলেরই এমন কিছু ক্ষমতা আছে, যা আর কারোর নাই এবং সে জন্যই সে অন্যের সম্মান পেতে পারে, আমরা কেন যে এ কথা ভূলে যাই?
অনেক ধন্যবাদ শাপলা, শ্রমসাধ্য সুলিখিত পোস্টের জন্য।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ নাজমুল ভাই আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
আপনার পোষ্টের কথাগুলোয় সাত তারা।
আমরা সবাই সুস্থ সমাজ চাই।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ একুয়া রোজিয়া কষ্ট করে লেখাটা পড়বার জন্য।
আপু আপনার লিখায় নারী নির্যাতনের কারন ও নির্যাতিত নারিদের প্রতি আমাদের কর্তব্য ও সমবেদনা সম্পর্কে তথ্য পেলেও "বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের শেকড় প্রোত্থিত আছে দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার(power and control) মধ্যে।" এর সঠিক প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে কোন সচেতনতা পেলামনা।
আমার মনে হয় নির্যাতিতনারী দের চেয়ে নির্যাতনকারিদের প্রতি আমাদের বেশি সচেতন হওয়া উচিত। কেননা এই রুমানার প্রতি সদয় আচরণ, আমাদের দেশের রুমানা দের সংখ্যা কমাতে পারবেনা। বরং সাইদ এর মত জানোয়ার দের সঠিক বিচার ও শাস্তি কে একটি নিদরশন হিসেবে তুলে ধরলে আশা করা যায় রুমানা দের সংখ্যা অনেকাংশে কমবে।
লেখকের মন্তব্য
মেঘলা তোমার প্রশ্নের উত্তর টা দেই, নারীরা কেন মুখ বুঁজে মেনে নিচ্ছেন, তা তো বলেইছি, ঠিক সেই জন্যই নির্যাতিতদের বিচার হচ্ছে না। নির্যাতিতদের বিচার হতে গেলে আইনের সংষ্কার দরকার, রাজনৈতিক মহলের প্রভাব কমানো দরকার। মানুষের সচেতনতা দরকার। পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ স্বচ্ছ হওয়া দরকার। নি্রযাতিতা নারীদের এগিয়ে আসা দরকার। ধর্মী্য় গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।
একটা উদাহরণ দেই, একজন রুমানার পরিবার এগিয়ে এসেছেন, তারা এই অত্যাচারের কাহিনী সাহস করে প্রকাশ করেছেন বলে, মিডি্যা ঠিক ভাবে প্রকাশ করেছে বলে, হাইকোর্ট নিজ দায়িত্বে রুল জারি করেছে বলে, সুশীল সমাজ ভয়াব হ তৎপর হয়েছে বলেই, রুমানার পাষণ্ড স্বামীকে ধরা গেছে। এবার হ্যতো এসবের চাপেই বিচার বিভাগ সঠিক বিচার করবে।
ক'জন নির্যাতিতার বেলায় এরকম হয় বলো?
আমার যা বলার আমি আগের পোস্টেই বলেছি। অসাধারণ লেখা। ফেবুতে শেয়ার করলাম ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অদিতি।
এত যে নারী নারী করে মুখে ফেনা উঠিয়ে ফেলছেন অধিকার আদায়ে ..আপনি কি বলতে পারবেন কত জন নারী আপনার এই লেখা তা সাপোর্ট করবে? নারী পুরুষ সমান অধিকার বলেন ...কিন্তু নারী হয়ে সব জায়গা তেই এক্সট্রা ফায়দা লুটার চেষ্টা করেন ...পুরুষদের কে সুযোগ করে দেন আপনাদের কে নারী হবার বাড়তি সুবিধা টুকু করে দেয়ার জন্য .....পরীক্ষা, চাকুরী, শিক্ষাক্ষেত্র, সংসার সব কিছুই তো নারী অধিকার এর নামে নারীদের কাছে জিম্মি ....রুমানা মাডাম এর কাহিনী খুবই ব্যতিক্রমধর্মী একটি ঘটনা ......আমি এমন ও পরিবার ব্যক্তিগতভাবে চিনি যে সংসারে নারীটি খেপে গেলে বাসার পুরুষটির গায়ে ও হাত তুলতে দিধা করে না....মানুষিক ভারসাম্মহীন হীনমন্যতায় ভুগা লোক ও নারী যুগে যুগে সর্বত্র থাকবে ...... হাত এর পাচটা আঙ্গুল তো আর সমান হয় না...আপনার কি মনে হয় এক হাতে তালি বাজে? তাহলে তো নিউটন এর সূত্র ও ভুল প্রমানিত হত ..কখনো শুনেননি জ নারী তার সামী কে খুন করে ফেলেছে অথবা এরকম করে পিটিয়ে অর্ধমৃত করে ফেলেছে ....কিন্তু নারীর কারণে পৃথিবীতে কি কম অশান্তি তৈরী হয়েছে?....ঘটনা তা এত খারাপ দিকে যেতনা যদি নির্বোধ এবং সংকীর্ণমনা লোকটা ক্রোধ সংবরণ করতে পারত ..একজন ইতর শ্রেনীর পুরুষের কর্মকান্ডের সঙ্গে নারীর অধিকার, নারী নির্যাতন সব কিছু গুবলেট করে ফেলছেন বলে আমার ধারণা ...ভুল হতে পারে.... শুধুমাত্র নারী অধিকার বলে বলে বাকি নারীদের কে পথভ্রষ্ট করছেন ....নিজে ঠিকি সংসার করে যাবেন আরামে কিন্তু আপনার কথাকে অনেকে বেদবাক্য ভেবে দেখা যাবে বিয়ের পিড়িতেই বসছেনা অথবা নিজের ঘরের মানুষটি কে মনে মনে ভয় পাচ্ছে, ঘৃনা করছে .....আপনাদের মতন মেয়েরাই তো মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্রু .....আপনারা হচ্ছেন বাংলাদেশের সেই নেতা নেত্রী দের মতন ....ডিফরেন্ট টাচ ব্যান্ড এর একটা গান আছে ...হরতাল মিছিল চালাইয়া যাও রিক্সা গাড়ি ভাইঙ্গা ফলাও পেছন পেছন আছি আমি কোনো কিছুর ভরসা নাই ...হায়রে গরম চলতে আছে সেইখানে স্যার নাই ...মরলে মরবো যুবকরা সব আর মরলে টোকাই .....আপনারা সমঅধিকার এর আন্দোলন চালিয়ে যান ..আমরাও চাই সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক ......কারণ তাতে আমাদের এ লাভ বেশি কারণ এখন আপনারা এমনিতেও বেশি পাচ্ছেন সব কিছু ...সমঅধিকার হলে আমাদের মতন বিবেকবান বঞ্চিত পুরুষরা অন্তত স্বস্তি পাবে .....হয়ত এই লাইনটি পড়ে আপনি হাসছেন ....কিন্তু সত্য কথা কি জানেন বিবেকবান পুরুষরা সব সময় এ বঞ্চিত .... কিন্তু তাদের কথা কেউ বলে না ....কিছু অশিক্ষিত নির্বোধ এবং নির্লজ্জ ইতর এর জন্য আমাদের এ কুল ও নাই ও কুল ও নাই ....ভালো থাকবেন এবং ক্ষমা করবেন
লেখকের মন্তব্য
একজন ইতর শ্রেনীর পুরুষের কর্মকান্ডের সঙ্গে নারীর অধিকার, নারী নির্যাতন সব কিছু গুবলেট করে ফেলছেন বলে আমার ধারণা ...ভুল হতে পারে.... শুধুমাত্র নারী অধিকার বলে বলে বাকি নারীদের কে পথভ্রষ্ট করছেন ....নিজে ঠিকি সংসার করে যাবেন আরামে কিন্তু আপনার কথাকে অনেকে বেদবাক্য ভেবে দেখা যাবে বিয়ের পিড়িতেই বসছেনা অথবা নিজের ঘরের মানুষটি কে মনে মনে ভয় পাচ্ছে, ঘৃনা করছে .....আপনাদের মতন মেয়েরাই তো মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্রু .....আপনারা হচ্ছেন বাংলাদেশের সেই নেতা নেত্রী দের মতন ....ডিফরেন্ট টাচ ব্যান্ড এর একটা গান আছে ...হরতাল মিছিল চালাইয়া যাও রিক্সা গাড়ি ভাইঙ্গা ফলাও পেছন পেছন আছি আমি কোনো কিছুর ভরসা নাই ...
"ভালো বিপদেই পড়া গেল দেখছি" । হে নারী সমাজ, আমার লেখার উপর কোন ভরসা রাখবেন না প্লীজ। আপনারা যারা অবিবাহিত, তারা দয়া করে-বিয়ের পিঁড়িতে বসুন, সঙ্গীকে ভালোবাসুন আর পুরুষ নিপীড়ন থেকে বিরত থাকুন। পারলে তথৈবচ ভাইয়েরর উপর ভরসা রাখুন।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে দেবার মত অনেক information (যুক্তি/তর্ক) ছিল, কিন্তু আপনি যে লাইনে হাঁটছেন, সেই লাইনে হাঁটার মত যথেষ্ট জ্ঞানী আমি নই। আমার যে জ্ঞান নেই তাতে আমি গর্বিত।
@তথৈবচ, আপনার কমেন্টে যতোবার 'নারী' শব্দটি এসেছে, এবং 'পুরুষ' উল্লেখ করে যেভাবে দু'টি দল স্পষ্টভাবে তৈরি করেছেন, সেটি আসলে নির্দেশ করে যে নারীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে আপনি চিন্তা করতে পারছেন না। নির্যাতিত ব্যক্তির লিঙ্গ-পরিচয় জরুরি না। তাকে তার জেন্ডারের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখুন। সে পুরুষ হোক কিংবা নারী, তার উপরে ঘটা নির্যাতনের বা নির্যাতকের কিছু যায় আসে না। মানবিক বোধগুলো যেদিন জেগে উঠবে, সেদিন আপনি বিবেকবান মানুষ বলে দাবি করতে পারবেন। তার আগে পুরুষ হয়েই থাকুন, যদি সেই চরিত্রে আপনি স্বচ্ছন্দবোধ করেন।
অসংখ্য বানান ভুল নিয়ে আক্রমণাত্মক কথা যিনি বলছেন আপনি আপনার বাসার নারীদের এই শিক্ষা দিচ্ছেন তো? যদি না শোনে সাঈদ হইয়ে উঠতে দ্বিধা করবেন না কিন্তু।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অদিতি, আমি খুব ভিরু মানুষ। কারও ভিন্ন মতামত থাকতেই পারে কিন্তু যেসব মানুষ যুক্তি বোঝেনা বা হীন মানসিকতার, তাদের সঙ্গে লড়াই করতে খুব ভয় পাই।
পাশে থেকে সাহস দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
ভয় পেলে চলবে কেন শাপলাপু? যদি কিছু বদলাতেই হয়, সাহস থাকাটা খুব জরুরী। আজকে যে বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গীটা কিছু পুরুষ (!) এর মন-মগজে চেপে বসে চোখ রাঙানি দেখাচ্ছে, সে কিন্তু আসলে ভয় থেকেই এই কাজটা করছে। জানবেন, ভীত মানুষের মধ্যেই ভয় লাগানোর তাগিদটা সবচেয়ে বেশী। ঐ অতিথির উদ্দেশ্যে আমার বলতে চাওয়া কথাগুলো ইতিমধ্যে অনীক ভাই বলে দিয়েছেন।
নেক্সট টাইম, জাস্ট ঝামা ঘষে দেবেন!
লেখকের মন্তব্য
@ তথৈবচ, ভেবেছিলাম আপনার কথার সাথে আর কথা বলবো না, কিন্তু অনেকে মনে করতে পারেন দায় এড়িয়ে যাচ্ছি, তাই প্রথম পাতায় যুক্তিটা খন্ডালাম, তাতে সবার নজরে আসে।
১। সংসদে যাবার অনুমতিই ছিলনা নারীদের বেশ কিছুদিন আগে পর্যন্ত, তারপর যাবার অনুমতি দেওয়া হল সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে। কেন? এটাও কি নারীর দোষ? এটা রাষ্ট্রের দোষ নয়? মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব নয়? যেখানে বলা হচ্ছে নারী নেতৃত্ব হারাম বা ইসলাম পরিপন্থী। অথচ আপনারা চিলাচ্ছেন নারীর খুব কোঠা দিয়ে দিলেন। সব সুবিধা দিয়ে দিলেন।
২। নারীকে উৎসাহিত করার জন্য প্রাইমারী স্কুলে নারীর কোঠায় চাকরী দিলেন। চাকরী দিতে গিয়ে দেখলেন, ইন্টারমিডিয়েট পাশ নারীও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, সরকার তড়িঘড়ি করে, এসএসসি পাশ নারীদের শিক্ষকের পদে ঢোকালেন। একজন এসএসসি পাশ নারীর কাছ থেকে আপনারা কত ভালো শিক্ষা আশা করেন? রাষ্ট্র কেন নারীদের শিক্ষিত করাতে পারলো না? কেবল কোঠা দিয়েই সব উদ্ধার হয় না, বুঝলেন?
৩। সারাজীবন বাসে দেখে আসলাম ২/৩ সীটের উপর লেখা ,"মহিলা সীট।" কেন মহিলাদের কাজে যাবার জন্য সমান সমান যানবাহন নেই? যাতে তারা স্বাচ্ছন্দে উঠতে পারেন। কেন আজও মহিলারা পুরুষ সহযত্রীর পাশে বসে যেতে এখনও নিরাপদ বোধ করেন না? নিরাপত্তা নেই বলেই, সংরক্ষিত আসনে গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে যান। তাই পুরুষ যাত্রিটি অসুস্থ হয়েও যাদি কোন মহিলা আসনে বসে পড়েন, তবে সহজেই কন্ডাক্টর বলতে পারে, "ভাই মহিলা সীট ছেড়ে ওঠেন।"মহিলারাও তাতে লজ্জিত হোন না। শুধু ভাই বড়াই করলে তো হবে না। নিজেদেরও বদলাতে হবে।
আমি একটা উন্নত দেশে এখন আছি, এখানকার মেয়েরা আমাদের দেশের মেয়েদের চেয়ে ১০০ গুন পরিশ্রমী। এখনকার মহিলারা বাসে -ট্রামে, কাজের জায়গায় কোথাও এক্সট্রা সুবিধা চান না। কারণ ছোটবেলা থেকে তাদের কে সে ভাবেই মানুষ করা হচ্ছে। এটাকে বলে socialization process.
আমাদের দেশের ক'টা মেয়ে একা চলতে পারেন? কোথাও বেরুতে গেলে লাগেজ টানার জন্য বাবা, স্বামী অথবা বয়সে অনেক ছোটভাই রেডী থাকে। তাকে কখনই শেখানো হয় না, তুমি একাই বাইরে যেতে পার এবং তোমার লাগেজটা তোমাকেই টানতে হবে। এক্সট্রা সুবিধা পাবেনা। মহিলাদের শারীরিক ভাবে যোগ্য করে তোলা হয় না।
কয়টা statistic চান?
এদেশের নারীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়, নিজের কাজ নিজে করে। তিনটা ছোটছোট বাচ্চা, ভারী মাল পত্র নিয়ে বাসে ট্রামে যাতায়ত করে, কোন সুবিধা তারা সহজে নেয় না। শুনে আরও খুশী হবেন যে এরা সন্তান লালন -পালন খুব ভালো ভাবে করে। প্রয়োজন ছাড়া স্বামীর সাহায্য নেয় না। এরা সুন্দর করে সংসার করে। বাবা-মা'র যত্ন নেয়। সবই করে। এরা শার্ট -প্যান্ট পরে। এটা তাদেরকে ব্যাটাছেলে বানয়না। বরং তিন-বাচ্চা মাল-পত্র নিয়ে বাসে-ট্রেনে চলতে সাহায্য করে।
আবার ধরে নেবেন না যে, আমি দেশের সব মেয়েদের শার্ট-প্যান্ট পরতে উৎসাহিত করছি।।।।।মোটেও তা নয়। আমাদের দেশের মেয়েদের পোষাকও অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজের অন্তরায়। একটা মেয়ে শাড়ি সামলিয়ে, একটা আধহাত ঘোমটা সামলিয়ে, কোলে এক বাচ্চা নিয়ে আর দু হাতের দু আঙ্গুলে দুই বাচ্চাকে নিয়ে, কাঁধের ব্যাগ সহ, একজন অফিসের ব্যাগ হাতে ঝাড়া-হাত পা পুরুষের মত কোন সুবিধা না নিয়েই কাকরাইলের মোড় থেকে লাফ দিয়ে পাবলিক বাসে উঠে রওয়ানা দেবে কি ভাবে আশা করেন?
শাপলা, চমৎকার তথ্যবহুল লেখা । একটা প্রশ্ন--নির্যাতিতদের মানসিক এবং আর্থিক rehabilitation-এর জন্য আর কোন সংস্থা কাজ করছে তা কি একটু জানাতে পারেন? কোন সাপোর্ট গ্রুপ আছে কি —ধরুন psychological counseling-এর জন্য? অথবা কোন Domestic Violence Shelter House আছে কি? ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
ভাই নির্ঝর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, লেখাটা পড়ার জন্য। ভাই আমি অনেক দিন দেশ ছাড়া, দেশে নারীদের নিয়ে কাজ করছেন, এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম জানি কিন্তু তারা shelter financial rehabilitation অথবা psychological counseling করছেন কি না আমার জানা নেই।
আমি বড়জোর প্রতিষ্ঠান গুলোর নাম দিয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারবো। এই মুহূর্তে তার বেশী সাহায্য করতে পারছি না বলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
কলাবিদেরা যখন মনোবিজ্ঞানী, পরিসংখ্যানবিদ হয় - তখন মনোবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান এর মত জ্ঞানগুলি ধর্ষিত হয়। আশন্কাজনক ভাবে এই জাতীয় কলাবিদের সংখ্যা বাড়তেই আছে।
লেখকের মন্তব্য
@ বন্ধুগুপ্ত, আপনার মন্তব্যটা বুঝতে পারলাম না। তবে যতটুকু বুঝলাম, সেটা হল- শুধু পরিসংখটান দেখছেন কেন? ভেতরের লেখাগুলোও দেখুন। লেখাটা বিভ্রান্তি তৈরী করতে পারে বলে, প্রথম লেখাতেই সংযোজন দি্যে দি্যেছি, domestic violence কাকে বলে, আর কার কার উপরে হয়?
তবে গোটা বিশ্বজুড়ে নারীরাই সব চেয়ে বেশী domestic violence এর শিকার।তাই নারীদের নিয়ে বেশী কথা।
বোঝাই যাচ্ছে, এই জাতীয় কলাবিদ-বিশেষজ্ঞ জ্ঞানীগুণীর দৌড় ব্লগে অতিথি হিসেবে আলপটকা মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়া পর্যন্ত। বন্ধুগুপ্তের মন্তব্যের নিন্দা জানালাম।
@ মডারেটর
এ ধরণের অসার, হীন আক্রমণমূলক মন্তব্য প্রকাশিত হওয়া খুব জরুরি কি?
আমার আরো মনে হৈলো, ভালৈ হৈছে। এসব লোকগুলার কথা, শুদ্ধ আলোচনার সময় ভুইলা যাওয়া হয়, মানে নিখুঁত ভাবে লোকগুলার মনোভাব কেমন, সেইটা বের হৈয়া আসে। আর, আলোচনা আর বিষয় বস্তুগুলা, এইসব মানুষের বিরুদ্ধেই বৈলা, ওরাও কথা বলুক। কেমন বলে, সেইটাও দেখা হৈলো------
(এই গুপ্তের কমেন্ট পৈড়া মেজাজ ধৈরা রাখা গেলো না বৈলা মতামত প্রকাশ করলাম।)
লেখাটা শেয়ার করলাম বস।
লেখকের মন্তব্য
বিনীত বাচ্চু। ভালো থেক।
লেখকের মন্তব্য
পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ নুশেরা।
নুশেরাপু একমত না আপনার সাথে। এই ধরনের মন্তব্য আরো বেশী করে প্রকাশিত হওয়া উচিত।তাহলে আগামীদিনের রোমানারা আরো সতর্ক হতে পারবে। আসে পাশের মুখোশ পরা হায়নাদের কাছ থেকে।
আপনার অবন্ধুসুলভ মন্তব্যটা ভাল না। শাপলা আপার সমস্ত তথ্যের সূত্র আছে। তাই জ্ঞান ধর্ষিত হবার প্রশ্নই আসেনা। আর আপনি যদি এতই কন্সার্ন্ড তাহলে নিজে একটা পোস্ট দিন (অবশ্য আপনি যদি মনোবিজ্ঞানী বা পরিসংখ্যানবিদ হন) গায়ে পড়ে ঝগড়া না করে।
খুর দিয়া কিবোর্ড চালানো শুরু করলে, এমন কমেন্ট ই করা যায়।
লেখা দুটি অসম্ভব জরুরি কাজ। আমি বেশ ক'বার শেয়ার করলাম। পরেও করবো। ক্রমশ রুমানাকে 'ভালো মেয়ে' ও 'পরকীয়ারত খারাপ মেয়ে' হিসেবে সার্টিফাই করা হচ্ছে দেখে বুঝতে পারি নারীকে নির্যাতনের বিচার পেতে হলে 'ভালো' হতেই হবে। চারিত্রিক ও সামাজিক ভালোত্ব অর্জন করতে না পারলে তার মৃত্যুতেও কেউ শাস্তি পাবে না!
এই মানব প্রজাতিকে আরো লক্ষ-কোটি বছর বিবর্তনের ভিতর দিয়ে যেতে হবে। সামাজিক শুদ্ধি অসম্ভব লাগে, মনে হয় একমাত্র খোল-নলচে শুদ্ধি না হলে কোন লাভই নেই!!
লেখকের মন্তব্য
@ অনীক পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেবার জন্য আকণ্ঠ কৃতজ্ঞ থাকবো। এই জন্য কখনই মুখ খুলি না। শ্রদ্ধেও কিছু মানুষের অনুরোধে কিছু সামাজিক সমস্যা নিয়ে লিখলাম, কিন্তু সবাই বোধ হয় তোমাকে আমাকে নারীবাদীদের কাতারে ফেলে দিচ্ছেন। এই জন্যই আমাদের সমাজে অন্ততঃ কোন কিছুর বদল সম্ভব নয়। বদল তখনই হবে, যখন সবাই নারীকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখবে।
ব্লস্ফিয়ারের নানান "জ্ঞানীগুনী" বিশ্লেষণ আর আঁতলামীর/ছ্যাবলামির মাঝে আপনার এই লেখাটিকে খুবই বাস্তববাদী একটা লেখা মনে হচ্ছে। লেখাটা সামারাইজ করে পত্রিকায় দিতে পারলে খুব ভালো হতো।
ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার অধিকাংশ মহিলারাই (বিশেষ করে যাঁদের সন্তান আছে তাঁদের বেলায় তো কথাই নেই) পুরো ব্যাপারটাকে নিজের উপর টেনে নিয়ে আর সবকিছুকে এর আঁচ থেকে রক্ষা করে যান। এটা যে কতবড় আত্মত্যাগ সেটা কেউই বুঝবেনা, অথচ আয়রনি হলো এর বিনিময়ে তারা শুধু নির্যাতনই পেয়ে যান, আর যখন চারপাশের লোকজনের কাছে সেটা প্রকাশ পায়, তখন সবাই খুব ভাবের সাথে বলে, "এই বোকা মেয়েটা এতদিন চুপ করে ছিলো কেন?"
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মুকিত ভাই এভাবে পাশে থাকবার জন্য। আপনাদের উৎসাহ বরাবরই আমাকে লিখতে সাহস যোগায়।
হ্যাঁ মুকিত ভাই, আমিও ভেবেছি।।।লেখাটা বেশী বিস্তারিত এবং কোথাও কোথাও একটু আবেগতাড়িত হয়ে বা রিপরিটেশন করে ফেলেছি। কিন্তু তথ্যগুলো খুব দিতে ইচ্ছা হচ্ছিল এবং সময়েরর অভাবে শুরুতেই বিশেষ পরিমার্জন করতে পারিনি। তাই পরে আর সেভাবে করাও হয়নি।
এই লেখা আগেই পড়েছিলাম, লেখার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে আগামীর রুমানাদের কথা বলা হচ্ছে। তার্কিকরা যেই কাজটি করতে চাচ্ছেন না
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বোহেমিয়ান, এভাবে ভাববার জন্য।
শাপলা আপা, ব্লগ হিসাবে আপনার লেখার দৈর্ঘ্য পারফেক্ট! অনেক তথ্য এসেছে যেগুলো কিছু মানুষকে অবশ্যই চিন্তার খোরাক জোগাবে।
নিচের পোস্টটার ১০৮ নং মন্তব্যটা সবাইকে দেখতে বলছি। বিশেষ করে যারা নির্বোধের মতো সাঈদের মিথ্যাচারকে বিশ্বাস করেছে।
http://www.sachalayatan.com/niazmc/39455
লেখকের মন্তব্য
মন্তব্যে সম্পাদনার অপশনটা বুঝতে না পেরে এই বিভ্রাট।
লেখকের মন্তব্য
আমি নীচে মন্তব্যটা ঠিক করে দিয়েছি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মুকিত ভাই। ব্লগটা ঘুরে এলাম। ক'দিন ধরে যত পারছি, এ বিষয়ে সবার লেখাই পড়ছি এবং সবার মানসিকতা বিচার করার চেষ্টা করছি।
একটা জিনিষ খেয়াল করে থাকবেন, আমি আমার লেখায় সযতনে মনস্তাত্তিক বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছি। শুধু আমি মেহতাব খানমের ছাত্রী শুনেই একজন আমার জ্ঞান ধর্ষণের ?!!অভিযোগ দিয়ে গেছেন। পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আত্মত্যাগ, বিশ্বাস, আমাদের সংষ্কৃতি এগুলো বিষয় আমার লেখায় আনলে না জানি কি হত??
দেখুন, রুমানাকে অত্যাচারের পেছনে সাইদের মনস্তত্ত যদি ধরে নেই যে, তার অনেক হতাশা হীনমণ্যতা থেকে সে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রুমানার উপর, বেচারা ক্রোধ সামলাতে পারেনি। তাহলেই কিন্তু ল্যাঠাটা চুকে যেত না, কারণ পাব্লিক প্রথম থেকেই একটা গল্প খোঁজার চেষ্টা করেছে। কোন কারণ ছাড়াই একজন এরকম করতে পারে?
কিন্তু ধরুন, আমার মনে প্রশ্ন জাগলো, সাইদ তো আর ঠেলা গাড়ীওয়ালা নয়, যে কিছুই করতে পারবে না? শিক্ষিত একটা ছেলে, এই বয়সেও কেন বেকার রইল? কেন কোন কিছুতেই সে লাভের মুখ দেখল না? আই সাইট খারাপ দেশে অনেক লোক আছে। অন্ধরাও কিছু না কিছু কাজকর্ম করে খাচ্ছে। ঐ লোকের মন্ত্রী চাচা আছে। তার জোড়েও তো কিছু করতে পারতো। লোকটা নিজের সমস্যা সমাধানে কতটা সফল ছিল? নিজে নিজে শুধু হীনমণ্যতায় ভুগলেই তো চলবে না। কেন এসব থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করেনি? সে কথা বেশীর ভাগ মানুষই শুনছেও না বলছেও না? তারা আরও অন্য রকম গল্প খুঁজছে।
এবার আসি রুমানা প্রসঙ্গে। রুমানা তো বিদেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত, শুধু স্বামী হিসেবে সাইদের সব মেনে নিয়েছিলেন(মানে ১০ বছর।) তাতে দুপক্ষ-শান্তি আর অশান্তিতে যাই থাকুন না কেন? এটলীস্ট এটা প্রমাণ হয়নি যে, রুমানা সাইদকে মাঝে মধ্যেই মারধোর করত।
এবার আসি নির্বোধ মানসিকতার কথায়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গটা এমন,,, কেন রুমানা ঐ অকর্মণ্য ছেলেটার গতি করে দিল না? (যদিও সে শশুর বাড়িতেই থাকতো), কেনই বা রুমানা এত অত্যাচার মেনে নিল? কেন রুমানা পরকীয়া করল? কেন রুমানা ছেলেটার মানসিকতা বুঝলো না? এক হাতে তো তালি বাজে না, রুমানার নিশ্চই দোষ ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি।
১। তার মানে, স্বামী অক্ষম হলে, তার সমস্ত দায়ভার বউ এর বর্তায়। (বউ অক্ষম হলে, (বিশেষ করে শরিরীকভাবে ) আমাদের দেশের ক'জন স্বামীরা মানেন? এটা নিয়ে কিন্তু তুলনা করা চলবে না। তুলনা করতে গেলেই অনেক দোষই ঘাড়ে এসে পড়তে পারে।
২। এত অশান্তি তাহলে রুমানা কেন মেনে নিলেন? (যদি বলি, তিনি চেষ্টা করে গেছেন, সঙ্গীকে ভালোবেসেছেন, তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন, সেটা কিন্তু বেশীর ভাগ পাব্লিক খাচ্ছে না।
৩। এক হাতেও তালি বাজে, অনেক নিরাপরাধ মানুষও খুন হয়। ধরুন ছিনতাইকারীরা বহুত নিরাপরাধ মানুষকে খুন করে।
৪। মনস্তত্ত যদি এটাই হয় যে, অনেক হতাশা এবং অনেক হীনমণ্যতা বা অনেক ভালোবাসা থেকে (মানে রুমানাকে হারাতে চায়নি দেখে)সাইদ রুমানার উপর চড়াও হয়েছে, তাতেও কিন্তু রুমানা মাফ পাচ্ছেন না। কারণ এটাতে যতটা না দোষ আছে সাইদের তার চেয়ে বেশী দোষ রুমানার। সে সাইদকে বাধ্য না করলে, ষাইদ কি এমন করতো? যারা এভাবে দেখছেন বিষয়টাকে, তাহলে ঐ শ্রেণীর কাছেই প্রশ্ন করা যেতে পারে, রুমানারও পরকীয়া করতে বাধা কোথায়? যদি আমরা তার মনস্তত্ত ব্যখ্যা করি। তাহলে হয়তো দেখা যাবে, তিনিও ভালোবাসা চেয়েছেন, যেটা স্বামীর কাছে পাননি। তিনি একজন যোগ্য লোক চেয়েছেন। ভরসা চেয়েছেন। আর একটা সম্পর্ক তো ভার্চুয়ালি হয় না, এর মধ্যে যৌনতাও চলে এসেছে। (আমাকে সচেতন পাঠকরা মাফ করবেন, আমার এই স্পর্ধার জন্য।) সেই সম্পর্কের একটা পরিণতি পেলে রুমানা হ্য়তো আইনের মাধ্যমেই স্বামীকে ছেড়ে যেতেন।
এটা কিন্তু আবার ঐ শ্রেণী মানছে না। কারণ তিনি নারী। রুমানার পরকীয়ার গল্পটাকে যত মুখরোচক বানানো গেছে,
হাসান যদি রুমানার অনুপস্থিতিতে তার কাজের মেয়ের সঙ্গেও মিলিত হত, তাহলেও সেই পুরোনো গল্পটা কিন্তু এত মুখরোচক হত না।
তাহলে কি ধরে আমরা ধর্মী্য এবং সাংষ্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে abusive? আমরা সামাজিকভাবেই হীনমণ্যতার শিকার? আসলে একজনের দোষ আরেকজনের ঘাড়ে চাপিয়ে তার মোড়কে রসালো গল্পটাতেই আমাদের interest অনেক বেশী। এটাই আমাদের বেশীর ভাগ মানুষের মনস্তত্ত?
সমস্যাকে সমস্যা চিহ্নিত করার মানসিকতা আমাদের একেবারেই নেই। হাসান যেই কাজ করেছে সেই দায়ভার তার একারই নেয়া উচিত। কেন সবাই রুমানাকে টানছে আমি বুঝতে পারছি না। মনস্তাত্তিক কারণ যাই থাকুক না কেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, যারা abusive তারা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এভাবেই নিজেদের সাফাই গায়
হা হা, রুমানাকে ভালো প্রমাণ করতে সার্টিফিকেট লেগেছে, বৃটিশ কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে। তাও কিছু কিছু হীনমানসিকতার পাব্লিক বিশ্বাস করেছে কিনা জানিনা। কিন্তু সাইদ কিন্তু এখনও প্রমাণিত হয়নি যে সে পুরোটাই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিল। এটাও খুব দ্রুত প্রমাণ হয়ে যেত যদি এটা সখিনা, রহিমা বা ক্ষমতাহীন জরিনার হত। রুমানা বলেই তারা পারছে না।
যথার্থ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ!
দোষতত্ত্ব নিয়ে একটা গল্প আছে, ব্লগে কাঁকন একবার লিখেছিলো। ফার্নিচার রিমুভালিস্টের হাত থেকে পড়ে গিয়ে আয়না ভেঙে গেছে; ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা হয়েছে। বিচারক বললেন, মেয়েটা কোথায় ছিলো? অর্থাৎ নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে গিয়েই লোকটা অসাবধান হয়েছে! আসলে এদের আছে তিন হাত: ডানহাত বামহাত অজুহাত। প্রথম দুটো দিয়ে আক্রমণ করবে, তৃতীয়টা সাফাই গাওয়ার জন্য ব্যবহার করবে।
লেখকের মন্তব্য
বস, লা জবাব।
হা হা ঠিকই বলেছ।
আপা, আপনার লেখনী শক্তিশালী! অন্তত আমার মতে। রুমানা আপা লড়ছেন দুই ধরণের অন্ধত্বের সাথে শারিরীক আর সামাজিক।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অদিতি আমি বিনীত।
কি আর বলি! কিছু মন্তব্য পড়ে(জ্বীনের বাদশা ভাইয়ের দেয়া লিংকের বক্তব্যসহ)
তব্দাই খেলাম! নারীকে যতোদিন মানুষের অধিকারটা ঠিকঠাক মতো দেয়া না হবে ততোদিন সে যতো শিক্ষিতই হোক না কেন সত্যিকারভাবে স্বাধীনতা ভোগে সক্ষম হবেনা। আমাদের সমাজের প্রচলিত রীতি 'বিয়ে যখন হয়েছে মুখ বুঁজে সহ্য করে যাও, মেনে নাও মানিয়ে নাও' এর থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। সম্পর্ক ধরেবেঁধে হয় না। যদি সেরকম অবস্হায় গিয়ে পৌঁছায় তবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই যুক্তিযুক্ত। আজকে সমাজের কিছু মানুষ হয়ত ডির্ভোস নেয়াকে কটাক্ষ করবে কিন্তু এক জন রুমানা ম্যাডামের পরিণতি থেকে বেঁচে যাবে অনেক রুমানা। পশুত্ব না দেখিয়ে সম্মানের সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে যে যার মতো জীবন যাপনের স্বাধীনতা থাকা উচিৎ। তবে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারীতা নয় এটা স্বশিক্ষিত মাত্রই জানেন। আর কেউ যদি একান্তই সেভাবে জীবন যাপন করতে চান সেটা পাওয়ার অধিকারও তার আছে(সে ভিন্ন প্রসঙ্গ)। শারীরিক অত্যাচারটা সেভাবে দেখা যায় বলেই এসব নিয়ে আলোচনা হয় এবং এটা হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমার যেটা আজব লাগে, এক্ষেত্রে ভিক্টিমের ইন্টারভিউ নেবার ধুম পড়ে যায়( বুঝিনা ঐ রকম পরিস্হিতিতে সাংবাদিকেরা ইন্টারভিউ নেন কী করে! ভিক্টিমের যন্ত্রণা হচ্ছে তারপরও তাকে খুঁচিয়ে এসব বলানোটাও অমানবিক মনে হয় আমার কাছে!) পত্রিকার পাতায় পাতায় ছেপে যায় তার ছবিসহ যাবতীয় তথ্য। অথচ সেখানে হওয়ার কথা ছিলো যে বা যার দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তার বিষয়ে ফোকাস করা। ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির ছবি প্রত্যেকটি পত্রিকায় ছেপে দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেবার জন্য জনগণের সাহায্য প্রার্থনা করা( তা সে যতো ক্ষমতাশালীর আত্নীয়ই হোক না কেন) পরে বিচারের মাধ্যমেই প্রমাণিত ব্যক্তির শাস্তি দেবার বিধান। সোজা হিসেব। কিন্তু আমাদের সবই চলে উল্টা পথে। এই উল্টা সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 'আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না" জাতীয় সংলাপ শুধুমাত্র সিনেমার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য না রেখে দোষী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকরী করার দিকে মন দেয়া দরকার।
কচুর! যেদেশের সরকার প্রধান এবং বিরোধীদলের নেতৃত্বে থাকেন জাদরেল কচুটে দুই মহিলা তারাও এবিষয়ে কিছুই করতে পারলেন না! কান্নাই পায় রে হতভাগী দুটোর কথা ভেবে। অন্তত এই বিষয়ে কাজ করে গেলেও মানুষ হিসেবে তারা সম্মান পেতে পারতেন। হুদাই ক্যাচালে মাতেন তারা! তবে শিক্ষা বলেন, আত্ন সম্মানের ব্যাপারে সচেতন হতে বলেন আর পারিবারিক শিক্ষার ব্যাপারে নারী কিংবা পুরুষ দুই ভিন্ন স্বত্ত্বার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষার কথাই বলেন এতসবের পরও আমার মনে হয় আত্নরক্ষার জন্য দেশের প্রত্যেকটা নারীকেই ক্যারাটে-কুংফু শিক্ষা নেওয়াটাও জরুরী। সত্যিই জরুরী! যেন তেমন কোন সাঈদ ব্যাটা ঢিলটির বদলে পাটকেলটি বেশ করে খায়
অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা চলে এলো বলে ক্ষমাপ্রার্থী শাপলাপু!
আবার বলি, তথ্যসমৃদ্ধ এবং শ্রমসাধ্য এই পোষ্টটির জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং উত্তম জাঝা! ভালো থাকা হোক।
লেখকের মন্তব্য
ভাই বাতিঘর, আমি তোমার অনুভূতিটা বুঝতে পারছি। তাই তোমার কথাগুলোকে খুব আন্তরিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিচ্ছি তার বেশী কিছু নয়।

আত্মরক্ষার কৌশল সবারই জানা ভালো তবে, "ইটটি খেলে পাটকেলটি খেতে হবে, এটা কিন্তু কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালো হিসাব নয়।" সমাজের কিন্তু ক্রান্তিলগ্ন শুরু হয়ে গেছে। মানে সমাজটা একটা অস্থরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রুমানার ঘটনার পরের দিন এক খবরের কাগজে দেখলাম, "এক কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, তারপর দিন মার্টিন খুন হলেন পরিবারের হাতে, কাল শুনি এক স্ত্রী লাথি মেরে তার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। খহুব বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিন্তু আমার কাছে খুবই ভয়ের।
তার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে, পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিভেদটা ভুলে যাওয়াই বোধ হয় ভালো হবে। কি বল?
চমৎকার লেখা।
কিছু পরামর্শ:
১। ইংরেজি কোটেশান কপি করে আগে ওয়ার্ডে/ নোটপ্যাডে নিন। স্পেইস ঠিক করে তারপরে পেস্ট করুন।
২। বিষয়ভিত্তিক শিরোনামগুলো নীল রঙ, বোল্ড করে দিন।
৩। লেখায় একটি নির্দিষ্ট স্টাইল ফলো করুন। সব পয়েন্টে ক্রমিক নাম্বার দিবেন না। যখন পয়েন্টগুলো ক্রম অনুসরণ করে, শুধু তখন ক্রম উল্লেখ করুন। অন্যসময় # বা বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন।
৪। পুরো লেখা শেষ হলে অ্যালাইনমেন্ট জাস্টিফাই করুন।
---------------------------------------------
যেখানে এরকম সাহসী একটা লেখা লিখলেন, অন্য মানুষকে শক্ত হতে বলছেন সেখানে আপনি কমেন্টের উত্তর দিতে ভয় পাচ্ছেন কেন? শক্তভাবে জবাব দিন। গালিগালাজ, ব্যঙ্গ যাই আসুক না কেন যুক্তি দিয়ে পরাস্ত করুন। আপনার উদ্দেশ্য সৎ হলে সহব্লগারদের সমর্থন তো থাকবেই।
শুভেচ্ছা রইল।
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর পরামর্শের জন্য। পারবো কি ঠিক করতে? আল্লাই জানে। তবে যেগুলোতে ক্রম দিয়েছি, সেগুলো ক্রম অনুসারেই হবে। মানে হতেই হবে তা না, তবে এরকম ক্রম হলে, ভালো হবে।
ভাইরে আপনি আমার ব্লগ ঘুরলে দেখবেন, আমি একদম লিখতে পারিনা। ভয়ে তাই লিখিই না। না লেখার আরও দুটো কারণ আছে, সে দুটো হল, ১। সময় পাইনা। সময়ের অভাবে বরাবর তাড়াহুড়ো করতে হয়। বেশীর ভাগ সময়ই পরিমার্জন ছাড়াই প্রকাশ করে ফেলি, নাহলে হয়তো আর লেখাই হয়না। তবে স্বীকার করছি এটা আমার মারাত্মক দোষ।
২। আমি একেবারেই টেকি-ফ্রেন্ডলি না। একটা কিছু না পারলেই ব্লগে আজান দিতে হয়। ছাত্রী হিসেবে বরাবরই গাধা পর্যায়ের। কিছু যে শিখে মনে রাখবো, তাও পারি না।
যাক, চেষ্টা করছি- ঠিক করে দেবার। একবারে তো সময় হবে না, একটু একটু করে করবো।
ভাই, যুক্তিতে আসলে যুক্তি দিয়ে খন্ডানো যায়, নোংরামির বদলে নোংরামি করতে আমি বড় ভয় পাই। আমি যে ভয় পাই, তাতে আমি খুবই সুখী। একটুও আফসোস নেই।
লেখকের মন্তব্য
চেষ্টা করেছি, দেখুন তো এবার ঠিক আছে কিনা? আরও ভুল থাকলে ধরিয়ে দেবেন প্লীজ। আমি ছাত্রী গাধা হলেও খুব বাধ্যনুগত। নতুন এবং ভালো যে কোন কিছু শিখতে আমি খুব আনন্দ বোধ করি।
চমৎকার পোস্ট
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ কবি।
পোস্টটা প্রিয়তে নিচ্ছি। আমার এক বান্ধবীর এবং সবার জন্য পোস্টটা অনেক দরকারী।
লেখকের মন্তব্য
জোৎস্না পরী ধন্যবাদ পোষ্ট টা প্রিয়তে নেবার জন্য।
তবে তোমার বান্ধবীকে বলো, মানুষের উপর বিশ্বাস না হারাতে।
বেশীর ভাগ মানুষই নিজের যুক্তি তর্কগুলোকে তুলে ধরে খুব প্রথাগত (traditional way) কায়দায়। সেই কায়দার সঙ্গে মিশে থাকে হাজার বছরের সংষ্কার, রাজনৈতিকা, সামাজিক, ধর্মী্য় দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা।
এরা বিবেকের চাইতে আবেগকে ব্যবহার করে বেশী।
তার মানে এই নয় যে বিবেকবান মানুষগুলো মরে গেছে।
দেখছই তো রুমানার প্রসঙ্গে মানুষ স্পষ্টতই দুইভাগ হয়ে গেছে। বিবেকবান মানুষের সংখ্যা কম হলেও তাঁরা কিন্তু বসে নেই। তাঁরা অন্যায়কে অন্যায় বলেই চিহ্নিত করছেন।
বিয়েটাকে যদি ভাগ্য বলেই মানতে হয়, তাহলে খামোখা নেতিবাচক ভাবনাটা না ভাবাই ভালো। ভালোও তো হতে পারে।
ভালো থেকো।
লেখকের মন্তব্য
এই পোষ্টটাকেও স্টিকি পোষ্ট করার জন্য, মডারেটরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
তবে আমি মনে করি, এধরণের স্টিকি পোষ্টের ক্ষেত্রে লেখক হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা অনেক
দেখ, জোৎস্নাপরী আমার লেখাটাকে আদর্শ ভেবে, কিছু অশুভ ভাবনাকে প্রশ্রয় দিও না। আমার লেখাটায় সমাজের শুধু অন্ধকার পিঠটা দেখিয়েছি। আলোর দিকটা দেখাইনি।
আলোর দিকটা হল, সমাজে বিবেকবান মানুষেরা কিন্তু এখনও একেবারে মরে যাননি। তাঁদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। সমাজ কিন্তু একটু হলেও পাল্টেছে।
উদাহরণ দেই, আগেকার বাবারা শুধু বউ নয়, ছেলে কথা না শুনলে, আকছার পেটাতেন, ছাত্র/ছাত্রী পেটাতেন শিক্ষকরা। আজকাল কিন্তু সে ধারণার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে।
এখন অনেক ছেলেরাই আছেন, যারা বউ এর গায়ে হাত তোলা তো দূরে থাক, বউকে কটু কথা বলতেও লজ্জিত বোধ করেন। (যদিও সংখ্যায় অনেক কম। জীবনে চলার পথে সংখ্যাটাই সব নয়, কারণ জগতে বরাবরই শুভ বোধ এর সংখ্যা অনেক কম থাকে। কিন্তু জেনে রেখ, তারা অনেক শক্তিশালী)। আজকাল ছেলেকে পেটানো বা ছাত্রকে পেটানো ডোমেষ্টিক ভায়োলেন্সের পর্যায়ে পড়ে।
তুমি কি মনে কর? একটা পরিবারে, মা যদি সর্বেসর্বা হন, খুব ডমিন্যান্ট হন, তাহলে সেটাই কি শ্রেষ্ঠ পরিবার? আমার মনে হয় তা নয়।
সাধারণতঃ পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, সব কিছু মিলিয়ে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। এখানে পরষ্পরের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ধর, বিয়েকে ভয় পায় বলে- একজন বিয়েই করল না। কিন্তু বিয়ে না করেও একজন একটা সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। তখনও সে যদি পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, এসবের প্রতি সচেতন না থকে---তবে তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরী হবে।
এটা ভাই-ভাই, ভাই-বোন, বোন-ভাই সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
একটা আলোর দিক দেখাতে, আমি ব্যাতিক্রমকে (রুমানার ঘটনা) উদাহরণ হিসেবে টানলাম না।
ভালো থেকো।
সমাজের অন্ধকার দিক্!!!!!!!!!!! আমাদের সমাজের আলোকিত দিক কোথায় আপু??????????যে সমাজে ছোট বেলা থেকে আমাদের আলাদা করে বড় করে তোলা হয়?ছোট ছেলেটা কে বোঝানো হয় ও রাত করে ফিরতে পারবে ওর বোন পারবে না,ও বৃষ্টি তে ভিজে নাচতে পারবে,বোন টির জন্য তা মানা।
দোষ কি আমাদের না?যারা ছোট বেলা থেকেই ছেলেদের দোষ গুলকে 'ছেলেরা এমন একটু হয় ই' বলে উড়িয়ে দেই।
এই সাপোর্ট গুলই কি আজকের সাইদ তৈরি করছে না?
লেখকের মন্তব্য
অনন্যা, তোমার সব কথাই ঠিক। তবুও বলবো আলো আর অন্ধকার পাশাপাশি থাকে। সমাজে এখনও আলোকিত মানুষ আছেন। এটা আমার নিজস্ব বিশ্বাস। আমাদের এখনও সব কিছুতেই বিশ্বাস হারালে চলবে না।
লেখা ফেসবুকে এক বন্ধুর ওয়ালে পড়েছি। অনেক ভালো লেখা
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ প্রাচী। আমি বিনীত।
চমৎকার পোস্ট।
আর ঐযে বাংলাদেশের অবস্থার জায়গাটা। ওখানেই আমরা আটকে আছি।
ধন্যবাদ কতৃপক্ষকে পোসট টি স্টিকি করায়।
উপপাদ্য
আপু অনেক ভাললেগেছে লেখা টা। অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন। আপনার লেখা দেখেই আমিও লেখার উৎসাহ পেলাম।
ভাল থাকবেন। 
লেখকের মন্তব্য
এ আমার জন্য বড় প্রাপ্তি মেঘ রঙ।
ভালো থাকুন নিরন্তর আর বেশী বেশী করে লিখুন।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ আরেকবার সবাইকে কষ্ট করে লেখাটা পড়বার জন্য।
৭/৮ দিন ব্লগের বাইরে ছিলাম বাধ্য হয়ে, এর মাঝে ঘটে গেছে এত কাণ্ড! পোস্টের গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ মন্তব্যের জোয়ারে। মন্তব্য আর তার উত্তর, সাথে প্রতিমন্তব্য, সব মিলিয়ে নারী-পুরুষ ছাড়িয়ে আমরা মানুষ হবার পথে এগুবার চেষ্টা করছি দেখে খুব ভালো লাগছে। সমতা চাই, সব মানুষের সমতা - নারী ও পুরুষের দৈহিক সমতা তো সম্ভব নয়, সকলকে মানুষ মনে করতে পারলেই বিভেদের ঊর্দ্ধে উঠা সহজ হয়।
শাপলাকে অভিনন্দন, সহব্লগারদের উদ্দীপিত করার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
সমতা চাই, সব মানুষের সমতা - নারী ও পুরুষের দৈহিক সমতা তো সম্ভব নয়, সকলকে মানুষ মনে করতে পারলেই বিভেদের ঊর্দ্ধে উঠা সহজ হয়।ধন্যবাদ নাজমুল ভাই, পাশে থেকে আমাকে সাহস দেবার জন্য।
মন্তব্য করুন