শাপলা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


ক’দিন আগে প্রথম আলো পত্রিকায় একটা লেখা পড়লাম। লেখাটিতে বলা হয়েছে, দেশের বাচ্চারা মারাত্মক আসক্ত হয়ে পড়েছে, এনিমেশন সিরিয়াল দোরেমনের প্রতি এবং যার ফলশ্রুতিতে বাচ্চারা আকছাড় হিন্দি বলছে, পাশাপাশি বাচ্চারা অনেক অনৈতিক কাজও করা শিখছে। যেমনঃ কার্টুনের একটি চরিত্র নবিতা মিথ্যা বলে, তাই বাচ্চারাও মিথ্যা বলছে।
দোরেমন এনিমেশন সিরিয়ালটি মূলতঃ একটি জাপানিজ এনিমেশন। যার আসল নাম ডরায়মন, যেটি হিন্দিতে হয়ে গেছে দোরেমন। দেশের অনেকেই শংকা প্রকাশ করছেন, বাচ্চাদের হিন্দি শেখা নিয়ে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখি একটু অন্যভাবে। বাচ্চারা যে কোন ভাষা দ্রুত আয়ত্ত্বে আনতে পারে এবং এক সঙ্গে দুই তিনটা ভাষাও শিখতে পারে খুব দ্রুত। এটা শিশুদের ত্তত্বীয় জ্ঞান বিকাশের একটা অংশ। বিষয়টাকে যদি শিশুর শিক্ষণ হিসাবে ধরে নেই, তাহলে বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি ভাষা শেখাটাও তাদের ত্তত্বীয় জ্ঞান বিকাশেরই একটা ধাপ। এটা রীতিমত শিশুর একটি দক্ষতা। সারাক্ষণ হিন্দি শুনলে যে, ঝকঝকে হিন্দি বলতে শিখবে এটা কোন অবাক হবার মত বা শংকিত হবার মত কিছু বলে আমি মনে করিনা । কারণ এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে আশার কথা এই যে, যেহেতু তারা হিন্দি লিখতে এবং পড়তে শিখছে না, সেহেতু হিন্দি বিরোধী অনুকূল পরিবেশ পেলেই তারা আবার তা ভুলেও যাবে। বাচ্চারা তো আসলে নিজেরা নিজেদের ভালো মন্দ বোঝেনা। তারা নিজেরা বুঝে কোন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। তাদের শিক্ষাই শুরু হয়, তাদের পরিবার, স্কুল এবং তাদের পারিপর্শ্বিক অবস্থা থেকে। তারা তাদের সামনে যা দেখে তারই অনুকরন করে মাত্র। কাজেই বাচ্চারা যদি ঝরঝরে হিন্দিতে কথা বলে, অথবা কার্টুন দেখে, বন্ধুদের সাথে মারামারি করে, বা হিরো সাজার জন্য এক ছাদ থেকে লাফিয়ে আরেক ছাদে পড়তে যায়, অথবা মুড়ি-মুড়কির মত মিথ্যা বলে, তাহলে এটাতে চমকে ওঠার কিছু নেই। শিশুদের জন্য এটাই স্বাভাবিক।
আমি বলব, বাচ্চারা শুধু কার্টুন দেখেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, আমেরিকান একটা গবেষণায় দেখা গেছে, বাচ্চা শিশুতোষ প্রোগ্রাম দেখে মাত্র ১০ ভাগ আর ৯০ ভাগ দেখে বড়দের জন্য তৈরী করা প্রোগ্রাম। আমি মনে করি, বাংলাদেশেও তার ব্যাতিক্রম নয়। হিন্দি বলা কিম্বা মিথ্যা বলা তো শুধু বাচ্চারা দোরেমন দেখে শিখছে না। শিখছে হিন্দি গান, হিন্দি সিনেমা, হিন্দি সিরিয়াল এ সব থেকেও।
কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের শংকিত হবার, বিচলিত হবার, মনোযোগ দেবার জায়গাটি ভিন্ন, সেটি হল- বাচ্চাদের নৈতিক আচরণের বিকাশটা ঠিক মত হচ্ছে কিনা? শিশুর নৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া ভীষন জরুরী। আমার একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত হল, আমাদের ইতমধ্যেই অনেক দেরী হয়ে গেছে। কারণ সুস্থ নৈতিক বিকাশ, শিশুদের সব ধরণের অনৈতিকতা অনেক খানি কমিয়ে এনে তাদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও সৎ জীবন যাপনে সাহায্য করে। যেমনঃ যে বাচ্চাটা দূর্দান্ত হিন্দি বা চোস্ত ইংরেজী বলছে, তাদের কি কখনো শেখানো হচ্ছে, তোমার ইংরেজী বা হিন্দির দক্ষতাটা অনেক ভালো কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশী জরুরী নিজের মাতৃভাষাটাকে ভালোভাবে জানা বা শেখা। অথবা মিথ্যা বলাটা কোন ভালো কাজ নয়।
এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো। ডরায়মন কিন্তু জাপানিজ বাচ্চাদের মধ্যেও অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু এটি তাদের মধ্যে কোন নৈতিক সংকট তৈরী করেনি। কারণ জাপানিজ শিশুদের নৈতিক আচরণ বিকাশের ক্ষেত্রে বাবা-মা সহ তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। উন্নত বিশ্বেও শিশুর আচরণের উপর মিডিয়ার প্রভাব একটা বড় সমস্যা। কিন্তু উন্নত দেশের নৈতিকতা শিক্ষার বিষয়টিও অনেক শক্তিশালী।
ব্যাক্তিগত একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি জাপানে যে জুনিয়র হাই স্কুলে পড়াই, তার পাশের একটা জুনিয়র হাই স্কুলের ক্লাস এইটের বাচ্চা স্কুলের পরে, নিজের বাড়িতে সুপার ম্যানের অনুকরণ করতে গিয়ে এক ছাদ থেকে লাফিয়ে আরেক ছাদে লাফিয়ে পড়তে গিয়ে পড়ে মারা যায়। দৈনিক পত্রিকা গুলো এ সব খবর খুব সযতনে গোপন রাখে। কারণ এ সব জানলে, অন্য বাচ্চারা মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তাই। কিন্তু মিডিয়া অন্যভাবে চাপ তৈরী করল, লেখালেখি শুরু হল, যে স্কুল গুলো বাচ্চাদের ভালোভাবে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাস! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোয় তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। আমি যে প্রদেশে থাকি, সেখানকার ১৫৬ টা স্কুলে একই দিনে একই সাথে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষা ক্লাসের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাস নেওয়া হল। টিন এজ বাচ্চাদের বোঝানো হল, সচিত্র- যেটাকে তারা বৃষ্টির পর কাদা-জল জমে যাওয়া ছোট্ট গর্ত ভাবছে, না জেনে সেটাতে খেলার জন্য, একটু আনন্দের জন্য পা দিয়ে পানি ছিটাতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ ওটা বড় গর্তও হতে পারে, যেখানে বাচ্চারা ডুবে যেতে পারে।
Glub Glub
He thought it was
The biggest puddle
He'd go splashing through.
Turns out It was
The smallest lake......
And the deepest, too.

শিশুদের নৈতিক অধঃপতন কিন্তু শুধু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্যই ঘটছে, তা কিন্তু নয়। কারণ মিডিয়া অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের জন্য বিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। শিক্ষামূলক বা মান সম্পন্ন শিশুতোষ অনুষ্ঠানগুলো যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শিশুর নৈতিক অধঃপতন তার সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শিশুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার পিয়ার গ্রুপ এবং দারিদ্র, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সর্বোপরি বাবা-মা’র এবিউসিভ পেরেন্টিং এবং মিস গাইডেন্সের জন্যও ঘটে থাকে।
একটা সামান্য ভুলের জন্য শিশুকে শিক্ষক শাস্তি দিচ্ছেন, তার সমবয়সীদের সামনে বিশ্রীভাবে অপমান করছে। বাড়িতে ফিরেও শিশুটি তার ভুলের জন্য শাস্তি পাচ্ছে। তাহলে শিশুটি শাস্তি এড়ানোর জন্য মিথ্যা বলবে, এটা একটা শিশুর জন্য যেমন স্বাভাবিক তেমনি, শিশুটির নৈতিক বিকাশ যদি ঠিকভাবে না হয়ে থাকে অথবা বাবা-মা যদি বিষয়টি ঠিকভাবে হ্যান্ডল করতে না পারেন, শিশুটি নিজেই শুধু মিথ্যা বলবে না, আরো বড় ধরণের অপরাধ করতে পারে।
এক নজরে একটু দেখে নেই, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভায়োলেন্স বা বিভিন্ন ভিডিও গেমস বাচ্চাদের কিভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি করছে?
বাচ্চারা যে সব প্রোগ্রাম দেখে তখন চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যায় তারা বিভিন্ন ধরণের আবেগীয় অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এক এক বাচ্চা এক এক ধরণের শিক্ষা নেয় এবং বয়স অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে থাকে। আর এ সব ভিডিও গেমস বা টিভি ভায়োলেন্স দেখে শিশুরা অনেক বেশী আগ্রাসী হতে শেখে।
বাচ্চারা এসব ভায়োলেন্স মানে হিন্দি বা বাংলা সিনেমার মারপিট দেখে অনেক বেশী ভীত হয়ে পড়ে এবং সেই বিষয়টা তাদের আবেগীয় বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা অল্পতেই উদবিগ্ন বা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
এসব দেখে দেখে বাচ্চাদের অনুভূতি অনেক ভোঁতা হয়ে যেতে পারে, তারা আর অন্যের দুঃখ কষ্টে তেমন বিচলিত হতে শেখে না।
আস্তে আস্তে শিশুরা ভূতের ছবি বা যে কোন ভায়োলেন্সের সাথে অভিযোজিত হয়ে পড়ে। এসব দেখে আর তারা কোন ধরণের ভয় পেতে শেখে না।
এক পর্যায়ে তারা ভায়োলেন্সকে মনে করে, তাদের জীবন –যাপনের একটা অংশ। ভায়লেন্স দিয়ে অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
এরপর শিশুরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী চরিত্র ওনুক রণ করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
একটি রাস্ট্র বা সমাজ শিশুদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দিতে ব্যার্থ হলে, আসলে সব দায়-দায়িত্ব গিয়ে বাবা-মা’র উপরেই বর্তায়। যদিও এটা বাবা-মা’র জন্য এটা একটা বিশাল সামাজিক চাপ। তবুও বলতেই হবে, এক মাত্র বাবা-মাই পারেন শিশুর নৈতিক এবং আবেগীয় বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
বাবা-মা’ কি কি করতে পারেন?
শিশুদের নৈতিক বিকাশের একটা অন্যতম উপায় হল তাদের সাথে বিভিন্ন ধরণের নৈতিক খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচলা। শিশুটি যে প্রোগ্রামটি দেখছে, কি ভাবে দেখছে, এসব নিয়ে আলোচনা করলে, ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
যেমনঃ অমুক চরিত্রটি সব দুষ্টু লোককে গুলি করে মেরে ফেলল, বন্দুক থাকলে তো মেরে ফেলা সহজ। কিন্ত আমি ভাবছি- বন্দুক ছাড়াই ও কিভাব এ সমস্যাটার সমাধান করত? তুমি এ বিষয়ে কি ভাবছ? তুমি হলে বন্দুক ছাড়াই কি ভাবে কাজটা করতে? জিজ্ঞাসা করুন আপনার শিশুকে। শিশুদের নিরাপদ এবং ভালো যুক্তি দিয়ে নৈতিক বোধটাকে চাঙ্গা করা প্রয়োজন।
দোরেমনের নবিতা মিথ্যা বলছে কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে, কোন বাচ্চা যদি সত্যি সত্যি স্কুলে মিথ্যা বলতে শেখে, তাহলে কি হবে? কিম্বা তুমি যদি আমার সাথে মিথ্যা বল, তাহলে কি হবে? জিজ্ঞাসা করুন আপনার শিশুকে। শিশুর কাছে থেকে বার বার জেনে নিন, তুমি যে প্রোগ্রামটা দেখছ - তাতে সেখানে ওরা কি ভাবে সমস্যার সমাধান করছে? তারপর জিজ্ঞাসা করুন, এই সমস্যটা আরো কি বাস্তব সম্মতভাবে এবং নৈতিকতা বজায় রেখে, কোন সংঘাতে না গিয়ে ভালোভাবে সমাধান করা যায়? শিশুর সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং আলোচনার কোন বি্কল্প নেই।
একটি বাচ্চা রোজ ৪ ঘন্টা টিভি দেখলে সপ্তাহে সে টিভি দেখে ২৮ ঘন্টা। বাবা-মা কি সময়টা কখনো খেয়াল করেছেন? বিকল্প আকর্ষনীয় ব্যাবস্থা করে সময়টা কমিয়ে আনা জরুরী।
টিভি দেখা বা ভিডিও গেমস খেলার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেধে দেওয়া খুব জরুরী।
বাবা-মা’ অবশ্যই জানা থাকা প্রয়োজন, যে বাচ্চারা কোন প্রোগ্রামটা দেখছে। যেমনঃ বাবা-মা নিজেই যদি কাহানি ঘর ঘর কি, কাভি শাস কাভি বহু থি তে আসক্ত হন, আর সেটা যদি শিশুরাও দেখে, তাহলে আমি নিশ্চিত বলে দিতে পারি, দোরেমন না দেখলেও দেশের শিশুরা মিথ্যা বলতে বা জটিল ভাবে ভাবতে শিখবে। পাশাপাশি বাচ্চা যে প্রগ্রামটি দেখছে, সেটী বাচ্চার পাশে বসে বাবা-মা’র দেখাটাও জরুরী। তাতে আলোচনা করে অনুষ্ঠান্টির মোর্যাল পার্সপেক্টিভ বাচ্চাকে ভালোভাবে বোঝানো সম্ভব।
কাজের লোকটির সাথে বসে ২ থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা টিভি দেখছে কি না, কিম্বা বাবা-মা নিজেই যখন ভয়াবহ ব্যাস্ত সেই ফাঁকে বাচ্চা যা খুশী তা দেখছে কি না সেটি সম্পর্কে বাবা-মা’র সচেতন হওয়া খুবই প্রয়োজন।
টিভি যেন কিছুতেই শিশুদের এক মাত্র বিনোদন না হয়।
বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প শোনানো, আরো যে সব বিষয়ে বাচ্চার আগ্রহ আছে, সেগুলো শিশুদেরকে উতসাহিত করা জরুরী।
শিশুরা কি কি অনুষ্ঠান দেখবে এবং সে গুলো মানসম্মত কি না, সেটা বেছে নেওয়া অনেক জরুরী।
যে সব অনুষ্ঠান বাচ্চাদের ক্ষতি করতে পারে বলে, ভাবছেন তা অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যেমনঃ সারাদিন স্যাটালাইটের মাধ্যমে "শীলা কি জওয়ানি" না চালিয়ে, "কাহানি ঘর ঘর কি" অথবা "কার্টুন নেটওয়ার্ক" না দেখার বদলে, বাবা-মা’ রা নিজেরাও ভালো কোন ছবি সংগ্রহ করে দেখতে পারেন নিজের সুবিধা মত সময়ে আবার বাচ্চাদের জন্য কিনে আনতে পারেন কোন ক্লাসিক কার্টুনের ভিডিও।
সব বাবা-মা একটি সামাজিক চাপ তৈরী করতে পারেন, সরকারকে বা টিভি চ্যানেল গুলোকে বাধ্য করতে পারেন, যেন বাচ্চাদের উপযোগী মান সম্পন্ন প্রোগ্রাম বেশী বেশী করে তৈরী করা হয়।
সমাজে সকল বাবা-মা’র সম্মিলিত প্রচেষ্টা সৃষ্টি করতে পারে শিশুর উপযোগী নতুন পথ।
মন্তব্য
কাজটা কঠিন। প্রথমত এই পোষ্ট যাদের জন্য প্রয়োজন তাদের একজনের চোখে পড়বে কিনা সন্দেহ। দ্বিতীয়ত: পড়লেও বিনোদন নাই, খালী জ্ঞানের কথা, পড়া শেষেই ভুলে যাবে। আর যাদের মনে থাকবে, তারা পুরা ফ্যামিলি যেখানে কিউ কি সাস ভি দেখার জন্য ওয়েট করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ফাইট করে চ্যানেল চ্যান্জ করানো, সম্ভব না। ক্ষোভ থেকে এই কথাটা বলা।
শৈশবে নৈতিক ভিত্তিটা যে কত জরুরী, সেটা এই উদাহরনই যথেষ্ট: অন্য একটা ব্লগে একটা উদাহরন দিয়েছিলাম, নৈতিকতা কীভাবে প্রভাবিত করে ছেলেমেয়েদের। আমার এক উনিভার্সিটিমেট, ওর হাজব্যান্ডের একটা এলজিইডি'র একটা জায়গায় জব হয়। সে সবাইকে মিষ্টি বিতরন করে বলছিলো, এত ঘুষের জায়গা এটা, অনেক টাকা! প্রসঙ্গত বান্ধবীটির বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার।
আমরা নিজেদের সন্তানদের ভালো খাওয়া আর ভালো জায়গায় পড়ানো ছাড়া এর বাইরে আসলেই কি কিছু ভাবি? মনে হয় না। কম্পিটিশান করতে/করাতে গিয়ে নৈতিকতার দিকে তাকানোরই টাইম কই? দরকার হইলে ম্যানেজিং কমিটিরে লাখ খানেক টাকা ঘুষ দিয়া ভালো স্কুলে/কলেজে ভর্তি করাইতে পারলেই কাম শেষ। পরে যেমনে পারো ভালো রেজাল্ট কর। তারপরে পোলা লায়েক, ভি চিহ্ন দেখাইয়া ছবি। তারপর বাপ-মার আর কোনো চিন্তা নাই।
অলি আহমেদ'র এখন দিন খারাপ, এর বানী মুখে নিলেও মাইর খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তারপরেও অলি আহমেদের একটা বানী না কইলে মনটা ভরতেছে না। উনি বলছিলো: "লোকজন বলে যে, এ খারাপ, ও খারাপ; আর আমি বলি এ/ও না, এর/ওর বাপ খারাপ" নিজেদের নৈতিক ভিত্তি দূর্বল হইলে পোলাপাইন কি হইলো আসলেই তাকানোর টাইম নাই।
পদ্ম ভাইয়ের কমেন্টে ভোট দিয়ে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ উদরাজী ভাই।
লেখকের মন্তব্য
পদ্ম কষ্ট করে আমার লেখাটা পড়ার জন্য এবং এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য,সনির্বন্ধ কৃতজ্ঞতা।
তোমারে একটা গল্প বলি,আমারে আমার আশেপাশের লোকজন দুই চোক্ষে দেখতে পারে না। সবাই মোটামুটি এড়িয়ে যায়। আমারে দেখলেই, বুঝিয়ে দে্য, ঐ যে আ্ঁতেল আসছে।
ব্লগে এসব দিলে, দু-তিন খানার বেশী মন্তব্য পড়ে না। খুঁটির জোর বা লেখার তেমন জোর নেই যে, দৈনিক পত্রিকায় দেব। দিলেও যে কেউ পড়বে বা অনুধাবন করবে, তা বিশ্বাস করি না।
শিশুদের নিয়ে ভাবি, তাবি তাই লিখে নিজের ওয়ালে পোষ্ট করি। মাঝে মাঝে একে তাকে ট্যাগ করে বিরক্ত করি। জানি, এসবের কোন মানে নেই। আজও ব্লগে দিতাম না। ব্লগার মেঘ অদিতি বললেন, "এ লেখা শুধু ফেইস বুকে নয়, সবার পড়া উচিট।" তাই পোষ্ট করেছি। অনেকটা মজা দেখার জন্য। আমি ভালো করেই জানি, আমার চেয়ে সবাই অনেক জ্ঞানী। আমার এই কচকচানি কারও কোন উপকারেই লাগবে না।
ভুটাইলাম।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ইমরান। আমি বিনীত।
বাবা-মাদের জন্য অবশ্য পাঠ এইটা।
পোস্ট পড়েছি।
আলোচনা করার অনেক জায়গা আছে। সময় করে বলে যাবো।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ শিমুল, কষ্ট করে লেখাটি পরার জন্য। তোমার আলোচনার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখা পড়ার মাঝে কোন কষ্ট নাই। পুরা পোস্টে শতভাগ সহমত। পোস্টটা পড়ে ছেলেবেলায় নিজের টেলিভিশন দর্শন নিয়ে ভাবছিলাম। ছেলেবেলায় আমার টিভি দেখা সীমিত ছিলো মোটামুটি পাঁচটা থেকে সাতটার মাঝে। মূলত কার্টুন নতুন কুঁড়ি কিংবা ছোটদের জণয় অনুষ্ঠানের বাইরে তেমন কিছু দেখবার সুযোগ ছিলো না। নয়টার পড়ে ফ্যামিলির সবাই মিলে বিটিভির নাটক দএখতো। সবার সাথে আমিও বসতাম। কিছু না বুঝে ঘুমিয়েও পড়তাম। তবে যাই দেখতাম আমার প্যারেন্টস তা থেকেই পজিটিভ বের করে আনার চেষ্টা করতো। আকাশ সংস্কৃতির কারণে হয়তো আমাদের কাছে এখন ওিভাবে শিশুদের রেস্ট্রিক করা কঠিন তবে যাই দেখুক শিশু মূল্যবোধের স্ফুরণ ঘটানো জরুরি।
আমার কাছে অবশ্য মনে হয় সমস্যা হলো আধুনিক মা বাবাদের। তারা নিজেরাই যথেষ্ট পরিমাণ সলিড নন মূল্যবোধের ব্যাপারে (আমাদের আগের জেনারেশনের তুলনায়।) ভোগবাদী চিন্তা আমাদের জীবন দর্শন ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। ফলাফল হচ্ছে আমরা কিংবা পরবর্তী প্রজন্ম কোথায় যাচ্ছি বলা মুশকিল। আপনার লেখা আমি ভালো বলে লাভ নেই, যাদের বিষয়গুলো বুঝা দরকার তাদের এত কষ্ট করে জ্ঞানী আলোচনা পড়বার দরকার নাই, তারা তার পরিবর্তে মীর আখ্কেল দেখে হাসবে, নইলে লাক্স চ্যানেল আইতে বাচ্চা মেয়েদের শরীরকে মনে মনে ধর্ষণ করবে অথবা হিন্দী সিরিয়ালের বেড়াজালে নিজের েবং আশেপাশের জগতকে পরকীয়াময় জটিল দেখতে শুরু করবে।
সব দেখে শুনে খালি পিডাইতে ইচ্ছা করে । কিন্তু কারে পিডামু এইটা বুইঝা পাই না।
পোস্টে সপ্ততারা খচিত হলো।
লেখকের মন্তব্য
বাচ্চু, ঠিকই বলেছ,
।
শেষের দুই লাইন পরে হাসতে হাসতে শেষ।
ঠিক বাচ্চারা কি দেখছে বা কি টাইপ ভিডিও গেইম খেলছে এটা সব সময়ই খেয়াল করা উচিত। আর বাবা-মাই পারেন শিশুর নৈতিক এবং আবেগীয় বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
সুন্দর পোস্ট
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ জলরঙ।
শাপলাপু, খুব গুরুত্বপূর্ন একটা লেখা, মেঘাপুকে ধন্যবাদ আপনাকে ইন্সিষ্ট করার জন্য আর আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটা ব্লগে দেয়ার জন্যে।
লেখকের মন্তব্য
আমি বিনীত রাব্বি। তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।
শিশুদের নিয়ে লেখিকার ভাবনা-চিন্তার সাথে একাত্মতা বোধ করছি। আবার পদ্মর কমেন্টের সাথে দ্বিমত পোষণের কোন অবকাশ নেই। আমাদের চারপাশে সহজে শেখার এত কিছু আছে যে, শিশুকে সে সব থেকে দূরে রাখা দুষ্কর, আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মা নিজেরাই বুঝে হোক বা না বুঝে হোক ছেলেমেয়েদের ঠেলে দিচ্ছেন অনৈতিক শিক্ষা গ্রহণের দিকে। পরিবারের মধ্যেই তো নানান অরাজকতা বিরাজমান, সে সব থেকে শিশুকাল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ শুরু হয়, চোখ বন্ধ করে রাখি বলে আমরা তা বুঝতেও পারি না, বা বুঝেও না বোঝার ভান করি। সচেতন অভিভাবক আছেন কয়জনই বা! আবার যাও বা আছেন, তারা এমন সচেতন যে তাদের সচেতনতা শিশুকে পঙ্গু করে ফেলে, স্বাভাবিক বৃদ্ধির সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়। শিশুদের সঠিক পথ দেখাবার জন্য তাই আগে দরকার বাবা-মায়েদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ।
শাপলার এই সচেতনামূলক পোস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কয়জন এটা পড়বে আর পড়লেই কী তাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে?
লেখকের মন্তব্য
নাজমুল ভাই আপনাকেও স বিশেষ কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্য। হ্যাঁ আমি বাবা-মা'র অতি সচেতনতা এবং অতিরিকত উত্সাহ দিলে সন্তানদের কি কি ক্ষহতি হ্য়, সে সব নিয়েও লিখেছি। ব্লগে দিতে সাহস পাই না।
আপনার কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস ক রি,
বেশ ভালো পোষ্ট। ফেবুতে শেয়ার করলাম-
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ হালিম ভাই। পোষ্টটা যদি কারো এতটুকু উপকারে লাগে, আমার এ লেখা স্বার্থক।
বাবা-মাদের অবশ্য পাঠ এটা। সচেতনতামূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ নিলয়, কী বলে যে, তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানাব, তার ভাষা জানা নেই।
লেখকের মন্তব্য
এটা ঠিক নয় শব্দ। বাচ্চারা যেমন চটক পছন্দ করে, তেমনি বাইরে খেলতেও পছন্দ করে। পাশাপাশি বোঝলে ওরাই সব চেয়ে বেশই নৈতিকতা বোঝে। দুঃখের বিষয় আমরা ঠিক মত বোঝাই না। আবার ওদের খেলার মাঠ দিতে পারি না। স্কুলে মাঠ নেই, ওরা দৌড়াতে পারে না। বাহিরটা ওদের জন্য আমার দেশ, আমার সরকার নিরাপদ করতে পারেনি। তাই বাবা-মা সন্তানদের বাহিরে দিতে পারেন না। এটা নিঃসন্দেহে বাবা-মা'র জন্য বিশাল চাপ। কিন্তু সন্তান তো তার। বাড়তি চাপটুকু তো বাবা-মা'কেই নিতে হবে।
আবার ঘরে ইনডোর গেমসের কালচারটাও আমাদের বাবা-মা সন্তানদের দিতে পারছেন না। বাচ্চাদের বিনোদন বলতে ঐ টিভি। আমাদের দেশে সম য় থাকলেও বাবা-মা ঘরে সন্তানদের সঙ্গে খেলেন না। বাচ্চাদের সাথে খেলে কাজের লোক। বাবা-মা কোন মোরালিটিই বাচ্চাদের দেন না, খুব দু:খজনক।
যেমনঃ দেশের সব বাচ্চাদের তুমি খেলনা হিসেবে বন্দুক/যে কোন অস্ত্র বা গাড়ি দেখবে। জাপানে কিন্তু কোন বাচ্চার হাতে তুমি বন্দুক পিস্তল দেখবে না। অথচ এনিমেশন বা ভিডিও গেমস তৈরীতে জাপান সেরা। ওদের বাচ্চাদের বাড়ির ভেতরের খেলনা মানেই নিরাপদ কিছু এবং শিক্ষামূলক।
আমার বোনের পাঁচ বছরের বাচ্চাটা, আমার মা'কে কাকুতি মিনতি করছে, "নানী আমাকে একতু মার্কেটে নিয়ে চলো, কিচ্ছু কিনে চাইব না। শুধু খেলব।" মা বললেন, অমুক প্লাজায় গেলে একটু দৌড়াদৌড়ি করতে পারে, তাই যাওয়ার জন্য পাগল। টেলিফোনে ওদের কথা শুনে, সেদিন কেঁদেছি।
শাপলাপু। আপনার উপরের কমেন্টটি দেখে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছা করছে- যেখানে আমার এবং আমার দশ বছরের ছোট ভাইয়ের শৈশবের তুলনা করা হবে। হায়রে কতটা দুর্ভাগা ও!!!

লেখকের মন্তব্য
ইমরান লিখে ফেল, লিখলে-কষ্ট টা যেমন শেয়ার করা যায় তেমনি, অনেকে সেটা দেখে বিকল্প পথ বের করে নিতে পারে। কোনটা কখন কার কোন উপকারে লাগে সেটা তো বলা যায় না আগে থেকেই।
শাপলাপুর প্রায় প্রতিটা কথার সাথে সহমত, তবে, বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবেই চটক পছন্দ করে, আর ফ্যান্টাসির মোড়ক যতটা চকচকে, নৈতিকতার মোড়ক অতটা নয়।
শিশুদের জন্য টিভি বা ভিডিও গেমের চাইতে, আউটডোর খেলাধুলা অনেক বেশী উপকারী। খুব আফসোস হয় যখন দেখি, খাঁচায় বন্দী ছানাপানাগুলো বিয়ে-গায়ে হলুদে কম্যুনিটি সেন্টারের হলঘর পেয়েই বিশাল খুশি হয়ে যায়, খোলা আকাশের নীচে বিশাল একটা মাঠে বাধাহীন ছোটার যে কি আনন্দ, এই ডোরেমন-পোষ্য প্রজন্মের অনেকের সেই ধারণাই নেই।
লেখকের মন্তব্য
আমার মেয়েকে তার ক্লাসের সমবয়সী এক জাপানিজ বাচ্চা মারার পর, আমার বাচ্চা আমাকে নালিশ দিল। আমি বললাম, বাবা কেন মেরেছে? সে বলল, মা ও অনেক দুষ্টু, সবাইকে মারে। ও এত দুষ্টু কেন? আমি বলি, বাবা ও তো ছোট বেবী ও ঠিক বোঝে না যে, কাউকে মারতে হ্য় না। মেয়ে বলে, আমিও তো বেবী। আমি বলি, তাহলে ও তোমাকে মারার পর কি করলে? ওকে মেরেছ? মেয়ে বলে না। বললাম, কেন মারনি? তুমি যে বললে তুমি বেবী। মেয়ে অনেক ক্ষণ ভেবে বলল, আম্মু আমি বোধ হয় একটু একটু বুঝতে পারি।।।।।হা হা হা । আমি বলি, মা তাহলে ও যে তোমাকে মেরেছে, তার জন্য কি তোমার বেশী মন খারাপ? মেয়ে বলে, না আম্মু ও তো বোঝে না, এরপর আমাকে মারলে, আমি ওকে বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করব।
এরকম ঘটনায়, হরহামেশাই দেশের বাবা-মা বিশেষ করে, মা প্রথমে স ন্তানকে বলেন, খবরদার ওর সাথে মিশবে না। তারপর জনে জনে গল্প করে, "জানেন আপা, অমুকের বাচ্চাটা এত খারাপ, আমার মেয়েটাকে মেরে কিছু রাখে না। আপনার বাচ্চাটাকে সাবধানে থাকতে বলবেন।" অতঃপর মায়ে-মায়ে ঝাগড়া হ্য় এবং স্বামীরাও তাতে অবলীলায় জড়িয়ে পড়েন।
অনেক সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ন পোষ্ট। কিন্তু কথা হলো এ সব কয়জনইবা পড়ে, মানে? যারা এখানে লিখেন তাঁরা হয়তো এটা ফলো করবে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে। কিন্তু এখানে কয়% লোখ আছে যাদের বাচ্চারা এসমস্থ কার্টুন দেখতেই অভ্যস্থ?
আমি একবার আমার মামির বাসায় যাই, গিয়ে দেখি মামতো ভাইটা (পিচ্চি) কেমন করে জানি কথা বলে
(এ মই আয়, খাইয়া ফেলামু, কাইট্টা ফেলামু, তোরে না কইছি, হালায় কয় কি?) এ জাতীয় আরো অনেক। মামিকে বল্লাম আপনার বাবু এরকম করে কথা বলে কেন?? আগেতো একম ছিলোনা। নতুন বাসায় এসে মনে হয় ভুল হেয়ছে। আসে পাশের মানুষজনতো দেখি ভাল না। মামি বলে আরে না, কিসব কাটুন, মি: বিন (বাংলা ডাবিং) এসব দেখে শিখছে আরকি। মামিকে বল্লাম কেন?? ওইসব সস্থা বাংলা ডাবিংকৃত দেখতে দেন কেন?? কেন'র কোন উত্তর নাই।
আমাদেরই উচিত আমাদের বাবুদের কি রকম পরিবেশে মানুষ করবো, বড় করে তোলব, কোন জাতীয় বিনোদন দেব, কোন শিক্ষাটা দেব, কোন কালচারটা শিখাব, কি কি অনৈতিক দিক পরিহার করাটা শিখাব। কিন্তু তার আগেইতো আমরা হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্থ থাকি রাতদিন।
লেখকের মন্তব্য
ঝিনুক, অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য।
আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
এটাই সবচেয়ে জরুরী কথা।
লেখকের মন্তব্য
হ্যাঁ ভেবু, এটাই সবচেয়ে জরুরী কথা।
শিশুদের নিয়ে চমৎকার ভাবনা। ১০০% সহমত।
তোমরা শিশুদের কাছ থেকে তার শৈশব ছিনতাই করো না। শিশুকে তার নিজের মতো বড় হতে দাও। শুধু বন্ধু হয়ে পাশে থেকো, ছায়া হয়ে আগলে রেখো, যেন সে পথ ভুল না করে।
লেখকের মন্তব্য
এখনকার শিশুরা খাঁচায় বন্দী পাখীর মতো। টিভি দেখা ছাড়া আর কোন বিনোদনই নেই তাদের।
তাই টিভির ব্যাপারেই মা, বাবাকে সচেতন হতে হবে।
আমার নাতি আগে সনি টিভির সিআইডি সিরিয়াল দেখার জন্য পাগল ছিলো। আর সবসময় সে অস্থির, চঞ্চল ভাবে চলাফেরা করতো। মনে হতো সে ঘোরের মাঝে আছে। তার মাথায় ঐ এসিপি প্রতিমন্দ না কি জেনো, সে ভর করে থাকতো। স্কুল থেকেও কমপ্লেইন আসলো যে সে অনর্গল হিন্দিতে কথা বলে।
শেষ পর্যন্ত তার মা ঐ সব টিভি চ্যানেল অফ করে রেখেছে। এখন দেখি সে বই পড়ে, টিভিতে এনিম্যাল প্লানেট, ডিসকভারি চ্যানেল দেখতে পছন্দ করে।
তাই মা, বাবাদের উদ্দ্যেশে বলবো, সন্তানের দিকে নজর দিন। কারন এই শৈশব হলো তার ভিত গড়ার সময়। এখনই যদি তাকে ভালো, মন্দ শিখানো না যায় তবে পরে অনেক দেরী হয়ে যাবে।
খুবই গুরুত্বপূর্ন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ শাপলা।
লেখকের মন্তব্য
খুবই ভালো আর প্রয়োজনীয় একটি পোস্ট, আমার জন্যতো অবশ্যই। আমার মেয়েটি এখনও খুব বেশি টিভি দেখে না, তবে সেও ডরেমন দেখে, ওকে একদিন আমি ডরেমন দেখতে নিষধ করায় ও কারণ জেনে তখনকার মত মেনে নিলো এবং ডরেমন দেখা বন্ধ করে দিলো কিন্ত দু'দিন পরে ও আমাকে বললো মা- নবীতা দুষ্ট ছেলে কিন্তু সুজুকাতো গুড গার্ল, আমি সুজুকাকে দেখতে চাই। আমি বললাম সুজুকাকেতো বেশি দেখায় না তার চেয়ে তুমি ডোরা দেখো ডোরাওতো গুড গার্ল। ও প্রথমে রাজী হয় না, পরে আমি ওকে ডোরার সিডি এনে দিলাম তখন থেকে ও ডোরা দেখে, ডোরা এখন ওর আইডল।
তবে আমি যেটা করি ওকে সপ্তাহে দুদিন পার্কে অথবা প্লেজোনে খেলতে নিয়ে যাই, ও অন্য বাচ্চাদের সঙ্গ পছন্দ করে টিভি দেখার চেয়ে, তবে যখন ও টিভি দেখে আমি ওকে সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করি। চমৎকার একটি লেখার জন্য শাপলাকে ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
সব মায়েরা যদি আপনার মত হতেন চৈতি----
আরও দুঃখ জনক যে, আপনি যদি আপনার চারপাশের মানুষ গুলোকে (ব্লগ বা ফেইসবুকের বাইরের)এসব বওঝাতে যান। কেউ আপনাকে সহজভাবে নিতে পারবে না।
আমি এখন যে বাঙগালইদের সাথে চলাফেরা করি, তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী এবং সৌভাগ্যবান বাবা-মা। প্রথমত তারা উন্নত বিশ্বে সন্তান মানুষের সুযওগ পাচ্ছান এবং তারা সবাই উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে যখন দৈন্যতা এবং স ন্তানের নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি দেখলে, বিচলিত হই-----এবং বলি, তারা কেউ নিতে পারেন না।
ধন্যবাদ চৈতী। এই যে তুমি সময় করে বাচ্চাকে পার্কে বা খোলা যায়গায় নিয়ে যাচ্ছো এটা জেনে ভালো লাগলো। আমার নাতি-নাতনিদেরও তাদের মা, বাবা এমনি করেই পার্কে, খোলা মাঠে নিয়ে যায়। ঘন্টা দুয়েক তারা প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকে। এটা কিন্তু খুবই জরুরী।
এখনকার অনেক বাবা, মা-ই কাজের, ব্যাস্ততার অজুহাত দেখান। আমি বলি, রোজগারের জন্য ব্যাস্ততা কার জন্য? যাদের ভবিষ্যত চিন্তা করে এতো ব্যাস্ততা তাদের কথা তো আগে ভাবতে হবে!
অনেক সুন্দর একটা পোস্ট। সময়ের অভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারলামনা। আপাতত হাজিরা দিয়ে গেলাম।
লেখকের মন্তব্য
সুমন আপনার বিস্তারিত আলোচনার আশায় রইলাম।
শিশুর আচরণের উপর মিডিয়ার প্রভাব যে কি রকম ভাবে পড়তে পারে সেটা আমি প্রেক্টিকেলি প্রতিদিন দেখি, আমি যে বিল্ডিঙয়ে থাকি সেখানে ৫ টা ফ্ল্যাটে মোট ৬ টা বাচ্চা আছে। তাদের চলাফেরা কথাবার্তা দেখলে এটা ভাল করে বুঝা যায় !
চমৎকার একটা পোস্টের জন্য ধন্যবাদ
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ কবি।
শিশুদের দোষ দেব না। মা-বাবা যদি বাচ্চাদের উদ্বুদ্ধ করাতে না পারেন তাহলে এটি তাদের ব্যর্থতা
লেখকের মন্তব্য
ঠিকই বলেছেন, রাজিন।
"বোকা বাক্সের কোপ পড়েছে
হারিয়ে গেছে গানের খাতা
বাক্সে বাক্সে ঘুরে বেড়াই
উড়ে বেড়ায় আঁকার পাতা"
- ভ্যাজর ভ্যাজর আরেকদিন করবো
লেখকের মন্তব্য
আর কত ফাঁকি দেবেন।
তবে ছড়া পছন্দ হয়েছে।
আপনার লেখা পড়লেই ফুসফুস পরিষ্কার হয় মাথার জট গুলি খুলে আসে বেশ ভালো ভালো একটা ফিলিংস হয়। পোস্টে সবচেয়ে শেষের তারাটা আগেই দিয়েছি কারণ পড়েছি বহু আগেই। পরীক্ষা ছিল-অনলাইন থেকে দূরে ছিলাম,এখন এলাম আবার পড়লাম
আপা আপনি কি জাপানে স্কুল শিক্ষিকা? আপনার ফেসবুকে দেখলাম মেসেজ পাঠানোর অপশানটা খোলা নেই। রিকু পাঠালাম।
বোনের পিচ্চি আসে দুইটা। মহা জ্ঞ্যানি এবং মহা ত্যাঁদড়। এই লাইনে আমি আপনার সাথে একমত--
এদেশে অনেক শিশুরই একমাত্র বিনোদন হইল টিভি কিংবা কম্পিউটার। খেলার মাঠ নাইতো কি করবে। আমি নিজেই একসময় গলি ক্রিকেট খেলতাম। যখন ছোট ছিলাম কেবল টিভি এত সস্তা ছিল না এখন যেমন।
লেখকের মন্তব্য
বহু, বুঝব কি করে? কার রিকোয়েস্টে সাড়া দেব, বলোতো?
তুমি যে ভাবে লিখেছহ, আমি তার মোতেও যোগ্য নই। এভাবে ঋণী করে ফেললে তো মুশকিল। শোধ করব কি ভাবে?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা অভিভাবকরাই শিশুদের জন্য কার্যকর সময় বরাদ্দ রাখি না। দোষ দিই মিডিয়ার।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অতি সুচিন্তিত ও সুলিখিত পোস্ট। অভিবাদন, শাপলা!
লেখকের মন্তব্য
তোমাকে পেয়ে মনে হলো, মাথার উপর ছায়াটা আবার ফিরে পেলাম।
অসাধারন পোস্ট । আমি আপনার সাথে বেশ কয়েকটা ব্যাপারে একমত। অনেকেই মনে করেন , ডোরিমন দেখলে হিন্দী শিখছে , ডরিমন দেখা বন্ধ - বাংলা কার্টুন দেখ বাংলা শিখো। আমার কোশ্চেন - শুধু হিন্দি কেন ?
বাংলা , স্প্যানিশ , ইংলিশ , চাইজিন ভার্শন দেখুক।
বিভিন্ন ধরনের ভাষা শেখা আমি প্লাস পয়েন্ট মনে করি । এবার আসেন ডোরিমন দেখে ওর নবিতাকে দেখে মিথ্যা বলা শেখা নিয়ে। আসলেই বাচ্চারা মিথ্যা বলা শিখছে ? আমার মেয়েও ডরিমন দেখে - এবং তার যুক্তি হচ্ছে নবিতা প্রতিবার মিথ্যা বলার কারনে সে নিজের জন্য আর অন্যদের জন্য প্রবলেম নিয়ে আসে।..so never tell a lie
Second dorimon is a popular character …not nobita.They imagine or wish that that they had a friend like dorimon so that they can get magical gazzet.I often found my daughter making something…when I ask, she reply “I am making gazzet like dorimon”
So I am totaly disagree with those who think that their children learning bad thing from dorimon.
আর যদি খারাপ কিছু শিখে সেটা কার্টুন থেকে না - পারিপার্শ্বিকতা থেকে । যেখান থেকে সে অহরহ দেখছে মিথ্যা বলা - ভায়োলেন্স - ইটস পার্ট অফ দেয়ার ফ্যামেলি,
বিনোদনের জন্য সারাক্ষন টিভি দেখা - টিভির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাওয়া আমি সাপোর্ট করি না । টিভিতে অনেক কার্টুন আছে যেগুলো দেখে অনেক কিছু শেখা যায় - যেমন ট্রি হাউস , নিক জুনিয়র ।
.for ex..they learn math, puzzle, spelling( team uni zhumi)use of map,(dora) taking care,value of family and friends,(little bear/max and ruby/nihao kylen)sharing animal life(diago),music,dance ( freash bit),cooking, business, party arrangement (max and ruby) ,languages.......so many things
At last come to the games…………I wonder..i wonder ..i wonder how beautifully they creat different type of games for kids. memory game, how to clean ur environment by cleaning waste and make scoring. cycling, driving, ……..they are familiar with keyboard ,speeding up by playing game………….
তাই আমি মনে করি কার্টুন টিভি গেম এইসব ব্লেসিং । খারাপ কিছু শিখলে পরিবার থেকে শিখে।
Sobsese hindi serial,gan,natok r kothae asi………….
Ami protita parents ke jigges kori apnader bachcha apnader sathe serial dekhae naki cartoon games e time spend korte like kore?
সব শেষে আসি হিন্দি সিরিয়াল - গান নাটকের কথা আসি।
কতো এমন হিন্দি সিরিয়াল আছে যা থেকে অনেক কিছু শেখা যায় …for ex lots of Family value
That include family band,trust,understanding,protection, cooking,dancing, home arrangements……………so many things
এসবের মাঝে জটিলতা, কুটিলতা , ভায়োলেন্স , ক্রাইম ও আছে - o that u can know that,take preventive action, protect ur family……avoid it………..not pick it
Now what u will choose .it depends on you…..lesson u got from ur family/environment
লেখকের মন্তব্য
রুমানা, সময়ের অভাবে-আপনার মন্তব্যটার জবাব দেয়া হ্য় নি। আপনিও তো দারুণ গুছিয়ে লেখেন। আমার বলতে চাওয়া অনেকগুলো বিষয়, চমৎকারভাবে ইলাবোরেট করেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ব্লগে নিয়মিত হোন, আমি নিশ্চিত আমরা আরও অনেক ভালো লেখা পাব।
আপনার কথার সূত্র ধরে আরেকটু যোগ করি, সেটা হল, আপনি আমি যেহেতু দুজনেই জানি, শিশুদের শিক্ষার জায়গা যেহেতু পরিবার, সেখানে কিন্তু কনসিসটেন্ট পেরেন্টিংটা অনেক অনেক জরুরী।
কিছুদিন আগে একটা বিচিত্র ব্যাপার শুনেছিলাম। এদেশে বা্চ্চাদের অনেক শিক্ষামূলক ভিডিও (যেমন বেবী আইনস্টাইন)পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের রিসার্চে দেখা গেছে এগুলো আসলে খুব একটা হেল্পফুল না। (অফটপিক)
মন্তব্য করুন