শূন্য আরণ্যক-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

উচু এই মিনার থেকে পুরো শহরটা দেখা যায়। আমি নিঃশ্বাস টানি। আমার চুলে এলোমেলো হাওয়া ছুয়ে যায় । অকারণেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। দুরে শহরের সবুজ খেলার মাঠে বাচ্চাদের হৈ হল্লোড়ের শব্দ আসছে। একটা অপরিচিত সুরকে আমার সারা শরীরকে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়াতে দেই ।
সুখ নামের স্বর্ণমৃগের পিছনে অনেক দিন দৌড়েছি, কিন্তু সুখী হতে পারিনি পুরোপুরি। দাতের ভাজে আটকে পড়ার মাংসের ফালির মতো অসুখ আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এই মুহুর্তে প্রচন্ড সুখ হচ্ছে আমার - চাইলে হয়তো হাওয়ায় উড়ে যেতে পারবো।
এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা না। এর আগেও সুখী হয়েছি আমি কয়েক মুহুর্তের জন্য। স্বর্গের ঘ্রাণ পেয়েছি প্রত্যেকবার।
প্রতিবারই অনিশ্চিতের অদৃশ্য অস্তিত্ব অনুভব করে সুখের বুদবুদ মিলিয়ে গেছে বাচ্চাদের ফু দেয়া সাবানের ফেনার বেলুনের মতো।
এইবার ব্যতিক্রম।
আমি প্রিয় জুনিপার গাছটার গায়ে হেলান দেই । জিজ্ঞেস করি কেমন লাগছে আজকের দিনটা, আরণ্যক ।
"ভালো" - জবাব দেয় আরণ্যক আলস্য ভরা কন্ঠে। সুন্দর রৌদ্রউজ্জল দিনে ওরা অনেক ঘুম ঘুম অনুভব করে। ওর চোখ থাকলে নিশ্চয় আলস্যভরে একচোখ খুলে ভালো বলতো।
গাছরা অনেক জ্ঞানী - এক জায়গায় শিকড় প্রোথিত করে শতাব্দী কাটিয়ে দেয় তারা । দিন রাত মাটি আর আকাশের সংযোগ দেখে।
গাছেরা ঘর তৈরী করেনি কারণ তারা ঝড়বৃষ্টি , তুমুল হাওয়া , ঝলসানো রৌদ্রে থাকতে ভালোবাসে।
আমি জিজ্ঞেস করি আরণ্যককে - বলতে পারো মানুষ কেন পশুদের অনুসরন করা ছেড়ে বৃক্ষদের অনুসরন করা শুরু করলো।
আরণ্যক দিবানিদ্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো - সে ঘুম জড়ানো স্বরে বললো - "উম - এটা তো তোমারই ভালো জানার কথা । তুমি চিন্তা করো। কিছু ভুলে গেলে আমি মনে করিয়ে দিবো ,আমি একটু ঘুমাই"
হুমমম। আমি ভাবতে থাকি । মানুষ কী অদ্ভুত ছিলো কয়েক হাজার বছর আগে। তারা দাবী করতো তারা পশুদের চেয়ে উন্নত।
কিন্তু সব কিছুতে পশুদের উদাহরন হিসাবে দেখতো। তারা পাখীর মতো উড়তে চাইতো - তারা মাছের মতো সাগরে ডুবতে চাইতো। তারা সেসব করতে সক্ষম হয়েছিলো - যন্ত্রের মাধ্যেমে। যন্ত্রের উপর নির্ভরতা বাড়াতে বাড়াতে তারা একসময় যন্ত্র হয়ে যেতে চেয়েছিলো। তাদের অনেক কাজই ছিলো পশুদের চেয়ে অনেক নিকৃষ্ট । তারা স্বজাতি হত্যায় এযাবত পৃথিবীতে জন্ম নেয়া সব পশুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। মৃত মানুষের মাংস খাওয়া শুরু করছিলো তারা জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়। নিজেদের মধ্যে কাউকে সাহসী দেখতে তাকে হিংস্র পশুর সাথে তুলনা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতো।
তারা খন্ডিতভাবে অনেক মেধাবী ছিলো । তারা জানতো কিভাবে কোন সমস্যার সমাধান করতে হবে । কিন্তু তারা জানতো না তারা কেন সেই সমস্যা গুলোর সমাধান করছে । এবং সেগুলোর সমাধান করতে গিয়ে নতুন মহা সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
তারা অমর হতে চাইতো কিন্তু ভয় পেতো অমর হতে গেলে প্রকৃতি তাদের উপর প্রতিশোধ নিবে। তারা মহাবিশ্বের তুলনায় কতোটুকো ক্ষুদ্র সেটা নিয়ে হা হুতাশ করতো ।কিন্তু তারা নিজেদের ভিতরের ক্ষুদ্রতা দূরকরার ব্যবস্থা নেয়নি। অবশ্য নিজেদের ভিতরের চিন্তা - ক্ষুদ্রতা - প্রবৃত্তি - ভয় থেকে দূর হতে গেলে যন্ত্রের সাহায্যে তা হবে আশা করাটাই হাস্যকর। পিছনের পথটা অনেক বিপদসংকুল ছিলো । দু দুবার নির্বোধদের - ক্ষুদ্রআমিত্বময় মানুষের পাল্লায় পড়ে পৃথিবীকে ছোটখাটো নিউক্লিয়ার যুদ্ধ সহ্য করতে হয়েছে। নিবোর্ধদের বংশবিস্তারও খরগোশদের মতো।
এদের কোন প্রকৃতজ্ঞান না থাকলেও এদের কূটবুদ্ধি ছিলো প্রচুর। এরা মানুষের সব খারাপ ইগোর পুজো করতো।
গোটা প্রকৃতির ভারসাম্যের কথা না চিন্তা করে এরা পশুত্বের পুজো করতো । সেটাকেই বীরত্ব ভাবতো।
সেই সময়ে জ্ঞানী মানুষরা ছিলো নিরীহ, নির্বিরোধী। তারা কোন ঝগড়া বিবাদ যুদ্ধে যেতে চাইতো না নির্বোধদের সাথে ।
তারা ভাবতো কোনমতে নির্জণ্ঝাট জীবনযাপন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তারাও পশুপ্রবৃত্তি মুক্ত ছিলো না - কারন আত্মসমর্পন করা পশুত্বেরই লক্ষণ।
আজকের আমার সুখী হবার পিছনে আসলে হাজার বছরের অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দেবার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মানুষ গাছের কাছ থেকে ধৈর্য ধরে আসলে শিখেছে - কিভাবে কম শক্তি খরচ করে বেচে থাকা যায়। মানুষ ধীরে ধীরে পশুপ্রবৃত্তি গুলো ঝেরে ফেলতে শিখেছে।
মানুষ শিখেছে কেন আমাদের কোন কিছুর সমাধান করতে হবে । মানুষ সমষ্টিগত ভালো চিন্তা করতে শিখেছে। মানুষ শুধু নিজের কথা চিন্তা করে - পৃথিবীর সব মানুষ - পৃথিবীর সব প্রাণীর জন্য চিন্তা করতে শিখেছে।
মানুষ রোগশোকমুক্ত হয়েছে । মানুষ এখন অমর হবার কাছাকাছি । কিন্তু কেউ চাইলেই সেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে পারে । মানুষ পরিপূর্ণ সুখি ভাবে মারা যায় । আসলে মারা যায় না । তার সব জ্ঞান সংরক্ষিত থাকে । তার শরীর প্রকৃতিতে ফিরে যায় ।
প্রকৃতির সাথে মিশে যায় সে আবার ।
প্লাটিপাস বা পাখি বা বাদুড় হয়ে বেচে থাকে আবার তার শরীর ।
মানুষ গাছের মতো একজায়গায় স্থায়ী হতে শিখেছে । শিখেছে সুন্দর কয়েক প্রজন্মের ফ্যামেলী তৈরী করতে।
ভাবছিলাম আমি। মানুষ পৃথিবীর সব সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে শিখেছে। মানুষ শিখছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শরীর আর মনকে উদ্দীপ্ত করতে হয় কিভাবে। মানুষ প্রকৃতজ্ঞানকে সবার হাতের মুঠোতে নিয়ে এসেছে। মানুষ বিনিময় প্রথা লুপ্ত করে দিয়েছে।
মানবজাতি একত্রে একটা বুদ্ধিমান জ্ঞানী প্রাণীর মতো চিন্তা করতে শিখেছে।
ভাবছিলাম আমি - আরণ্যকের পাতার মৃদু শব্দ আমাকেও ঘুম পাড়িয়ে দিলো ।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমি একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম । স্বপ্নে দেখলাম আমি হেলান দিয়ে আছি আরণ্যকের গায়ে । ঘুমিয়ে পড়েছি। ঘুম
ভেঙ্গেছে অদ্ভুত অস্বস্তিকর শব্দে। চোখ ধাধানো একটা আলো এসে পরে। বৃত্তাকার একটা আলো। পুরনো মানুষের মতো আমার ভিতর কোন ভয় ভীতি নেই । আলাদা করে আমি সাহসীও নই । সবাই এমন এখন ।
আলোর ভিতর দিয়ে আমি একটা আয়না দেখতে পাই । একটা মানুষের সাইজের আয়না থেকেই আলোটা ঠিকরে বের হচ্ছে ।
আলোটা চোখে সইয়ে যেতেই আমি - আমার মতো একটা মানুষকে একটা জুনিপার গাছের নিচে শুয়ে থাকতে দেখি ।
ধীরে ধীরে আমি দেখি সে চোখ মেলছে । আমাকে দেখে সে ভয় পাওয়া মানুষের মতো একটা ভাব করলো। তারপর হতচকিতের মতো জিজ্ঞেস করলো - আমি কে। আমি নিজের পরিচয় দিলাম ।
তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে জবাব দিলো, " আমি ঈশ্বর" । আমি অবাক হলাম - ঈশ্বরকে অনেক খুজেছি আমরা । আমরা জানতাম ঈশ্বর আছে আমাদের আশেপাশেই। আমাদের উপর চোখ রাখছে । অনিশ্চিতই ঈশ্বর ভেবে - অনেকদিন অনিশ্চিতকে মেনে নিয়েছিলো প্রাচীন মানুষেরা। তারা অবশ্য প্রকৃতির সব রহস্যকেই ঈশ্বর ভাবতো।
কিন্তু ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখে আমার ভীষন কৌতুহল হচ্ছিলো।
জিজ্ঞেস করলাম - সে কিভাবে আমার স্বপ্নের ভিতরে এসেছে। সে উল্টো বল্লো - আমিই নাকি তার স্বপ্নে হাজির হয়েছি।
আমি বল্লাম - আমি তাকে দেখেছিলাম সর্বজ্ঞ , পরম ক্ষমতাশালী হিসাবে। সে কিভাবে মানুষের মতো হলো।
সে যা বল্লো সেটা খুব বিচিত্র । ঈশ্বর মানুষকে নিয়ে খেলা করতে করতে একসময় মানুষের পশুপ্রবৃত্তি গুলো ঈশ্বরের ভিতর ঠাই পেতে শুরু করে । বিশেষ করে মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্রতা ত্যাগ করছিলো। ঈশ্বর বাচ্চাছেলের মতো সেগুলো কুড়াচ্ছিলো। নিজের খেলার সামগ্রী বলে কথা।
এরপর সে নিজেই সেগুলো নিয়ে খেলতে চেষ্টা করেছে। খেলতে খেলতে সে তার সব ক্ষমতা খুইয়েছে। সে নিজের একটা জাতি জন্ম দিয়েছে ঈশ্বর জাতি । সে জাতি মানুষের মতো হয়ে গেছে ধীরে ধীরে।
তার ভিতরের তিক্ততা আর বিষন্নতা আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয় ।
আমি ঘুম ভেঙ্গে ভাবতে থাকি। ঈশ্বরচিন্তা আমাকে আর্কষন করে না অনেকদিন হলো। কিন্তু মানুষের কাছাকাছি এই ঈশ্বরকে দেখে কৌতুহল হচ্ছিলো প্রচুর । স্বপ্ন না সত্যি ভাবতে থাকি। মানুষ ঈশ্বরকে কল্পনা করেছে না ঈশ্বর কল্পনা করেছে মানুষকে ?
কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আমার মনে একটা বিন্দুর কথা মনে পড়ে । বিন্দু যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ , বেধ কিছু নেই। বিন্দু চলতে শুরু করলে নাকি রেখা তৈরী হয় । দুটি রেখা পাশাপাশি চললে সমান্তরাল রেখা তৈরী হয় । দুর থেকে দেখলে মনে হয় সমান্তরাল রেখা একটি বিন্দুতে মিশেছে । বিন্দু যার অস্তিত্ব নেই । শূন্যে।

মন্তব্য
প্রথম।
দারুণ বর্ণনা।
অসাধারণ।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ভ্রাতঃ
আপনাকেও অশেষ।
বিন্দু চলতে শুরু করলে নাকি রেখা তৈরী হয় । দুটি রেখা পাশাপাশি চললে সমান্তরাল রেখা তৈরী হয় । দুর থেকে দেখলে মনে হয় সমান্তরাল রেখা একটি বিন্দুতে মিশেছে । বিন্দু যার অস্তিত্ব নেই !!

লেখকের মন্তব্য
হুমমম
অসাধারণ, আপনার লেখা গুলো খুব টানছে!
চিন্তার গভীরতা অনেক বেশি!
পড়ে কেমন ঘোর লেগে গেলো!
বিশেষ করে,
আমরা ঈশ্বরকে ভাবি নাকি ঈশ্বর আমদের ভাবছেন!
আমাদের ভেতরে ঈশ্বর নাকি ঈশ্বরের ভেতরে আমরা!
আজব!
আবজাব!
সাত তারা দিচ্ছি!
ঘোর লাগা শব্দমালা . . .
লেখকের মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ - আপনার মন্তব্য গুলো খেয়াল করছি
আপনার লেখা পড়ার আশা রাখি
ভাইয়ামনি, আপনার কিছু রূপক ছোটগল্প ছিলো। দুর্দান্ত ভাল লেগেছিলো সেগুলো। এইটাও তেমন একটা লেখা। লেখা মধ্যে ডুবে ছিলাম পুরা।
লেখকের মন্তব্য
তেমন একটা দুর্দান্ত লেখা লিখতে গিয়ে স্বগোক্তিতে পরিণত হলো
কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আমার মনে একটা বিন্দুর কথা মনে পড়ে । বিন্দু যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ , বেধ কিছু নেই। বিন্দু চলতে শুরু করলে নাকি রেখা তৈরী হয় । দুটি রেখা পাশাপাশি চললে সমান্তরাল রেখা তৈরী হয় । দুর থেকে দেখলে মনে হয় সমান্তরাল রেখা একটি বিন্দুতে মিশেছে । বিন্দু যার অস্তিত্ব নেই । শূন্যে।


>>>>>>>>>>>>>>> আবার---
লেখকের মন্তব্য
হুমম
পুরাই অসাম শালা !
লেখকের মন্তব্য
এটা কী ভালো বলার নতুন ট্রেন্ড ?
ব্লগে আসার পর প্রথম পড়া পোস্ট এটা।
গোছানো এবং পরিপক্ব লিখা। পড়ার পর নিজের ও বাকিদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক গুণ বেড়ে গেলো।
নামটা মনে রাখতে হচ্ছেই।
অদ্ভুত সুন্দর।
শুন্য আরণ্যক।
লেখককে অভিনন্দন। ্
লেখকের মন্তব্য
আপনি ভাগ্যবান
আর বাকীরা আরো অনেক অনেক ভালো লিখেন ।
অসাধারণ । বেশ লিখেছেন আরণ্যক'দা।
লেখকের মন্তব্য
আরে নাস্তিক্যটাইপ কথা বার্তা আপনার পছন্দ হয় ??
মাথা খারাপ! আরে না, শূন্যর নয়, পড়া আমারই মাথাটায় লেগে গেছে পেজগি। এমন করে এত গভীর চিন্তার কথা জানাতে আছে আমার মত নিরিবিলি মানুষকে!! এখন এ জট ছাড়াই কেমন করে? কতদিন ধরে চিন্তা ভাবনা কওরে এটা নামাতে পেরেছেন রে ভাই। একেবারে জটিলস্য জটিল!!!

শুভ কামনা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ হুদা ভাই ।
২ দিন ধরে চিন্তা করেছি। লিখতে চেয়েছিলাম - কিন্তু ঘুম আর ক্লান্তিতে লেখা হয় নি - এটা লিখে ভালো লাগছে
আমিও একুপা'র মতোই বলি, লেখায় ডুবে গেলাম, ভেসে উঠিনি এখনো!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ নয়নে নয়নে

অনেক গভির একটা লেখা, আপনার আরো অনেক বেশি বেশি লেখা উচিৎ ভ্রাতঃ
লেখকের মন্তব্য
আমার মনে আছে ভালো মতো আমার ব্লগ জীবনের লেখা প্রথম গল্পে আপনার কমেন্ট আছে । ছেলেমানুষী একটা লেখা ছিলো ।

আমি তো বেশি বেশিই লিখি ভ্রাতঃ - কিন্তু তারপরো ভালো লিখতে পারি কই
===
আপনার কমেন্ট পেয়ে অনেক আনন্দ পেলাম
বিন্দুর সংজ্ঞায় আছে, যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা কিছুই নেই শুধু অবস্থান আছে...
এইরকম লেখা পড়লে নিজেকে বিন্দু মনে হয়
অতি অসাধারণ একটা ভাল লেখা পড়লাম।
সংকলিত পাতায় দেখা না গেলে মডুর খবর আছে!
======================
এত ভাবেন ক্যান? টেনিদার গল্পে হাবুল সেনের সংলাপ স্মরণ করেন- "এত ভাইবা ভাইবা হ্যায় শ্যাষে কবি হইব"
লেখকের মন্তব্য
আহা ! আমার পোস্ট আপনার প্রিয়তে যায় -
ধরিব মৎস খাইবো সুখে - কী আনন্দ লাগছে বুকে -
টাইপ আনন্দ হচ্ছে
সংকলিত পাতায় দেখামাত্র সিন্দুক থিকা বাইর কইরা দিমু, যদি ভানাম্বুলগুলা ঠিক না করেন
ইয়ে মানে শফিকুল মামুর জাতীয় সঙ্গীতসহ আরো কিছু পোস্টও প্রিয়ানোর খায়েশ ছিল
লেখকের মন্তব্য
বানাম্ভুল ঠিক করার কথা বলে লজ্জা পাবেন না ।
ইয়ে মানে লজ্জা দিবেন না ।
====
শফিকুল মামু টাইপ পোস্ট কেন প্রিয় হয় এইটা আমরা জানি ।
তয় "অতি অসাধারণ একটা ভালো লেখা" যদি শফিকুল লিখে তাইলে এই জিপন আর রাখপো না ইমোটা কল্পনা করে নিয়েন ।
সীমার মধ্যে অসীম তুমি -- ঈশ্বরের ইলাস্ট্রেশন হয়তো এমনই ছিলো। কিন্তু মানুষ ঈশ্বরকে হাত দিয়েছিলো যে হাত দিয়ে তিনি পুরস্কার দেন, তার বসার জায়গা বানিয়েছিলো যেখানে তিনি বসে থাকেন, তার মাঝে মানুষের মত হিংসাত্মক সত্তা দিয়েছিলো যা নিজের তোষামোদে খুশি হয় আর খুব অল্পতেই অভিমান করে মানুষের মতই। আপনার লেখার শেষের প্যারার আগের প্যারার বোধ মোহগ্রস্থ করলো। ঈশ্বর আর মানুষ একে অপরের মিথস্ক্রিয়া খুবই আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করলাম।
ভালো লাগলো লেখা।
ভালো থাকুন আরন্যক আর আপনি
লেখকের মন্তব্য
শেষের প্যারার আগের প্যারাটা লেখার জন্য লেখাটা লেখা হয়েছে
গল্পের ভেতর নিজের চিন্তাভাবনা, ফিলোসফি ঢুকিয়ে দেয়ার কায়দা তাও খুব/এইরকম সরাসরি- ভালো ট্রিক। ওয়ার্কড গ্রেইট ফর মি!
লেখকের মন্তব্য
গল্প লিখবো ভাবতে ভাবতে - আর ক্লিশে সায়েন্স ফিকশন এড়াতে গিয়ে এরকম হয়ে গেছে ।

নুশেরা'র কথাগুলো (ওয়ার্ড ফর ওয়ার্ড), ঠিক ১৩ ঘন্টা আগে আমারও মনে হয়েছে - যখন লেখাটা পড়লাম।
(বাপরে বিনয়!)
আপনার অধিকাংশ লেখাই (অন্ততঃ আমার দৃষ্টিতে) ঘোর লাগানো!
(স্বগোক্তি --> স্বগতোক্তি)
লেখকের মন্তব্য
বানান ঠিক করে দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।

বানানটা লেখার পর থেকেই মনে হচ্ছিলো - কিছু একটা খোয়া গেছে
==
তা তের ঘন্টা আগে মন্তব্য দেননি কেন ?
আমারো এমন হয় মাঝে মাঝে মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি যা বলতে চেয়েছি আগেই বলা হয়ে গেছে।
==
আকাশচুরি/ তারিক স্বপনের গল্প গুলো পড়লে বুঝতে পারতেন - বিনয় নয় - ওটা সত্যি কথা ।
লেখকের মন্তব্য
।
ভালো লাগছিলো বিষাদ স্বগোক্তি পড়তে।
শূণ্য থেকে বিন্দু
বিন্দু থেকে নাই!
অভিনন্দন, প্রিয় আরণ্যক।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ রানা ভাই - পড়ার জন্য আর মন্তব্য করার জন্য
বিন্দু যার অস্তিত্ব নেই।
আমার প্রায়ই মনে হয় বেশ দীর্ঘ কোন স্বপ্ন দেখেছি, দেখেই যাচ্ছি। যার শেষ নেই, অস্তিত্বও নেই।
লেখকের মন্তব্য
ঈশ্বরের স্বপ্নে মানুষের অবস্থা এমনই হয় । অনেক দীর্ঘ একটা স্বপ্ন ।
জিরুদা, স্টাইলটা খুব ভাল লেগেছে, গুড জব
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংকস
গভীর ভাব-দর্শণ!!!

আরো কয়েকবার পড়ে ঘোর-মুক্তি ঘটাতে হবে!!!
লেখকের মন্তব্য
তাই ?
খুবই ভাল লাগলো ভ্রাতা । ফিলোসোফিক্যাল ব্লেন্ডিং এর স্টাইল্টা দারুন ।
======
সিলভিয়া প্লান্থের সোলিলোকুইয়ি অফ সোলিপসিস্ট পড়ছেন?
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংকস ব্রো
==
সিলভিয়া প্লাথের টুকটাকি কিছু ছাড়া পড়া হয়নি । পড়বো।
ধুরো ক্যান যে ভালো লাগলো! আরো কয়েকবার পড়ে বুঝতে হবে ক্যান ভালো লাগলো।
মাথার চুল টাইন্যা টাইন্যা ছিড়ার ইমোটা যে কোথায় গেল!
লেখকের মন্তব্য
ভাবনার গভীরতা বেশ চিত্তাকর্ষক হয়ে ধরা দিল।
শেষ প্যারাটার ফিলোসফি মাথার ভেতর গেঁথে গেল।
অনেক শুভ-কামনা আরণ্যক ভাই।
লেখকের মন্তব্য
আপনার জন্যও শুভকামনা ।
ভিক্টরীয়া জলপ্রপাত আর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনীগুলো লিখে ফেলুন তাড়াতাড়ি - পড়ার জন্য বসে আছি ।
আপনাকে আবার পুনর্জাগরিত হতে দেখে ভালো লাগছে ।
লেখকের মন্তব্য
।
তারা মহাবিশ্বের তুলনায় কতোটুকো ক্ষুদ্র সেটা নিয়ে হা হুতাশ করতো ।কিন্তু তারা নিজেদের ভিতরের ক্ষুদ্রতা দূরকরার ব্যবস্থা নেয়নি।সকাল বেলা একটা ভালও লেখা পড়ে কাজে যাচ্ছি। যদিও কাজের দেরই হয়ে গেল।।।
লেখকের মন্তব্য
লেখার জন্য কাজে দেরী হলে খুব খারাপ কথা
Shunno.....
prothomei boli likhati chomotkar hoyese...onekdin bade apnar likha
pore holo...
apnake dekhe khub valo laglo...
shuvokamona......
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ - আপনাকে চিনলাম না যদিও
লেখকের মন্তব্য
।
আমি ভাবছিলাম প্রথমে পড়বো না। কঠিন কিছু আমার মাথায় ঢোকে না। পড়বার সময় ভাবলাম কমেন্ট করবো না পড়ছি পড়ছি। পড়া শেষ হৈছে ঘন্টা দুই আগে, ভালো লাগার পরিমাণ বিশাল হৈলে না জানানোটাও অন্যায়।
লেখকের মন্তব্য
মানুষ ঈশ্বরকে নির্মাণ করে, বাঁচিয়ে রাখে এবং মেরে ফেলে। কখনো কখনো মানুষের স্বপ্নের ভেতর ঈশ্বর এসে দেখা দেন। এর উল্টোটাও হতে পারে।
ঈশ্বর হয়তো সর্বত্রই আছেন, অথবা কোথাও নেই। মানুষ ঈশ্বরের প্রেমে পড়ে অথবা ঈশ্বর নিজেই মানুষের প্রেমে বুঁদ হয়ে থাকেন।
আপনার লেখাটি পড়ে ঘোর লেগে গেলো। মাথায় অনেককিছুই ঘুরপাক খাচ্ছে।
লেখকের মন্তব্য
ঘুরপাক খাক - চমৎকার চমৎকার লেখা পাবো তাহলে আমরা
ছয় নয় সবি বুঝলাম মির্জা সাব।মনটা কেন যেন খারাপ হয়ে গেলো।
ঝাকানাকা পোস্ট কবে দেবেন ?
------------
অ: ট: বই কিনেছেন কিছু ? কি বই ?
লেখকের মন্তব্য
এ্যাম ঠু ওল্ড ফর ঝাকানাকা পোস্ট

''মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্রতা ত্যাগ করছিলো। ঈশ্বর বাচ্চাছেলের মতো সেগুলো কুড়াচ্ছিলো। ''
আপনার লেখার এ লাইনটি আমাকে খুব প্রভাবিত করেছে ।
আবার, ঈশ্বরের চোখে আদিম মানুষের মতন
আমি শুধু এটুকু ভাবতাম, মানুষ তুচ্ছ বলে, ঈশ্বর উচ্চ ।
আপনার কথা অনুযায়ী, মানুষ যখন উচ্চ হল, ঈশ্বর অবধারিত ভাবে তুচ্ছ হল; পূর্বতন সূত্রানুযায়ী ।
এটি আমার ভাবনাটিকে একধাপ এগিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ করেছে । কৃতজ্ঞতা ।
ভীত দৃষ্টি আরোপিত । প্রমান করে, কতখানি তলিয়ে ভেবেছেন । আপনার জন্যে মুগ্ধতা ।
তবে একটা অনুরোধ । আপনার লেখার সাধারণ বিষয়বস্তুর ভারের সমানুপাতে, লেখনীটাকে আরেকটু কাব্যগন্ধী করা যায় কি?
কাব্যগন্ধী মানে, ঠিক ধোঁয়াটে নয় । দেশী-ভিনদেশী শব্দ আর বাচ্যের প্রয়োগে, কিঞ্চিৎ মুন্সিয়ানার কথা বলছি ! আপনি সুলেখক । ভাল বুঝবেন ।
লেখকের মন্তব্য
আপনার কমেন্টখানা চমৎকার লাগলো।
আপনি সম্ভবত আমার চেয়ে তলিয়ে ভেবেছেন ।
==
কাব্যগন্ধী করার জন্য চেষ্টা থাকবে - তবে কামারের হাতে স্বর্ণকারের সুক্ষ কাজ হয় না - আপনার ভালো জানার কথা
ভালো মিক্স আপ করেছেন। এই কারণে লিখাটা আরও বেশী ফেনিল হয়েছে।
ভালো লেখকের সহজাত বৈশিষ্ট্য।

একটু বেশী বিনয় দেখিয়েছেন মন্তব্যে।
যাই হোক,এরকম ছিন্ন ছিন্ন অনেক শুষ্ক ভাবনা মনের উঠোনে লুকোচুরি করে ঠিকই, কিন্তু তাদের গুছিয়ে বসন্তের নবীন কিশলয়ের হাতে তুলতে পারিনা কখনো। তাই আপনার লিখা পড়ে পুরাতন হাঁসিগুলি ফুটে উঠলো আবার। মনে হলো কারো ভাবনার গভীর কোন নদীর তীরে গিয়ে তার নীরব বাঁশরী শুনলাম। মন্ত্রমুগ্ধ বলতে পারেন।
বেশী প্যাঁচাল পারলাম। দুঃখিত । ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা।
প্রিয়তে না নিয়া পারলাম না।
লেখকের মন্তব্য
হুমমম

আপনিও বেশ ভালো লিখেন - শূন্যতা লেখা খুব পছন্দ হয়েছে
লিখাটার সমান্তরালে চলে কোন একটা পছন্দের লাইন আলাদা করার চেষ্টা করলাম।
আফসোস। এতো ছলনাময়ী লিখা। প্রত্যেক লাইন বলে আমিই তো অক্ষয়, আমাকেই রেখে দাও না অন্তরে।
তাই আলাদা করে কোন লাইনকে মন্তব্যে দিতে পারলাম না।
এটাকে নিপুণ হাতের পাতা ফাঁদ বললে কি ভুল হবে।
শেষের কথাগুলো রীতিমত ভাবাচ্ছে। শুধু দুটো বিন্দু চলতে চলতে দেখে মনে হবে তাদের মিলন হয়েছে আবার বিন্দুতে, আসলে তাদের চলার পথ অসীম?
তাই কি বোঝালেন?
লেখকের মন্তব্য
হুমম - তাই দেখায় বটে । বাস্তবে তারা কখনো না মিলতে পারে। সমান্তরাল রেখা মিলে গেছে এটা শুধু মানবদৃষ্টির বিভ্রম।
পড়লাম এতদিনে !কেমন করে মিস করে গেলাম ! বুঝতেই পারছিনা।
অসম্ভব ভালো লাগলো, মুগ্ধ হয়ে আছি আপনার ভাবনার গভীরতায় আর অসাধারণ বর্ণনায় । সাত তারা দিলেও কম দেয়া হয়ে যায় । কিন্তু কি আর করা !
শুভেচ্ছা রইলো ।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য
বিগ ব্যাং থিওরি নামে একটা কমেডি শো আছে। দেখেন ঐটা?
লেখকের মন্তব্য
হুমম দেখি
সুন্দর লেখা।
!
বিন্দু থেকে সিন্দু!!
ভাইয়া আমার ল্যপ্টপ ইন্টআরনেট রেন্জ এর মা্ঝে আসচে না। কি কোরব
লেখকের মন্তব্য
ল্যাপটপকে আছাড় মারুন - সব প্রবলেম সলভড
আছাড় মারবার পর থেকেই তো--------
ভাইয়া, দেশে ও দেশের বাহিরে সকলেই ব্যস্ত এ্যত্ত। আমার একটা মিনি রুপকথার বই রিপাবলিশ করতে চাইছিলাম,
চতুর কি হেল্প করতে পারবে এ ব্যপারে!!
(সুন্দর পিক আরন্যক ভাইয়া।)
লেখকের মন্তব্য
ডাক্তারের রোজনামচা - শব্দপুন্জ - নাঈফা চৌধুরী - হিমালয়৭৭৭ বই প্রকাশের সাথে জড়িত ছিলেন । তাদের মেসেজ দিয়ে দেখতে পারেন ।
আমগো চতুরের নিজ্জস্ব কোন প্রকাশক কি নেই ভাইয়া।
ভালো লাগলো লেখাটি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন