সমুদ্র কন্যা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রতিদিন যখন ক্লাসে ঢুকি শুনি বাচ্চারা ক্রমাগতই হিন্দী সিনেমা, নায়ক-নায়িকা, কার্টুন ক্যারেক্টার নিয়ে গল্প করে যাচ্ছে। এমনকি খুব সাবলীলভাবে হিন্দী বলেও তারা। ১৪ই ডিসেম্বর ক্লাসে ঢুকে বাচ্চাদের নাম ডাকলাম, পিছন ফিরে বোর্ডে তারিখ, উপস্থিত-অনুপস্থিত লিখছি আর শুনছি ওরা গল্প করছে 'কে রা-ওয়ান, কে জি-ওয়ান' সেসব নিয়ে। আমি ঘুরে খুব ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ১৪ই ডিসেম্বর দিনটা সম্পর্কে কে বলতে পারবে। কি হয়েছিল ওই দিনে?
তারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। তারপর একজন বলল, আজকে ভিক্টরী ডে। আর এরকজন বলল, বড়দিন। আমি ওদের এ্যাসাইনমেন্ট দিলাম যেন সবাই বাসায় যেয়ে পত্রিকা পড়ে আর আজকের দিনটা সম্পর্কে জেনে আসে। পরদিন তাদের আমি জিজ্ঞাসা করবো।
আমার এই বাচ্চাগুলো ক্লাস থ্রিতে পড়ে। টিচারস রুমে ফিরে যখন ঘটনাটা বললাম, সিনিয়র ক্লাসের এক শিক্ষক তাঁর পর পর তিন ক্লাসে অষ্টম-নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করলেন একই কথা। নবম শ্রেণীর পড়ালেখায় খুব খারাপ, অমনোযোগী, ভয়ংকর দুষ্ট একটা ছেলে ছাড়া কেউ উত্তর দিতে পারল না।
কিন্তু এসব বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ১৫ই আগস্ট কি? আমি জানি তারা খুব সহজেই জবাব দিবে, ভারতের স্বাধীনতা দিবস। চাই কি জাতীয় সঙ্গীতটাও শুনিয়ে দেবে নির্ভুলভাবে। ১৪ই আগস্ট সম্পর্কেও তারা জানে বেশ ভালভাবেই। কিন্তু বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের চরম বিতৃষ্ণা। এক বাচ্চাকে বলছিলাম সামনে পরীক্ষা, বাংলাটা আগে শেষ কর। সে কিছুক্ষণ বইটা উল্টে পাল্টে করুণ মুখে বলছে, মিস কেন বাংলাই পড়তে হবে! সে অন্য যেকোন কিছু পড়তে রাজি, বাংলা বাদে। আটাত্তুর মানে ও লেভেল পড়ুয়া এক ছাত্র বলছিল, এইটি এইট।
কেন?
আজ সন্ধ্যায় যখন ওর বাসায় গেলাম, দেখলাম ওর মা গভীর মনযোগ দিয়ে ফুল ভলিউমে হিন্দী সিরিয়াল দেখছে। তিনি উঠে গেলে ছেলেরা হিন্দী কার্টুন দেখবে, এটাই স্বাভাবিক।
খুব ছোট ক্লাস থেকে শুরু করে একদম উঁচু ক্লাসের বাচ্চাদের আমি দেখেছি কি ভীষণভাবে তারা হিন্দীতে আসক্ত! ইংরেজী মাধ্যম স্কুল বলে বাংলা ক্লাস ছাড়া অন্য যেকোন সময়ে তারা বাধ্য ইংরেজীতে কথা বলতে। শিক্ষকদেরও এ ব্যাপারে কড়াকড়ি। কিন্তু নবম-দশম শ্রেণীতো বটেই, প্রথম শ্রেণীর বাচ্চাদেরও আমি দেখেছি অবলীলায় হিন্দী বলছে, কোথাও তাদের বাধছে না। সমস্তক্ষণ তারা বিভিন্ন চ্যানেল আর চরিত্র নিয়ে কথা বলছে। তারা শুদ্ধ, সঠিক ইংরেজী শিখছে না। তারা বাংলাও শিখছে না, বাংলা-ইংরেজী খুবই বিচিত্র উচ্চারণে একটা আজগুবী ভাষায় কথা বলে। কাঁচের উপর ধারাল কিছু টানলে যেমন গা শিউড়ে উঠা কিঁইইইইইচ একটা শব্দ হয়, ওই ভাষাটা শুনলে ঠিক একই অনুভুতি হয়।
তবে তারা হিন্দীটা রপ্ত করেছে বেশ ভালভাবেই।
কেন?
কারণ তাদের শেখানোর কেউ নেই। বাবা-মা সমস্তক্ষণ এত ব্যস্ত যে তাঁরা সন্তানকে ভাষা, দেশ, সাধারণ জ্ঞান, ন্যায়-নীতি, ভাল আচরণ-মন্দ আচরণ, বড়দের সম্মান, বন্ধুদের সহযোগিতা, নৈতিকতা কিচ্ছু শেখাতে পারেন না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে, কিংবা মেসি কোন দেশের খেলোয়াড় এই সাধারণ উত্তরগুলোও তারা দিতে পারে না। যখন তখন বন্ধুর সাথে মারামারি, নোংরা ভাষায় গালাগালি শুরু করে দেয় খুব সামান্য, তুচ্ছ কারণে; শিক্ষকের সামনেই। শিক্ষককে দেখে পথ ছেড়ে দেয় না, বরং তাঁকেই নেমে যেতে হয় পথ থেকে। কত অবলীলায় তারা বলে দেয়, I hate Bangladesh! কেন? কারণ বাংলাদেশ সবকিছুতেই হেরে যায়, সবকিছুতেই পিছিয়ে।
আমার মনে পড়ে না ছোটবেলায় আমাকে কেউ খুব যত্ন নিয়ে দেশ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এই জিনিসগুলো সম্পর্কে বলেছিল। এ সম্পর্কে আমার জ্ঞান পাঠ্যবইয়ের পড়া পর্যন্তই সীমিত ছিল বরাবর। আমি নিজে খুব যে সচেতন ছিলাম তাও আমি কখনো বলি না। বরং অনেকটাই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া ছিলাম। কিন্তু তারপরও যখন বাংলাদেশের খেলা হয়েছে আমি রুদ্ধশ্বাসে দেখেছি, উত্তেজনায় ছটফট করেছি; পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যখনই বাংলাদেশ নিয়ে কোন কথা শুনেছি আনন্দে চোখে পানি চলে এসেছে; ইতালি থেকে চাচা একবার এক ভাইয়ের জন্য শার্ট এনেছিলেন, আনার পর দেখা গেল তাতে লেখা 'মেইড ইন বাংলাদেশ', তখন বোধহয় আমার বয়স বার কি তের, কি খুশিই না লেগেছিল তখন! আনন্দে শিরশির করেছে সমস্ত শরীর। কোথায় পেয়েছিলাম এই বোধ?
ছোটবেলায় আমি আর ছোট ভাই খুব ঝগড়া, মারামারি করতাম, সারাক্ষণ লেগে থাকতাম একজন অন্যজনের পিছে। কিন্তু বাইরের কেউ যদি ওকে কিছু বলতো, আমি দুহাতে ওকে আড়াল করতাম, প্রয়োজনে নিরীহ, মৃদুভাষী আমি গাল ফুলিয়ে ঝগড়াও করতাম। আমার এক বন্ধু ছিল খুব হিংসুটে। ও একবার অনেক নিচু মন্তব্য করেছিল আমার পরিবার নিয়ে, আমি ওর সাথে বহুদিন কথা বলি নি। আমার স্কুলটার ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও মান ছিল খুব খারাপ। কিন্তু আর কোন স্কুলকে আমি কোনদিন ভাল বলি নি। আমারটাই সেরা। আর যখন দেশের প্রশ্ন আসে, অনেক গর্ব আর অহংকার নিয়ে আমি বলি, আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...
আমার এই বোধের জন্ম হয়েছিল আমার পরিবার থেকে, আমার স্কুল থেকে, হৃদয়ের খুব গভীর থেকে।
এখনকার বাবা-মা ভুলেও ভাবে না বাচ্চাদের কিছু শেখানোর আছে তাদের। এক গুচ্ছ টাকাসহ ঘাড়ে গাদা গাদা বই চাপিয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু স্কুলেই বা কে শেখাবে! ওইদিন যখন আমি অক্ষম রাগে, দু:খে, হতাশায় টিচারস রুমে ফিরে চিৎকার করছিলাম খুব বয়স্ক দুজন শিক্ষক ছাড়া কারো কোন সমর্থন পাই নি। বরং একজনকে দেখেছি মাথা নিচু করে ব্যঙ্গের হাসি হাসতে। ক্লাস পার্টি বলে একটা বিচিত্র সংস্কৃতি এদের আছে। স্কুল থেকেই তখন সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। সারাদিন ধরে তারা উঁচু শব্দে হিন্দী গান চালাতে থাকে আর সেই সাথে চলতে থাকে নাচ। শিক্ষকেরাও ওইদিন বাচ্চাদের সাথে তাল মেলান। গত ক্লাস পার্টিতে আমি খুব অবাক হয়ে খেয়াল করলাম যে গানটার সাথে বাচ্চারা, শিক্ষকরা একই তালে নাচছে সে গানটা আমি কোনদিন এর আগে শুনিওনি। ওদের সবার মাঝখানে নিজেকে একটা আজব চিড়িয়া লাগছিল। দুই শিক্ষকের মুখে সেদিন বিজয় দিবস এবং পতাকা নিয়ে এত অবমাননাকর কথা শুনেছি যে পরের দুই দিন আমি আর তাদের সাথে কথা বলতে পারি নি।
বাচ্চাগুলো বাসায় কিছু শেখে না, বাবা-মার শেখানোর ইচ্ছেটুকুই নেই। অনেক বাবা-মাকে আমি খুব গর্ব করে বলতে দেখেছি, আমার বাচ্চাতো বাংলা বলতে-লিখতেই পারে না, সবসময় ইংরেজীই বলে। আমার স্কুলে অন্য দেশের যেসব বাচ্চা আছে তারা বাংলার বদলে পরিবেশ বিজ্ঞান পড়ে। আমার ক্লাসে একটা নতুন বাচ্চা ভর্তি হল। ওরা বাংলাদেশী, আবার একইসাথে আমেরিকার নাগরিক। ওর মা একদিন এসে বলল, ওর জন্য বাংলাটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ওকে পরিবেশ বিজ্ঞানটাই পড়াতে চাচ্ছি। আর তাছাড়া আমরাতো থাকবোও না বাংলাদেশে, বাংলা না শিখলেও হবে। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি বলতাম, বাংলা ওকে পড়তেই হবে, এটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সে ক্ষমতা আমার হাতে ছিল না। স্কুলেও তারা কিছু শিখতে পারে না। কারণ শিক্ষকদের অবস্থা আরো করুণ।
আমি খুব ছোট্ট একটা স্কুলে কাজ করি। কিন্তু এখানেই আমি আরো বড় বড় স্কুলগুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের দেখা পাই। তাই একটা সার্বিক চিত্র আঁকতে আমার কষ্ট হয় না। একটা পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে। সামনের প্রজন্মটাও আমরা ধ্বংস করে দিচ্ছি। এই লজ্জা, এর দায়ভার কি আমাদের না?
আজকাল খুব হতাশ লাগে এসব দেখলে। কি আশ্চর্য জীবনীশক্তিতে ভরপুর এই কচি প্রাণগুলো। অথচ এদের এ জীবনীশক্তির কি বিপুল অপচয় হয়ে যাচ্ছে অবিরাম। কিন্তু কি করবো! খুব দু:খ নিয়ে ওইদিন ছোটবোনকে বলছিলাম, অনেক কথার শেষে ও বলল, তুমি একা কি-ই বা করবা আপু। সব কথার শেষ কথা ওটাই হয়ে আসছে সবসময়। আমি একা কি করবো! এটা কি আমার একার দায়িত্ব! কি দরকার তারচেয়ে, চোখ বুজে নিজেরটা বুঝে নেই না কেন, বাকি সব উচ্ছন্নে যাক। তারপরে সব সয়ে যায়, আমরাও গা ভাসিয়ে দেই স্রোতে। কিন্তু কিছুই কি করার নেই? কোন সমাধানই কি নেই?
শেষের আগে:
১৪ তারিখ বাচ্চাদের এ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলাম দিনটা সম্পর্কে জেনে আসতে। পরদিন ক্লাসে ঢুকে যখন জানতে চাইলাম, দেখলাম অর্ধেকের বেশি বাচ্চাই বলতে পারছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ওইদিন পাকিস্তানিরা সমস্ত শিক্ষক, ডাক্তার, লেখক, সাহিত্যিককে হত্যা করেছিল। আমি জানতে চাইলাম 'কেন?'
তারপর নিজেই উত্তর দিলাম, 'ধর আমাদের স্কুলটাই একটা দেশ। তোমরা সবাই এখানে আছো, কিন্তু কোন স্যার-মিস নাই। সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে খারাপ লোকেরা। তখন কি হবে? খুব ভাবল তারা, আর তারপরে তাদের চোখের তারাই আমাকে বলে দিল কি ভীষণ উপলব্ধি তাদের হয়েছে। আমি ওদের কথা দিয়েছিলাম আমাদের দেশের জন্মকথা বলবো। ক্লাসের একমাত্র পাকিস্তানী ছাত্রী কাবিশার কথা ভেবে সবাই বলছিল, মিস এখন এগুলো বললে কাবিশা মন খারাপ করবে। আমি বললাম, না, কাবিশাকেও জানতে হবে। শুরু করেছিলাম ব্রিটিশ আমল থেকে, শেষ করেছি ১৬ই ডিসেম্বরে। আমার বলা শেষে স্তব্ধ প্রত্যেকটা কোমল মুখ আর তাদের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণের জন্যও তারা অনুভব করতে পেরেছে দেশকে, মাকে। পুরো সময়টা কাবিশা বসে ছিল মাথা নিচু করে, ওর ফর্সা গালগুলো লাল টকটকে হয়ে গিয়েছিল। আমি জানি সে তার বাবা-মার কাছে কিছু শোনে নি এ বিষয়ে, আর যদি শুনে থাকেও তবে সেটা ভুল। আজ যদি সে তার দেশের মানুষের আচরণে লজ্জিত হয়ে থাকে, মনে মনেও ক্ষমা চায় তার বন্ধুদের কাছে তবে সেইসব নরপশুর আত্মার উপর সেটা হাজার গুণ অভিশাপ হয়ে লাগবে।
ক্লাস ফোরের নাফিস একদিন বলছিল, বাংলাদেশ ভাল খেলতে পারে না। তাই সে বাংলাদেশকে ঘৃণা করে। ছোট্ট, ছটফটে রাহীম লাফ দিয়ে উঠে নাফিসের বুকে মেশিনগান তাক করে বলে উঠল, তাহলে তোকে ১৬ই ডিসেম্বরে আমি মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মারবো।
শেষ কথা:
হতাশায় ডুবে যেতে যেতে আমার এই ছোট্ট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি একদিন এরাই আবার ফিরিয়ে আনবে ভুল পথে যাওয়া আর সব্বাইকে। খুব গর্বভরে বলবে, 'আমার বাংলাদেশ...সকল দেশের সেরা...'
...................................................................................
আজকাল এসব নিয়ে প্রায়ই খুব বিক্ষিপ্ত থাকি। জানি খুব এলোমেলো হল লেখাটা, যা বলতে চেয়েছিলাম সব বলা হল না। তবু....লিখলাম....
মন্তব্য
তোমার কাজের জন্যে
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ
একদম নীচে গিয়ে কমেন্ট না করে এখানেই লিখে গেলাম।
ভাল লেখা। (আমার ছেলের দিকে যখন তাকাই তখন সব ভেসে উঠে। কি করব বুঝিও না!)
শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
কি করবো কেন বোঝেন না ভাইয়া? আপনাকেইতো এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাকে শেখান কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। তাকে শেখান দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি...সমস্ত কিছু। স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে দিবেন না। আমাদের সবাইকেই একটু একটু করে এগিয়ে আসতে হবে, কাজ করতে হবে যার যার অবস্থান থেকে। তাহলেই পরিবর্তন হবে।
ভাল থাকবেন।
(-_-)
সমুদ্র কন্যা, পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
শুভেচ্ছা নোমান।
যা বলবার ছিলো তা ঠিকই বলেছ। অনেক ক্ষোভ, অনেক কষ্ট নিয়ে বলেছো।
ঠিক যেন আমার মনের কথাগুলো।
বাচ্চারা কোথা থেকে শিখবে? প্রথম হলো, পরিবার, দ্বিতীয় হলো স্কুল। কোন জায়গাতেই তো তারা সঠিক শিক্ষাটি পাচ্ছেনা। দেশপ্রেম কি হাওয়ায় ভেসে আসে? ভারতে কোন বাংলাদেশের চ্যানেল দেখায়না। তাদের সব কিছু নিয়ে আমরা অনুকরনে মেতে উঠি। কিন্তু তাদের দেশপ্রেম দেখে আমাদের বিবেক একটুও নড়ে ওঠেনা।
আমার নাতীর অনর্গল হিন্দি বলা দেখে তার মা সব হিন্দি চ্যানেল অফ করে রেখেছে।
তাকে জন্মদিনে আমি রবিন্দ্রনাথের "জল পড়ে পাতা নড়ে" আর অবনিন্দ্রনাথ ঠাকুরের " ক্ষীরের পুতুল" কিনে দিয়ে বলেছি- যখনই আমি তোমার বাসায় আসবো, একটি করে নতুন কবিতা/ছড়া আমায় শোনাতে হবে।
এভাবেই তো তাদের বাংলার দিকে মুখ ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে।
অনেক সুন্দর, প্রয়োজনীয় পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ কইন্যা।
অনেক ভালো থেকো আপুটা।
লেখকের মন্তব্য
আপু মায়েরা, পরিবারের সদস্যরা একটুখানি চেষ্টা করলেই এ থেকে বেরুনো যায়। কিন্তু তারাই যে সব বিজাতীয় ভাষা আর সংস্কৃতিতে মেতে আছে আপুনি। তুমি কাকে ফেরাবে!
তোমার মতন একজন নানী আর মা থাকলে আর কি লাগে বল?
সবাই তোমার মত হোক।
বাংলাদেশীদের খুব ডীপ সাইকোলজীক্যাল সমস্যা আছে ।
প্রসংগ ক্রমে গতকালই এই রিলেটেড একটা পোস্ট পড়েছি
সবার জন্য এটা তুলে দিচ্ছি এইখানে
ফেসবুক লিংক
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আমার মেয়ে চার মাসের জন্য গিয়েছিলো বাংলাদেশ - এই চারমাসেই সে গড়গড়িয়ে হিন্দী বলতে পারে ।
এই সব ব্যাপারে মা দের সচেতনতা সবচে বেশি দরকারী । এই সব সাংসারিক ব্যাপারে জোর করতে গেলে আবার নারী স্বাধিনতায় হস্তক্ষেপ হয়ে যাবে । তাই চুপচাপ থাকি ।
কিন্তু ভয়ানক খারাপ লাগে। যেটা বিশ্বাস করি সেটা নিজে ঠিক মতো ফলো করতে পারি না ।
হিন্দী শিক্ষা , ইন্ডিয়ার অগ্রসনের বিরোধীতা করতে আমার যদি কূপমূন্ডক জাতীয়তাবাদী হয়ে যেতে হবে তাতেও আপত্তি নাই ।
এই পোস্টটা খুবই দরকারি ছিলো ।
পাকিস্তানীদের ক্ষতিটা দেখা গেছে চোখের সামনে - ইন্ডিয়ার ক্ষতিটা যেদিন দেখতে পাবো সেদিন হায় হায়ও করার সময় পাবো না ।
এই বিষয়ে আমার একটা পোস্ট লেখা দরকার আসলে - এই হীনমন্যতার ব্যাপার আমার চে বেশি কেউ জানে না/
============
তবে একটা ব্যাপারে আপত্তি -
শেষে যেটা বল্লেন -- ছেলেটা মেশিনগান তাক করে বলছে তোকে মেরে ফেলবো । আপনার উচিত ছিলো বাচ্চাদের এসব কাজে বাধা দেয়া ।
বাচ্চাদের সামনে সব পার্সপেকটিভ রাখা উচিত - তারা যেটা যুক্তিপূর্ন সেটা গ্রহন করবে ।
ভুল শিক্ষা দিলে তাহলে আমরা আর ভিন্ন হলাম কিভাবে ?
লেখকের মন্তব্য
মেয়ের মা'কে সচেতন করতে গেলে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে কেন? মা'র মধ্যেই সবার আগে এই অনুভূতি, সচেতনতা আসতে হবে। এবং তার মধ্যে যদি না থাকে তবে অবশ্যই তাকে বোঝানো যেতে পারে। নিশ্চয়ই এমন কোন উপায় আছে যেভাবে বললে তাঁর মনে হবে না তিনি যা চাইছেন তাতেই বাধা দেয়া হচ্ছে, যেভাবে বললে তিনি ঠিক ঠিক অনুভব করতে পারবেন বিষয়গুলো কতটা ক্ষতিকর নিজের ও সন্তানের জন্য। আপনারই সেটা ভাল জানার কথা।
যেটা বিশ্বাস করি আমি সবসময় চেষ্টা করি তা অনুসরণের। আমার বাবা-মা খুব পাগলের মত স্টার জলসা দেখেন। ইলাস্টিকের মত একেকটা সিরিয়াল টেনে টেনে লম্বা করতে থাকে, কোন অর্থ নাই সেসবের। না, একেবারেই বন্ধ করতে পারি নি। তবে আমার সামনে এখন সেটা তাঁরা কম করেন। জানেন আমি খুব খোঁচা দেয়া কিছু কথা বলবো। আমার ক্লাসে ভুলেও কাউকে আমি হিন্দী বলতে দেই না। আমার কলিগদের হিন্দী সিনেমা, সিরিয়াল, জামা-কাপড় নিয়ে আলাপ করতে দেখলে আমি খুব বিরক্ত মুখে তাদের বলে দেই, এসব আমার পছন্দ না।
===============
মেশিনগান তাক করেছে এতটুকু বলেছি বোঝানোর জন্য যে দুজনের অনুভূতি, প্রতিক্রিয়া দুইরকম হয়েছে শুধু তাদের পরিবারের শিক্ষার কারনে। রাহীমকে তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের উপরে বই এনে দিয়েছেন, অনেক মুক্তিযোদ্ধার জীবন নিয়ে গল্প করেছেন, সেসব সে খুব উৎসাহ নিয়ে আমাকে বলেছে। যখন সে মেশিনগান নিয়ে আক্রমণের ভঙ্গী করেছিল আমি ওকে আস্তে করে সরিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর রাহীমকে দিয়েই বুঝিয়েছিলাম পুরো ক্লাসকে কেন আমাদের দেশকে আমরা ভালবাসবো। কেন দেশের প্রশ্নে আপোষ করতে নেই। জানি না ওদের মর্মে পৌঁছেছিল কি না, তবে কিছুক্ষণের জন্যও মনে হয়েছিল ওরা বুঝেছে।
হুম।।।।।।
লেখকের মন্তব্য
হুম!!
খুব আন্তরিক লেখা, তবু একজন শিক্ষক পারেন ছড়িয়ে দিতে ভাবনা অনেকগুলো হৃদয়ে, কচিমনে সুন্দরের ছবি আঁকতে।
শুভকামনা
লেখকের মন্তব্য
শুধু শিক্ষক নয় আপু, চেষ্টা করতে হবে আমাদের সবাইকেই যার যার অবস্থান থেকে, সাধ্যমত।
ভাল থাকবেন।
আমার লেখা পড়ার আমন্ত্রণ ...
সচেতন যারা তারা অনেকে কাজ করে যান নিজের মতন কিন্তু হিন্দি চ্যানেলের মতন হালকা বিষয় নিয়ে হাসি তামাসায় সময় কাটেতে ভাললাগে বেশীর ভাগ মানুষের। তাই সচেতনতায় সারা খুব কম মেলে।
বাচ্চার মনের গভীরে কিছু সঠিক উপলব্ধি বুনে দেয়ার সুযোগ শিক্ষকের আছে। আমার বাচ্চাকে দেখতাম শিক্ষককে অনুকরণ করত। আমি নিজেও করেছি। তাই শিক্ষকের ভুমিকা অনেক বড়। অভিভাবকের পরে।
শিক্ষা ডিগ্রি সার্টিফিকটে পেলেই সত্যিকারের শিক্ষিত হয়না স্বশিক্ষিত মানুষ তাদের চেয়ে বেশী শিক্ষিত।
লেখকের মন্তব্য
বাচ্চারা, বিশেষ করে খুব ছোট ছোট বাচ্চারা শিক্ষককে অন্ধভাবে অনুকরণ করে। আমি অনেক বাচ্চাকে মা'র সাথে এইভাবে তর্ক করতে শুনেছি, "তুমি জানো না। মিস বলছে এমন হবে। এটাই ঠিক।" তখন মিস যদি ভুল বলেও থাকে, সেটা আর কিছুতেই তাকে মানানো যায় না।
তাই বলে মা-বাবা, অথবা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব তো বাচ্চাকে স্কুল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়াতেই শেষ হয়ে গেল না। যতক্ষণ বাচ্চা ঘরে আছে সে যেন সঠিক আচরণটি বড়দের কাছে দেখে এবং দেখে শিখতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকেই দায়িত্ববান হতে হবে। চেষ্টা করতে হবে সবাইকেই।
শুভেচ্ছা সমুদ্রজল।
আপু আপন করেই বলি তোমার নামটা তোমার লেখার সাথে বিলিন হয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বাপ্পাদিত্য।
আপনার কথায় জোর আছে। ভালো লাগলো। আমার এলাকার একটা অবস্থা দেখুন।
এইটা কেমন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। বিজয় দিবস তো আর কারো গায়ে হলুদ বা জন্মদিনের পার্টি না, যে এইখানে আমরা ছাম্মাক ছাল্লো বা উলালা উলালা বা মাইকেল জ্যাকসন টাইপের গান ছেড়ে হাত-পা ছোঁড়াছুড়ি করব। এই দিনে এমন ব্যাপারো দেখতে হলো। আর কিছু কিছু আহাম্মক গায়কেরা তো এখন এগুলা নিয়াই মাতামাতি করে। কোথায় বিজয় দিবসের কনসার্টে কিছু ভালো ভালো দেশাত্মবোধক গান শোনাবে দর্শকদের বা নিজেরা মঞ্চে নাটকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের... স্মৃতি তুলে ধরবে তা না। আচ্ছা আমার মনে আজকের দিনে এইসব দেখে প্রশ্ন জাগলো, যে এগুলোর জন্যই কি এতগুলো প্রাণের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কি মূল্য রইলো সেই সকল শহীদদের ত্যাগের, যার কিনা আমরা কোনো মূল্যায়ন করতেই পারি না। মন চায় এ সকল সম্প্রদায়ভুক্তদের Kaane Gaale Maira Osthir Banaia Falamu.
এই সকল ভাইদের উদ্দেশ্যে, ভাই বিজয় উদযাপন করার আরো ভালো উপায় আছে। এসব অপসংস্কৃতি থেকে নিজেদের বিরত রাখি। বিজয় দিবসকে শ্রদ্ধা করতে না পারলেও, এর অসম্মান যেন না হয় সেদিকে একটু সকলে সচেতন হই।
লেখকের মন্তব্য
এইভাবে যেকোন অনুষ্ঠানে ধুম-ধারাক্কা হিন্দী গান চালানো, বিচিত্র ভঙ্গীতে নাচা--এইসব কিন্তু অনেক অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে, আরো প্রায় বার-পনর বছর আগে থেকে। মনে আছে যখন স্কুলে পড়তাম, দেখতাম গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে, বড় বড় সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে এসে রাতভর হিন্দী গান বাজানো হচ্ছে। মুরুব্বীরা তখন বলতেন, 'আহা একটা দিনইতো! একটু মজা করুক না হয়।' আর কেউ যদি ভেটো দিতেন তাহলে তিনি হয়ে যেতেন ভিলেন। সে সময়কার সেই নির্দোষ প্রশ্রয় আজ বাড়তে বাড়তে এতদূর পৌঁছেছে, যখন বাচ্চারা কথা বলতেই শিখছে হিন্দী দিয়ে।
শুধু বিজয় দিবসে ঘটা করে অনুষ্ঠান করে, দেশের গান গেয়ে, আলোচনা করে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা যায় না। দেশকে জানতে হলে, ভালবাসতে হলে দেশকে ধারণ করতে হবে হৃদয়ে। প্রতি মূহুর্তে চেষ্টা করতে হবে জানার, শেখার। অসম্মান না করবার সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে সকলের মধ্যে। যারা জানে তারাই উদ্যোগী হয়ে যদি অন্যদের শেখানোর চেষ্টা করে, একজন-দুজন করে আস্তে আস্তে দলটা কি ভারী হবে না!
হতাশা থাকবেই...তারপরও একটুখানি আশার আলো জ্বেলে নিয়ে আসুন না শুরু করি আজ থেকেই।
ভাল থাকবেন।
কিছুদিন ধরেই ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলাম একটা পতাকা কিনতে হবে। আমি জানি কিছু কিনবো বললেই ও সেটার জন্য আমাকে তাগাদা দেবেই, ও এখনো অনেক ছোট তাই ওকে শুধু ধারণাটাই দেবার চেষ্টা করি, ও ঠিকই বলতে শুরু করলো মা তুমি বলছিলে পতাকা কিনবে, আমরা কি বাংলাদেশের পতাকা কিনবো? আমি বলি -হ্যাঁ আমরা লাল সবুজ পতাকা কিনবো।এর পর ওর প্রশ্ন আর থামে না, ও বলে- মা পতাকাটা কি লাল সবুজ পতাকা? -হ্যাঁ - কখন কিনবে? ঐটা দিয়ে আমরা কি করবো? আমি বলি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঐটি আমরা আমাদের বারান্দায় উড়াবো। ওর আর তর সয় না, ওকে নিয়ে ১৫ তারিখে বেশ আয়োজন করে বাঁশ আর পতাকা কিনি, এই বিষয়টা ও প্রতিবেশিদের এবং আশে পাশের বাচ্চাদের বলে, জান আমরা না বাংলাদেশের পতাকা কিনেছি, বারান্দায় কালকে উড়াবো, কালকে বিজয় দিবস। ও একটা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে যাচ্ছে মাস ছয়েক ধরে, প্লে ক্লাসে।
১৬ ডিসেম্বরে নিজেই খুব ভোরে উঠে ওকে সাথে নিয়ে বাঁশের মাথায় পতাকা বেধে বারান্দায় উড়িয়ে দেই। ও বলে এবার কি মা? আমি বলি এবার আমরা জাতীয় সঙ্গীত গাইবো ( নিজে ভালো গাইতে পারিনা তাই সিডি প্লেয়ারে প্লে করে গলা মেলাই, ও তাই করে) বাড়ির অন্যদের ও ডেকে বলি দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে। তারপর দুপুরে ওকে নিয়ে সিনেপ্লেক্সে গিয়ে দেখে এসেছি গেরিলা, ও ভয় পেয়েছে তবু আমার মনে হয় ওর কাছে একটু হলেও পরিস্কার হয়েছে পাকিস্তান কি, যুদ্ধ কি, পাকিস্তান আর্মি কি মুক্তিযুদ্ধ কি। আমি হতাশ নই এখনও।
সমুদ্র কন্যা আপনি একা হবেন কেন? অবশ্যই একা নন, হয়তো আমরা সংগঠিত নই, তবু যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে যার যার কাজটুকু আমাদের করে যেতে হবে। আপনার প্রচেষ্টা আমাকে সাহসী করেছে অনেক খানি। তাই আমরা যে যতটুকু করছি যেভাবে করছি আমার মনে হয় শেয়ার করাটা খুব জরুরি।
কিছু হতাশা থাকবেই। যেমন গতদিন দশেকের মধ্যেই আমি আমার কিছু বন্ধুকে হারিয়েছি। কারণ আমি তাদেরকে একটি মেলা থেকে পাকিস্তানী পোষাক কিনতে নিষেধ করেছিলাম। তার মধ্যে অবশ্য কয়েকজন আমার কথা মেনে বুঝে তা কেনা থেকে বিরতও থেকেছে, আমি মনে করি এটা আমার বিজয়। কম কি? ভালো থাকবেন খুব, আপনার কাজটি খুব ভালো, কাজ করবার জন্য কোমল কঁচি ঘাসের জমিন। ছড়িয়ে দিন বিশ্বাসের অমূল্য বীজ, একটি গাছও যদি ফলবান হয় ওটাই আমাদের জয়।
লেখকের মন্তব্য
আপনার কথায় অনেক সাহস পেলাম আপু। যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে যার যার কাজ আমাদের করে যেতে হবে। হাল ছেড়ে দিলে হবে না, স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে হবে না।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
শুভকামনা রইল।
বাচ্চাদের দোষ নেই। বাবা-মা আর শিক্ষকরা চাইলেই তাদের বাংলার প্রতি বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে পারে। আমার এক আত্মীয়া অনেক বছর ধরে আমেরিকায় থাকেন। তার ছেলেমেয়েরাও ওখানেই বড় হয়েছে, কারুর জন্মও সেখানে। তাকে দেখেছি বাসায় সব সময় বাচ্চাদের সাথে বাংলায় কথা বলতে। এমন কি বাচ্চারা ইংরেজীতে কিছু বললে সাথে সাথে তিনি বলেন, বাংলায় বল, নইলে শুনব না।
লেখকের মন্তব্য
মা হল শিশুর প্রথম ও প্রধান শিক্ষক। তাই সবার আগে সচেতন হতে হবে মা'কেই। এবং স্কুলের আগে তার শিক্ষাটা হবে পরিবারে। তাই সচেতনতা তৈরি করতে হবে বাবা-মা'র মধ্যে সবার আগে।
আপনার আত্মীয়ার কথা শুনে ভাল লাগল খুব। সবাই এগিয়ে আসুন এভাবেই।
আমার চারপাশের অনেকে যখন হিন্দিতে কথা বলে, অন্যদেশের 'স্মার্ট' সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে, তখন অনেক অবাক হই। অনেককে এ নিয়ে বলে আনস্মার্ট, খ্যাত ছাড়া কিছু পাইনি। আমি যে অন্যদেশের ঐ সংস্কৃতিকে মানতে পারছিনা, তা নাকি আমার মনের দোষ। না না, আমি এতে একদমই কষ্ট পাইনা। কষ্ট পাই যখন দেখি এরা নিজের দেশের সংস্কৃতিকে না চিনে, বাংলাকে অবজ্ঞা করে দূরে ঠেলে অন্যদেশের সংস্কৃতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অন্যদেশের সংস্কৃতিকে চিনতে চাও ভালো, কিন্তু আগে নিজেকে চিনো যে তুমি কে। নিজের সংস্কৃতিকে চিনতে শেখো।
আপু, আপনি অনেক ভালো লিখেছেন। শিক্ষকেরা চাইলে সমাজের অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটাতে পারে। চালিয়ে যান। ধন্যবাদ এত সুন্দর লেখাটার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
অন্য দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা নিজের পরিচয়কে অবজ্ঞা করে নয়। সেই মধ্যযুগে কবি লিখে গিয়েছিলেন,
যে সবে বঙ্গে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী
সেসব কাহার জন্ম পরিচয় ন জানি
আজ বহুগুণে এ কথাগুলো সত্য হয়ে ফিরে এসেছে।
আমি যেমন আমার অবস্থানে থেকে চেষ্টা করছি কিছুটা হলেও, তেমনি সবারই তা করা উচিত। তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব।
শুভেচ্ছা জুবায়ের।
খুব ভালো লেখা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অপরাজিতা।
খুবই দরকারি ও সময়োপযোগী পোস্ট। পরিবার থেকেই শিশুদের ভাষা,দেশ ও সংস্কৃতিকে ভালবাসার শিক্ষা দিতে হবে।কিন্তু আজকালতো হিন্দি আর ইংরেজি বলাটা ফ্যাশন হয়ে দাড়াচ্ছে।অনেক বাবা মা ই নিজ সন্তানকে বাংলা বলতে নিরুৎসাহিত করেন দেখি আজকাল।আগে এসব বাবা-মা দের দেশপ্রেমের শিক্ষাটা দেয়া জরুরী নইলে ওনারা বাচ্চাকে শেখাবেন কোথা হতে।
লেখকের মন্তব্য
গত পয়লা বৈশাখে শাহবাগ মোড়ে এক দম্পতি দেখলাম তাদের দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছে। মা বলছিল এভাবে, 'আম্মু দেখো হর্স'। মা যদি কথা বলতে শেখার আগেই হর্স শেখায় বাচ্চা আর ঘোড়া শিখবে কোথায়!
এসব দেখলেই খুব হতাশ হয়ে যাই। বুঝতে পারি না কি করণীয়।
ধন্যবাদ বর্ণিল আঁধার।
সময়োপযোগী পোস্ট। একেবারে অন্তর থেকে উৎসারিত হয়েছে বলে সবার হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে ও করবে এটাই স্বাভাবিক।
আরণ্যকের এই কথাটা, পাকিস্তানীদের ক্ষতিটা দেখা গেছে চোখের সামনে - ইন্ডিয়ার ক্ষতিটা যেদিন দেখতে পাবো সেদিন হায় হায়ও করার সময় পাবো না কেন যেন বড্ড বেশি সত্য বলেই মনে হচ্ছে আমার কাছে।
তবু হতাশ নই আমি। এই অপসংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করতে পারবে না কখনোই, এই অপচেষ্টা রুখে দেবার শক্তি আমাদের মাঝে তৈরী/সৃষ্টি হবেই। আজ সমুদ্র কন্যা সোচ্চার হয়েছে, আস্তে ধীরে অন্যদের মাঝেও এ চেতনা ছড়িয়ে পড়বে।
আমাদের জন্ম হয়েছে হেরে যাবার জন্য নয়, হারিয়ে যাবার জন্যও নয়।
শুভেচ্ছা অনেক।
লেখকের মন্তব্য
আপনার কথাগুলো সত্যি হোক নাজমুল। অন্যদের মধ্যেও এ চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক, আমরা যেন হেরে না পাই।
ভাল থাকুন।
আপু অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট।
এই দেশটা হচ্ছে আমার মাতৃভূমি। মাতৃভূমি হচ্ছে মায়ের মতো। আর এই মাতৃভূমিকে ভালবাসার শিক্ষাটা যে মা তাঁর সন্তানকে দিতে পারবেনা, সে মায়ের সন্তান থেকে ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা থাকে না।
আর সে সকল সন্তানরাই একটা সময় মা বাবাকে ফেলে নিজের চিন্তা নিজেই করে। এই জন্যই প্রতিটি মা বাবার প্রথম
কাজ হচ্ছে সন্তানকে পারিবারিক শিক্ষাই শিক্ষিত করা।
যারা এই কাজটা ঠিক ভাবে করতে পারে তাদের সন্তান কখনই ভুল পথে পরিচালিত হয় না।
অনেক কথা বলে ফেললাম। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
ভুল বলেননি আব্দুল করিম। ক্ষমা চাইবেন কেন?
খুবই সুন্দর আর জরুরী কিছু কথা বলেছেন। মা-বাবার মধ্যে এ চেতনার উদয় হওয়া সবার আগে প্রয়োজন।
শুভেচ্ছা।
জটিল লিখেছেন-আপনাকে সাধুবাদ জানাই!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ভাঙ্গা মাস্তুল।
অসাধারণ লিখা।
প্রিয়তে নিলাম।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ জামি।
আমাদের নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে নিজের ভাষায় শুদ্ধ ও সাবলীভাবে বলতে ও লিখতে পারাটাই স্মার্টনেস। ওরা হিন্দী শিখুক, চাইনিজ শিখুক, ফ্রেঞ্চ শিখুক- আপত্তি নেই। তবে ভাষা শেখার পালাটা নিজের ভাষা দিয়েই শুরু হওয়া উচিত।
বাচ্চারা যে হিন্দী শিখছে- এখানে কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত অভিভাবকদের উদাসীনতা, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন ও ট্রেন্ড। এই ট্রেন্ড থেকে বাচ্চাদের বের করে আনতে হবে। ওদের বোঝাতে হবে, হিন্দী যে দেশের ভাষা, সে দেশেরও সবক'টি প্রদেশে সবাই হিন্দী চর্চা করেনা। প্রায় প্রত্যেকটি প্রদেশের আলাদা ভাষায় পত্রপত্রিকা, পাঠ্যপুস্তক, টিভি চ্যানেল, রেডিও চ্যানেলসহ সবকিছুই স্বতন্ত্র। তাছাড়া হিন্দী তো আন্তর্জাতিক কোনো ভাষা নয়। নিজের ভাষার
পর অন্য কোনো ভাষা যদি ভালোভাবে রপ্ত করতে হয়- সেটা হওয়া উচিত ইংরেজি।
এর জন্যে আমাদের দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও অনেকাংশে দায়ী। এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ করছেনা। প্রমিত বাংলায় নাটক না বানিয়ে কথ্য ও আঞ্চলিক ভাষায় নাটক বানানো হচ্ছে। এগুলো থেকেও শুদ্ধ বাংলা ভাষা শেখার কোনো সুযোগ নেই।
এখনকার সময়ে বই পড়ার অভ্যেস কমে যাওয়াটাও নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার পিছিয়ে পড়ার অন্য একটি কারণ। বাচ্চাদেরকে বাংলায় লেখা গল্প, উপন্যাস, কমিক্স, থ্রিলারগুলো পড়ার অভ্যাস করে দিতে পারলেও কিছুটা কাজ হতো বলে আমার ধারণা।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার এ লেখাটি। ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন---এই শিরোনামে বহু লেখা আরো প্রায় দশ বছর আগে থেকে পত্রিকায় এসেছে। এমন কি আমার এসএসসি, এইচএসসিতে রচনাও মুখস্থ করেছি। কিন্তু তা কখনোই উপলব্ধি করতে পারি নি।
খুব ছোটবেলায় আমরা 'মনের কথা' নামে ছবি আঁকার একটা অনুষ্ঠান দেখতাম, তারও আগে দেখতাম 'এসো গান শিখি'। তারপরে এল মীনা কার্টুন। আর বিটিভিতে অনেক বিদেশী ছোটদের উপযোগী সিরিয়াল বাংলায় ডাবিং করে দেখানো হতো। 'টিপু সুলতান', 'আকবর দি গ্রেট' আমরা দেখেছি বাংলায় ডাবিং করা। তখন ভাল জিনিসটাই দেখানোর ইচ্ছা ছিল, আমাদেরও দেখার আগ্রহ ছিল।
তারা শিখুক, যে কোন ভাষা শিখুক, যে কোন সংস্কৃতিতে আগ্রহী হোক। কিন্তু প্রথমেতো জানতে হবে নিজের শেকড়টা। আর যে সংস্কৃতিই হোক, গ্রহণ করতে হবে তার ভালটুকু। তাদের বোঝানোর, শেখানোর দায়িত্ব প্রথমত পরিবারের, তারপরে শিক্ষকদের। অনেকগুলো পয়েন্ট অনেকের কাছ থেকে আসছে বিভিন্ন মন্তব্যে। আমরা যদি তার মধ্য থেকে অল্প কিছুর চর্চাও করি নিজেদের মধ্যে, পরিবর্তনতো হবেই।
ভাল থাকবেন সুমন।
কালচারাল হেজিমনিটা আমাদের ক্ষেত্রে চরম প্রভাব ফেলছে। হার্ড লাইনে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। সব বন্ধ করে দিতে হবে। তাতে যদি "বস্তাপঁচা" নাটকও দেখতে হয়, তাও সই।
লেখার জন্য
লেখকের মন্তব্য
বস্তা পচা নাটক কেন হচ্ছে সেটা একবার ভেবে দেখা দরকার। প্রথম যখন প্যাকেজ নাটক চালু হল তখন সবার মধ্যে খুব সচেতন প্রয়াস ছিল সবচেয়ে ভাল জিনিসটি তৈরি করার। সেই সময়টায় অনেক সুন্দর, মানসম্পন্ন নাটক তৈরি হয়েছে কিন্তু। তারপরে দেখা গেল খুব সুক্ষ্মভাবে ভারতীয় চ্যানেলগুলোকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, তাদের বস্তা পচা সিরিয়ালগুলোতে আমাদের গৃহিণীরা ডুবে যাচ্ছেন। এইসব সিরিয়ালগুলোর সাথে পাল্লা দিতে এখন বাংলা চ্যানেলগুলোও ডেইলি সোপ টাইপের কিম্ভুত কিছু বানাচ্ছে, চুইংগামের মত এইসব সিরিয়ালের কাহিনী টানতে থাকে, কোন আগা নাই, মাথা নাই। আর এখন বাংলা নাটকগুলো হয়ে গেছে আমাদের কাছে বস্তা পচা।
হার্ড লাইনে যাওয়া...ঠিক বলেছেন। এখন হার্ড লাইনেই যেতে হবে।
ধন্যবাদ হুনার মন্দ।
গত ১৫-২০ বছর ধরে স্কুল পড়ুয়া সন্তানের মা-বাবাদের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়ার এ প্রবণতা আমরা দেখে আসছি। গ্রামের নব্য ধনীদের (অনেকের কিন্তু আবার লেখাপড়া নেই) শহরে ফ্ল্যাটবাড়ি কিনে কিংবা ভাড়াবাসায় থেকে শিশুসন্তানদের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ানোর একটা নীরব স্রোতও গত ১০-১২ বছর ধরে আমার চোখে ধরা পড়েছে। এই অভিভাবকরা মনে করেন, শিক্ষা মানেই ইংরেজি বলতে পারা আর ওজনধারী সার্টিফিকেট অর্জন (প্রকৃত জ্ঞানার্জন না হলেও চলবে)। কারণ, অঢেল সম্পদ গড়তে হলে ইংরেজি বলতে জানা আর সার্টিফিকেট, দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটো যোগ্যতা ছাড়া ভদ্রভাবে সম্পদের পাহাড় গড়া সম্ভব নয়। এভাবেই শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
লেখকের মন্তব্য
খুব নীরবে আর ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয়া হয়েছে আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি। এখনকার ছোট্ট বাচ্চাদের কাছে বাংলা মানে খুব ক্ষ্যাত, গেঁয়ো কিছু...বাংলাদেশে তারা বাস করছে করুণা করে। শুনতে খারাপ লাগলেও প্রকৃত চিত্রটা এমনই। রোজ আমাকে চোখের সামনে এটা দেখতে হয়। কি অনায়াসে তারা হিন্দী বলে যায়! অথচ বাংলা বোঝে না, পড়তে পারে না, লিখতে তো না-ই।
একদিনে যেমন এটা হয় নি, তেমনি একদিনে এ থেকে বেরুনোও যাবে না। চেষ্টা করতে সবাইকেই, যার যার অবস্থান থেকে।
শুভেচ্ছা।
খুব সময়োপযোগী পোস্ট।
সহমত রইলো।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ডাক্তার।
ভাল থাকবেন।
আমাদের মূলেই সমস্যা। অনুকরন, নিজেদের হীনমন্যতাবোধ, এগুলো যতদিন আমাদের মধ্যে থেকে যাবে, যেকোন ভাষা সংস্কৃতি গ্রাস করতে বেশীদিন লাগবে না। একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মটা যারা ঠিকমতো জানছে না আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবান্বিত ইতিহাস, তারা যখন পিতা-মাতা হচ্ছে তাদের সন্তানদের এ ব্যাপারটাতে কি কতটুকু গুরুত্ব দিবে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। আর এর পরের প্রজন্ম কি করবে, সেটা ভাবতেই ভয় লাগছে। এখন বিজয়ের মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে "মুক্তিযুদ্ধ স্বপক্ষের" সরকার আমন্ত্রন জানায় আর আমাদের নতুন প্রজন্ম গালে হাতে পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে যায়, পরে কি হবে সেটা এখনি কল্পনা করতে চাই না। বাবা-মা জানছে না, সেই সাথে শিশুরাও জানছে না, জানছে না কিভাবে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল, কীভাবে মাত্র নয়টি মাসে ৩০ লক্ষ তাজা প্রান শহীদ হয়েছিল। কীভাবে নরকীট পাকিস্তানি হায়েনারা আমাদের মা-বোনদের ধর্ষন হত্যার পর সেই মৃতদেহগুলো কোন সৎকার না করে তার উপর দিয়ে বুল্ডেজার চালিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিলো, কীভাবে শত শত অনাথ শিশুদের কোন কারন ছাড়া নির্বিবাদে হত্যা করেছিলো, হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ সুখী পরিবারগুলো কেন শত শত মাইল পায়ে হেঁটে কলেরা আক্রান্ত হয়ে শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলো। সেই স্তম্ভিত ইতিহাস যতদিন না পর্যন্ত জ্বলজ্বল করে সবার সামনে আসবে, ততদিন পর্যন্ত হায়েনাদের দোসররা কিংবা হায়েনাদের পরবর্তী বংশধরের আমাদের উপর একইভাবে আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধের উপর শূকর নৃত্য করতেই থাকবে। ততদিন পর্যন্ত খেলা আর রাজনীতি আলাদা করে শহীদ আফ্রিদিকে বিয়ে করার প্ল্যাগ-স্বপ্ন দেখবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে গত কয়দিন যাবৎ এখানে একটা বিজয় উৎসবের প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ঘটনা খুঁজছিলাম। একটা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা স্ক্রিপ্ট তৈরী করার জন্য। সেগুলো ঘাটতে গিয়ে এমন ঘটনাগুলো জেনেছি, স্তম্ভিত, মূঢ় হয়ে গেছি। আমার সহ-উপস্থাপিকা রিহার্সেল থেকে শুরু করে যতবার পড়েছে সেই ঘটনাগুলো পড়েছে, পড়তে পড়তেই কেঁদেছে। অডিয়েন্সের সামনেও ও নিজেকে সামলাতে পারেনি। আমার ব্লগের ব্লগার সিসিফাস-কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেই ঘটনাগুলোর একটা কণা শেয়ার করছি:
অনুষ্ঠান শেষে আন্ডারগ্র্যাডের ছোট ছোট ছেলেগুলো এসে যখন জিজ্ঞেস করছিলো ভাইয়্যা, কোথায় পেয়েছেন এইগুলো? জানতে চাই। লিংক দিন, বই থাকলে দিবেন প্লিজ। আমার মনে হয়েছিল, বাহ, ঠিক এইটুকুই আমি চেয়েছিলাম। চেয়েছিল ওরা নিজ থেকে জানতে চাইবে। ওদের মধ্যে একটা আগ্রহ তৈরী হবে।
আমাদেরকে এই দায়িত্বটুকু নিতে হবে। জানাতে হবে সেই গৌরবের ইতিকথা। তবেই হয়ত এই বিভীষিকা থেকে রেহাই পাবো।
ভাল থাকুন। নিজের এমন মহৎ ইচ্ছেটুকু জিইয়ে রাখুন।
লেখকের মন্তব্য
খুব ছোটবেলায় বিটিভির একটা নাটকে এই ঘটনাটা দেখিয়েছিল। সন্তান যাতে কেঁদে উঠে অবস্থান না জানান দেয়, তাই মা তার মুখ চেপে রাখেন। এবং তারপর দেখা যায় মারা গেছে শিশুটি। সে দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলাম, মনে আছে। সেসময় এত অসংখ্য চ্যানেল ছিল না, ঘুরে ফিরে অনেক কিছু দেখবার অপশন ছিল না। কিন্তু অনেক ভাল কিছু আমরা দেখেছিলাম, শিখেছিলাম। এখনও বিভিন্ন চ্যানেলে ঘটনাগুলো দেখায় না, তা নয়। কিন্তু সেই সাথে অপশন থাকে সেসবকে তুচ্ছ করে হিন্দী নাচ, গান আর বস্তা পচা সিরিয়াল দেখার। দেশ, ভাষা, স্বকীয়তা নিয়ে এখন আর কে-ই বা মাথা ঘামায়!
আমরা যারা জানি বা বুঝি, আমাদেরই নিজের নিজের অবস্থান থেকে চেষ্টা করে যেতে হবে জানানোর, বোঝানোর, শেখানোর। এইসব কচি কচি প্রাণকে যদি শেখানো হয়, তারা কি শিখবে না? নিশ্চয়ই!
আপনার চেষ্টাকে স্বাগত জানাই পদ্ম। এভাবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
ভাল থাকবেন।
কিন্তু স্কুলেই বা কে শেখাবে! ওইদিন যখন আমি অক্ষম রাগে, দু:খে, হতাশায় টিচারস রুমে ফিরে চিৎকার করছিলাম খুব বয়স্ক দুজন শিক্ষক ছাড়া কারো কোন সমর্থন পাই নি।
.
এখানেই আমাদের দুর্বলতা
সুন্দর পোষ্ট। প্রিয়তে রাখলাম। আমাদের বদলাতে সাহায্য করবে।
আমার খুব্বি জানতে ইচ্ছা করে, নার্সারি-কেজিতে থাকতে স্কুল থেকে আসার সময় আমি যেমন হা করে ঝালাই এর কাজ দেখতাম কিংবা বেলুন ওয়ালা দেখলে খেলনা গুলোর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতাম, আজকালকার স্কলাস্টিকা-মাস্টারমাইন্ডের ছেলে-মেয়েরাও কি এভাবে চেয়ে থাকে? আরও জানতে ইচ্ছে করে, থ্রি-ফোরে থাকতে আমি যেভাবে তব্দা খেয়ে আব্বা'র থেকে ৭১ এর গল্প শুনতাম, শুক্রবারে রাত ৯টায় আলিফ লায়লা দেখবার জন্য সব পড়া-শুনা শেষ করে রাখতাম, ওরাও কি এরকম করে আজকাল? আরেকটু বড় হয়ে যখন দেশ কি, স্বাধীনতা কি, বঙ্গবন্ধু কে, লাল-সবুজের চেতনা কি উদ্গ্রিব হয়ে জানার চেষ্টা করতাম, যেখানে যা পেতাম ছুটে যেতাম জানতে সেটা পাবলিক লাইব্রেরীই হোক আর স্টোর রুমই হোক, জানতে ইচ্ছা করে যে ওরাও কি এসব জানতে আজও ছুট লাগায় কিনা! এক কোটি শরণার্থির অমানষিক জীবন-যাপন, লাখ লাখ শিশুর মৃত্যু দেখে আমি যেভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে প্রথম বারের মতো হু হু করে কেঁদে দিয়েছিলাম, জানতে ইচ্ছে করে ওদের চোখও আজকাল ভিজে উঠে কিনা !!!
লেখকের মন্তব্য
আপনাকে এক কথায় আমি উত্তরটা দিয়ে দিতে পারি নিশম, "না! ওদের এমন কিছুই হয় না!"
তারচেয়ে বরং তারা সারাদিন টিভির সামনে বসে ডোরেমন, পোকেমন দেখতে আগ্রহী। বিকেলবেলা মাঠে দৌঁড়ে বেড়ানোর চেয়ে পিএসপি পেতে বেশি ইচ্ছুক। ঝালাইএর কাজ, বা বেলুনওয়ালা বা চরকা ঘুরে ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বানানোর মত ব্যাপারগুলোয় তারা কোন বিস্ময় খুঁজে পায় না। কারণ তাদের চোখ উলালালা বা চিকনি চামেলি নাচের সাথে নায়িকা শরীরের স্থূল ভাঁজ দেখে ভোঁতা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সেনাদের গল্প শোনার চেয়ে এসআরকে, রাওয়ান, জিওয়ান এ বেশি আগ্রহী।
মা-বাবা যে তাদের শেখাবে, তেমন কোন সম্ভাবনাও নেই। তাঁরা বড়জোর শিক্ষকের কাছে এসে অভিযোগ করেন, কি করবো আমি এই বাচ্চাকে নিয়ে! ও তো কোন কথাই শুনে না। আমি খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি তখন। কেমন করে হতে পারে যে একটা বাচ্চা তার মা-বাবাকে মানছে না! তাঁরা কিছু শেখাতে চাইছেন, বাচ্চা শিখতে চাইছে না!
কারণ একটাই, তাঁরা নিজেরাই ডুবে আছেন সেইসব নোংরা কাদায়।
আমরা যারা উপলব্ধি করতে পারছি এর ভয়াবহতা, তারা যেন অন্তত তাদের ফেরানোর চেষ্টা করি। আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম যেন এইভাবে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া না হয়। প্রথম পদক্ষেপ ফেলতে হবে আমাদেরই।
ছোটবেলায় পড়া দুইটা লাইনের কথা মনে পড়ল
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল
গড়ে তুলো মহাদেশ, সাগর অতল... (মৃন্ময় আহমেদ)
হৃদয়স্পর্শী লেখা। স্বপ্ন দেখা থামাবেন না। আপনার মত অসংখ্য শিক্ষকই পারবে নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে।
লেখকের মন্তব্য
আপনার অনুপ্রেরণা পেয়ে ভাল লাগল অবি।
ধন্যবাদ।
অন্য আরেকটি ব্লগ এ লেখাটা পরেছি কিন্তু সেখানে মন্তব্য করা যায় না সদস্য না হলে।আজ থেকে ১০ বছর আগে পত্রিকার ফিচার পাতায় প্রদায়করা লিখত আকাশ সংস্কিতির কবলে দেশের সংস্কিতি।খবর গুলো সেই সময়ে কেউ গুরুত্ম দিয়েছিলেন কিনা জানি না ,তবে আকাশ সংস্ক্রিতি যে এভাবে আমাদের গ্রাস করেছে,কয়েকটা প্রজন্মকে পঙ্গু বানিয়ে দিয়েছে নিরবে তা আমরা খবর রাখি না।আমি অস্ট্রেলিয়াতে আছি ৪ বছর,এখানে দেখেছি ২য়/৩য় প্রজন্মের গ্রিক,ইতালিয়ানদের বাইরে ইংলিশ বলে কিন্তু নিজেরা ঠিকই নিজের ভাষা বলে সাবলীল ভাবে।চাইনিজরা যেখানে যায় চায়না টাউন বানিয়ে ফেলে।অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এর সময় ক্রোয়েশিয়ান-সারবিয়ান মারপিট স্বাভাবিক ঘটনা।অথচ অনেক বাংলাদেশি আছে নিজের বাচ্চাদের সাথে বাংলা বলে না ,খুব গরব করে বলে আমার বাচ্চাতো ভাত খেতেই চায় না।কেন এই হীনমন্যতা?আমার ছেলেদের নাম দিব্য-শুভ্র রেখেছি শুনে একজন তো বলেই বসলেন হিন্দু নাম রেখেছেন কেন(অন্য ধ্রমাবলম্বিদের কাছে ক্ষমা চাইছি)?
আমাদের বাসায় ডিশের লাইন দিয়েছে ২০০৯ এ, তাই বলে আমরা আনকালচারড হয়ে গেছি এটা বলা যাবে না।বরং আমি গর্বিত আমার ভাই বোনরা সমাজ সচেতন,বই মেলায় গিয়ে তারা বস্তা বস্তা বই কিনে নিয়ে আসে,পৃথিবীর কোথায় কি হচ্ছে তারা জানে।হিন্দি সিরিয়াল এর জগতে তারা বাস করে না।
বাচ্চারা খুব সহজেই বাই/মাল্টিলিঙ্গুয়াল হতে পারে।তারা হিন্দি শিখছে এটা বরং একটা গুন যে তারা নিজের ভাষা ছারা অন্য ভাষাতে পারদরশি।কিন্তু বাংলা/ইংলিশ কোনটাই ভাল করে শিখল না,হিন্দিতে ঝরঝরে এটা মেনে নেয়া যায় না।এভাবে অবলীলায় আই হ্যাইট বাংলাদেশ বলে ফেলাটা আসলেই গা শিউরে উঠার মত ঘটনা।ইংলিশ মিডিয়াম এর যে শিক্ষক he/she,is/are এর পার্থক্য করতে পারে না সে বাচ্চাদের কি শিখাবে,সে কিভাবে শিখাবে,সে নিজেই তো এ লেভেল পাস করে এসেছে।আর ঘরে যদি সারাক্ষণ হিন্দি সিরিয়াল চলতে থাকে তাহলে বাচ্চাতো তাই শিখবে।সরকারি নামকা ওয়াস্তে শিক্ষানীতি বাংলা মিডিয়াম স্কুলে প্রযোজ্য,ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো তাদের খেয়াল খুশি মত চলছে।সমস্যা এখন খুব গুরুতর পর্যায়ে চলে গেছে,কিন্তু কথা হল বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধবে কে? সরকার?যে সরকার ই আসুক নিজেরা লুটে পুটে খেতে ব্যাস্ত।শিক্ষক?তাদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব অভিভাবককে বোঝানো সম্ভব না।অভিভাবক?তারা নিজেরাইতো বুঁদ হয়ে আসেন ঝলমলে জগতে ,অথবা সংসার শান্তি নষ্ট হবার ভয়ে চোখ বুজে আছেন।
তাই সমাজ সচেতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।যারা এই পোস্ট পরেছেন তারা কি পারবেন আজ থেকে আপনার বাসায় হিন্দি চ্যানেল গুলো বন্ধ করতে,আপনার বাচ্চাকে একদিন সময় করে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে নিয়ে যেতে,ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তথাকথিত ভুল ইংরেজি শিখানো বন্ধ করে নিজে মনযোগী হয়ে বাচ্চাকে সঠিক ইংরেজি শিখানোর উদ্যগ নিতে?
কে কে আছেন আমার সাথে?আসুন আমরা শেষ চেষ্টাটুকু করি,নইলে বাংলামায়ের যে অপমানে মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না ।
খুবই প্রয়োজনীয় এমন একটা পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
লেখকের মন্তব্য
শুভেচ্ছা কাগজের নৌকা!
চমৎকার পোস্ট, অতি জরুরি ভাবনা। এই শিশুদের শেখানো তবু সহজ, এদের অভিভাবককে কে বোঝাবে!
২০১০-এর গোড়ার দিকে কমনওয়েলথ না এশিয়ান কী এক গেমসে আমাদের দুই প্রমীলা শুটার স্বর্ণ পেলেন। টিভি রিপোর্টার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন ইংরেজিতে; তাদের দুজনই সগর্বে জবাব দিলেন, "ম্যায় বহুত খুশ হুঁ!" সরকারী বাংলা মাধ্যমের স্কুলের ক্লাস টেন পড়ুয়া ছাত্রীর বোধের এই দশা, ইংলিশ মিডিয়ামের কচিকাঁচাদের অবস্থা অনুমান করতে ভয় হয়। আপনার মতো শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ুক, এটাই কামনা।
ভাল লিখেছেন।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সাইমন।
তাহলে তো দেখছি এখানে, এই ভিনভাষী আমেরিকাতেই আমার ভাগনা-ভাগনী ভালো বলতে পারে। বাংলাই বলে বাসায়। সপ্তাহে অনন্ত একদিন হলেও বাংলা লেখা শিখতে বসে ওর মায়ের কাছে। আমিও শেখাই মাঝে মধ্যে। বাংলা ছড়াও তো পারে। ঠাকুরমার ঝুলি, মীনা ওরা দেখেছে। সপ্তাহে একদিন বাংলা স্কুলে যতো রবিবারে। কিন্তু পরে দেখা গেলো বাসায় পড়ালে বেশী মনোযোগ দিয়ে পড়ে। আর আমার বাংলাদেশে বাচ্চাদের এ হাল!!! আশাহত হলাম। দুঃখ পেলাম। মা-বাবা সচেতন না হলে সন্তানদের ভাষার প্রতি, দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ কোথা থেকে আসবে!!!! বাংলাদেশ খেলায় হেরে গেলে বড়দের-ই মুখেই শুনি অসামঞ্জস্য কথা। বাচ্চারা তো ওদের কাছ থেকেই শেখে, তাই না?? আর কোথায় আমি কিনা দেশ হারুক, জিতুক শেষ পযন্ত খেলা দেখে যাই। আহত হই হেরে গেলে, হতাশ তো আর হই না। অনেক অভিজ্ঞ দল কতো লজ্জাজনক হার-ই না হারে। তার থেকে আমার দেশ অনেক ভালো খেলে।
কাপড়ের কথাটা বেশ বলেছেন। এখানেও বেশ ভালো ভালো ব্র্যান্ডের কাপড় বাংলাদেশে তৈরি। ওগুলো পড়তে একটা ভিন্ন গর্ববোধ করি। দেখতে কী না ভালোই লাগে Made in Bangladesh। আর আমাদের নতুন প্রজন্মের কী হাল!!!!!
লেখকের মন্তব্য
থ্যাংকস মুহিত।
চমৎকার পোস্ট। বিষয়টি নিয়ে ভাববার অনেক খোরাক আছে। ভাল লাগলো।
লেখাটা পড়ে গেছিলাম।
কিছু বলতে পারিনি। কীবাভে বলবো, আমার আশেপাশের আমার কাছের আত্মীয় স্বজনরাও তো ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে একই রকম উদাসীন।
তবে আপনার কাজের জন্য স্যালুটকু না জানিয়ে গেলে অন্যায় করা হয়।
চমৎকার কাজের জন্য অভিনন্দন।
ভালো থাকবেন।
শুভকামনা।
HAPPY NEW YEAR
খুব সুন্দর আর গুছিয়ে লিখেছেন আপু। আমি যখন আমার ছাত্রটিকে পড়াই মাঝে মাঝে খুব অবাক হয়ে যাই। ক্লাস ২ এর বাচ্চা মার্কও পোলো চিনে কিন্তু জানেনা ভাসানির কথা। তার অঙ্কের হিসাব শুরু হয় রুপী দিয়ে কিন্তু সে টাকা চেনে না। বাংলাদেশটা আসলে কি সেই বধটুকুই তার নেই। এতো মায়া লাগে এই বাচ্ছাগুলোর জন্যে!
দেখলাম।
একটা কথা কি জানেন? আমরা এইসব ব্লগে লিখে যাচ্ছি অনেক দিন ধরে। বাংলা ব্লগ জিনিষটা আজ যেকোন মিডিয়ার চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী কেবল এইরকম অসাধারন লেখাগুলোর জন্যে। আমার শেয়ার করাতে হয়তো আরো কিছু মানুষ পড়বে, কমেন্ট করে দিয়ে আসবে ওই ব্লগে। কিন্তু এইরকম ছোট অথচ সিরিয়াস বিষয়গুলোকী পাত্তা দেবার প্রয়োজনই বোধ করবে না।কাজের কাজ কিছুই হবে না।
কেন এমন হয় কেউ বলতে পারে?কেন আজ বাঙ্গালীরা বাঙ্গালী নয়?
অনেক কথা বলা হয়েছে,--
আমি শুধু আপনাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাই ।
প্রিয়তে নিলাম । অসাধারণ । অসম্ভব ভাল লেগেছে । আমার চার বছরের ভাগনি যখন ডরেমন কার্টুন দেখে আর অবলীলায় হিন্দি বলে তখন কেন জানি খুব অসহায় আর হতাশ লাগে। লেখককে ধন্যবাদ এ রকম সুন্দর একটা লেখার জন্য ।

মন্তব্য করুন