সমুদ্র কন্যা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

স্কুলের পড়া আর সারা বিকেল হই হই খেলার মাঝে যদি আরো কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হয়, তাহলে সেই সময় সেটা ছিল বিটিভি'র বিভিন্ন অনুষ্ঠান। তবে টিভি দেখার, এবং টিভিতে নিজের পছন্দের অনুষ্ঠান দেখার সময়টা ছিল খুব সীমিত। তাই এরও বাইরে যে অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল, তা হল বই পড়া। বই আর বই...যখন যা পেতাম হাতের কাছে, তাই গপাগপ গিলতাম। এই বইগুলো বড়দের, এগুলো পড়া যাবে না...এমন কোন বিধি-নিষেধ ছিল না। তাই পড়তে পারতাম সব বই-ই। আর পড়তে পড়তেই কোন কোন চরিত্রকে এত ভাল, অনেক ভাল, অনেক বেশি ভাল লেগে যেতো... সে ভাল লাগার আর কোন সীমা-পরিসীমা নেই! দেখা যেতো কয়টা দিন আমি এক্কেবারে ঘোরের মধ্যে, বইয়ের সেই যাদুময় মানুষটার প্রেমে একেবারে হাবুডুবু।
বইয়ের সাদা পাতায় ছোট ছোট কাল অক্ষরে যেসব মানুষ যাদুকরী হয়ে উঠে আমার কল্পনার জগৎকে রাঙিয়ে তুলেছিল, তাদের কথাই আজ লিখবো। 
ধ্রুব
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'দূরবীন' বইয়ের অন্যতম প্রধান চরিত্র ধ্রুব। আমার পরিচিত বেশিরভাগ মেয়েকেই দেখেছি ধ্রুব'র প্রেমে পড়েছে। ভীষণ দাম্ভিক, গোল্লায় যাওয়া, পাগলাটে, ক্ষ্যাপাটে ধ্রুব; যে কিনা রেমি বা ধারার মত সুন্দরী, আকর্ষণীয় নারীর ভয়ংকর ভালবাসা, প্রবল আকর্ষণকে কে বিনা দ্বিধায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে, অবহেলা করতে পারে। ওই উন্নাসিক, দাম্ভিক, দিশেহারা ধ্রুব'র প্রেমে যে কি ভয়ংকরভাবে পড়েছিলাম! বহু বহুদিন সেই জায়গাটা আর কেউ দখল করতে পারেনি। ভীষণ ঈর্ষা হতো আমার রেমিকে; মনে মনে খুব চাইতাম ঠিক ওইরকম কেউ আসুক আমার জীবনে; আর কিচ্ছু চাই না।
অর্ক
কালপুরুষ এর অর্ক, সমরেশের অসাধারণ তিন সৃষ্টি উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ...বাবা অনিমেষের তুলনায় ছেলে অর্ক খুব একটা উজ্জ্বল না হলেও আমি অর্ক'র প্রেমেই পড়েছিলাম। অর্ক অনেকটা ধ্রুব'র মতনই, সারাক্ষণ প্রচন্ড আক্রোশে ফুসছে কিছু একটা করবার জন্য; কিন্তু কিছুতেই ঠিক করে উঠতে পারছে না, খুঁজে পাচ্ছে না সঠিক পথটা। দাম্ভিক, ক্ষ্যাপাটে, উচ্ছন্নে যাওয়া অর্ক।
বইটা আমি পড়েছিলাম যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করতাম তখন, খুব পড়ার চাপ ছিল। তাই টিভি দেখা, গল্পের বই পড়া কিছুদিনের জন্য একেবারে হারাম হয়ে গেছিল। কত কাহিনী করে যে অর্ক'র সাথে আমার প্রেমটা চালিয়ে গিয়েছিলাম! (মানে বইটা পড়ে শেষ করেছিলাম আর কি
)
হেমাঙ্গ
পার্থিব বইটা পড়ে আমি প্রায় এক সপ্তাহ একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। কি সুন্দর! কি যে অদ্ভুত সুন্দর লেগেছিল আমার। শীর্ষেন্দু কিভাবে যে এত গভীর অনুভূতিগুলো তাঁর লেখায় ফুটিয়ে তোলেন, পড়লে গা শিরশির করে ওঠে, মাথা ঝি ঝি করতে থাকে, সারা পৃথিবী কেমন যেন ওলোট পালোট! (আমার কাছে তাই লাগে আর কি
)
পার্থিবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল হেমাঙ্গ। ওই আলাভোলা, উদাসীন, লাজুক, সুন্দর মানুষটা যেন যাদু করেছিল। কি যে মায়া লাগতো আমার ওর জন্য! আহা বেচারা, সবাই শুধু বকে আর বিপাকে ফেলে। সে কিনা চায় একলা, নিরিবিলি, নির্বিঘ্ন একটা জীবন কাটাতে। কিন্তু সেটা হবে কেন! তার ওপরেই যত ঝঞ্ঝাট আর সে বেচারার জলে পড়া, অসহায়, দিশেহারা মুখ। বড্ড ভালবেসে ফেলেছিলাম এলেবেলে এই লোকটাকে।
সূর্য
'একা এবং কয়েকজন' বইটার সবচেয়ে তেজী চরিত্রটা, ঠিক যেন নিজের নামের মতই। প্রবল আক্রোশে ফুসছে সারাক্ষণ, কিছু একটা করতে হবে; কিন্তু বেচারার জানাই ছিল না সেই কিছু একটা যে কি! কোন পথটা ঠিক। তাই সে ছুটল কেবল দিগ্বিদিক, আর শেষ পর্যন্ত মারা গেল খুব করুণভাবে।
এইরকম প্রবল পুরুষদের প্রতি আমার সীমাহীন আকর্ষণ! ভালবাসবো, ঝড়ের মত...উদ্দাম কালবোশেখী এল আর উড়িয়ে নিয়ে গেল। অবহেলা করবো, তাও সেটা রাজকীয়।
এই ক্ষণজন্মা পাগলা ঝড়টাকে পাগলের মত ভালবাসতে ইচ্ছা হতো আমার।
কবি নিতাইচরণ
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী বই 'কবি'। ডোম বংশের ছেলে নিতাইচরণ, যার বংশের ধারা হল ডোমের কাজ করার পাশাপাশি ডাকাতি করা; সেই ছেলেই কিনা একদিন হয়ে উঠল কবি।
অত্যন্ত নিরীহ, ভীষণরকম ভালমানুষ, রোমান্টিক, কল্পনাবিলাসী, অসাধারণ একজন গায়ক, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন প্রেমিক, নম্র স্বভাবের অথচ দৃঢ় এই মানুষটিকে ভালবেসে ফেলেছিলাম খুব। তার খুব বড় একটা বৈশিষ্ট্য ছিল সে একজন জন্ম নি:সঙ্গ মানুষ, আকর্ষণ করবে সে সবাইকেই, এমনকি নিজেও চাইবে বাঁধনে জড়াতে কিন্তু তারপরও কিসের বাধায় তার আর বাঁধনে জড়ানো হয় না। কেবল ঘুরে বেড়ায় এ দ্বার থেকে সে দ্বারে।
কুমুদ
পুতুর নাচের ইতিকথা'র একখানা পুতুল হল কুমুদ। কলেজ জীবন থেকেই ছন্নছাড়া কুমুদ পথ ছেড়ে চলতে চলতে শেষ পর্যন্ত যাত্রাদলেই নাম লেখায়, শুধু পথে পথে চলবে বলে। সেই কুমুদই কেমন করে যে গ্রামের মেয়ে মতির প্রেমে পড়ে যায়, নিয়ে যায় তাকে বিয়ে করে। সবচেয়ে সুন্দর লেগেছিল যে জিনিসটা তা হল বিয়ে করে সে সংসারী বা থিতু না হয়ে উল্টে মতিকেও শেখায় কিভাবে উড়তে হয় বাধাহীন হয়ে।
এই সমাজটার উটকো সব নিয়ম ভেঙে নতুন পথের যারা পথিক হয়, তাদের কি যে ভাল লাগে! আর উদাসীন, ছন্নছাড়া মানুষদের জন্য আমার টানটা বরাবরই একটু বেশি। তাই অবধারিতভাবেই প্রেমে পড়েছিলাম কুমুদের। 
কর্ণমল্লিক
আবারও শীর্ষেন্দু, বই 'ফুলচোর'। হেমাঙ্গ'র মতনই কর্ণমল্লিক নিরীহ, গোবেচারা, আলাভোলা, উদাস একজন মানুষ। জগৎ সংসার সম্পর্কে যার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, নিজের মনেই বাস। বেচারা, আহা বেচারা! কি অদ্ভুত মায়া যে তৈরি হয়েছিল তার জন্য! ! কেমন ঘোর ঘোর ভাল লাগা, ভালবাসাও বটে 
হেরম্ব
জগৎ সংসার সম্পর্কে উদাসীন আরেকজন মানুষ, ভীষণ যার আকর্ষণ; কাছে টানবে কিন্তু নিদারুন অবহেলায় আবার দূরে ঠেলে দিবে। কখনো জড়াবে না বাঁধনে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'দিবারাত্রির কাব্য' বইতে যার কথা বলা হয়েছে, সেই হেরম্ব। কেন যে চিরকাল সব তেজস্বিনী নারী হেরম্বের মত কুলাঙ্গারকে উজাড় করে দিয়েছে নিজের সমস্ত অনুভূতি, আমি সেই রহস্যের কোন কূল-কিনারা পাই না। হেরম্ব তার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য দিয়ে আকৃষ্ট করেছিল আমাকেও, বলাই বাহুল্য!
বাপী তরফদার
আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বই 'সোনার হরিণ নেই'; বাপী সেই বইয়েরই মূল চরিত্র। ভীষণরকম জেদী, আত্মবিশ্বাসী এই ছেলেটিকে ভালবেসেছিলাম এইজন্য যে তার মত নিবেদিত একজন প্রেমিক কমই দেখা যায়। এক মিষ্টি অর্জনই ছিল বার বছর বয়স থেকে তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই মিষ্টি অর্জন করতে কত যে চড়াই সে পার হয়েছে! আহা, এমন ভাল যদি কেউ বাসতো! 
পাভেল ভ্লাসভ
আমার জেদী, গোঁয়ার, বিদ্রোহী প্রেমিকদের মধ্যে ইনিই একমাত্র যে কিনা শেষ পর্যন্ত ঠিক পথটি খুঁজে পেয়েছিল। কিছু একটা করতে হবে, ভেঙে ফেলতে হবে নিয়মের শৃঙ্খল, করতে হবে নতুন দিনের সূচনা...টগবগ করে রক্তে ফুটতে থাকা এই আগুনকে সে ঠিকই কাজে পরিণত করেছিল।
ম্যাক্সিম গোর্কির 'মা' বইতে জার এবং পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ দানা বেঁধেছিল মজুর শ্রেণীর মধ্যে, পাভেল ভ্লাসভ তা সংগঠনের অন্যতম একজন। তার হাতেই পয়লা মে'তে বিপ্লবীদের মুক্তির ঝান্ডা ওড়ে।
একরোখা, গম্ভীর, সংকল্পে অটল, প্রবল ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষ; চোখ বুজে, নির্দ্বিধায় যার ওপর ভরসা করা যায়।
মাসুদ রানা
টানে সবাইকে কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না......বইয়ের শুরুতে এই একটা কথাতেই তো একেবারে কুপোকাত!
মাসুদ রানাকে ভালবেসেছিলাম বটে, তার এই বৈশিষ্ট্যের জন্যও হতে পারে...হতে পারে তাকে অতটা বীরোচিত, নায়কোচিত করে উপস্থাপনের কারণে। সব দোষ কাজীদা'র, আমি কি জানি! 
আপাতত: এই ক'জনকেই মনে করতে পারছি। ঝড়ের মত, কোই পরোয়া নেই মানুষগুলো যেমন আকর্ষণ করতো ভীষণ; তেমনি আলাভোলা উদাসী বেচারা মানুষগুলোকেও ভালবেসেছি খুব। হয় নিয়ে নাও সবটুকুর দখল, আর নয়তো সমর্পণ করো নিজেকে- আদি ও অন্ত। মাঝামাঝি কিছু নেই।
বইয়ের পাতার এই স্বপ্নপুরুষেরা দখল করে রেখেছে আমার স্বপ্ন আর কল্পনার জগতের অনেক বিরাট একটা অংশ।
মন্তব্য
আরে ব্বাস, এ যে দেখছি বিশ্বপ্রেমিক! আমার ধারণা তা'হলে ঠিক নয়!! আমি ভাবতাম ছেলেরাই শুধু গল্প উপন্যাসের নায়িকাদের প্রেমে পড়ে! ঠিক আমার মত। এখন দেখছি আমার সে ধারণা একেবারেই ষোলআনা মিছে! মেয়েগুলোও বই পড়ে আর নায়কদের প্রেমে হাবুডুবু খায়??
আহা, কত কত প্রেমিকা যে ছিল? ভুলিয়াও গেছি নাম! শরতের কোন নায়িকা আমার প্রেমিকা ছিল না? বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলাকেও কী ভালোবাসি নি? কত জনের কথা বলবো? থাক, স্মৃতি হাতড়ে দুঃখ বাড়িয়ে লাভ কী?
সেই ছোটবেলার মত এখন আর প্রেম জাগেনা, তবু গল্পের নায়িকারা এ বয়সেও হৃদয়ে দোলা দেয়।
সমুদ্র কন্যা, লেখা খুবই উপভোগ্য হয়েছে। পড়ে আরাম পেলাম, মজা পেলাম, ভালোও লাগলো খুব।
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা
হ্যাঁ বিশ্বপ্রেমিকই বটে। আমার এ ব্যাপারে থিওরিটা হল খুব বেশিদিন একজনের প্রতি আকর্ষণ ধরে রাখবো না। তাহলে কষ্ট কম পাবো।
শরৎ বা বঙ্কিমের চরিত্রগুলো ভাল লাগতে লাগতেও শেষ পর্যন্ত লাগেনি। তার কারণ হল ওই সময়ের পারিপার্শ্বিকতা। মেয়েরা যত বিদ্রোহী হোক আর যাই হোক, স্বামীর কাছে এসে মাথা নত করছে। আর মুখ ফুটে কিছু বলছে না। দেবী চৌধুরাণীর কথাই চিন্তা করেন! তবে কপালকুন্ডলার ব্যাপারটা আলাদা। সেতো হল বনের হরিণ। আমার ভাল লেগেছিল আয়েশাকে।
আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল নাজমুল।
শুভেচ্ছা।
হুহাহ হাহা ধ্রুবর প্রেমে আমার কাজিনদেরকেও পড়তে দেখেচ্ছি।
মাসুদ রানা!!
স্কুলে থাকতে কত্তো পড়তে চাইতাম কিন্তু বড়রা পড়তে দিতো না।
লেখকের মন্তব্য
আহারে!
আমার অবশ্য এ ব্যাপারে কোন বিধি-নিষেধ ছিল না। শুধু পড়ার বইয়ের নিচে রেখে গল্পের বই না পড়লেই বাসায় খুশি ছিল। এ কাজটা আমি প্রায়ই করতাম কি না।
মাসুদ রানা পড়তে শুরু করেছিলাম ক্লাস ফাইভ থেকে। আর যে বইগুলোর কথা বললাম, সেগুলো বেশিরভাগই স্কুলে থাকতেই শেষ করেছি।
ধন্যবাদ নীল বালক।
ভাল থাকবেন।
ধ্রুবের প্রেমে কিন্তু আমিও পড়েছিলাম।
অর্ককেও খারাপ লাগে নি।
কিন্তু মাসুদ রানাকে একদম পছন্দ হয়নি।
পোস্টে
লেখকের মন্তব্য
তিন গোয়েন্দা পড়ার আগে আমি মাসুদ রানা পড়েছি। সুতরাং রানাকে ভাল আমার লাগাই বেশি স্বাভাবিক।
আপনার সাথে মিলে যাওয়ায় মজা পেলাম তিশা।
শুভকামনা।
ধ্রুব,অর্ক,হেমাঙ্গ ,সূর্য ,পাভেল ভ্লাসভ'দের পাশে মাসুদ রানা!!!!!!!!! কেমন জানি বেখাপ্পা লাগছে তবু'ও মানুষের মন'তো, মনের ভাষা জনে জনে আলাদা।
লেখকের মন্তব্য
এদের যে কারো সাথে পরিচয়ের বহু আগে আমার মাসুদ রানার সাথে পরিচয় হয়েছিল। সুতরাং তাকে তো ভাল লাগবেই।
ধন্যবাদ জুনায়েদ।
ভাল থাকবেন।
ওরে বাপস, এতো প্রেম?
স্মৃতিচারণ ভালো লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
হা হা অনেক প্রেম...
ধন্যবাদ ইমন।
বই ছাড়া আমার চলেই না।
ভালো লাগা বই হলে আমিও ক'দিন ঘোরে থাকি। ধ্রুব, অর্ক এদের প্রেমে না পড়লেও পথের পাঁচালী সিরিজের অপু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বই 'সোনার হরিণ নেই' এর বাপী, কবি'র নিতাই, অতীন বন্দোপাধ্যায়ের নীলকন্ঠ পাখীর খোঁজের সোনা ও এমনি আরও অনেকেই আমার প্রিয় চরিত্র।
আমার দোষ হলো, যে চরিত্রটি আমার ভিষন পছন্দ হয় সে চরিত্রের মাঝে আমি হারিয়ে যাই। তা সে পুরুষই হোক আর নারীই হোক।
সুন্দর পোস্ট কইন্যা। অনেক ভালোবাসা।
লেখকের মন্তব্য
আমিও আপুনি...পছন্দের চরিত্রের একেবারে গভীরে হারিয়ে যাই। অনেক কিছু মিলে গেল তোমার সাথে
পছন্দের নারী চরিত্র নিয়েও লিখবো ভাবছি। লিস্টি নি:সন্দেহে বড় হবে।
ভালবাসা আপু। ভাল থেকো অনেক।
খাইছে রে।
এতো প্রেম।
উপন্যাসের নায়িকাদের প্রতি আমার মোহ অনেকটা এই পর্যায়েরই।
চতুষ্কোণ পড়ার সময় চারটা মেয়ের প্রেমে পড়ছিলাম আলাদাভাবে।
যা হোক ভালো লাগলো পড়ে।
অফটপিক: আপনি কি কেডু (ক্যাডেট ) নাকি??
লেখকের মন্তব্য
বইয়ের জগৎটা অদ্ভুত কল্পনাময় একটা জগৎ...সত্যি বই না থাকলে কেমন করে স্বপ্ন দেখতে শিখতাম!
অফটপিক: কি দু:খের কথা মনে করায়ে দিলেন?



আমার অনেক শখ ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির। পুরো ক্লাস সিক্স কোচিং করলাম, লিখিত পরীক্ষায় চান্সও পেলাম...কিন্তু ভাইভায় বাদ পড়ে গেলাম। ওহ আমার সেকি দু:খ! স্কুলের এক টীচার এসে পত্রিকা দিয়ে বলছিলেন দেখ রোল নাম্বার আছে কি না। নাই দেখে আমি কাঁদতে কাঁদতে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসছি। তারপরে সারাদিন কাঁদছি, আমি আর ক্লাস সেভেনেই পড়বো না। শেষে কয়েকটা টেস্ট নিয়ে আমাকে এইটে তুলে দেয়া হল।
এই আর কি কাহিনী। যাই হোক, ক্লাস এইটে উঠে আমি ভয়ানক বান্দর দুইটা ফ্রেন্ড পেয়েছিলাম। ওই ত্রিরত্ন পুরা স্কুল অস্থির করে রাখতাম। আমার এরপরে আর একদিনও সেই আফসোস ছিল না কেন ক্যাডেটে চান্স পাই নাই।
ধ্রুবকে আমারও খুব ভালো লেগেছিলো, অর্কের চেয়ে অনিমেষ আমার খুব প্রিয়। বাকীরা..............
খুব ভালো থাকা হোক।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ ডাক্তার।
শুভকামনা।
মাসুদ রানারে আমি হিংসাই!
এক রাজকপাল নিয়ে জন্মাইছে!
লেখকের মন্তব্য
কথা সত্যি।
বই পড়া হয় না অনেকদিন। আপনার দেয়া বেশ কিছু চরিত্র জানা আছে, তবে অনেক কিছুই ভূলে গেছি।
অসাধারন।
লেখকের মন্তব্য
আমিও ভুলে গেছি অনেক কিছু। বই পড়ি না কতদিন! এবারের, এমন কি আগের বারের বইমেলায় কেনা সব বই পড়ে শেষ করি নি এখনো। অথচ আগে নতুন বইয়ের গন্ধটা মিলিয়ে যাবার আগে বই পড়ে শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে থাকতাম! বিচ্ছিরি হয়ে গেছি!
ধন্যবাদ উদরাজী।
ভাল থাকবেন।
ধ্রুবর প্রেমে আমি এখনো পড়ে আছি।মাসুদ রানাকে ভাল লাগত না।কিশোর পাশার প্রেমেও পড়েছি।আর প্রেমে পড়েছিলাম ত্রিস্তানের(সোনালি দুঃখ,সুনীল গাঙ্গুলি)।
লেখাটা চমৎকার আপু।
লেখকের মন্তব্য
তিন গোয়েন্দা পড়ার আগে থেকে মাসুদ রানা পড়তে শুরু করি। তাই কিশোর বা রবিনকে আমার তেমন ভাল লাগেনি।
ত্রিস্তান.......বইটা পড়েছিলাম, সম্ভবত সিক্সে পড়ি তখন...ভুলে গেছি কাহিনীটা...
তবে অনেক ভাল লেগেছিল এতটুকু মনে আছে।
ধন্যবাদ অর্থহীন।
শুভেচ্ছা।
সুনিলের " পূর্ব-পশ্চিম" উপন্যাসের প্রতাপ চরিত্রটিও আমার ভিষন প্রিয়। ঐ বইটি পড়লেই প্রতাপের চরিত্র আর আমার বাবা মিলেমিশে এক হয়ে যান।
মাধুকরী এর পৃথু ও আমার অনেক প্রিয়।
লেখকের মন্তব্য
পূর্ব-পশ্চিম বইটা যার কাছ থেকে এনেছিলাম তার খুব তাড়া ছিল, শেষ না করেই ফেরত দিতে হয়েছিল

পৃথুকে হালকা মনে পড়ছে, বইটা অনেক আগে পড়া। তবে ভাল লেগেছিল। ধন্যবাদ আপুনি।
মন্তব্য করুন