সাকিবা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


ভোরের নরম আলোতে ভেসে আছে দশদিক। সূর্যের মায়াময় উষ্ণতায় ভরে আছে চারধার। এই সময়টাতেই ঘুম ভাঙ্গে মমতার। সবসময়। বাতাসে এসময় মিশে থাকে অদ্ভুত এক অসহনীয় পবিত্রতা আর শুদ্ধতা। থাকে এক অচেনা ভুবনের অজানা সতেজতার ঘ্রান। । খুবই কোমল আর অসম্ভব মায়াময় এক স্পর্শ । আর থাকে কতনা ফুলের গন্ধ। কৃষ্ণচূড়া , রাধাচূড়া , কামিনী আর নাম না জানা কত ফুল। মমতা এই সময়টা তে বেরিয়ে পরেন। কলা ভবন পার হয়ে হাঁটেতে হাঁটতে চলে যান কার্জন হল। কখন ও আর একটু দূর। শহিদ মিনার, মেডিকেল পার হয়ে আর ও দূর। বুক ভরে বাতাস নেন। ফুলের গন্ধ নেন। এই সময়টা তার একদম একার। এই সময় এর আকাশ টা তার একদম নিজস্ব মনে হয়, বাতাস যখন তার শাড়ির আঁচল ছুঁয়ে যায় ,তিনি বাতাস কে নিজের মধ্যে ধারণ করেন।
ঘরে ফিরে এসে টুকটাক কাজ। রান্না, ফুল গাছে পানি দেয়া আর একবার মেইল চেক করা । তারপর অপেক্ষা করেন।
অরিত্র ওঠে দশটা নাগাদ। উঠেই চিৎকার, হৈ চৈ, মা মা কোথায় গেলা? ডাকো নাই কেন এতক্ষণ ?
-আরে ঘুমালি কখন তার খবর আছে? তাই ডাকি নাই ।
-কি যে তোমার যুক্তি মা।
অরিত্র রেডি হয়। মমতা বসে বসে দেখেন আর ভাবেন। অরিত্রর জন্ম সেই যুদ্ধের সময়। সেই ছেলে দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেল। পঁচিশ ছুঁই ছুঁই ছিপছিপে এক যুবক। এই যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছে ।পরনে আকাশ নীল একটা টি- শার্ট। হাল্কা কোঁকড়ানো চুল। মসৃণ কাঁধ, ঝকঝকে গায়ের রং আর বুদ্ধিদীপ্ত দুই চোখ। একদম মাহিন এর কার্বন কপি । দেখতে এমনই ছিল মাহিন। শান্ত চেহারা কিন্তু ভেতরে অনেক জেদ। অনেক স্বপ্ন। একটু আবেগপ্রবণ কিন্তু নীতিতে অটল।
-মা নাস্তা দাও।
-টেবিল এ চল।
-তুমি খেয়েছ?
-না।
-কেন?
-এমনি।
-খাওনা কেন? এত সকালে উঠো।
-তুই খাবি চল।
-ভাত খাব মা।
-এই সকালে?
-হু। দুপুরে খাওয়ার ঠিক থাকে না।
-বাসায় চলে আসলেই ত পারিস।
- টাইম পাইনা । তোমার সেই কালকের মাংস আছে না? ফাটাফাটি ছিল ।
-হু, চল।
-আজকে ফিরতে দেরি হবে মা। প্রোজেক্ট এর কাজ।
-সে আর নতুন কি।
-আমার ভালো লাগে না মা।
-কি?
-এইযে চাকরি খোঁজা ।
-হবে চেষ্টা কর।
-আর কত?
-পানিতে ত পড়িস নাই।
-তুমি আর কত?
-আমার আরো চাকরি আছে ৩ বছর। হয়ে যাবে।নাস্তা খাবি চল।
-মা তোমার কোন কিছুতে মন খারাপ হয়না?
-না।
-কেন?
-লাভ নাই তাই।
-তোমার কি দারুণ ফিলসফি।
-এই ভাত খাবি ত চল।
পিছনে পিছনে অরিত্র আসে। গরম ভাত আর তাতে জ্বাল দেয়া কোরবানির মাংস । ঝুরা ঝুরা হয়ে গেছে ,
অরিত্রর তাই পছন্দ। তাতে ডাল।গরম গরম।তাতে মরিচ। অরিত্র হাপুস হুপুস খায়।
-বলে মা রনির জব হল শাফিক এর ও হল একটা । আমার যে কবে হবে।
-হবে হবে আল্লাহকে ডাক।
-তোমার আজকে কি রুটিন?
-মিটিং একটা আর কিছু নাই।
-কখন যাবা?
-এইতো।
-চল একসাথে বের হই।
-না রে। তুই যা।
অরিত্র বেরিয়ে যায় ।
মমতা গোসল করে রেডি হতে যান। তার এখন ও অনেক লম্বা চুল। টানা মসৃণ । কোমর ছাপানো। তাতে সকালের সূর্যের আলো পড়ে ঝলমল করছে। একটা হাত খোঁপা বাঁধেন। তার পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে কিন্তু মুখে এখন ও তারুণ্য এর আভা। এককালে খুব সুন্দর ছিলেন তিনি। শাড়িতে খুব দারুন লাগত। এখন ও তাই। একটা হাল্কা আকাশি শাড়ি বের করেন। তাতে সাদা ব্লাউজ।আজকে departmental মীটিং . Agenda আগে ই ঠিক করা।
দরজাতে তালা লাগিয়ে বের হতে হতে ১০ টা। তার আগে একটা বিস্কিট, এক কাপ গ্রীন টি। চেয়ারম্যান-শিপ এর দুই বছর চলছে।সপ্তাহে ২টা ক্লাস। আজকে ক্লাস নাই।
রুম এ রুমানা বসে আছে ।দেখতে খুব নরম শরম শান্ত । তার ছোট বোন তুলির মেয়ে।এই ইউনিভার্সিটি তেই পড়ে। এই মেয়েকে দেখলে তার নিজের সেই বয়স এর প্রতিচ্ছবি মনে হয়। ওর স্নিগ্ধ হাসি অনেক কথা বলে।
-কিরে রুমানা খবর কি?
-এই তো চলছে।খালা এক্সাম কি পিছাবে? উড়া উড়া শুনি।
-তাই নাকি?
-তাইলে ত গেলাম।
-কেন?
-সময় চলে আসল না?
মমতা হাসেন। বলেন -সময় বাড়া ।অনার্স টা শেষ কর... তারপর
রুমানার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে সামনের জানুয়ারী তে। ছেলে জাপান প্রবাসী ডাক্তার। বিয়ের পরই ও কে নিয়ে যাওয়ার কথা। রুমানাকে বিষণ্ণ লাগে। চোখ দুটো কি এক কষ্টে ছল ছল করে।
গহন কালো চোখ দুটি তুলে বলে
-হু... বিয়ে বড় না পড়াশোনা?
-তাইতো। চিন্তিত ভাব দেখান মমতা। তা তোর হবু বর কি বলে?
-বলে পড়াশোনা করে লাভ কি? তুমি কি চাকরি করবা?
-তুই কি বলিস?
-বলি তাইত রান্না করতে আর বাসন মাজতে তো আর ডিগ্রি লাগেনা। কিন্তু খালা আমি এত সহজে ছাড়বনা। ফাইট দিব। পড়াশোনা শেষ করবই।
-জাপান এ গিয়ে জাপানিজ ফাইট? তোর মা কি বলে?
হাসে রুমানা। বলে মা আমার পক্ষে আছে। তোমার এক্সামপল দেয়। বলে মমতার মত হ। লাইফ এর কোন গ্যারান্টি আছে?
-তুই ত এই যুগ এর মেয়ে। আমার মত কেন হবি? আরো আগাবি না ?
-তোমার মত হলে ই হবে। দোয়া কইর। অরিত্র ভাই এর কি খবর?
-আছে।
-যাবনে বাসায়।
- আসিস।
রুমানা চলে গেল। কিন্তু ওর সুবাস ছড়িয়ে রইল। সাহস এর দৃঢ়তার। মায়াবী চেহারাতে কি যেন বলে গেল রুমানা! তার মত হতে চায়। লড়াই করতে চায়। বোকা মেয়ে। লড়াই করা কি খুব সুখের? একটা সময় ছিল যখন রুমানার মত ছিলেন তিনি। তেজি আর সাহসি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে খুব সংবেদনশীল। সেই মনের প্রেমে পড়ে গেল মাহিন । অভিজাত পরিবার এর একমাত্র সন্তান । হৃদয়বান মেধাবী আর পরোপকারী। তুখোড় বিতারকিক আর আবৃত্তিকার । সেই মাহিন এর বনলতা হয়ে গেলেন তিনি। মফঃস্বল থেকে আসা মহিলা কলেজ এ পড়া মমতা ।তার অসাধারণ মুখশ্রী, মিষ্টি গানের গলা আর নিবিড় কাল চুলের জন্য ফিদা হয়ে গিয়েছিল মাহিন। কি যে সময় গেছে তখন । অপ্রেমের কাল থেকে প্রেম এর কাল। রোকেয়া হল থেকে মুজিব হল।ডাকসু থেকে TSC.
বিয়ের বছর এ যুদ্ধ। ততদিনে এ পাশ করে বেড়িয়ে গেছেন দুজনেই। মাহিন ইউনিভার্সিটির টিচার। মমতা একটা সরকারি কলেজে। মাহিন এর চেষ্টাতো ছিলই নিরন্তর। জীবন গোছানোর। Full bright scholarship হয়ে গেল। যাওয়ার গোছগাছ চলছে তখনি যুদ্ধ।
না সেই কাহিনী আর মনে করতে চান না মমতা। বাইরে ভিতরের নিরন্তর যুদ্ধের কাল। নিজেকে রক্ষা করা, অরিত্রর জন্ম, তাকে একা হাতে মানুষ করা... আর অপেক্ষা ...। কত দিন রাত্রি প্রহর গেল... অপেক্ষা আর শেষ হয়না । আহ চোখে পানি আসে কেন ?
মিটিং আর টুকটাক কাজ সেরে ইউনিভার্সিটি থেকে বের হতে হতে বিকেল। বাসা ৫ মিনিট এর হাঁটা পথ। এতটুকুতেই ফুরিয়ে যায়। মমতা ফুলের সুবাস মেখে ফুলার রোড এর রাস্তায় হাঁটেন আর ফুল দেখেন। মাহিন এর অনেক স্বপ্ন ছিল। অনেক বড় হবার, অনেক কিছু করার এই দেশটার জন্য । সেই যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল একদিন ১৯৭১ র এপ্রিল এর এক সকালে আর ফিরে এলোনা। কোথায় গেলো... কত খোঁজ .. . কত খোঁজ ...। আর কত অপেক্ষা , আর কত চোখের জল। এই মাটিতে কোথায় ঘুমিয়ে আছে। কে জানে।
বিয়ের পর পর অরিত্র এসেছিল গর্ভে । কি সুখ, কি আনন্দ, কত কল্পনা। ছেলে না মেয়ে। ছেলে হলে অরিত্র আর মেয়ে হলে বর্ষা। ছেলে হলে বুয়েট আর মেয়ে হলে মেডিকেল। স্বাধীন দেশে বড় হবে ওরা, সেই স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা। সবই হল শুধু মাঝখান থেকে হারিয়ে গেল মাহিন , ইংলিশ বিভাগ এর তরুণ প্রতিভাবান দেশপ্রেমিক শিক্ষক।
মুঠোফোন টা বেজে ওঠে।
-মা মা তুমি কোথায়?
-কেন? কি হল?
-বলনা মা
-কি ? এই ত বাসার কাছে
-আস মা, তাড়াতাড়ি।
-তুই কই?
-বাসায় মা। আস...
বিকেল নেমেছে ফুলার রোড এ। তার সোনালি আলোতে মেখে আছে দশদিক। কাঁচা সোনার মত রোদ। এই রোদ এ রিকশা করে ঘোরা ছিল মাহিন এর খুব এ প্রিয়। আর তার সাথে গান। মমতার গান।
এক বিকাল এর কথা মনে পড়ল। সোনা সোনা রোদ। তার মাঝে আচমকা বৃষ্টি। মাহিন এর কি উচ্ছ্বাস। রাধাচূড়া ফুল আর বেলি ফুল এর গন্ধ মাখা রাস্তা। রিকশার পরদা ফেলা। আচমকাই হাতের পাতায় হাত। অসম্ভব ম্যানলি গলায় গহন ঘোর।
-মমতা প্লীজ বৃষ্টির গান কর একটা
মমতা অভ্যস্ত মাহিন এর পাগলামিতে। তাও বলেন কি বল না বল। রিকশাওয়ালা শুনবে ত।
চকিতে দুষ্টামি মাহিন এর গলায়। দারুন হাসিতে রাস্তা কাঁপিয়ে বলে আরে ওরে না হয় ২ টাকা কম দিবো... ফ্রী গান শুনবে তাই।
-আরে বল কি।
-আরে লতা মুঙ্গেশকার, গান না একটা গান। নাহয় রিকশাওয়ালারে জিজ্ঞেস করি তোমার গানের বদলে ফ্রি নিয়া যাবে নাকি আমদের?
-না গাইলে কি করবা?
-কি যে করব, হুড ফেলে বৃষ্টিতে তোমারে গোসল করাই দিবো। আর না হয় আমিই গান শুরু করব। চিল্লাব তখন বুঝবা কত ধান এ কত চাল। তুমি ভালো বিপদ এ পড়বা।
-এত জ্বালাও কেন তুমি?
-বউ হবা না আমার ? জ্বালা ত সইতেই হবে।
কি গান গেয়েছিলেন মনে নাই। ঝর ঝর মুখর শ্রাবণ দিন এ না অন্য কিছু... তাতে কি আনন্দ মাহিনের বলল আজকে আমারে বিয়ে করবা? প্লিজ চলনা কাজী অফিস। রাত বিরাতে তোমার গান শুনতে চাইলেও পারব তাইলে।
দরজাতেই দাঁড়িয়ে অরিত্র।। জড়িয়ে ধরল মাকে।
- মা মা দারুণ একটা ব্যাপার।
-কি রে? কি ?
-হয়ে গেছে মা , হয়ে গেছে।
-কি?
- গেস কর মা।
- চাকরি ?
-না মা।
-তাইলে কেমিক্যাল এর মুমু নিজেই তোরে বলছে তোরে ছাড়া বাঁচবে না।
-না মা
-তাহলে... না রে তুই বল
-স্কলারশিপ হয়ে গেছে মা
-কোনটা
ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি তে মা... ফুল স্কলারশিপ মা
-সত্যি?
-তিন সত্যি মা।
-কখন দেখলি?
-এইত রুমির বাসায় অনলাইন হলাম । তখনই । ফোনে বলতে ইচ্ছা করলনা তাই বাসায় আসলাম ।
-কবে সেশান?
-এইত মা সেপ্টেম্বরে । আর মাত্র ২ মাস।
-তাইতো। সময় যে অনেক কম ।
-চল মা। সেলিব্রেট করি। তোমারে বাইরে খাওয়াব। নতুন একটা দোকান দেখলাম ধানমণ্ডিতে। ধানসিঁড়ি। ওদের মাটন কাচ্চি আর চিকেন কড়াই। সাথে বোরহানি আর রায়তা। শেষে তোমারে পানবাহার এর একটা পান। দিলখুশ হয়ে যাবে।
অনেকদিন অনেকদিন কষ্টে ছিল অরিত্র। বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার । কোন চাকরি নাই । ছোটোখাটো প্রোজেক্ট এর কাজ আর কয়েকটা কোচিং এ ক্লাস। এবার খুশি। মমতার চোখে পানি আসে। সুখের দিন কি এসে গেল! চোখের পানি ফেলার দিন কি শেষ হল?
-আমারে কেন? বন্ধুদের বল। আমি টাকা দেই।ভালমত খা। যা যা মন চায়। যতজনরে খাওয়াতে মন চায়।
-বন্ধুরে ই ত বললাম মা। সবচে বড় বন্ধু।
-আরে ধুর।।
-চলনা মা। শাড়ি বদলাইতে হবে না। তোমারে দারুন লাগছে মা।
-আচ্ছা আচ্ছা, আর বলতে হবে না।
আবারও চোখে পানি আসে। আর মাত্র দুই মাস। অরিত্র ও চলে যাবে।
নিচে নেমে এসে রিকশাতে উঠে মা আর ছেলেতে। রিকশা চলতে থাকে। মা আর ছেলের কথা ও চলতে অরিত্র এর স্বপ্ন, পরিকল্পনা । টুংটাং রিকশার হর্ন বাজে।
-বলে মা আমারে ছেড়ে থাকতে পারবা তো? কিছুদিন। তোমারে নিয়ে যাব ।
-নারে আমারে নিয়ে ভাবিস না। ৫ বছর তো। দেখতে দেখতে চলে যাবে। শুধু এই মাটিতে ফিরে আসিস। ওখানে থাকিস না। কত কষ্টের এই দেশ। তোর বাবার কত স্বপ্নের দেশ।
-রুমানা রে নিয়ে আস মা তোমার কাছে। হলেইতো থাকে । অনেক ভালো মেয়ে।
-নারে আমি একাই পারব । তুই থাকতে পারবি তো? দেখিস আবার কান্নাকাটি করিস না।
অরিত্র মায়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। ওর দুই চোখে শ্রাবণ এর ঢল নামে।
২।
অনেক অনেকদিন চলে গেছে তারপর। আজকেও সন্ধ্যা নেমেছে। বসুন্ধরার ১০ নম্বর সড়কে ১১২ নং ছিমছাম দোতালা বাড়ীটিতে। সোনা সোনা রঙের আলোয় আলোকিত চারিদিক।
মিতু কাঁদছে। এপোলো হসপিটাল এর শিশু বিশেষজ্ঞ মিতু। অরিত্রর ঘরনি।
- মিতু মিতু কাঁদছ কেন?
-কি জানি কাঁদি নাতো।
-এই যে চোখে পানি। স্কলারশিপ পাওয়ার দিনটার কথা শুনতে চাইলা তাই না বললাম।
-না মা এর কথা যত শুনি ততই কেমন অস্থির লাগে... ক বছর পরে ফিরলা তুমি?
-৫বছর।
-মা কেমনে ছিল!
-মারে চিননা তুমি... সব পারে মা। ফোনে এ আমি কাঁদতাম। মা কাঁদত না।
অনিন্দ্য সুন্দর চোখ দুটি তুলে হাসে মিতু... তাইত মায়েরা অনেক কিছু পারে। না পারলেও পারতে হয়।
-হু
মিতু উঠে। তার গহন মায়াবি চোখ দুটো তখনো ভিজা।
-কই যাও
-যাই দেখি মা কি করে। বারান্দা তে আসবানা? একসাথে চা খাই।
মমতা বসে ছিলেন ছোট্ট আনুশকে কোলে নিয়ে। লন এ। অনেক ফুল ফুলে ভরা বাসার সামনের লন। মিতুর হাতের অনবদ্য সৃষ্টি। এই মিতু নামক মেয়েটা যেন তার জীবনের সমস্ত অপ্রাপ্তি কে ভুলিয়ে দিতে তার জীবনে পা রেখেছে। আর এই যে আনুশ।রেশম কাল চুল আর বরফ সাদা গায়ের রঙ । কি মায়া আর কি তৃপ্তি। তার বুকের উত্তাপ এ মিশে অনর্গল তার নিজস্ব ভাষায় কথা বলছে ৩ বছর বয়সী আনুশকা।
মিতু পিছনে এসে দাঁড়ায়। আলতো করে মমতার মাথায় হাত রাখে। নিবিড় কোমল সেই স্পর্শ। মনে মনে বলে মা আমি যেন আপনার মত হই। দোয়া করবেন।
মন্তব্য
ইটা রাখলাম। পড়ে পড়ে কমেন্ট করব।
শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।
লেখকের মন্তব্য
আশায় থাকলাম।
ভালো লাগলো। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানুন।
জীবনের ছোট ছোট সুখ, দুঃখ,আনন্দ, বেদনার আবেগী গল্প। ঝরঝরে ভাষা, টুকরো টুকরো সংলাপ, বেশ লাগলো । কিন্তু 'ে'কার-এর বদলে অনেক ক্ষেত্রে আপনার 'এ' এবং 'এর' বহুল ব্যবহার বড্ড চোখে লেগেছে। যেমন-বয়স এর, মাহিন এর খুব এ, শাফিক এর, হসপিটাল এর, বিভাগ এর, পানবাহার এর, ফোনে এ, লনএ, …. এসব ক্ষেত্রে অনায়াসে বয়সের, মাহিনের, শফিকের, লনে, ফোনে….হতে পারতো। অবশ্য এটাকে আপনি নিজস্ব স্টাইল হিসেবে দেখলে বলার কিছু নেই। অনেক শুভকামনা সাকিবা ফেরদৌসী ।
লেখকের মন্তব্য
ঈশান ভাইয়া, আপনার কথাগুলো ভাল লাগলো । বাংলা লেখাটা এখনো খুব বেশি রপ্ত হয়নি। পরে ঠিক করে দিব । আপনি গল্পটা পড়েছেন তাতে অনেক ভাল লাগছে।
গল্পটা পড়ার অর্ধেক পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো ক্লিশে গল্ল। তারপরে মনে হয়েছিলো গল্পটি অসাধারণ হয়ে মোড় নিচ্ছে। তারপরে হঠাৎ থেমে গেলো। তারপরের অংশে এসে আবার সাধারণ হয়ে গেলো। ২ এর অংশটা না থাকলেও গল্প বলে চালিয়ে দেয়া যায়। ২ পড়ে মনে হলো বেশি মাত্রায় পজেটিভিটিতে আক্রান্ত।
মোটের উপর ভালো লাগা।
ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
লেখাটা লিখতে গিয়ে অনেক ইমোশনাল হয়ে গেছিলাম। এক ধরনের ইচ্ছেপুরন এর মত। মা কে অনেক দিন দেখিনা। পজিটিভ ছাড়া মা কে নিয়ে অন্য কিছু ভাবতেই পারিনা। স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে চলে এলাম। তারপর কত দিন চলে গেছে।
শিমুল ভাই, জানি লেখাটা ভাল হয়নি। কিন্তু শান্তি পেলাম লিখে। আপনার মন্তব্য সবসময় ই দারুন কিছু। পড়েছেন তাই অনেক ভাল লাগছে।
আমিও একটা ইটা রাইখা যাই।
চমৎকার গল্প।

খুব ভালো লাগলো আপু।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ জামি ভাই। এইযে নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে এখানে। অনেক শুভকামনা রইল।
চমৎকার লাগলো গল্পটা।আরও লিখুন এমন
লেখকের মন্তব্য
আরও ভাল লিখতে চাই। দোয়া করবেন।
বাহ! গল্পে দেশপ্রেম, কষ্টমাখা দিনের শেষে সুখের বিচ্ছুরণ, মায়ের প্রতি ভালবাসা সবই আছে দেখছি! অল ইন ওয়ান।
---
(বানানের প্রতি আরেকটু যত্নশীল হবেন আপুটি)
লেখকের মন্তব্য
পড়ার জন্য ধন্যবাদ নয়ন ভাই । এটা আমার প্রথম বাংলাতে লেখা। চেনা বানানগুলো ও লিখতে অনেক কষ্ট হয়েছে।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হলাম।
হুম।
ভালোই
মন্তব্য করুন