লেখকের ক‌থা

সদর দরজা

দূর হতে আমি তারে সাধিবো

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১।

সকাল থেকেই আজ আকাশ জোড়া মেঘের আনাগোনা ছিল। পেঁজা তুলোর মত সাদা, ঘন কালো, ধূসর আর বাদামী মেঘের দল। দূরের পাহাড় থেকে উড়ে আসা। এই ঘোর দুপুরে তাতেই অঝোর বর্ষণ। দূরের সব অস্পষ্ট । টিনের চালে বৃষ্টির ঘোর জাগানিয়া সংগীত। সামনে একটুকরো দুর্লভ উঠোন, তাতে আছে বাগানবিলাসের ঝাড় আর হাসনাহেনা। আরও নাম না জানা কতো ফুল। কাল রাতেও গন্ধ ছড়াচ্ছিল অনাবিল। এখন তাতে মিশে আছে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ। এ বড় মন খারাপ করা সময় সায়ন্তনের জন্য। অস্থিরতার সময়।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল সে। তার এককালের প্রিয় বৃষ্টি । কিন্তু আজ বৃষ্টি নিয়ে তার কোন দোলাচল নেই, মন ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে একদম। একটু উত্তাপের অপেক্ষা ছিল। শেষ সিগারেটটাও কখন পুড়িয়ে শেষ করে ফেলেছে। এখন কিছুই করার নেই, বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। পেটের মধ্যে চিনচিনে কষ্ট, গলায় তিক্ত স্বাদ। আর তাই সে বৃষ্টির দিকে মন দেয়, আর প্রতিক্ষা করে। কিসের প্রতীক্ষা সে জানেনা অথবা জানলেও সেটা সচেতনে আনেনা।

অল্পক্ষণ যায় না বহুক্ষণ । শুধু বৃষ্টি ধরে যায় খানিক। তারপরই একটা রিকশা এসে থামল কি? সবুজ শাড়ি আর তাতে রুপালি পাড় ? অনেক ফর্সা মসৃণ পায়ের গোড়ালি, তাতে সরু রুপালী ফিতার স্যান্ডেল। কে? গেট পেরিয়ে শুধু এতোটুকুই দেখা যায়। ভুল করে কেউ কি এসেছে ? না অন্য বাসার অন্য কেউ? ফিরে যাবে ? আচ্ছা অচেনা কেউই হোক । একটু এলে কি হয়? একটু কাছে বসবে। একটু গল্প হবে। সে তৃষ্ণা বোধ করে, একটু চেনা অচেনা কোন মানুষের জন্য, বা শুধু একটু উত্তাপের জন্য ।

একটু করে খুলে যায় কি বাড়ির গেট ? ছাতা ঢুকে যায় আগে, তাতে নীলচে ফুল। গোলাপের ঘন বিন্যাস। পানি ঝরে টুপটাপ। আলাদা করা যায়না যদিও। ছাতার জল, বৃষ্টির অবিরত জলে মিলে মিশে একাকার। তারপরেই উঁকি দিলো কে? চমকে গেল কি? সময় থমকে গেলো কি ? স্তব্ধ হয় সায়ন্তন, ভাষা হারিয়ে যায় । কল্পনা সত্যি হতে পারে ? এভাবে? এতদিন পর ?

সবুজ শাড়ি তাকিয়ে থাকে অপলক। কয়েকটি নিস্তব্ধ মুহূর্ত যায়। তারপরই হাসে অপরূপা। মিষ্টি ভরাট দুটো গালে গহীন টোল ফেলে। তারপর সেই গেট থেকেই কিশোরী গলায় ডেকে ওঠে ,

এই, এই যে আমি এলাম। দেখেছো? কথা শুনছো ? কথা বলতে পারো ?

বলতে বলতেই গেট পেরিয়ে বারান্দায় উঠে আসে । হেঁটে আসে না ছুটে আসে, সায়ন্তনের বুকের মধ্যে মুগ্ধতারা দোল খায়, টুপটাপ ঝরে সকালের শিশির। কিন্তু কি বলবে বুঝে পায়না সে।

শুধু বিহবল হয়ে বলে একসময়, তুমি?

আমিই তো ।

ভ্রু তে সেই কুঞ্চন, কি আদুরে আর কি মায়াময় , ঠোঁটের কোণে সেই তিল। মনে হয় মাঝখানে গত হয়নি কোন সময়। হারায়নি কিছুই ।

সরব হয় আবার সায়ন্তন । এই বৃষ্টিতে এলে ? ভিজে ভিজে ?

হু

ফিরেছ কবে?

অনেকদিন।

আসনি তো ?

এই যে এলাম। অনিন্দ্য সুন্দর ঠোঁট দুটিতে কি এক অভিমান। চোখ দুটিতে এক পৃথিবীর সব সারল্য।

হু, এলে তবে অনেকদিন পর।

তার একটুকরো অগোছালো ঘর, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই ঘরই কি এত বিষণ্ণ লাগে অন্যসময় ? আজ কি ঝলমল করছে ! প্রতি কণায় মিশে গেছে আনন্দের বিন্দু, কি হলদে সোনালি আলোয় ছেয়ে গেছে চারধার । পাখির পালকের মত নরম আদুরে হয়ে গেছে । শুধু একটি মানুষ কেমন করে আঁচলে বেঁধে রাখে দুনিয়ার সব সুখ ?

সবুজ মেয়ে বলে, চা খাওয়াবে ? অনেক ঠাণ্ডা লাগছে। ভিজে আছে গা ।

হু ।

চলো আমি বানাই । অনেক ক্ষুধা ও পেয়েছে । খাওয়াবে কিছু ?

একটু ভাবনায় পড়ে সায়ন এবার । বলে কি খাবে ?

চলো দেখি । তুমি কি খাবে? দুপুরে ?

উহু । কিছুনা ।

কেন? রাঁধনি ?

উহু।

ক্যান ?

কি জানি ।

কি আছে দেখাও তো ।

এই যে ।

খিচুড়ি রাঁধি, খাবে?

রাঁধো । আর কি?

আর কিছু নেই?

না তো ।

আচ্ছা অসুবিধা নাই। তুমি যাও ।

না। আমি দাঁড়িয়ে থাকি। এখানে ।

কেন ?

জানি না। তোমার ছেলে কই? আর বর ?

ছেলে স্কুলে দিয়ে এলাম । ১২ টা থেকে ৪ টা স্কুল ।

ও ।

টুংটাং বাজে হাতের চুড়ি, চামচ, ভাতের হাঁড়ি । কি অদ্ভুত সঙ্গীত । একটি বিষণ্ণ দুপুর বদলে যায়। মনের গভীরে শুদ্ধ সুন্দর একটি সম্পর্ক আলোময় দ্যুতি ছড়ায়।

একসময় না পেরে বলে , রায়না তুমি আজ এলে?

এলাম।

আজ কেন? এতদিন পর? কেমন করে বুঝলে আমি আছি?

মন বলছিলো ।

আজই কেন এলে?

এমনি । কেন ? আজকে কি কোন বিশেষ দিন?

নয়?

আচ্ছা ? তাই ?

হু আজকে কি? বিশেষ কিছু?

না তো ।

তাহলে?

ইকড়ি মিকড়ি শুদ্ধ সুন্দর দাঁতের সারি , তাতে সূর্যের আলোর ঝকঝক, পাশে জানালায় একটা পেয়ারার ডাল দোল খায়, তার একটু আলো একটু আঁধারি ছায়া এসে পড়েছে রায়নার মুখটিতে।,

অনেক তৃষ্ণা পায় সায়ন্তনের। একটু ধোঁয়ার জন্য, একটু উষ্ণতার জন্য। আবার একটু বেঁচে ওঠার জন্য। অথবা শুধুই একটি আলিঙ্গনের জন্য।
তৃষ্ণা ভুলতেই একসময় অস্ফুটে বলে সে শুভ জন্মদিন রায়না।

গহীন মায়ার চোখ দুটো বর্ষার জলে টলমল হয়। এত জল জমা ছিল ! রায়না বুঝতে পারেনি আগে। শুধু বলে তোমাকেও শুভ জন্মদিন সায়ন। এবার তার চোখের জল গাল বেয়ে ঝরে অন্তহীন ।

সায়ন্তন হাত বাড়ায় বেভুল সেই জলে ভেজা পদ্মপাতার মত মুখটির দিকে। রায়নার দিকে।

তারপর বলে তুমি কেমন আছো বলবে সত্যি করে ?

তার হাত হাতছাড়া হয়ে যায় , রায়নার বাড়ানো দু হাতের করতলে সেই হাত আটকা পরে যায় আর অবাধ্য চোখের জলে সেই হাত সিক্ত হয়ে যায়।
সে সত্য গোপন করছিলো, বা ভুল বুঝিয়েছিল রায়নাকে আজ সব ধরা পড়ে যায়। তার পুরো জীবন আজ অর্থহীন এক কল্পকথার মত অলীক মনে হয়।

স্তব্ধ সময় কাটে। শুধু রায়না একসময় বলে আমি যাই ।

আবার আসবেনা ?

জানিনা তো ।

তারপরই চলে যায় অচিন দেশের রাজকন্যা । বুক খালি করে দিয়ে , হঠাৎ ওঠা সূর্যের সব আলোকে ম্লান করে দিয়ে। সায়ন্তনের বুকের মধ্যে অবিরাম বাজতে থাকে ,

‘দূর হতে আমি তারে সাধিব, গোপনে বিরহ ডোরে বাধিব, বাধনবিহীন যে বাঁধন অকারণ’ ।

২।

ক্লাস শেষের এক্সাম দিয়েই ছুটে এলো ঋদ্ধ । তার এলোমেলো রেশম রেশম চুল, নিষ্পাপ ডাগর দুটি চোখ আর শুদ্ধ গায়ের রঙ। এলো দৌড়ে এলো, ছুটে এলো , ঝাঁপিয়ে এলো রায়নার বুকে। হাতে পানির পট, কাঁধে ব্যাগ, হালকা ঘিয়ে শার্ট আর মেরুন প্যান্ট । মুখে দেবদুর্লভ হাসি। এই বিকেলের নরম মিষ্টি আলো মাখা রোদ , আরও কোমল আভায় মেখে দিয়ে এলো তার ছোটো রাজপুত্র । বুকের টইটুম্বুর গহীন গভীর, ছলকে গেলো আরও।
জড়িয়ে ধরল মাকে, তার আশ্চর্য শিশু সুলভ গন্ধের মায়ায় জুড়িয়ে দিলো বুক। তারপর বলল মা কানে কানে একটা কথা শুনো

কি রে?

গেমস খেলবো কিন্তু মা, ফিরেই। অনেক ঘণ্টা । ১২০ বছর ।

ছোট বেলা থেকেই এটা বলে। অনেকদিন মানে কত জানা নেই তাই।

মুখে প্রশ্রয়ের হাসি আজকে রায়নার। তার শাসন মাখানো মুখ আজ মানা নেই।

না ১০০ ঘণ্টা খেলবো ।

আচ্ছা।

প্রথমেই কি খেলবো বলতো মা?

কি?

ইলেকট্রিক ম্যান ২এইচএস

তারপর

ডেনি ফ্যানটম রাম্বল।

আচ্ছা।

মা তুমি ভেবেছো কি? কি খেলবো ?

ভেবেছি খেলবি বেন টেন সামুরাই ওয়ারিয়র।

আর দেখো কি?

যা বললি। ইলেকট্রিক ম্যান ২এইচএস আর ডেনি ফ্যানটম রাম্বল। মিটি মিটি হাসে রায়না।

ঋদ্ধ আবার বলে,

জানো মা ক্লাস টেস্ট এর খাতায় রিং দিয়ে বাক্য রচনা করতে গিয়ে লিখেছি মাই মাদার হেজ আ ডায়মন্ড রিং। আচ্ছা মা কথাটা কি ‘লাই’ হয়ে গেলো ? তোমার আছে ?

না তো

তাহলে কি হবে মা? আমিতো জানি মিথ্যা বলা মহা পাপ।

তাই তো কি হবে? কপট চিন্তার ভাব দেখায় রায়না । যদিও মুখে হাসি।

কথাটা সত্যি করে দিবো? সিরিয়াস পাঁচ বছরের ঋদ্ধ ।

কেমন করে ?

বাবাকে বলব কিনে দিবে।

আচ্ছা। হাসছিল রায়না। বলছিল কি হবে ওটা দিয়ে? তোর বউকে দিস ।

উহু , বিয়ে করবই না ।

আচ্ছা দেখা যাবে।

কয় টাকা মা ডায়মন্ড রিং ? হাজার টাকা ?

হু
আচ্ছা আমি বড় হলে দিব। বাবা দিক আর না দিক । তারপর মায়ের গলা ধরে, বলে মা ওয়েট করতে পারবে , আর একটু বড় হলেই কথাটা সত্যি করে দিব, প্রমিস ।

চারপাশে মা আর বাচ্চাদের অজস্র কলকাকলি। অনেকের সাথেই চেনা পরিচয় হয়ে গেছে, দেবযানী তার মতই মেয়ের হাজার কথা সামলাতে অস্থির তার মধ্যেই চোখাচোখি হতে হাসে। বলে কি খবর ?

এইতো । তোর কি খবর?

ছোট্ট পুতুল পুতুল অনুশিলা দৌড়ে বেড়াচ্ছে । ঘেমে নেয়ে অস্থির। এসে বলল মাম আইসক্রিম খাবো।

ঋদ্ধ ও গলা মেলায় । আমিও খাব।

সামনে টানা বেশ কিছু দিনের বন্ধ স্কুল। মন তাই ফুরফুরে দুই মায়ের ই। তাই আজ কিছুতেই মানা নেই ।

দেবযানি বলে চল। সবাই মিলে যাই ।

মিষ্টি ভরাট দুটো গালে মায়ের মতই টোল ফেলে হাসে ঋদ্ধ। অনুশিলাও লাফাতে থাকে। দেবযানীর গাড়িতে তা ই আইস্ক্রিম পার্লার । বিকেলটা হুঁশ করেই ফুরিয়ে যায় ।

৩।

সন্ধ্যা নেমেছে । ঋদ্ধ আজ ঘুম। রায়না বারান্দায় ছিল। রিহানের ফেরার জন্য অপেক্ষায় ছিল কি ? সে দেখছিল পায়ে চলা পথ। মাতাল জোছনা তাতে।
একটা জোনাক পোকা উড়ে এল হঠাৎ । আলোর মত, বারান্দার কোনটির সব অন্ধকার ছাপিয়ে । তার সাথে কথার খেলায় মগ্ন হয় অজান্তেই রায়না। জোনাক ডাকে ,

রায়না?

হু

কি করছো ?

এইতো

মন খারাপ? বিভক্ত নও তো তুমি ?

উহু । না।

সায়ন্তন ?

ও কখনোই আমার স্বপ্ন পুরুষ ছিলোনা ।

তাহলে কি ?

পাশাপাশি বাড়িতে বেড়ে উঠেছি বলেই মায়া আছে, ভালবাসার ছায়া আছে।

নিজেকে ভুল বোঝাচ্ছনা তো ? আগের মতো ?

উহু, কখনোই হয়নি তো ঘর বাঁধার কথা।

আজকে এতো দিন পর কি খুঁজতে গেলে তুমি ওর কাছে? হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা না সুখ ?

উহু। কোনটাই না। ও আর আমি একি বয়সি। একই সাথে খেলেছি, স্কুলে গিয়েছি, সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিল আমার । বুঝ হওয়ার পর সব জন্মদিনে একসাথে ছিলাম। ও বড় অভিমানী জানো তো। আর কেউ নেই ওর। সব হারিয়েছে। আমার বিয়ের আগে শুধু বলেছিল ও শুধু চায় ওর আর আমার এই পৃথিবীতে আসার দিনটিতে আমি যেন ওর কাছে যাই। একটু বন্ধু হয়ে কাছে বসে থাকি । পাশাপাশি । ছায়ার মত।

এতদিন পর গেলে?

তুমি তো সব ই জানো। মাঝখানে অনেকগুলো বছর কেটে গেছে অচেনা দেশে, এক অচিন মানুষকে আপন বানানোর প্রাণান্তকর চেষ্টায় । এবার তো একই শহরে। তাই গেলাম। অন্যায় করিনি তো ।

তাহলে কার জন্য কষ্ট পাও তুমি ? কাকে ভালোবাসো ? রিহান কে নাকি?

ওকে বুঝতে চাই । কিন্তু বুঝিনা ঠিক । ওর মনের তল পাইনা । খুব অসহায় লাগে।

কেন ?
ঐ যে কাল জ্বর হোল আর ও সারারাত আরেক রুমে বসে পড়লো আর আমাকে বলল প্যারাসিটামল খেয়ে ঘুমাতে । আর সারারাত ফিরেও তাকালো না।

আর ? শুধু এই?

ঋদ্ধর জন্মের সময় ছিলনা । বলল খুব ইম্পরট্যান্ট ক্লাস আছে। আমি একা তীব্র অসহনীয় কষ্টে কেঁদেছি। সন্তান জন্ম দেয়ার তীব্র যন্ত্রণা কি তুমি জানো জোনাক ? অই সময়টাতে কেমন লাগে বোঝো ? কেউ ছিলোনা আমার কাছে।

আর ?

আরও শুনতে চাও ? সহ্য করতে পারবে তো ?

হু ।

প্রথম বার আমি কন্সিভ করি ওখানে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই । প্রথম প্রথম সেই শরীরকে বুঝতে শেখা। কি থেকে যে কি হয়ে গেল। বুঝেতে বুঝতেই কেটে গেলো কিছুদিন। একসময় বললাম চলো ডাক্তারের কাছে যাই। আজ না কাল না বলে কাটিয়ে দিলো আরও অনেক দিন। তারপর গেলাম একসময়। বুঝলাম কি হয়েছে।

তারপর?

ও পুরো অমানুষ হয়ে গেলো । যতই ডাক্তার বলে দেরী হয়ে গেছে, এ্যাবরশন রিস্কি হয়ে গেছে তাতেও কিছুই হবার নয়। শুধু এক কথা ও প্রস্তুত না। তারপর তাই হোল । জীবন মৃত্যুর মাঝখানে ফেলে দিলো । তাও বেঁচে রইলাম।

আর?

তারপর তো আবার গর্ভধারণ। তবে এবার আমি আর রাজি হইনি । ঋদ্ধকে আনালাম ওর মতের বিরুদ্ধে। একা। আমার ও তো নিজের কাউকে লাগে তাইনা ? ভেবে দেখো একটা ২১ বছরের মেয়ে, মায়ের কোল থেকে কোথায় কিভাবে লড়াই করেছে।

বুঝলাম। শেষ ?

না। আরও অনেক আছে। কখনো বুঝতে চায়নি আমার ও মন আছে। কখনো বলতে পারিনি মায়ের জন্য, বাবার জন্য, জড়াজড়ি করে বেড়ে ওঠা বোনটির জন্য কতো কষ্ট । বললেই বলতো যাও যেখানে মন পড়ে আছে সেখানে যাও । আমার কাছে কি ?

আর?

এই যে সারাদিন খবর থাকেনা ।

আর ?

আমি গান ভালোবাসি ও গান শুনলে ভ্রু কুঁচকে ফেলে ।

সায়ন্তন থাকলে কী হতো ?

জানিনা তো । ভাবিনি কখনো ।

ভালো কিছুই নেই কি রিহানের?

আছে তো । যখন যা চাই তাই কিনে দিচ্ছে। কিন্তু আমি হয়তো মন চেয়েছিলাম। মনের সাথে মন মিলে যাওয়ার ঘোরে ছিলাম। একটি স্বপ্নের অপেক্ষায় ছিলাম।

কলিং বেল বাজলো কী? এলো হয়তো যন্ত্র মানব। জোনাকের আলো ফেলে উঠে রায়না। তার নিজস্ব বৃত্তে ঢুকবে । নিখুঁত অভিনয়ে মাতিয়ে রাখবে দশদিক, আদর্শ মা, অভিযোগহীন বউ আর কর্তব্যপরায়ণ মানুষ হয়ে । কেউ কিছুই জানবেনা, শুধু জোনাকর সাথে কথা হবে হঠাৎ ।

মাঝে আছে এক দেবদূত । ঋদ্ধ । তাই হয়তো সব সয়ে যায় । কষ্টেরা ছুটে পালায়। দিন রাত্রি কাটিয়ে দিতে পারে, দীর্ঘ জীবন ক্লান্তিকর হতে গিয়েও হয়না। ভালবাসা ঘিরে থাকে অন্তহিন। সন্তান স্নেহের কাছে আর বাকি সব তুচ্ছ হয়ে যায়। অন্য সব বোধ নিভে যায় ।

শুন্য দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে রায়না, কেউ নেই, শুধু চাঁদের আলো ঝলমল করছে।

৪।

এই চাঁদ ভাসি রাতে রিহান পড়ে ছিল কাঁচপুর ব্রিজে । তার মাথা বেয়ে নামছে রক্তের অন্তহিন স্রোত। সংজ্ঞা হারাবে কি সে ? তার পাশে পড়ে আছে দিপু, মাথা থেতলে আছে, যে কেউ নিশ্চিত বলে দিতে পারবে সে না ফেরার দেশে চলে গেছে । আশেপাশে অন্তহীন মানুষের দল। ঘাতক ট্রাকটি থেমে আছে। উত্তেজিত জনতা তাদেরকে অগ্রাহ্য করে আপাতত সে ট্রাক গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রাণপণ প্রতিজ্ঞায় মেতেছে।

রিহান টের পায় সব কিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে । জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে, এই অদ্ভুত চাঁদের আলোয় কত কিছু মনে পড়ে রিহানের। রায়নাকে কখনই বলা হয়নি তার নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের কথা, তার চূড়ান্ত অপমানকর শৈশব আর কৈশোরের কথা, তার প্রবাস জীবনের শুরুর দিকের ভিক্ষুকের চেয়ে ভিক্ষুকের মতো কাটানো দিনগুলির কথা। তার মায়ের মৃত্যুর কথা, তার বোনের আত্মহননের কথা, আর সবচেয়ে ভয়ংকর, অর্থ কষ্টের কথা। রায়না এসেছে পরে, সচ্ছলতা শুরুর শুরুতে।

কিন্তু রায়নার প্রতি সে হয়তো তেমন সদয় আচরন করেনি কখনো। নিষ্ঠুর হাতে পিষেছে রায়নার অনেক ছোটখাটো স্বপ্ন। বোঝাতে চেয়েছে সদ্য তরুণী মেয়েটিকে যে জীবন খেলাঘর নয়, কুসুম শয্যা নয়, শুধু স্বপ্ন আর আবেগে মথিত নয়। জীবন অনেক কঠিন, এখানে শুধু জয়ী হয় যোগ্যরাই। রায়না বুঝেছে হয়ত বোঝেনি। কিন্তু প্রতিবাদ করেনি।

কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সে ঠিক করেনি, তার গত তিরিশটি বসন্ত সে মিথ্যে মোহের পিছনে ছুটে বেড়িয়েছে । ভয় হয় আর কখনও ফেরা হবেনা প্রিয় মুখগুলোর কাছে। বলা হবেনা রায়নাকে কতো ভালবাসে সে তাকে । রাখা হবেনা ঋদ্ধর মাথায় গহিন মায়ার হাত।

চাঁদের আলোর দিকে তাকিয়ে অন্তহীন প্রার্থনায় রত হয় সে। একটি অলৌকিক কিছুর। আগের মত সুস্থ হয়ে হয়ে যাক সে। আজ থেকে ঘরে ফিরবে প্রতিটি সোনালি আলো মাখা বিকেলে। রায়নার অন্তহীন জলে টলমল চোখ দুটো মুছিয়ে দিবে গাঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে। বলবে বউ ক্ষমা করো আমাকে। অনেক কষ্ট দেই তাইনা? তোমাকে আমার মতো হতে হবেনা, এসো আমি তোমার মতো হই। অন্তহীন স্বপ্নে রাঙ্গাই ভবিষ্যৎ ।
ভাবতে ভাবতেই একসময় রিহানের চেতনা লুপ্ত হয়।

অনেক দূরে রায়না ও প্রার্থনায় ছিল। রিহানের ফেরার জন্য। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল সেও এবার থেকে বুঝবে। রিহানের মনের মত করে সাজাবে নিজেকে। তার হৃদয়ে সেই তার স্বপ্ন মানব। কি মূল্যবান এই একটি মাত্র মানবজীবন। আর ভুল বোঝাবুঝি নয়। আর অযথা কালক্ষেপণ নয়।

আরও দূরে বারান্দার চাঁদের আলোতে সিগারেটের পর সিগারেট পোড়াচ্ছিল সায়ন্তন। তার বোধহীন ডান পা টি আর ক্র্যাচ দুটির উপর অক্ষম আক্রোশে সে স্তব্ধ ছিল। সেই আবেগময় স্বপ্নমাখা তারুণ্য, যখন সে রায়নাকে চাওয়ার মত নিজেকে যোগ্য করেছিলো, তখনি মৃত্যু ঘটেছিল তার একটি পায়ের। আর তাই কখনোই সে রায়নাকে চাওয়ার মত সাহস জড়ো করতে পারেনি । অক্ষম অথর্ব কিছু চাইতে পারেনা , সে জানে।

রাত বাড়ছিল । দূর হতে তিনটি হৃদয় সচেতনে বা অচেতনে মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল থেকে ব্যাকুলতর হয়ে উঠছিল। মানুষের কষ্ট আর যন্ত্রণাকে অগ্রাহ্য করে দূরে চাঁদ তার রহস্যময় আলো বিলাচ্ছিল অকৃপণ ।

(উৎসর্গ- পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বোন ও বন্ধু তানিজা কে, যে আমার সমস্ত লেখার অনুপ্রেরণা , যত দূরেই থাকি আছি কাছাকাছি , জনম জনম। )

5.915
আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি। গড় রেটিং: 5.9 (১০ জন মূল্যায়ন করেছেন)
শেয়ার করুন » Facebook Twitter Delicious Digg MySpace Google Orkut Blogger Google Buzz Technorati
অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৪১(১)    

নেশার মত লাগলো, ঘোর কাটতেই চায় না!!
D D D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৪৫(২)    
লেখকের মন্তব্য

তাই ? অনেক ধন্যবাদ আপু।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৪৭(৩)    

অনেক কিছুই সময় থাকতে অনুভব করা যায়না আসলে
চারপাশের সব কিছু সহজ করে নিতে পারলে ভালো। জীবন সহজ হয়।
আগে এটা খুব পারতাম, আজকাল আটকে যাই নিজেও হাহাহা
অনেকদিন পর গল্প দিলেন
ভালো লাগলো
বাধনবিহীন যে বাঁধন অকারণ-- গানটাও অদ্ভুত সুন্দর
এখনই শুনতে ইচ্ছা করলো
:)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৫০(৪)    
লেখকের মন্তব্য

জলাপু, আপনি যে আমার এই এতো বড় গল্পটা ধৈর্য ধরে পড়েছেন , সেটা আমার জন্য কত বড় inspiration জানেন?

ভালো থাকুন, প্রিয়ু আপু। অনেক আন্তরিক ভালবাসা জানুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৫২(৫)    

তৃতীয় পর্ব, চতুর্থ পর্বের শেষাংশ; অনবদ্য ।
চতুর্থতে অনেক উপাদান ছিল । দারুণ একটা পর্ব হতে পারত ।
কিন্তু, ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলেন মনে হল । শব্দ কিছুটা অবিন্যস্ত, তাই । চালিয়ে যান । অনেক ভাল করবেন । :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২১৭(৬)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক খুশি হলাম ভাইয়া। এভাবেই সমালোচনা করবেন।
চেষ্টা করবো আরও ভালো লিখতে।

ধন্যবাদ রইল। ভালো থাকুন নিরন্তর।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৬৩(৭)    

ইনফ্লুয়েন্সড বাই সমরেশ মজুমদার?
এই লোকের ডুয়ার্স আর চা বাগান নিয়া যতগুলি লেখা আছে মেক্সিমামের শুরুটা অনেকটা এমন।
অয়েল, পুরাটা পড়ি নাই তো জানি না বাকি অংশ কেমন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২২০(৮)    
লেখকের মন্তব্য

পুরোটা পড়বেন তার আশায় রইলাম। অনেক ধন্যবাদ আমার ব্লগে আসার জন্য :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৭৫(৯)    

আপু, আপনার লিখার যে নিজস্বতাটুকু আছে, তা অসাধারণ।
গল্পটা মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়লাম। লিখার প্রতিটা বাক্যই যেন হৃদয়ের গভীর থেকে ওঠে আসা। মনে হলো চোখের সামনেই যেন পুরো ঘটনাটা ঘটে গেলো।
চমৎকার লাগলো পুরোটাই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২১১(১০)    
লেখকের মন্তব্য

এতো প্রশংসা ? অনেক খুশি হলাম ভাইয়া।

মিষ্টি জামিকে অনেক চকলেট দিলাম । চকোলেট ভেজালমুক্ত কিন্তু।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫০৩(১১)    

প্রশংসা না আপু। আমার চোখে যেটা মনে হলো তাই বলেছি :)
----------------------
চকোলেট খাওয়ার আগে বেশ কিছু কথা বলতে হয়ঃ (না বললেই নয়)
- মিষ্টিকে মিষ্টিই খাইতে দিলেন শেষমেশ। কপালে কি আছে জানিনা, খাইয়া দেখি
- এইটা যে ভেজালমুক্ত তা আমিও জানতাম, ওই একটা 'কিন্তু' লাগাইয়া যত সমস্যা তৈরী হইয়া গেলো
- এই সাকিবা আপু, আমি কিন্তু ব্যাপক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। খালি আমারে চকোলেট খাইতে দেন। আমারে কি অবেলায় ফোক্লা বানানোর মতলব আটতাছেন ভাবতাছি
- ছোডবেলায় স্যারে কইতো তোমার তো একটা দাঁত বেশি, তাই সরকারকে ট্যাক্স দিতে হবে, হায়রে এম্নে যদি চকোলেট খাইতে দেন কয়দিন পরতো সরাকারের আমার দাঁতের জন্যও সাবসিডি দিতে হইবো। ব্যাপক ভাবনার বিষয়।
-তয় শেষ কথা হইলো বেপক মজা পাইলাম খাইয়া। তয় চকোলেট খালি একটা দিলেন কেন? (গররররর) (গররররর) (গররররর) (গররররর)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫০৯(১২)    
লেখকের মন্তব্য

আমি তো হাসি থামাতেই পারছিনা । এখন কি হবে? রাত ২ টায় না সিকিউরিটি গার্ড চলে আসে ? চিন্তায় আছি :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫১৩(১৩)    

বালিশে মুখ চাইপা ধইরা হাসতে পারেন :প :p তাইলে আর কোন আওয়াজ হইবোনা D

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩২৯৮৫(১৪)    

গুরু-মানি-ওস্তাদ গুরু-মানি-ওস্তাদ হাততালি হাততালি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩০১৯(১৫)    
লেখকের মন্তব্য

ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ) ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩০১৪(১৬)    

আপনার গল্পের ধরনটা আমার বরাবরই অসাধারণ লাগে। অন্যদের মত আমি এত বিশ্লেষণ করে কিছু বলতে পারি না। তবে মন্ত্রমুগ্ধের মত পুরো গল্পটা পড়ে গেছি এক নিশ্বাসে। চারপাশের সবকিছু সহজভাবে নেওয়া মানে সুখে থাকার অভিনয় করে যাওয়া। যারা তা পারে তারা সম্ভবত সত্যিই সুখী হয়।
গল্প সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩০১৭(১৭)    
লেখকের মন্তব্য

আপনাকে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। নেন চকোলেট এত বড় গল্প পড়ার জন্য।

কেমন আছেন আপনি?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১১৭(১৮)    

আমি ভাল আছি। আপনার ব্যস্ততা কি কিছুটা কমেছে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১২১(১৯)    
লেখকের মন্তব্য

উহু, চলছে। চলতেই থাকবে। :(

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১৫০(২০)    

চারপাশের সবকিছু সহজভাবে নেওয়া মানে সুখে থাকার অভিনয় করে যাওয়া। যারা তা পারে তারা সম্ভবত সত্যিই সুখী হয়।

চমৎকার বলেছেন দাদা গুরু-মানি-ওস্তাদ

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩০২৫(২১)    

কাল রাতে অনেকক্ষণ জেগেছিলাম।
কয়েকটি অনুকাব্য নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম।
দেড়টার দিকে বউয়ের কঠিন ঝাড়ি খেয়ে উঠে পড়তে হলো।
আর পনের মিনিট অপেক্ষা করলে আপনার পোস্টে প্রথম কমেন্ট করতে পারতাম।

গল্পের শুরুতে ভাবলাম ভালোবাসা দিবসে বুঝি একটি মিষ্টি রোমান্টিক গল্প পড়ছি।
মাঝামাঝি এসে মনে হলো, এটিও নিশ্চয়ই দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়ন নিয়ে জটিল মনস্তাত্বিক গল্প।
গল্পের শেষটায় এসে নীল নীল কষ্ট আর গাঢ় বিষাদে ছেয়ে গেল মন।

মাঝে আছে এক দেবদূত । ঋদ্ধ । তাই হয়তো সব সয়ে যায় । কষ্টেরা ছুটে পালায়। দিন রাত্রি কাটিয়ে দিতে পারে, দীর্ঘ জীবন ক্লান্তিকর হতে গিয়েও হয়না। ভালবাসা ঘিরে থাকে অন্তহিন। সন্তান স্নেহের কাছে আর বাকি সব তুচ্ছ হয়ে যায়। অন্য সব বোধ নিভে যায় ।

খুব সুন্দর বলেছেন। আপনার গল্পে মূল থিমটা আসলে এখানেই।
আমাদের দেশের অধিকাংশ দাম্পত্য সম্পর্ক টিকে থাকার মূল ভিত্তি হলো সন্তানের প্রতি ভালোবাসা।
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অধিকাংশ দম্পতি নিজেদের ব্যাক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ভুলে গিয়ে
একে অন্যকে সহ্য করে। তাই সন্তানই হলো দাম্পত্য সম্পর্কের এক মজবুত সেতুবন্ধন। অনেক শুভকামনা সাকিবা। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১১৫(২২)    
লেখকের মন্তব্য

দাদা, গল্প পড়েছেন অনেক খুশি হলাম। অনেকদিন লিখিনি, মাথার মধ্যে অনেক জটিল থিওরি তার মধ্যে সাহিত্য সহজ কথা নয়। তাও কি অদ্ভুত ভাবে টানে কিছু লেখার ইচ্ছা, আর না লিখলেই মনে হয় ছেড়ে আছি প্রিয় কিছু ।

আপনার প্রতিটা কথাই ঠিক । মানব সম্পর্কের জটিলতা আর সন্তানের প্রতি প্রচণ্ড মমত্ববোধই ফোটাতে চেয়েছি এতে।

ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা নিরন্তর।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১৪৭(২৩)    

দেড়টার দিকে বউয়ের কঠিন ঝাড়ি খেয়ে উঠে পড়তে হলো।

কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম কয় কি হালায়! / হাসতে হাসতে শ্যাষ হৈয়া গেলাম

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১৬৮(২৪)    

বউয়ের ঝাড়ির কথা শুনে হাসছো! এইদিন তোমাদেরও একদিন আসবে হুঁ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২০৩(২৫)    
লেখকের মন্তব্য

হায়রে, ছোট জামিকে নিয়ে চিন্তায় পড়লাম ভাবতাছি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২০৫(২৬)    
লেখকের মন্তব্য

আপ্নার ও কি একই অবস্থা আচার্যদা ? :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২৪১(২৭)    

কমবেশি বউয়ের ঝাড়ি খায় না এমন পুরুষ মনে হয় নেই। আমার চেয়ে অভিজ্ঞ অনেকেই ব্লগে আছেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২৫৯(২৮)    
লেখকের মন্তব্য

:) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫২৩(২৯)    

দাদা এইটা কি আশীর্বাদ করলেন না অভিশাপ দিলেন ভাবতাছি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩১৮০(৩০)    

বোধনবিহীন এ বোধন, তাই বলি অকারণে করো না রোদন! কিন্তু রোদনের উপকরণ যে রয়ে গেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বত্র!! মানবজীবনের জটিল আর নিতান্তই একান্ত গোপন সব অনুভুতি নিয়ে অনবদ্য এ গল্প পড়ে ঝিম ধরে বসে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। এ যেন 'ঘরের কথা পরে জানলো ক্যাম্নে'। লেখকেরা আসলে কেমন করে যেন অপরের মনের মাঝে ঢুকে পড়ে, আর সেখান থেকে তার নিজেরও অজানা সব অনুভূতি টেনে বের করে নিয়ে আসে। এজন্য লেখকদের আমি শ্রদ্ধা করি [মনে মনে কিছুটা ঈর্ষাও যে করি না, তা কিন্তু নয়]।
মন খারাপ হয়েছে গল্প পড়ে, তবে গল্প হয়েছে খুবই উপাদেয়। জীবন এমনই বা এমন কাহিনী জীবনেরই কাহিনী। [কিছু টাইপো আছে, আছে কিছু ভুল, স্পেস সম্পর্কে কোথাও আছে উদাসীনতা।]
আর যাই করো, লেখালেখি থেকে দূরে চলে যেয়ো না কখনও। খুব বড় একজন লেখকের দাদা হবার জন্য উন্মুখ হয়ে রইলাম।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩২০১(৩১)    
লেখকের মন্তব্য

আমার লেখক জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়ে গেলাম দাদা আজ। আমি আসলে এত বড় প্রশংসার উপযুক্ত কিনা তাও ভাবছি।

আপনি কি জানেন কি অসম্ভব ভাল মনের একজন আপনি ? একজন নতুন লেখক কে তার খুব ই সাধারন লেখার জন্য এভাবে প্রশংসা শুধু একজন মহান হৃদয়ের মানুষ ই করতে পারে। এমনিভাবে পাশে থাকবেন, ছায়া দিবেন, শক্তি হবেন।

দাদা এই জবাবটি কি আপনি দেখেছেন? জানাবেন? বুঝেছেন কি অসম্ভব শ্রদ্ধা লালন করি আমি আপনার জন্য ? জেনেছেন কি আমি কি আনন্দিত আপানার মত একজন দাদা পেয়ে?

ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৩০৮(৩২)    

আমি খুব সাধারণ আর নগণ্য একজন মানুষ! আমার কথায় এত উল্লসিত হবার কিছু নেই সাকিবা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৩৭১(৩৩)    
লেখকের মন্তব্য

আপনি আসলেই অসাধারণ । :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৩৯৪(৩৪)    

দেরীতে চোখে পড়ল। আজ শেষ করতে পারলাম না। আবার আসব। গল্পের সাইজ দেখে ভাল লাগল। মন দিয়ে পড়তে হবে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৪১৪(৩৫)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ রইল ভাইয়া । :) :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৮২০(৩৬)    

আজ সময় পেয়ে পড়ে শেষ করলাম। ব্লগে এই ধরণের বড় লেখা সাধারণত পড়তে গেলে সময় নিয়ে পড়তে হয়। বুঝার ব্যাপার থাকে।

গল্প পড়ে মনে হল, আপনি সাহিত্যের পথেই আছেন। আগামীতে আমরা একজন ভাল সাহিত্যিক পাব। লেখা ছাড়বেন না, লিখুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৮৬১(৩৭)    
লেখকের মন্তব্য

পড়লেন অবশেষে এই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

বড় ভাইয়াকে অনেক শুভকামনা অনেক দূর থেকে। অনেক অনেক আনন্দ ছুঁয়ে থাক আপানাকে। সবসময়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫১৮(৩৮)    

পেয়ে হারানোর বেদনা, না পাওয়ার বেদনা সবই আছে। দুইজনই একজনকে মনে ঠাঁই দিতে চায়, একজন শুরু থেকেই, আরেকজন শেষের শুরু থেকে! কী অদ্ভুত!
সবমিলিয়ে লেটার মার্কস দিলাম, যান!!

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৫২১(৩৯)    
লেখকের মন্তব্য

লেটার মার্কস পেয়ে অনেক খুশি হলাম। :)

ভালো থাকুন প্রিয় ভাইয়া।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৬২৭(৪০)    

ভাল লাগলো

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৭২৬(৪১)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার রাগ এখন যায়নি, তাইনা ? তাই যাই লিখি বলেন ভালো । :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৬৫৮(৪২)    

গল্পে সংলাপ বিনিময় থাকলে একটু পরপরই আটকে যাই, কার কথা কোনটা তালগোল পাকিয়ে ফেলি...
সময় নিয়ে আবার পড়তে হবে, তখনই উপদেশবাণী দিয়ে যাব, ঠিক আছে? :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৭৪৬(৪৩)    
লেখকের মন্তব্য

উপদেশবাণীর অপেক্ষায় রইলাম প্রিয় আপু। আপনার জন্য অনেক ভালবাসা । হৃদয়ের গভীর থেকে। ভালো থাকবেন আপু। সবসময়। আমার চাওয়ার ক্ষমতার চেয়ে বেশী ভালো ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪১৫(৪৪)    

পুরোটা পড়ে শেষ করলাম। এমন যার লেখার হাত সে আমার মতো মূর্খকে বলে ভাল লেখার খুঁটিনাটি জানাতে?!! কোথায় যাই!
===================

সাকিবার গল্পে চরিত্রের মুডের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবেশ তৈরির একটা স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন থাকে; অল্প কিছু শব্দে, ছোট ছোট বাক্যে। পাঠক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা খুব পছন্দ করি, পাশাপাশি এটাও মনে হয় যে শুরুতেই এই বৈশিষ্ট্যের প্রয়োগে একটুখানি নিয়ন্ত্রণ জরুরি (প্রশ্নবোধক বাক্যের আধিক্যও একটা বিষয়) নইলে উড়ু-উড়ু পাঠককে বেঁধে রাখা সহজ হয় না।

এই গল্পটার শেষ দুটো অংশ দুর্দান্ত লেগেছে। ৪-এর দ্বিতীয় প্যারায় রিহানের যে অভিজ্ঞতাগুলোর কথা আছে, সেগুলো একটু করে ছোঁয়া গেলে (জীবন সংগ্রামের ছোট্ট একটা ঘটনা, শৈশবের গ্লানিময় স্মৃতির একচিলতে নমুনা ইত্যাদি; লেখকের বয়ানের পরিমিতি ইতোমধ্যে প্রমাণিত) গল্পে জাস্টিফাইড ইনপুট আসার পাশাপাশি পর্বগুলোর গতিতেও ইউনিফর্মিটি পোক্ত হতো। শেষ কথা- প্রথম পর্বের শেষে গানটার উল্লেখ না থাকলে শিরোনামটা তিনজনের জন্যই বরাদ্দ করে নিতে পারত পাঠক; সেই স্পেস আর উপলব্ধির যোগান দেয়ার মতো যথেষ্ট শক্তি গল্পে আছে।

সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে, বলাই বাহুল্য।
সাকিবার সযত্ন সৃজনশীলতা আরো অনেক চমৎকার গল্প উপহার দিক চতুরকে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪৩৩(৪৫)    
লেখকের মন্তব্য

নুশেরাপু, আমি আপনার জন্য একটু পাগল সবসময়ই। পাগল ভক্ত। আর তাই আপনার মন্তব্য আমার জন্য অনেক বড় কিছু। গল্প লেখার সময় আমি হয়ত অনেক আবেগপ্রবন হয়ে যাই যার উপর নিয়ন্ত্রন থাকেনা। ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখলাম আপনার উপদেশগুলো।

আমার কাছে সায়ন্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন জানি ! রিহানের চরিত্রটির বিস্তার আসলেই খুব ই দরকার ছিল। আশা আছে পরে আবার লিখব এই অংশটুকু । আর গল্পের নামটা আমি তিনজনকে ভেবেই দিয়েছি ।

আপনি এলেন, বললেন কিছু, আমি আসলেই কি ভাবে ধন্যবাদ দিবো বুঝে পাচ্ছিনা। অনেক অনেক ভালবাসা জানুন প্রিয় আপু।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৮২১(৪৬)    

শরমিত
আমার মন্তব্যটাকে উপদেশ হিসেবে না দেখার অনুরোধ করি, ওটা বিতরণের যোগ্যতা কখনো হবে না, এরকম একটা গল্প লিখতেও পারব না। যা বলেছি স্রেফ নিজস্ব মতামত; লেখকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা-স্টাইল সর্বাগ্রে শিরোধার্য! শুভেচ্ছা, সাকিবা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৮২৯(৪৭)    
লেখকের মন্তব্য

আপু আজকে তো আপনার জন্মদিন। আপনাকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাচ্ছি। আবারো কৃতজ্ঞতা আমার ঘরে আসার জন্য।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৬৯৭(৪৮)    

গল্পটা পড়লাম।
আপনার লেখার স্টাইলই এমন প্রথমদিকে একটু টাইম নেয় । পরে বিল্ড আপ হয়ে গেলে বেশ সুন্দর করে জমে যায়। এই গল্পের ক্ষেত্রেও তাই হলো। বেশি ভালো লাগলো ভিন্ন এঙ্গেল থেকে জীবনকে দেখার ব্যাপারটা। জোনাকদের সাথে কথোপকথনের জায়গাটা টানটান ও উপভোগ্য। প্রথম দুই অংশ টানটান না। মানে মনে হয়েছে গল্প কাহিনী ছড়াবার জন্য লাফাচ্ছে অনেকক্ষণ, তারপরে শুরু করেছে চলা। সেই চলাটা শেষভাগে এসে দৌড় দিল। সেই দৌড় ঘোরাক্রান্ত করে। জীবন বিষয়ক অসমতাকে পাঠকের কাছে নিয়ে াসে। তবে কাহিনীর দৌড় একটু হলেও বেশি লেগেছে। সেটা আরো স্লোভাবে বিস্তারের দাবি রাখে এমন মনে হয়েছে।

তবে গল্পের ভালো দিক হলো নির্মোহভাবে চরিত্রের কাঁটাছেড়া। চরিত্রগুলো আলাদা গুরুত্ব না পেয়ে প্যারালালি সেজে গেছে। কিছু জায়গায় রেখে গেছে পাঠকের কাছে ভাবনার খোরাকও। গল্পে আমার কাছে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে রিহানের চডরিত্রটাকে। অথচ তার এতো ইন্টারেস্টিং দিক সবই উম্মোচিত হয়েছে শেষে এসে। গল্পের বেশিরভাগ সময়ে সে প্যাসিভ ভূমিকায় ছিলো।

মোটের উপর গল্পটা ভালো লেগেছে।

ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৭৬৭(৪৯)    
লেখকের মন্তব্য

গল্প লেখার সময় আমি রায়নার একটি দিনের গল্প বলতে চেয়েছি। বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রুপে যে তার যাপিত জীবনের সাথে সমঝোতা করে চলে। তারপর ও সে শুধুই একা কোথাও কোথাও । শুধু নিজেই নিজের বন্ধু।

রায়না শুধু রায়না নয়, প্রতিটি নারী চরিত্র কে প্রতিনিধিত্ব করেছে সে। রিহান তাকে বুঝেছে কি বুঝেনি জানিনা।

আমি লেখার প্রথমে setting বা mood নিয়ে কাজ করতে ভালবাসি। বেশী আবেগ দিয়ে ফেলি । নিজেকে থামাতে পারিনা। খুব খারাপ এটা তাইনা?

ভালো লাগলো প্রিয় লেখক। কাহিনীর দৌড় কি ৪ নং পার্ট বেশি ? না আর আগে থেকেই ? কিভাবে আরও ভালো করা যেত ? বুঝতে ইচ্ছে করছে। সময় পেলে বলবেন।

ভালো থাকবেন ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৮২৬৪(৫০)    

আপনি যে প্রশ্ুংলো রাখলেন সেগুলো খুবই সাবজেক্টিভ। সেগুলো যেভাবে অবজেক্টিফাই করেচেন তা হয়তো ঠিক না। মানে আমি পাঠক হিসাবে একভাবে দেখবো আরেকজন আরেকভাবে। তাই কীভাবে আরো ভালো হতো সেটা বলা পাঠকের কাজ না সেটা লেখকের ফীল থকে করতে হয়। আমার নিজের কাছে যেটা গতি বেশি মনে হয়েছে সেটা শেষ পার্টেই। পুরো গল্প ধরেন রিকশার গতিতে চলে শেষে আন্তন গর এক্সপ্রেস হয়ে গেছে। রিকশ থেকে অটোরিক্সা তারপরে লোকাল ট্রেন তারপরে আন্তন গর এক্সপ্রেস হলে পড়তে আরাম হতো। গল্পের দৈর্ঘ্য আড়ো বাড়ানো যেত। তবে ব্লগে গল্পের আকার বড় করতে বাঁধা কাজ করে সেটা অনুমান করতে পারি।

যা হোক শুভকামনা।
ভালো থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৮৫২(৫১)    

আমাদের দেশের অধিকাংশ দাম্পত্য সম্পর্ক টিকে থাকার মূল ভিত্তি হলো সন্তানের প্রতি ভালোবাসা।
ঈশানের এই মন্তব্যের সাথে একমত।
তার সাথে যোগ করি- মানুষ কখনোই অন্য মানুষকে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনা, পারেনা নিজেকেই বুঝতে। শুরু হয় অন্তর্দন্ধ! মানুষের স্বপ্ন মানব-মানবীরা তাই অধরাই থেকে যায়!

সুন্দর গুছিয়ে লিখেছ সাকিবা। ভালো লাগলো।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৮৭১(৫২)    
লেখকের মন্তব্য

মানুষ কখনোই অন্য মানুষকে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনা, পারেনা নিজেকেই বুঝতে। শুরু হয় অন্তর্দন্ধ

খুব ভালো বলেছেন আপু। এ আমার নিরন্তর উপলব্ধি । যা ঘুরে ফিরে লিখেছি প্রতিটি লেখায়।

আপনি গল্প পড়েছেন এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ভালো থাকুন প্রিয় আপু। নিরন্তর।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৩৯৮৭(৫৩)    

এক থেকে তিন পড়লাম এক নিঃশ্বাসে, আর চার পড়লাম কাঁদতে কাঁদতে।
নির্মোহ ভাবেই বলছি, আগামী বছরের বইমেলায় সাকিবা'র লেখা মলাটবন্দী হবার স্বপ্ন দেখছি আমি!
খুব ম্যাচ্যুওর লেখা! গুরু-মানি-ওস্তাদ
সাত তারা সহ সোজা প্রিয় সিন্দুকে! :)
---
অফ টপিক: "তোমাকে আমার মতো হতে হবেনা, এসো আমি তোমার মতো হই।"
আমার মনে হয়, যে ন্যাচারলি যেরকম, তাকে ঠিক সেরকমভাবে গ্রহণ করতে পারলেই দাম্পত্য জীবন সবচেয়ে সুখের হয়। একজনের আদলে কিংবা একজনের ফুট-ফরমাশ মত অন্যজনকে গড়তে গেলেই হয় সমস্যার শুরু। প্রিয় সাকিবার জন্য অনেক ভালবাসা! :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪২৪(৫৪)    
লেখকের মন্তব্য

সাকিবা'র লেখা মলাটবন্দী ?
সাত তারা সহ সোজা প্রিয় সিন্দুকে ?
খুব ম্যাচ্যুওর লেখা ?

আপু, আমি আপনার মত একজন অসামান্য লেখকের এত প্রশংসার যোগ্য কিনা বুঝতে পারছিনা। তবে আমার লেখাকে প্রিয়তে নিয়ে যে সম্মান দিলেন, তা আমার এই ক্ষুদ্র লেখক জীবনের অসামান্য প্রাপ্তি।

লেখা মলাট বন্দী হোকনা হোক প্রিয় আপুর ভালবাসা বুকের গভীরে বন্দী হয়ে গেল। উৎসাহ জোগাবে, ছায়া দিবে সবসময়।

আর দাম্পত্য বিষয়ক টিপস মনে রাখলাম। খুব সত্যি কথা বলেছেন । ভালো থাকুন প্রিয় আপু , সবসময়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪৪০(৫৫)    

প্রিয় সাকিবা আপুমণি,

অনেস্টলি, আমি কোন মানদণ্ডেই অসামান্য লেখিকা নই। ভাগ্যচক্রে লেখা পাবলিশড হয়ে গেছে আল্লাহর অসীম রহমতে। আপুমণি, আমি দেড় দিন হল একটা লেখা লিখেছি। এখানে লিঙ্ক দিলাম। আপনার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন আর মন্তব্য পেলে ভীষণ খুশী হব।
অনেক ভালবাসা।। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪৪১(৫৬)    
লেখকের মন্তব্য

এক্ষুনি দেখছি আপু ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৪৪৮(৫৭)    
লেখকের মন্তব্য

আপু, লেখার বিষয়বস্তু যেকোনো ভাবেই প্রচণ্ড নাড়া দেয়ার মত, কিন্তু আরও বেশী যা ভালো লাগলো আপনার উপস্থাপন। কি অসাধারন ভাবেই না চিত্রিত করেছেন দৃশ্যপট! বর্ণনার ধরণ খুবই প্রশংসনীয় । মজা আছে, কিন্তু তার অন্তিরনিহিত যে বোধ , তা কিন্তু খুবই হৃদয় ছোঁয়া ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৪৮৯৫(৫৮)    

এতো অসাধারণ ত্রিভুজ গল্প আমি এই ক্ষুদ্র জীবনে আর পড়েছি বলে মনে পড়েনা। গল্পটার বুনন শিল্প, আর মোড় ঘোরানো ঘটনাগুলোর সাথে সাথে চললাম যতক্ষণ পড়লাম। সত্যি কথা বলতে আমি আসলে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা আমার অনুভূতি প্রকাশ করার। গল্পে আচ্ছাদিত হলাম। :)

খুব গভীর কয়েকটা লাইন অনেক বেশী রকম ভালো লাগলো, অনুভূতির প্রবলতা বুঝিয়ে দিল।
বরাবরের মত আপনার স্বকীয়তা বজায় আছে চমৎকার লেখায়।

মনের গভীরে শুদ্ধ সুন্দর একটি সম্পর্ক আলোময় দ্যুতি ছড়ায়।

তার আশ্চর্য শিশু সুলভ গন্ধের মায়ায় জুড়িয়ে দিলো বুক।

বিকেলটা হুঁশ করেই ফুরিয়ে যায় ।

মাঝে আছে এক দেবদূত । ঋদ্ধ । তাই হয়তো সব সয়ে যায় । কষ্টেরা ছুটে পালায়। দিন রাত্রি কাটিয়ে দিতে পারে, দীর্ঘ জীবন ক্লান্তিকর হতে গিয়েও হয়না। ভালবাসা ঘিরে থাকে অন্তহিন। সন্তান স্নেহের কাছে আর বাকি সব তুচ্ছ হয়ে যায়। অন্য সব বোধ নিভে যায় ।

জীবন অনেক কঠিন, এখানে শুধু জয়ী হয় যোগ্যরাই।

আজ থেকে ঘরে ফিরবে প্রতিটি সোনালি আলো মাখা বিকেলে। রায়নার অন্তহীন জলে টলমল চোখ দুটো মুছিয়ে দিবে গাঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে। বলবে বউ ক্ষমা করো আমাকে। অনেক কষ্ট দেই তাইনা? তোমাকে আমার মতো হতে হবেনা, এসো আমি তোমার মতো হই। অন্তহীন স্বপ্নে রাঙ্গাই ভবিষ্যৎ ।

আমি পুরাপুরি বাকরুদ্ধ। এরকম দারুণ সব লেখা আরও আসুক এই কামনা করি। অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা... হ্যাটস অফ টা টা

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫২৯৮(৫৯)    
লেখকের মন্তব্য

ভাইয়া, আপনার মন্তব্যের জবাব দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। আপনার মত কবির এরকম মুগ্ধতা আমার এই লেখার জন্য, আমি আসলেই কিছুটা বিহবল হয়ে পড়েছি ।
অনেক অনুপ্রেরণা পেলাম। ভালো থাকবেন সবসময়। বোনের পাশে পাশেই থাকবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩১৪(৬০)    

‘আমার মত কবি’... হা হা হা, হাসালেন বোন। কবিকুল এই কথা জানতে পারলে যারপরনাই লজ্জা পেতো। তেলাপোকাও একটা পাখী, আর আমিও একটা কবি...?
যাই হোক, আমি আসলে কোন শ্রেণীর কি, এখনও বুঝে উঠতে পারিনি।
পারলে নিজেকে সেই দলের বলে দাবী করবো ক্ষণ।

যাই হোক, আপনার এই গল্পটার বিষয়ে আরও একটা সত্যি কথা না বলে পারছি না।

"আজ থেকে ঘরে ফিরবে প্রতিটি সোনালি আলো মাখা বিকেলে। রায়নার অন্তহীন জলে টলমল চোখ দুটো মুছিয়ে দিবে গাঢ় আলিঙ্গনে জড়িয়ে। বলবে বউ ক্ষমা করো আমাকে। অনেক কষ্ট দেই তাইনা? তোমাকে আমার মতো হতে হবেনা, এসো আমি তোমার মতো হই। অন্তহীন স্বপ্নে রাঙ্গাই ভবিষ্যৎ ।"

যত বার এই লাইনগুলো পড়ছি, বুকের ভিতর কোথায় যেন একটুকরো জমাট মেঘ জমে যাচ্ছে, আর চোখের পিছন বৃষ্টি। কি ভাবে এতো দারুণ অনুভূতিগুলো আপনি লেখেন বলেন তো? নিজেকে যেন এই লাইনগুলোর আয়নায় দেখছি। আপনার লেখায় অনুভূতি বড় বেশী জীবন্ত, হৃদস্পন্দনে নাড়া দিয়ে যায়। বারে বারে পড়ছি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩১৯(৬১)    
লেখকের মন্তব্য

ভাইয়া, একটা কবিতা পেতে পারি? গত পোস্টের মত ? মাত্র চার লাইন এর ? এখানে ? অপেক্ষায় আছি

আপনি অনেক ভালো লেখেন। অনেক ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩২৮(৬২)    

পৃথিবীর সব মানবকে, তার মানবীকে উৎসর্গ করে দুটা লাইন দিলাম-

নতুন একটা স্বপ্ন দেখব, দেখবে আমার সাথে?
একটা নতুন দিনের খোঁজে, রাখবে কি হাত হাতে?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩৪৭(৬৩)    
লেখকের মন্তব্য

বাহ।

নতুন একটা স্বপ্ন দেখব, দেখবে আমার সাথে?
একটা নতুন দিনের খোঁজে, রাখবে কি হাত হাতে?

অনেক সুন্দর । হাততালি

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩২৩(৬৪)    

প্রিয় আপু আপনার গল্পটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে মিস হয়ে গেছে।
তাই খুবি দুঃখিত।
অসাধারণ একটা গল্প।
আপু ভাষায় একটা চরম দখল আছে আপনার।
তাই যে ভাবে ইচ্ছে ঠিক সে ভাবে সাজিয়েছেন।
গল্প প্রিয়তে।
কারণ প্রিয়তে যাওয়ার মত সব যোগ্যতাই এই গল্পের আছে।
ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩২৬(৬৫)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া প্রিয়তে নেয়ার জন্য ।

ভালো থাকুন, নিরন্তর ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৩২৭(৬৬)    

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৫৮৫৫(৬৭)    

আপু, আমাকে উৎসর্গ করলি কেন? আমি খুবই লজ্জা পেলাম (আনন্দ পেলাম আরো অনেক অনেক বেশি :):))। আমি তো শুধুই পাঠক। তুই সবসময় ই লিখতে পছন্দ করতি, ডাইরিতে পাতার পর পাতা থাকত গল্পতে ভরা; আর আমি চাইতাম তোর সেই গল্প গুলো সবাই পডুক। আচ্ছা, ঐ গল্প গুলো কোথায়?

গল্পটার শেষ ২টা পার্ট অতি দুর্দন্ত। ১ম ও ২য় পর্ব একটু কম ভাল। কিন্তু তিনটি চরিত্রকেই বিশ্লেষন করেছিস অসামান্য দক্ষতায়। ভাল থাক, আরো আরো ভাল ভাল লেখা আসুক।

আম্মা wait করছে গল্পটা পড়বে বলে....

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৭১৮৩(৬৮)    
লেখকের মন্তব্য

কি লিখবো বুঝেই পাচ্ছিনা । শুধু বলছি তুই না বললে হয়তো কোনদিনই শুরু হতোনা লেখালেখি। অসম্ভব ইন্সপায়ারিং তুই ছিলি বলেই এতদুর আসতে পারা।
এবার আসল কথা। ছোট মানুষ, সেই দূর থেকে এলি আমার ব্লগে। কি দেই ? দিলাম ঘরে যা ছিল।
চকোলেট কেক-শেক বেলুন কেককুক

এবার খুশি ? অনেক আদর রইলো ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৭১৮৪(৬৯)    
লেখকের মন্তব্য

আগের গল্পগুলো কোথায় জানিনা তো।
আর আম্মার কাছে এই গল্প পৌঁছে যাবে অচিরেই। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির কাছে।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৬১১১(৭০)    

গল্প ভালো লেগেছে। শিমুল ভাইয়ের সাথে সহমত। একটু একটু করে কাহিনী জমে উঠেছে গল্পের। পড়তে ভীষণ মজা পেয়েছি। এত্তগুলো শুভকামনা। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৬২২৪(৭১)    
লেখকের মন্তব্য

প্রিয় আপুকে অনেক ধন্যবাদ গল্প পড়ার জন্য। আপ্নাকেও অনেক শুভকামনা রইল। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৭১৮৭(৭২)    

গল্পটা পড়লাম। আপনার চরিত্র নির্মানের নির্মোহ ভাবটা বেশ ভালো লেগেছে। (তবে গতিটা আরেকটু কম হলে ভালো লাগতো)। সবমিলে একটা ভালো গল্প পড়লাম এটা বলাই যায়। নিয়মিত লিখুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৭১৯৪(৭৩)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ভালো লাগছে আপনাকে পেয়ে। গল্পের গতির ব্যাপারটা মাথায় রাখলাম। শেষদিকে ভাবছিলাম গল্প বড় হয়ে যাচ্ছে। একটু দ্রুত সমাপ্তি তাই। ঠিক হয়নি।

আপনার গল্প পাঠ অনেক অনুপ্রেরণা দিল। আরও কঠিন ক্রিটিসিজম চাই ভবিষ্যতে ।

ভালো থাকুন প্রিয় ভাইয়া। অবিরত। নিয়মিত লিখব আশা রাখি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৮১৮৮(৭৪)    

ভালো লাগা অনেক। ভালো লাগছে / পুরাই একমত / জটিল
সায়ন্তনের কাছে রায়না'র ফেরাটা প্রথম দিকে কল্পনা মনে করেছিলাম আমি। কারণ, যে যায় সে ফিরে তাকায়; স্মরণ রাখে না আর, সুখ যদি হয় সঙ্গী। মেঘে ধুঁয়ে যায় বিগত সময়... পরে দেখি, না বাস্তব। এসেছে, তবে ফিরে নয়, মায়া হয়ে।

বৃষ্টি আমার অনেক প্রিয়।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৮৩৬০(৭৫)    
লেখকের মন্তব্য

কারণ, যে যায় সে ফিরে তাকায়; স্মরণ রাখে না আর, সুখ যদি হয় সঙ্গী। মেঘে ধুঁয়ে যায় বিগত সময়...

এতোটা নিরাশাবাদী ভাবনা কেন ভাইয়া? সে কি আরেক ইতিহাস ? জানার অপেক্ষায় রইলাম।

অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়াকে গল্প পড়ার জন্য।

ভালো থাকুন অবিরত। প্রিয় বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাক সব দুঃখরা ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৮৩৭৮(৭৬)    

এমনটাই দেখি তো চোখের সম্মুখে হর-হামেশা। তাই বলা আর কী! :)
অনেক ধন্যবাদ, আপু।
চমত্কার থাকুন আপনিও।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৩৮৪১৮(৭৭)    
লেখকের মন্তব্য

আবারো ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়াকে। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৫৮৭(৭৮)    

গল্পটা অসাধারণ। হাততালি
আপু,আপনি কখনও কোন ব্যস্ততাতেই লেখালেখি ছাড়বেন না,এই অনুরোধ রইল। বুকে আয় বাভুল
মনটা ভীষণ খারাপ ছিল,আরও খারাপ লাগছে কেন যেন ।
ভাল থাকবেন প্রিয় আপু।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৫৮৯(৭৯)    
লেখকের মন্তব্য

এমন কো-ইন্সিড্যান্স । আমি মাত্র তোমাকে মেসেজ দিলাম যে আপুনি কেমন আছ । আর তুমি আমার ব্লগে !!!! আমি বিস্মিত এবং বাকহিন ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৫৯৭(৮০)    

এমন আগেও হয়েছে আপনার আর আমার!মনে আছে আপু? :)
অনেক অনেক ভালবাসা আমার দূরে থেকেও প্রাণের কাছে থাকা আপুর জন্য আস্ত হৃদয়

(অফটপিক) আপু,আপ্নি তো মারাত্মক সুন্দরী ভালুবাসা মাশাল্লাহ বুকে আয় বাভুল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৬০৭(৮১)    
লেখকের মন্তব্য

আনিকা, আমাদের মনের মিল অনেক। এটা আমার কাছে একটা বিস্ময়।

অনেক কিছুই হবে যার উপর হাত নেই আমাদের। তাই বলে মন খারাপ কেন আপুনি ?

অনেক অনেক ভালবাসা আমার দূরে থেকেও প্রাণের কাছে থাকা আপুর জন্য

এটা আমার ও মনের কথা। ইচ্ছে হলেই এসো আপুনির কাছে, যখন খুশি তখন।

গল্প পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ । ভালো থেক, থাকতেই হবে :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৬২৩(৮২)    

আপু,মন খারাপটা কমে আসছে একটু করে।আপ্নার জন্য একটা ছবি,কেন যেন দিতে ইচ্ছে হল

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৬৩১(৮৩)    
লেখকের মন্তব্য

চলো এই পথ ধরে মেঘের নিচে হেঁটে যাই , দুজনেরই বিষণ্ণ মন সূর্যের সোনালি আলোয় মাখিয়ে নেই।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৬৯৩(৮৪)    

আপনার শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস, চরিত্র রূপায়নের ভঙ্গিটি আমার ভীষণ পছন্দের। এ গল্পের ছত্রে ছত্রে তার ছোঁয়া রয়েছে বলে মুগ্ধতা জানাচ্ছি। রিহানের চরিত্রটি আমারো খুব ভাল লেগেছে। গল্পের বিষয়ে সহব্লগার আমিন শিমুলের সাথে একমত পোষণ করছি।

-পরের গল্প কবে আসবে? ভালো থাকবেন অহর্নিশি। অনেক অনেক শুভকামনা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৭১০(৮৫)    
লেখকের মন্তব্য

অনেক ধন্যবাদ আপু। অনেকদিন ধরে থিসিস এর কাজে পড়ে আছি আর এখন সাবমিশন এর টাইম সামনে। তাই গল্প লেখা আপাতত বিরতি।

দূরদেশে আছি, আনন্দ কষ্ট সব মিলিয়ে চলে যাচ্ছে দিন।

আপনার গল্পের একজন নিয়মিত পাঠক হয়ে গেলাম কিন্তু। অসাধারন লিখেন আপনি। ভালো থাকবেন। নিরন্তর।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৭৪৩(৮৬)    

আপনার লেখা এই প্রথম পড়লাম। বিমুগ্ধ হয়ে গেলাম।
এত সুন্দর গল্প! উদ্ধৃতি দিতে গেলে প্রায় পুরো গল্পটায় দিতে হবে!
চমৎকার ভাষা শৈলী। প্রকাশভঙ্গীও হৃদয়ছোঁয়া।
বাকি পোস্টগুলোও ধীরে ধীরে পড়ব।

শুভ-কামনা জানবেন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪১৭৫৮(৮৭)    
লেখকের মন্তব্য

আমার ব্লগে এই প্রথম এলেন। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।

এত সুন্দর করে মন্তব্য করেছেন যে হৃদয় মন ভরে গেল। আপনার জন্য ও শুভকামনা। এভাবেই সাথে থাকুন।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২১৫৭(৮৮)    

প্রথমেই গল্পের খুঁতগুলো ধরি:
- সংলাপগুলো আরেকটু বিস্তারিত হতে পারতো। মানুষ সাধারণত কথা বলার সময় এত সংক্ষেপে বলেনা।
- পাঁচ বছরের ঋদ্ধ'র কথাগুলো আরেকটু শিশুসূলভ হলে পড়তে আরাম লাগতো।
- শুদ্ধ সুন্দর দাঁতের সারি'র সাথে 'ইকড়ি-মিকড়ি' কথাটা খাটেনি।

এবার ভালো দিকগুলি:
কাহিনীটা চমৎকার। তিনটি মানুষের সম্পর্কের টানাপড়েন, পাওয়া না-পাওয়ার মাঝখানে এক অন্যরকম আবহ। কারো কেউ নেই, কারো থেকেও নেই। আমাদের বাস্তব জীবনের এক অদেখা ছবিই যেনো ফুটে উঠেছে গল্পটিতে।
সবুজ মেয়ের ভেতরের মানুষটাকে জোনাক পোকার রূপে হাজির করাটা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত হয়েছে। প্রশ্নোত্তরগুলোও সুন্দর। যেটুকু সময়ের পরে গল্পটিকে পাঠকের কাছে দীর্ঘ মনে হতে পারতো, সেখানেই শেষ করেছেন। অনেকটা যশ থাকতে থাকতেই আসর খতম। :) এটাও ইন্টেলিজেন্ট সিদ্ধান্ত।

গালের টোল, ঠোঁটের কোণায় তিল, ইকড়ি-মিকড়ি শুদ্ধ সুন্দর দাঁতের সারি- এই উপমাগুলো আমাকে স্পর্শ করেছে অনেক! কিছু কল্পনা ধরা পড়ে গেছে আপনার গল্পের শব্দফাঁদে। :)

এমন লেখা আরো আসতে থাকুক। অনেক অনেক শুভকামনা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৬৫২(৮৯)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার আলোচনা আমার গল্পের চে বেশী সুন্দর !!!

এত সময় নিয়ে, এত আন্তরিকভাবে গল্প টি পড়েছেন যে গল্প লেখার সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি। খুঁত ধরে দেয়ার জন্য অনেক বেশি খুশি হলাম।

প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ । আপনার প্রশংসা পাওয়া যে কি কঠিন , মাঝে মাঝে কবিতা পোষ্ট গুলোতে আপনার কমেন্টে টের পাই।

ভালো থাকবেন । অসীম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৮২৩(৯০)    

ঘরের কোণে মেঘের লুকোচুরি,বেশ ভালো লাগলো।

শুরুতে কথোপকথনের অংশটা বুঝতে পাঠকের সমস্যা হবার কথা। আমার হলো আর কি।।
দুজনের কথার মধ্যে কোনভাবে পার্থক্য করলে ভালো হতো।

শুরুটা নিয়ে একটু দ্বিধায় পড়ে গেছিলাম। কাহিনীর আকুলতা শেষদিকে অনেক গভীরে চলে গেছে, সেই তুলনায় শুরুটা একটু নিরুদ্দেশ। আশা করি খেয়াল রাখবেন পরের লিখার সময়। :)
জোনাকির সাথে কথোপকথনের অংশ ভালো লাগলো। নবীন ধারণা।

শুষ্ক হাঁসির সাথে নীরব বেদনা। মিক্স আপ খারাপ করেন নি।
তবে একটা অংশ থেকে আরেকটা অংশে দৌড়ে না গিয়ে একটু ধীরে গেলে অনেক ভালো করতে পারবেন।
লিখার ধরণ এবং শব্দের ব্যবহার পাঠক হৃদয়ে আলো- ছায়ার কম্পন তোলার মতন। তাই ওটা নিয়ে আর কাজ না করলেও হবে।
ভালো লিখেন আপনি, এটা আর না বললেও বোধহয় হবে। ভালো থাকুন।
সর্বোপরি, আমি দুর্বল পাঠক এবং নিরুদ্দেশ লেখক। তাই আমার কথাগুলোকে চাইলে তীর্থযাত্রায়ও পাঠাতে পারেন। D
যাই হোক। ভালো থাকুন । :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৮২৯(৯১)    
লেখকের মন্তব্য

আপনার লেখার জবাব দিতে কি বলব জানা নেই। তবে আপনার ভাষার ব্যাবহারে মুগ্ধ আছি ।

আমি নিরুদ্দেশ লেখক। তাই আমার কথাগুলোকে চাইলে তীর্থ যাত্রায় ও পাঠাতে পারেন।

ঘরের কোণে মেঘের লুকোচুরি,বেশ ভালো লাগলো।

সাতসকালে এরকম আলোচনা সমালোচনা আজকের বিষণ্ণ মনে কিছুটা সূর্যের আলো এনে দিল।

মোটেই দুর্বল পাঠক নন। অনেক সবল। আর দারুন সমলোচক। পরের লেখাগুলো নিয়ে এখন থেকে অনেক বেশী ভাবনায় পড়তে হবে ।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৯৭৭(৯২)    

আমার মন্তব্য আপনার লিখাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করুক সেটাই আমার কামনা। অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য। :)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৮৩১(৯৩)    

একরাশ ভালোলাগা।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪২৮৩২(৯৪)    
লেখকের মন্তব্য

ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ) ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ) ধইন্যাপাতা(ধন্যবাদ)

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪৭৯৬১(৯৫)    

লিখার প্রথম প্রথম মনে হতো এই বাক্যগুলো কেন সংযোজন করছি, আর এরপরে এখন মনে হয় বাক্য না শুধু এই চরিত্রটি কেন দিচ্ছি। পুরো গল্পে এর প্রয়োগ কী? এদের মধ্যে আলোচনাই বা এত লম্বা করার মধ্যে পাঠক কি ডাইমেনশান পাচ্ছে! ------------ উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর মিললে গল্প টাইটফিট। আর না মিললে যেগুলোর কারনে মিলল না সেগুলো বাদ দিলে গল্প সুপার টাইট।
-------------
লেখাজোখা চলুক।

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪৮০২৯(৯৬)    
লেখকের মন্তব্য

আপনি এত অল্প বললেন ?
আরেকটু কি বলা যায় দাদা ? কিভাবে আরও ভালো করা যেত ?

 
ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
#২৪৯১০৩(৯৭)    

এর মাঝেই অবশ্য সব বলার চেষ্টা করলাম। মানে হচ্ছে এরপরে টানটান একটা লেখা চাই। প্রত্যেকটি সংলাপ, ক্যারেক্টার কেন আসলো কি জন্য যোগ হলো, সবগুলো যেন জাস্টিফাইড হয়, এই আর কী! শুভকামনা!

 

মন্তব্য করুন

এই তথ্যটি সর্বদাই গোপন রাখা হবে এবং কোন অবস্থাতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ছবি যাচাই
আপাতত: শুধু মানুষদের জন্যই আমাদের দুয়ার খোলা। পরে নাহয় রবোট, বায়োবট বা এন্ড্রয়েডদের কথা বিবেচনা করা যাবে।
3 + 5 =
এই গাণিতিক সমস্যাটি সমাধান করুন এবং সঠিক উত্তরটি উপরের ঘরে লিখুন। যেমনঃ ১+৩ এর জন্য লিখুন ৪।