সাকিবা-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


রিহানের সাথে কখনোই দেখা হয়নি অনুশিলার। দেখা হয়নি সামনাসামনি তার চুল,চোখ, হাসি, ভ্রুর ভঙ্গি , তার হঠাৎ চমকে ওঠা,তার অকারণ গমগম হাসি,তার সিরিয়াস মুখে ফান করা, তার মন খারাপ করা, কিন্তু সব ভেবে নিতে পারে সে। সে কেমন করে কথা বলে, কি বলবে কোনটার পর কোনটা, কখন বলবে কথা শেষ, সব। অনেকদিন ধরে চলছিল সম্পর্কটা, নেটে আর এক কি দুবার দূরভাষে। দিন রাত্রি অন্তহীন কথা, প্রতিজ্ঞার পর প্রতিজ্ঞা, সারা জীবন একসাথে কাটানোর, মান অভিমান, আদর, হাসি মজা পেরিয়ে একটু টুকটাক রাগারাগি, ঠোকাঠুকি - এই সব পালা পেরিয়ে ব্রেক-আপ। হঠাৎ ছিঁড়ে গিয়েছিল রিলেশনটা।
নতুন কাউকে পেয়েছিল হয়তো রিহান, নতুন কারো সাথে কথা, নতুন রহস্য উন্মোচন, নতুন মন জেতার খেলা। হটাত এক সকালে ছিঁড়ে দিল তাই তার ডানা, ভেঙ্গে দিলো অনেক কথার উপর গড়ে ওঠা শক্ত সেতু। তার অতীতের অন্তহীন স্বপ্ন, বর্তমানের অস্তিত্ব আর ভবিষ্যতের সব ভালবাসার ক্ষমতাকে দলিত মথিত করে, রিহান চলে গেলো। অনুশিলা কাঁদেনি, পেছন ফিরে ডাকেনি, একবার ও থাকার জন্য সাধেনি।
আজ সেই রিহান তাকে ডেকেছে। অনেক অনেক দিন পর। মাঝে অবহেলায় পরে আছে দীর্ঘ অনেক ক'টা বছর। এখন সে অন্য কারো বউ। তারপরও এই হলদে রঙা পাখির পালকের মত নরম, কোমল, মায়াময় বিকেলে, তেপান্তরের মাঠের মত মাঠে দাঁড়িয়ে তার বুক কাঁপে। সেই কিশোরী বেলার মত। শঙ্কায়, ভাবনায়, আকাঙ্ক্ষায় , আবেগে। মাঠে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য কাশফুল। সাদা সাদা কাশফুল এর উপর ছড়িয়ে আছে সাদা প্রশস্ত আকাশ। তাতে অনেক রঙের মেলা। নীচে কাশফুলের মাঝে উঁকি দিচ্ছে নাম না জানা হাজার রঙের বুনো ফুল। হলদে, জাফরান আর বেগুনি। গাঢ় নীলচে রঙের ফুল ও আছে কিছু। ঘন সবুজ ভেজা ঘাস। বৃষ্টি হয়েছে কিছু আগে বুঝি। কি এক পবিত্র অদ্ভুত বিষণ্ণতা সবখানে। ভেজা ঘাসে, ভেজা ফুলে আর তার ভেজা মনে।
সকাল থেকেই আজ চমক ছিল। তার মাথার কাছে মুঠোফোনে উঠে এসেছিল সেই নাম। কাঁপছিল সে। ভেসে আসছিল সেই কণ্ঠ। মন জাগানিয়া, ঘর ভাঙ্গানিয়া। সেই কণ্ঠ। তার প্রথম প্রেম। তার প্রথম আবেগ। তার অদেখা স্বপ্ন পুরুষ। যে তাকে কাঁদায়, ভাসায়, ছুঁড়ে ফেলে দেয় অসীম শূন্যতায়। কিন্তু তার মনে সান্ধ্য প্রদীপ জ্বেলে রাখে। তির তির করে কাঁপছিল সে, পাশে ঘুমন্ত আসিফ। সে কথা বলতে পারেনি। ত্রস্তে উঠে গিয়েছিল, ফোন না ধরে বাথরুমে গিয়ে অস্থির হাতে দুচোখ জলে ভিজিয়েছিল । দেখা হয়নি বলেই হয়তো তার ঘোর কাটেনি, তার মন থেকে স্বপ্ন পুরুষ এতোটুকু ম্লান হয়নি। তার চোখের জল শুকায়নি আজ, একটা অস্থির অভিশাপের মত তার আত্মার কান্না হয়ে মিশে আছে সেই মুখ। সে অনুনয় করেনি, কাছে ডাকেনি, কিন্তু ভুলে যায়নি। প্রতি পলে লালন করেছে তাকে, নিজের অজান্তে, সবার অলক্ষ্যে। তার এই গোছানো সংসারের নিভৃতে। রিহান ডাকেনি আর কখনো । আজ হঠাৎ কেন? কি বলবে সে ?
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বৃষ্টি ছিল ভেতরে আর বাইরে। সে সদ্য সোনালি ভোরে নির্বাক হয়ে বসে ছিল। অপেক্ষা করছিলো কি? আরেকবার আহবানের? এক যুক্তিহীন আবেগে, তীব্র প্রতীক্ষায়। তারপর এলো আবার সেই ডাক। বৃষ্টির অঝোর বর্ষণের মত। সে ভাবছিল ফোনটা ছুড়ে ফেলে দেয়, গুড়িয়ে দেয়,আবার কি এক তীব্র আবেগের কাছে সে পরাজিত হয়। সে যে এত আকুলভাবে এই ডাকের প্রতীক্ষায় ছিল,সে বুঝতে পারেনি। সে কথা বলেনা কিন্তু তার কণ্ঠ শোনে । তারপর ফোন রেখে দেয়। কথা খুঁজে না পেয়ে। তার ও পর, কাঁদে অন্তহীন। ফোন পড়ে থাকে অবহেলায় তার ঘরের অন্তহীন ঐশ্বর্যে । তার সুখ আর সংসারকে তীব্র উপহাস করে। সে সহ্য করতে পারেনা,শুধু ত্রস্তে ছুটে যায় বিছানায়, আলিঙ্গনে জড়ায় আসিফকে, তার বুকে মুখ ঘষে , তার চুলে বিলি কাটে আর কাঁদে। ভেতর ভেতর। উপরে সে হাসে, বলে সোনা উঠো , সকাল হলোনা ? আর কত ঘুমাবে?
তার প্রতীক্ষা বাড়তে থাকে । আহবানের। অফিসেও নিরন্তর কাজের ফাঁকে ফাঁকে । কি বলতে চেয়েছিল রিহান? সে কখনোই নিজের কাছে নিজের প্রতিজ্ঞা ভাঙবে না , ডেকে কথা বলবেনা কিন্তু ডাকলে ফেরাবে এমন সাধ্য তার কই? আর তাই সে কাজে মন দিতে ভুলে যায় , নিজেকে অভিসম্পাত দেয় আর বেভুল হয়ে রিহানের কথা ভাবতে থাকে। তার প্রথম তীব্র দহন আর যন্ত্রণার ইতিহাস। তার পরাজিত হবার কথকতা।
বার্তা আসে আবার। ঘোর দুপুরে। তপ্ত হৃদয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে। রিহান লিখেছে :
'অনেক দিন চলে গেছে। আসনি। ফিরে ডাকোনি। ভুলে গেছ? শুধু একবার দেখবো। একবার। ছোঁবো না।। দাবি করবোনা কিছুই। অনেক দূরে রবো, ভেবোনা, কিছু উল্টে পাল্টে দিবোনা। শুধু কিছু কষ্টের ছুটি করবো। অনেক বড় ভুলের। জীবন কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু। তোমাকে । আমার দোষে। আমারই ভুলে। আসোনা একবার। আসবে? আজকে বিকেলে ? জানাও। জোর করছিনা । অধিকার নেই। তোমার কাছে একটি বিকেল ছাড়া চাইবার আর কিছু নেই’।
কি অদ্ভুত লেগেছিল তার। আর কি মুক্তি। তার অন্তহীন অবিশ্বাস্য অসহনীয় প্রতীক্ষার। তার প্রার্থনার। সে নিশ্চল ছিল। বেলা বাড়ছিল । তার মনে দ্বিধা ছিল। সংশয় এর দেয়াল ছিল। সে ফেরার পথ ধরেছিল। আবার ফিরে এসেছিলো সেই পথে। কি এক ঘোরে। আবার ডাক এসেছিলো । আসতে পারবে তো ? দেরি হবে না তো ? প্রব্লেম নেই তো? সে আশ্বস্ত করছিল। সে আসবে। তার কাছে। মনে দ্বিধা গলায় শঙ্কা ছিল। কি হয়ে গেলো তার ? সে কি পাপ করল ? সে কি খারাপ হয়ে গেল? সে কি আসিফের অবমাননা করলো ? তক্ষুনি ফোন আবার। সুতরাং সে নিরুপায় হয়। সে বিভক্ত হয়, দ্বিচারিণী হয়, আর নিজের আত্মার কাছে লুকানোর পথ খুঁজে বেড়ায়।
আজ এই ভর বিকেলে অন্তহীন কষ্টে আর কল্পনায় তার শুভ্র শাড়ীর আঁচল ওড়ে। ওড়ে তার স্বপ্ন। এই সোনা সোনা আলোতে, অসংখ্য প্রজাপতির বর্ণময় বিচরণে, আর মেঘের পরে সূর্যের হাসিতে। সে প্রতীক্ষা করে হৃদয় মন উজাড় করে এই বিকালের মায়াবী আলোতে। কখন এসে দাঁড়াবে গহীন স্বপনের পুরুষ। দেখা হয়নি আগে, হেঁটে আসবে সে যেন কোনো অলীক মায়ার স্বপ্নে। তার হবে গহীন মায়ার চোখ, এলোমেলো চুল, আর গভীরতম দৃষ্টি। একটিবার দেখা কাঙ্ক্ষিত ছিল। এক জনমের পিপাসা ছিল। সেই পিপাসার জলে টলমল করে সে।
অনেক আগেই চলে এসেছে সে। কি এক অসম্ভব আবেগে, কি দারুন ব্যাকুলতায়। তাকে একটি কবিতা শোনাবে সে । নিজেই লিখেছিল। ছেড়ে যাওয়ার পর। শুধু সেই কবিতা শোনাবে সে । আর কিছুনা। ছোঁবে না, কাছাকাছি হবেনা। শুধু একটি কবিতা। তাতে কি সে অপরাধী হয়ে যাবে? তার কবিতা কি পাপী হয়ে যাবে? সে বুঝতে পারেনা। তার হৃদয় জুড়ে উঠে আসে শুধু সেই কথামালা :
বুকের মাঝে জোনাক জ্বলে জোনাক নিভে যায়
জোনাক তুমি কোথায় আছ কাহার আঙ্গিনায়
জ্বলে নিভে কোন আঙ্গিনায় তোমার নিঠুর আলো
জোনাক আমি কষ্টে আছি তুমি কেমন ভাল?
তার কান্না আসে। স্তব্ধ সময় গড়িয়ে যায়। মেঘের পর মেঘ জমে, তার কান্না সব অদৃশ্য বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যায় ।
রিহান আসে তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। আকাশে শেষ সূর্যের রক্তিম আলো। সেই আলোর ক্যানভাসে স্বপ্ন পুরুষ হেঁটে আসে। সামনে এসে দাঁড়ায়। একটি আকাশ নীল টি-শার্ট পরনে তার। বৃষ্টি ধোয়া আকাশের পটভূমিতে আরেক আকাশ যেন। অনুশিলা তাকাতে ভুলে যায়। তার দৃষ্টি মাটির ঘাস ফুলে থমকে যায়। সে অনুভব করতে চায় এই বিরল মুহূর্ত। সে প্রাণ ভরে পান করতে চায় এই ক্ষণের সব বর্ণ, গন্ধ আর সৌরভ। সে শুধু তার ছায়া আর মায়ার জন্য আকুল কামনায় অধীর থেকে অধীরতর হয়। এই মুহূর্তটি তার প্রলম্বিত করে সারাজীবনের দীর্ঘায়ু দিতে ইচ্ছে করে।
স্বপ্ন পুরুষ কথা বলে একসময় । বলে দেরি করে ফেললাম, তাই না? কখন এসেছ তুমি?
অপ্রতিরোধ্য আবেগে কাঁপে তার অস্তিত্ব। তাও সব সাহস জড়ো করে সে। তার ভাষা হারিয়ে গিয়েছে। তাকে খুঁজে আনে আনাচ কানাচ থেকে। তাও কথা বলা এতো কঠিন! সে বুঝতে পারেনা। আর তাই সে নিজেকে শুধু মাথা নাড়তে দেখে। তার দৃষ্টি তখনো মাটিতে নিবদ্ধ। ঘাস ফুলে, লতায় পাতায় আর একটি কালো প্রজাপতির পাখায়। ডানা ভাঙ্গা প্রজাপতি।
রিহানও থমকে যায় বুঝিবা। স্তব্ধ সময় কাটে। এক বা দুই মুহূর্ত। কিন্তু মনে হয় অনন্ত কাল। তাই অনুশিলা চোখ তোলে একসময়। এই নীরবতাকে ভাঙতে। তার মুখ দেখবে এবার, তার শুভ দৃষ্টি হবে, সে ধন্য হবে, পবিত্র হবে। মিলে যাবে এ জীবনের সব পাওয়া না পাওয়ার হিসেব নিকেশ । রিহানের শুদ্ধতম চোখের তারায় সে খুঁজে পাবে তার আদর্শ পুরুষ।
একটু হতাশ হয় কি অনুশিলা? একটু চাপা দীর্ঘশ্বাস ধ্বনিত হয় কি তার আত্মায়? স্বপ্নের মত নয়তো সে। একদমই সাধারণ । তার অভিজ্ঞ চোখে মুখে এক অসহনীয় পবিত্রতা নেই, দৃষ্টিতে নেই দুর্লভ কোন বার্তা, শুধু তার চিবুকে ফুটে আছে পৃথিবীর জটিল থেকে জটিলতর ভাবনার আঁকিবুঁকি । চোখে মেখে আছে ক্লেদ আর ক্লান্তি । তাও অনুশিলা অধীর হয়। নির্নিমেষ অপেক্ষা করে সে আর অলক্ষ্যে প্রার্থনায় রত হয়। অসাধারণ হোক তার কথা, অটুঁট থাকুক তার বিশ্বাস আর বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন। যে স্বপ্নে সে কাটিয়েছে তার দীর্ঘ অনেক বছরের অসংখ্য বিনিদ্র রাত্রি। সে চোখ নামায় আবারো । প্রজাপতিটিকে খোঁজে ।
তার স্তব্ধতা সরব করে আবার তাই অপর পক্ষকে। তাকে বলতে শোনে ,
কথা বলছো না কেন? মাঝখানে অনেক কিছু হয়ে গেল। অনেক ঝামেলা। তাই যোগাযোগ করতে পারিনি। রাগ করেছো, না?
একটু থামে এই পৃথিবীরই মানুষটি। আবার বলে আমাকে ভুলে গেছ তাইনা? জানতাম।
একটু থামে । বুঝতে চায় হয়তো তাকে । উত্তরের অপেক্ষা করে, তারপর রিহান আবার বলে, বিয়ে করেছো ?
থমকায় অনুশিলা এবার। ক্লান্ত লাগে তার । অসীম শ্রান্তি ও । তাও উৎকর্ণ হয় সে । অপেক্ষা করে আরও কিছু শোনার। তার স্বপ্ন পুরুষ এত সহজে বিলীন হওয়ার নয়। সে আপ্রাণ চেষ্টায় রত হয়, খুঁজে পাবার। খোঁজার আর কিছু বাকি আছে কিনা তাও সে বুঝতে পারেনা। শুধু তার কবিতাটির জন্য তার দুঃখ হয় । অর্থহীন মনে হয় । । তার গত হয়ে যাওয়া অনেক ক’টা বসন্তের ফুলের সুবাস নিতে অক্ষমতার জন্য তার নিজের উপর নিজের করুণা হয়।
ক্ষমতাগর্বী পুরুষ এবার বলে আমার জন্য খুব কষ্ট পাও তাইনা? আমিও খুব মিস করি । কি করছো এখন ? কোথায় আছো?
আবার কয়েক মুহূর্ত কেটে যায়। বলে আমি ফিরলাম কাল । তোমাকে মনে পড়তো খুব। দেখতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন বাইরে ছিলাম। ইউকে তে। কিন্তু ভাল লাগেনা । বুঝলাম টাকা পয়সা বা ডিগ্রি বা প্রতিষ্ঠা লাইফের সব না।
অনুশিলা হাসে এবার। তার অসাধারণ মুখশ্রীতে এই সন্ধ্যার বর্ণীল আলো স্বর্গীয় ছায়া ফেলে। কিন্তু কথা বলেনা অথবা বুঝে যায় বলার কিছু নেই তার, বলার মত কেউ সে নয়।
রিহান অধৈর্য হয় এবার, বলে কি কিছু বলছো না? কেমন আছো ? লিখো এখনো ? আমিতো অন্য রকম হয়ে গেছি। লিখিনা। অনেকদিন। টাইম পাই না। অনেক বিজি।
আবার বলে তুমি দেখতে অনেক সুন্দর। কল্পনার চেয়ে। কথা বলতেই থাকে স্বপ্ন পুরুষ। মাটির পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে, আরে আস্তে আস্তে খুলতে থাকে তার মাথার ঘোর।
কত কথা কানে আসে। রিহান বলছে বিয়ে করেছিলাম। তোমাকে লুকিয়ে লাভ নেই। বিয়ে করেছিলাম। ব্রিটিশ একজনকেই। বিয়েটা টিকলো না । বাচ্চাটাকেও পেলাম না। জটিল জীবন ।
কি এক শক্তি বোধ করে সে এবার। বিচ্ছিন্ন করে নেয় নিজেকে। শুধু বলে, আমি যাই । সন্ধ্যা হয়ে গেছে
ফেরে সে। রিহানের কাছ থেকে, তার স্বপ্ন পুরুষের পাশ থেকে।
রাত নেমেছে ব্যস্ত রাস্তায়। হাজার রঙের খেলা। অনুশিলার বুকেও। একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই? তাই তো এত হালকা আর অগভীর পুরুষের দল হেঁটে বেড়ায় এই পৃথিবীর পথে পথে, কষ্ট দেয়, মাড়িয়ে দেয় মেয়েদের মন, তারপর বুকে হেঁটে সামনে এসে দাঁড়ায়, নতজানু হয়। কিন্তু খুঁজে পায়না মেয়েদের মন, শরীর খোঁড়ে অকারন, বীজ ছড়ায় আর ক্ষমতা গরবে অহংকারী হয়। মূলতঃ সে পরে থাকে একা, সে আসিফই হোক বা রিহান। সব মিলেমিশে যায় ।
অনেকদিন পর মহাপুরুষের মৃত্যু হয়, অনুশিলা ফেরে। ভর সন্ধ্যায়। আকাশের মেঘের মত হালকা হয়ে , পাখির মত ভেসে ভেসে। নিজের কাছে। নিজের আত্মার কাছে। নিজের বন্ধু নিজে ছাড়া আর কে হতে পারে। কেই বা হতে পেরেছে কবে?
(কবিতাটির জন্য কৃতজ্ঞতা আমার অগ্রজ ডঃ মুশতাক আহমেদ রানা ভাইয়াকে
যে এখন আর কবিতা লেখেনা। তার অসম্ভব সুন্দর কবিতা আসবে আবারো এই কামনায় আছি নিরন্তর )
মন্তব্য
সবার আগে এসে পড়লাম।
লেখকের মন্তব্য
আচার্যদা, সবার আগে এসে সবার আগে(গল্প না পড়েই) কেটে পড়লো !
লেখকের মন্তব্য
আচার্য দা পুরাই আজব করে দিল আমাকে !!!!
'আজব' হওয়ার কিছু নাই, আচার্যদা ঠিকই আবার আসপে
।
গল্পটা ঐ সময় পুরো পড়তে পারিনি এখন এসে পড়লাম। আপনার গল্প পড়ে গল্প বিশারদরাই খারাপ বলতে পারেন না আমি তো নস্যি, আমি ভাল না বলে পারি। গল্প ভাল লেগেছে।
---------------------------
ঈমা ভাই বলেছেন "আজব হওয়ার কিছু নাই"। আমি ঠিকই আবার এসেছি।
লেখকের মন্তব্য
আপনি এতো দেরিতে এলে হয়!!!!!!!!
রাগ করেছি ভীষণ ।
এসেছিলাম তো সবার আগে কিন্তু আবার চলে যেতে হল যে। দুঃখিত।
লেখকের মন্তব্য
এবার রাগ নাই

ঠিক আছে। রাগ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
হুমম
ঘোর ভাঙলো অবশেষে
ভালো লেগেছে গল্প
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আপুকে।
বর্ণনা ভঙ্গি যথারীতি আলাদাভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। সম্পর্ক অসম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কথকতা ভালো লাগলো। তবে মূল যে ভইতের উপর গল্প দাঁড়িয়ে তা আরো শক্ত হবার সুযোগ আছে বলে মনে হলো।
ভালো থাকবেন।
শুভকামনা।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়াকে।
গল্পের বর্ণনা নতুন করে যেন ভাবতে শিখায়।
চমৎকার লাগলো আপু।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় ছোট্ট ভাইয়াকে। গল্প পড়ার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই? তাই তো এত হালকা আর অগভীর পুরুষের দল হেঁটে বেড়ায় এই পৃথিবীর পথে পথে, কষ্ট দেয়, মাড়িয়ে দেয় মেয়েদের মন, তারপর বুকে হেঁটে সামনে এসে দাঁড়ায়, নতজানু হয়। ভিক্ষের হাত বাড়ায় । কিন্তু খুঁজে পায়না মেয়েদের মন, শরীর খোঁড়ে অকারন, বীজ ছড়ায় আর ক্ষমতা গরবে অহংকারী হয়। মুলত সে পরে থাকে একা, সে আসিফই হোক বা রিহান। সব মিলেমিশে যায় ।
এটাই গল্পের মূল কথা।
গহীন গভীরতায় কী আছে বলতে পারবেন ?
মেয়ে শব্দটা কেটে যদি পুরুষ বসাই আমার মনে হয় না এতে একতরফা অভিযোগের প্রকট উদাহরনের কমেন্টটার কোন হের ফের হবে।
"কিন্তু খুঁজে পায়না ছেলেদের মন, টাকা আর নিরাপত্তা খোঁড়ে অকারন, তিক্ততা ছড়ায় আর কন্ট্রোলের গরবে সাজানো সব কিছু নষ্ট করে।"
লেখকের মন্তব্য
আরণ্যক , আমি ঠিক এটাই বলেছি আমার আগের গল্প 'নিভৃত নিঃসঙ্গতায়' যেখানে একটি মেয়ের জাগতিক কামনা বাসনার কাছে পরাভূত হয়ে কেঁদেছে একজন পবিত্র মনের পুরুষ ।
যে কষ্ট পায়, বঞ্চিত হয় শুধু সেই জানে তার কাছে কেমন করে বদলে যায় এই পৃথিবীর রূপ আর বর্ণ। সে ছেলেই হোক বা মেয়ে। সে একা পড়ে রয়, তার কাছে অপর পক্ষকে অগভীর মনে হবে সেটাই তো স্বাভাবিক ।
আমার ব্লগে আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ রইলো। ভালো থাকুন সবসময়।
ভূটাপ, অরণ্যক'দা কে।
লোভীর কোনো কিসিম নাই, ছেলেমেয়ে নির্বিচারে।
ইদানিংকালে ভবিষ্যত ভাবনায় রিহানদের পরিবর্তে রিহানাদেরকেই বেশি অস্থির মতি দেখা যায় যদিও।
লেখকের মন্তব্য
তাই নাকি? নিজের জীবন থেকে নেয়া? জানতে চাই ।
বেশ ভালো লিখেছো, সাকিবা। একটানা পড়ে শেষ করতে কোনই অসুবিধা হয় নি। মানুষের মন নিয়ে ছেড়া খোড়া করার মত সাহসী একটা কাজ সবাই করতে পারে না, কিন্তু তুমি করেছো। এবং তা আমার কাছে মনে হচ্ছে বেশ ভালো ভাবেই পেরেছ।
'হঠাৎ' শব্দটা কয়েকবার সঠিক বানানে লেখা হয় নি। র আর ড়, ন আর ণ এর এদিক-ওদিকটাও খেয়াল করার দরকার আছে। অনুশিলা হয়েছে কোথাও আনুশিলা। 'প্রকাশ করুন' বাটনে চাপ দেবার আগে অন্ততঃ একবার যদি মন দিয়ে রিভিশন দাও, আশা করি তা'হলে এইসব ছোটখাটো ভুলগুলো আর থাকবে না।
শুভ কামনা।
লেখকের মন্তব্য
ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হলাম ভাইয়া।
কেমন আছেন আপনি?
আপনার সাথে অনেক কথা বলার আছে। ফিরব দেশে, তারপর ।
ভাল থাকুন।
ততদিনে আগ্রহ যাবে কমে। আর দেখা যদি হয় কখনও, কথা হয় কভু, শেষ হবে সব, একেবারে নিঃশেষ! আমি অতি সাধারণ, সাধারণ অতি। চমক নেই কোন, নিতান্তই একঘেয়েমীতে পূর্ণ খণ্ডিত মানুষ একজন।
ভালোই ভালোই ফিরে এসো, আমিও আগ্রহ ভরে পথ চেয়ে থাকলাম ভাই।
লেখকের মন্তব্য
আমাকে কাঁদালেন দাদা, এই পরবাসে।
আপনি কেমন আপনি তার কতোটুকু জানেন? তা জানি আমরা।
আমি অপেক্ষায় আছি। এভাবেই ভালবাসবেন। স্নেহে মমতায় জড়িয়ে রাখবেন আমাদের সবাইকে। শক্তি দিবেন, সাহস হবেন নিরন্তর।
আপনার দীর্ঘ আয়ু কামনা করছি। ভালো থাকুন ।
লেখকের মন্তব্য
দাদা আপনি কি আমার এই উত্তরটি পড়েছেন ? জানতে ইচ্ছে করছে।
এইমাত্র পড়লাম ভাই! তুমি এত ভালো কেন, সাকিবা!! এত আবেগী???
তোমাদের ভালোবাসাই তো আমার শক্তি। এত ভালোবাসার বিনিময়ে একটু আদর, একটু স্নেহ ছাড়া আর কিইবা দেবার আছে আমার!
ভালো থেকো ভাই। শরীরের দিকে খেয়াল রেখে ভালো ভাবে পড়াশুনা শেষ করে ফিরে আসো। অবশ্যই দেখা হবে, কথা হবে।
লেখকের মন্তব্য
ভালো থাকুন দাদা। আমার জন্য। আমাদের জন্য।
সুন্দর , শুভেচ্ছা সাকিবা।
লেখকের মন্তব্য
আপ্নাকেও অনেক শুভেচ্ছা আপু।
নতুন কবিতার আশায় আছি।
রাত নেমেছে ব্যস্ত রাস্তায়। হাজার রঙের খেলা। অনুশিলার বুকেও। একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই? তাই তো এত হালকা আর অগভীর পুরুষের দল হেঁটে বেড়ায় এই পৃথিবীর পথে পথে, কষ্ট দেয়, মাড়িয়ে দেয় মেয়েদের মন, তারপর বুকে হেঁটে সামনে এসে দাঁড়ায়, নতজানু হয়। ভিক্ষের হাত বাড়ায় । কিন্তু খুঁজে পায়না মেয়েদের মন, শরীর খোঁড়ে অকারন, বীজ ছড়ায় আর ক্ষমতা গরবে অহংকারী হয়।

কি বলবো?? আমি কোন ভাষা খুজে পাচ্ছি না!!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ গল্প পড়ার জন্য।
আমার ব্লগে প্রথম এলেন। শুভকামনা রইলো।
মাঝে অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘ অনেক ক'টা বছর
সে যেন কোণ অলীক মায়ার স্বপ্নে> কোন/কোনো হবে?
বুকের মাঝে জোনাক জলে জোনাক নিভে যায়>জ্বলে
জ্বলে নিভে কোণ আঙ্গিনায় তোমার নিঠুর আলো>কোন/কোনো হবে?
সে প্রান ভরে পান করতে চায় এই ক্ষণের সব বর্ণ> প্রাণ
তাও সব সাহস জড় করে সে> জড়ো
পল> পল কী?
অটুট থাকুক তার বিশ্বাস আর বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন> অটুঁট
মুলত সে পরে থাকে একা> মুলতঃ সে পড়ে থাকে একা
অনেকদিন পর মহাপুরুষের মৃত্যু হয়, আনুশিলা ফেরে> গল্পের মূল চরিত্রের নামের ভুল এক্সেপটেবল না!
====
এছাড়াও কিছু জায়গায় যতিচিহ্নের অভাব, প্রভাব প্রকট। যতিচিহ্নের আগে স্পেইস না দেয়ার ব্যাপারে বোধহয় বলেছিলাম আগেও।
=================================
গল্পটা দারুণ! মন খারাপও হলো।
এই লাইনটার(নিজের বন্ধু নিজে ছাড়া আর কে হতে পারে। কেই বা হতে পেরেছে কবে?) জন্যে ৭ দিলাম।
================================
বুকের মাঝে জোনাক জলে জোনাক নিভে যায়
জোনাক তুমি কোথায় আছ কাহার আঙ্গিনায়
জ্বলে নিভে কোণ আঙ্গিনায় তোমার নিঠুর আলো
জোনাক আমি কষ্টে আছি তুমি কেমন ভাল?
এই চারটা লাইন কি আমি কোথাও(যেমন, ফেইসবুক) ব্যবহার করতে পারি? এবং সেখানে আপনার নামোল্লেখও না করতে চাই? আপনার আপত্তি আছে?
লেখকের মন্তব্য
কবিতা টা আমার না। অনুমতি দিব কি? বুঝতে পারছিনা।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়াকে।
আপাতত একটা
খান।
ওহ!
আমার যে খুব পছন্দ হয়েছিলো এই লাইন ক'টা। থাক! কী আর করা!
(ও একটা কথা, আমার মনে হচ্ছে তাহলে আমি ব্যবহার করতে পারবো। কারণ, আমি তো বলছি না যে এটা আমার লেখা। কেউ যদি জানতে চায়, তখন আমি বলবো, কবি'র নাম জানিনা। ব্যস!
থ্যাংকস!)
ভাই কার জন্য নিলেন এই কবিতা?
লেখকের মন্তব্য
আমিও জানতে চাই। জামি তোমার কি ধারনা???
চাঁদপুর থেকে আসছে ১২ দিন পর। মনে হয় কাউকে শুনাতে চায়? বিশেষ কেউ
লেখকের মন্তব্য
কবির নাম দিলাম। ভাবছি ভাইয়া আবার মাইন্ড না করে।
চিন্তায় পড়লাম ।
কবির নামটা কৈ আপু?
লেখকের মন্তব্য
আছে তো । দেখনি? চশমা দরকার!!!!!!
দেখছি

এহহেরে! একটা কবিতা পছন্দ হইসে, সেইটা নিয়া কত কথা! পছন্দও করতে পারবো না?

কত দোষ!
লেখকের মন্তব্য
আসল কথা না বললে ছাড় নাই।
মুলতঃ সে পড়ে থাকে একা > মূলতঃ
নাজমুল ভাই দ্য গ্রেট! থ্যাংকস ভাইয়া। আমিই এবার ভুল করলাম!
ভুল না করলে তো ভাই শেখা হয় না!
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় হুদা ভাই আর নয়ন ভাই, ভুলগুলো ঠিক করে দিলাম ।
এভাবে পাশে থাকবেন সবসময়
সাকিবা, আপনার গল্পটি পড়লাম। জটিল মনস্তাত্বিক গল্প । আপনার চমৎকার ভাষাশৈলী আর সাবলিল বর্ণনা ভঙ্গির জন্য উতরে গেল। কিন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে অতিরিক্ত বর্ণনার ঘনঘটা গল্পের স্বাভাবিক ব্যাপ্তিকে কিছুটা ব্যাহত করেছে। রিহানের ব্যাপারে অনুশিলার অতীতচারীতা বা স্মৃতি কাতরতা আরেকটু তথ্যপূর্ণ এবং ডিটেইলস হলে ভালো হতো । তবে সব কিছু মিলিয়ে বরাবরের মতোই একটি সুন্দর, হৃদয়ছোঁয়া গল্প লিখেছেন আপনি, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু….
এই লাইন গুলো পড়ে অনুশিলাকে আমার একজন পুরুষ বিদ্বেষী চরিত্র বলেই মনে হলো। এক রিহানের স্বার্থপরতার জন্য যিনি গোটা পুরুষ জাতিকে ভুল বুঝে বসে আছেন।

ও হাঁ, এখন কেমন আছেন আপনি ? পুরো সুস্থ হয়ে উঠেছেনতো !
লেখকের মন্তব্য
এই গল্পটাতে আরেকটু সময় দেয়া দরকার ছিল হয়ত। কিছু একটা লেখার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। এক রাতেই গল্প আর লিখবনা । গল্প অনেক কিছু, তাকে অনেক যত্নে আর মমতায় গড়তে হয়। এটাতে সেই মমতা দেইনি হয়ত।
এখন সুস্থ আছি। আপনার মন্তব্য অনেক দামি কিছু । মনে রাখালাম। ভবিষ্যতের জন্য টুকে নিলাম। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
লেখকের মন্তব্য
অনুশিলা পুরুষ বিদ্বেষী , আমি নই। তাও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই? তাই তো এত হালকা আর অগভীর পুরুষের দল হেঁটে বেড়ায় এই পৃথিবীর পথে পথে, কষ্ট দেয়, মাড়িয়ে দেয় মেয়েদের মন, তারপর বুকে হেঁটে সামনে এসে দাঁড়ায়, নতজানু হয়। ভিক্ষের হাত বাড়ায় । কিন্তু খুঁজে পায়না মেয়েদের মন, শরীর খোঁড়ে অকারন, বীজ ছড়ায় আর ক্ষমতা গরবে অহংকারী হয়। মুলত সে পরে থাকে একা, সে আসিফই হোক বা রিহান। সব মিলেমিশে যায় ।
এখানে আমার একটু দ্বিমত আছে। একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই?
এটা একটু বেশী বলা হয়ে গেলো। একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করেও কোন কূল কিনার না হওয়ার অনেক নজীর আছে এই সমাজে।
নিজের বন্ধু নিজে ছাড়া আর কে হতে পারে। কেই বা হতে পেরেছে কবে?
অনেক সত্যি একটি লাইন।
লেখনী ভালো হয়েছে। ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
আমি একটা মন ভাঙ্গা কিশোরী মেয়ের গল্প লিখতে চেয়েছি যার আবেগ থেমে গেছে কারো নির্লিপ্ত অবহেলায়। যে বিশ্বাস হারিয়েছে প্রেমে, আর সম্পর্কে।
আমার মনের কথা নয় এটা। আগের গল্পে কিন্তু একজন ঘর ভাঙ্গা পুরুষের মন বিশ্লেষণ করেছি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা রইলো।
আপনার উপস্থাপন ঠিক আছে। কিন্তু মন ভাঙ্গা কিশোরীকে হাইলাইট করতে গিয়ে আপনি পুরো পুরুষদের ঢালাউ মন্তব্য করেছেন। সেখানেই আমার মত পার্থক্য।
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।
লেখকের মন্তব্য
আগের গল্পটি পড়েছেন আমার? নিভৃত নিঃসঙ্গতায় । ওখানে কিন্তু অনেক মহিমান্বিত রুপ আছে পুরুষ জাতির।
গল্পে বর্ণনা বা চরিত্র চিত্রন অটোবায়গ্রাফিকাল হতে পারে। কিন্তু সব গল্পই যে তা হবে বা লেখক সবখানে তার নিজেকে প্রকাশ করবে তা কিন্তু নয়।
ভালো থাকবেন ভাইয়া।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
পড়ে গেলাম তন্ময় হয়ে। ভালো লাগলো খুব।
অপেক্ষায় আছি, রিহান এবং রিহানদের অন্তঃপুরের অভিব্যক্তি এরকম তুলে আনবে কেউ একদিন।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ মানিক ভাইয়া।
আপনার কথাটা ভাবাচ্ছে । রিহান এবং রিহানদের অন্তঃপুরের অভিব্যক্তি তুলে আনব ঠিকই পরের কোন লেখায়। একপেশে লেখা হয়ে গেছে।
ভালো থাকবেন
আরে না! একপেশে হয় নাই। তবে, অন্তঃদহন, অন্তজ্বালা, ক্ষরণ দু'দিকেই মনে হয়। অনেক রিহানকেও তো কাঁদতে দেখি, বিপরিত চিত্রে।
লেখকের মন্তব্য
একদম ঠিক কথা।
মানিকদা, আপ্নে 'তন্ময়' হয়ে পড়ছেন ! তন্ময় জানলে খুশী হবে।
লেখকের মন্তব্য
এমনই পোড়া কপাল আমার "আচার্য" হয়ে কেউ কখনও পড়ে না।
লেখকের মন্তব্য
হওয়া তো দূরের কথা, একশত হাত দূরত্ব বজায় রাখি সেই প্রজাতি থেকে নিজেকে, ঈশান ভাই। দূরত্ব বজায় রাখে তারাও।
এই বিষয়ে অনেক বদনাম, অনেকের অনেক ক্ষোভ আমার উপরে।
লেখকের মন্তব্য
তাই নাকি !!!!
হুম, হুম।
ওসব দেখে হুল ফুটাইতাম আগে। একবার তো তেড়েফুঁড়ে একটা কোবতেই লিখে ফেলছিলাম! তারপর, বিশাল ইতিহাস।
লেখকের মন্তব্য
কবিতা পড়তে মন চায় । বিশাল ইতিহাস জানতেও
আমাদের ইতিহাস পরিবর্তশীল।

বলা যাবে একদিন।
লেখকের মন্তব্য
ইতিহাস পরিবর্তশীল। কিন্তু আপ্নিও কি? চিন্তায় আছি।
আমার নয়, আমাদের জাতীয় ইতিহাস পরিবর্তনশীল। পাঁচ বছর পর পরই পাল্টে যায়।


আরে না! বাউন্ডুলেরা পরিবর্তিত হয় না কখনো। একই থেকে যায় বরাবর... বোধটা তাদের মজ্জাগত।
লেখকের মন্তব্য
ওরে না রে।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
রিহানকে এত সহজে ছেড়ে দেয়া যায় না! রিহান লোভ বেশী করেছে!
শেষে আমি আরো বেশী একশন চাইছিলাম।
কেমন এ্যাকশন? রিহানকে কষে একটা চড় দিলে খুশি হতেন?
উদরাজী ভাই মনে হয় চাইছিলেন ইয়া............ ঢিশুম ঢিশুম ঢিশুম।
এইরকম মনে হয়

হা হা হা।।।।।
লেখকের মন্তব্য
লেখকের মন্তব্য
আরও বেশি কিছু দরকার ছিল ????
লেখকের মন্তব্য
উদরাজি ভাইয়া। অনেক

অসাধারণ বর্ণনা, কল্পনার সুবিন্যস্ত নিপুণ গাঁথুনি আপনার লেখাতে বরাবর পাই।
আপনার লেখা এমন যে পুরো দৃশ্যটা শুধু যে ভেসে উঠে তা না, সেই দৃশ্যটাতে যেন বাস্তবে বসে আছি, এমন মনে হয়।
এতো সুন্দর কান্নার ছবি আমি আগে আর কখনো দেখিনি। অপলক হয়ে তাকিয়ে থাকছি, আর মনের অজান্তেই নির্বাক প্রশ্ন করছি –
কি এমন দুঃখ তোমার, আমায় কি বলবে তুমি?
যদি এমন সুন্দর হয় কান্নার রঙ,
তবে সারা জীবন দুখ বয়ে বেড়াবো আমি।
গল্পটা পড়ে বোঝা যায়, সারমর্মটা কি। হোক নাহয় একদল পুরুষের কারণে পুরো পুরুষ সমাজকে দায়ী করা, এটা তো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, কোন তত্ত কথন নয়। লেখকের চোখেরও তো আবেগ আছে, সেই আবেগকে শ্রদ্ধা জানাই। তাতেই তো শান্ত হয় অভিমানী মন, নতুন একটা শুভ সকালের জন্ম হয়, নতুন আলোয়, নতুন গল্পের। অনেক অনেক শুভকামনা আর শুভেচ্ছা...
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়াকে এতো সুন্দর কথার জন্য। এভাবে অনুপ্রাণিত করার জন্য। আর হৃদয় ছোঁয়া কবিতাটার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা । অসংখ্যবার পড়ছি লাইনগুলো ।
কি এমন দুঃখ তোমার, আমায় কি বলবে তুমি?
যদি এমন সুন্দর হয় কান্নার রঙ,
তবে সারা জীবন দুখ বয়ে বেড়াবো আমি।
অনেক অনেক লিখুন আপনি । শুভকামনা রইলো। ভালো থাকুন। নিরন্তর।
আপনার ভালো লাগা জেনে ভালো লাগলো। অনেক শুভেচ্ছা আর শুভকামনা...
আপু,আপনি নিজেও হয়ত জানেন না,কতটা ছুঁয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে আপনার লেখার!

বরাবরের মতই অসাধারণ।লিখে যান আপু।
আর কবিতার চারটা লাইন!ওয়াও!
রিহানের বাচ্চা
লেখকের মন্তব্য
আমি তোমার কথায় মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ভালো লেখার চেষ্টায় আছি। এভাবে পাশে থেকো ।
তোমাকে আপনি বলতেই পারছিনা। একই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট বলেই হয়তো । ভালো থেকো মিষ্টি আপুনি।
প্রিয় আপু,সেই সকালবেলায় রিপ্লাইটা লিখতে চেয়েছিলাম।কিছুতেই পারলাম না।নেট ভীষণ জ্বালাচ্ছে।


সকালে লিখেছিলাম,'আমাদের কত্ত মনের মিল আপুউউউ!আমার পোস্টে তুমি বলতে বললাম,আর আপনি এখানে তাই বলতে চাইলেন।
আপুর জন্য
আপনি ঢাবির!
আনিকা আপা লাফান কেন? উনি কিন্তু মাস্টার প্রজাতি
লেখকের মন্তব্য
আগে তো স্টুডেন্টই ছিলাম

সেটাই।আগে তো আপু স্টুডেন্টই ছিলেন
লেখকের মন্তব্য
কাগজের নৌকা
তোমাকে
সব মিষ্টি মিষ্টি কথার জন্য। ভালো থেকো । আমাদের মনের মিল আরও বাড়তে থাকুক।
সাকিবা, আপনি আরো ভালো লিখবেন। নিয়মিত লিখুন। আপনার মধ্যে লেখা আছে। গল্প চলুক। সুস্থ্য হয়েছেন দেখে ভাল লাগলো।
লেখকের মন্তব্য
এই গল্পটা পোস্ট দিয়ে আপনাকে ভেবেছি। আপনি পড়বেন কিনা। কিন্তু আপনাকে বোধ হয় বেশ ভয় ভয় পাই, তর্কে আমি চিরকালই কাঁচা যে তাই। আর অনেক বেশি ভুল হয়ে যায় বাংলা লিখতে গেলে।
আজকে খুব ভালো লাগছে। আমার মধ্যে লেখা আছে?? !! প্রিয় ভাইয়াকে অনেক ধন্যবাদ। আরেকটু সমালোচনা চাই আপনার। সময় পেলে বলবেন। গল্প লেখার আরও খুঁটিনাটি নিয়ে।
অনেক শুভকামনা রইলো।
হাতের কাছে ফ্রি সময় থাকলে সবই পড়ি। কিন্তু হয়ে উঠে না, এত এত ঝামেলা নিয়ে থাকি। আমার সম্পর্কে ভুল ধারনা হয়ে গেল আসলে, কারন আমি নিজে ঐরকম বোদ্ধা নই। এই ব্লগে পড়তে পড়তেই যতটুকু বুঝি আর কি। আর তর্ক করা? হা হা। সেটা হলো লাইন ঘাট ঠিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে করে ফেলি। তবে আমি কিন্তু ঝগড়াটে না।
নেক্সট কোন লেখায় নিজের বুদ্ধিতে যতটুকু কুলোয় সমালোচনা করে যাবো। লিখুন। তবে পোষ্ট করার আগে কয়েকবার পড়ে নিলে উপকার পাবেন। নিজ পড়ে দেখেন যে ফ্লো টা ঠিক মিলছে কিনা। বানান কোনটা আপনার চোখে ভুল আছে কিনা, এসব।
আপনি ব্লগে অনেকের গল্পই এখনো মনে হয় পড়েননি। পড়ে ফেলুন।
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
এই অংশটায়, লেখাটা, অনুভুতি গুলা কতখানি আটপৌরে হয়ে থাকলো, বাদবাকি চমৎকার লেখাটায়।
ত্র
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বৃষ্টি ছিল ভেতরে আর বাইরে। সে সদ্য সোনালি ভোরে নির্বাক হয়ে বসে ছিল। অপেক্ষা করছিলো কি? আরেকবার আহবানের? এক যুক্তিহীন আবেগে, তীব্র প্রতীক্ষায়। তারপর এলো আবার সেই ডাক। বৃষ্টির অঝোর বর্ষণের মত। সে ভাবছিল ফোনটা ছুড়ে ফেলে দেয়, গুড়িয়ে দেয়,আবার কি এক তীব্র আবেগের কাছে সে পরাজিত হয়। সে যে এত আকুলভাবে এই ডাকের প্রতীক্ষায় ছিল,সে বুঝতে পারেনি। সে কথা বলেনা কিন্তু তার কণ্ঠ শোনে । তারপর ফোন রেখে দেয়। কথা খুঁজে না পেয়ে। তার ও পর, কাঁদে অন্তহীন।
এইখানে একটুখানি হতাশা আছে। একটা শক্তিশালী গল্পে, এই অনুভুতি গুলা পাঠকদেরকে আবিষ্কার বা নিজে নিজে অনুভব করতে দিলে, পাঠক অনেক বেশি সমপৃক্ততা পায়, পুরো গল্পের সাথে, গল্পটা গল্প ছেড়ে অনুভুতিতে উঠে আসে। আপনি এইখানে সরাসরি অনুশিলার অনুভুতিগুলা বলে দিয়ে মজাটা একটু কমাইয়া দিছেন।
==========
আর পুরা গল্পের মজাটাও এইখানকার মতই। শুরু থেকে কিছু প্রিকগনিশন তৈরী হয়ে যায় আমার, গল্প পড়তে নিলে। সেইটা আপনি চমৎকার ভাবে ভাঙছেন, আর যেমনটা হওয়া উচিৎ, আস্তে আস্তে গল্পের সাথে এগুতে গিয়ে গল্পের সাথে মেলামেশা, সেইটাও চমৎকার হৈছে।
ভালো লিখেন আপনি।
লেখকের মন্তব্য
আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আসলেই অনেক কিছুই না জেনে লিখতে শুরু করা। লেখা শিখতেই ব্লগে ঢোকা। এখন মনে হচ্ছে আগে প্রচুর জানতে হবে, পড়তে হবে তারপর লেখালেখি।
আপনার ব্লগ বাড়িতে যাবো। লেখা পড়ব । জানবো অনেক কিছু। আশায় আছি। ভালো থাকবেন ।
লেখকের মন্তব্য
একটা শক্তিশালী গল্পে, এই অনুভুতি গুলা পাঠকদেরকে আবিষ্কার বা নিজে নিজে অনুভব করতে দিলে, পাঠক অনেক বেশি সমপৃক্ততা পায়, পুরো গল্পের সাথে, গল্পটা গল্প ছেড়ে অনুভুতিতে উঠে আসে।
জানা ছিল নাতো । অনেক ধন্যবাদ ।
সবকিছু মিলে ভাল লাগলো ।
লেখকের মন্তব্য
নিদারুন টেনশন এ ছিলাম। কি বলেন , কেমন লাগে আপনার। এবার মনে হল জ্বর নেমে গেল।
ভালো থাকবেন। এভাবেই আলোচনা সমালোচনায় পাশে থাকবেন ।
এত্ত চমৎকার একটা গল্প এত্ত বিলম্বে পড়ার জন্য
আপুনি

চমৎকার শব্দচয়ন আপনার!

জীবনেও এত সুন্দর গল্প লিখতে পারবো না
লেখকের মন্তব্য
আমার ঘরে এলে!!!! চলো একসাথে গান শুনি। তোমাকে আর ছাড়বনা ।
আপনার বাড়িতে এলাম--এত সহজে আমিও যাচ্ছি না!!

চলেন গান শুনি----- "ভালোবাসা তোমার ঘরে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক
তোমার ইচ্ছেগুলো জ্যান্ত হয়ে বুকের ভেতর তুমুল নাচুক"
আমার অনেক পছন্দের গান---আপনার জন্য
লেখকের মন্তব্য
গান চলবে সারা রাত । আজকে আর কিছু নাই । চাঁদের আলোতে একটার পর একটা গান শুনবো ছাদে বসে।
বন্ধু হবে আমার? বন্ধু না হলে ছাড় নেই । ক্ষমা নেই ।
এই তো বন্ধু হয়ে গেলাম------


ভালোবাসা নিন আপু----
গল্পটা শুরুতে পড়তে ভীষণ বিরক্ত লাগছিল। একঘেয়ে, ক্লিশে। ধীরে ধীরে মূল ব্যাপারটা উন্মোচন হবার পর শুরুর বিরক্তটা কেটে গেল। ঘোরভাঙ্গার খেলা। মানুষের জীবনে এমন ঘোর অনেক ভাঙ্গে। মানুষ নতুন করে ঘোর তৈরী করে।
এই গল্পের সেরা লাইন-
কিন্তু এরকম না হয়ে এমন হলে কথাটা আরো ভালো শোনাত। আর পরের লাইন
গুলো বলে দেওয়াতে মনে হলো পাঠককে সবকিছু বলে দেয়া হয়েছে। কিছুটা থাকুক পাঠকের জন্য?
গল্পের শুরুটা আরো মনোযোগ দাবি করে।
শেষটুকু চমৎকার
লেখকের মন্তব্য
অনেক ধন্যবাদ। গল্প পড়ার জন্য। সত্যি অনুভূতিটুকু প্রকাশ করার জন্য।
ভালো থেকো নিরন্তর।
অসাধারন!!!!
একটি মেয়ের গহীন গভীরতাকে স্পর্শ করতে পারবে, এরকম ক্ষমতা পুরুষের কই?
সুন্দর, সত্য উপলব্ধি!
কবিতাটি খুবই সুন্দর!
লেখকের মন্তব্য
অনেক খুশি হলাম । অনেক প্রিয় আপুকে পেয়ে। গল্প ভালো লেগেছে জেনে আরও ভাল লাগছে।
খুব সুন্দর বর্ণনা। বেশ ভাল লেগেছে।
কী গভীর, প্রগাঢ়, বলিষ্ঠ উচ্চারণ!
লেখকের মন্তব্য
অনেক ভালো লাগছে । মনটা বিষণ্ণ ছিল, আপনার মন্তব্যে মন খারাপ টা উধাও হয়ে গেল।
খুব, খুব ভালো থাকুন আপনি।
অনেক ভাল লেখেন আপনি। বিষণ্ণতা দৌড়ে পালাক, অনিঃশেষ আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি ক্ষণ।
থিমটা চমৎকার। আরো বড় কলেবরে কিছু লিখুন না এই থিমেই
অসম্ভব ভালো লাগছে লেখাটা, ভালবাসার গল্পতে পড়ছিলাম
লেখকের মন্তব্য
অনেক খুশি হলাম। এভাবেই আলোচনা সমালোচনায় পাশে থাকবেন ।
মন্তব্য করুন