সাহাদাত উদরাজী-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কিছুক্ষন আগে আমাদের প্রিয় ব্লগার হুদা ভাইয়ের একটা পোষ্ট দেখে মন আনন্দে ভরে উঠল। পোষ্ট পড়ে আমার মনে এমন একটা শান্তি লেগেছিল যে, মনে হচ্ছিল হুদা ভাইয়ের জায়গায় আমিই আছি। আমার পুত্র একজন, আমার পুত্রবধূও যেন এমন পাই। আমি সেই কামনাই করে গেলাম। আমার পুত্রবধুও যেন হুদাভাইয়ের পুত্রবধুর মত হয়। হুদাভাইয়ের কথায় দৃশ্যটা দেখুন।
পুত্রবধুকে কাছে ডেকে মাবলুকার রেসিপি পড়ে শুনালাম। কাজ হলো তাৎক্ষণিক! তার আবার নতুন নতুন রান্নার প্রতি বেশ আগ্রহ। বাসায় ফুলকপি ছাড়া আর সব কিছুই মজুদ আছে। আহারে, আমার অতি প্রিয় ফুলকপিবিহনে কী আর মাবলুকা হতে পারে? অতএব সেদিনের মত বিরতি!!
পরের দিন। পুত্র, পুত্রবধু তাদের চাকরি-বাকরির ঝামেলায় সারাদিনে আর মাবলুকা নিয়ে কোন কথা বলে নি। সন্ধ্যায় পুত্রবধু আবারও একবার মাকলুবার রেসিপিটা দেখে গেলো। তারপর? আরে ভাই, তারপরই তো সেই মাবলুকার প্রেমে পড়া। আর সেই খবর দেবার জন্যই তো ভরপেটে আমার এই কী-বোর্ড টেপাটেপি।
আপনার পুত্রবধুকে স্যালুট করে গেলাম, এমন 'মা' ঘরে ঘরে থাকা চাই। আমার আজকের এই রেসিপি তাই এই মা'কে দিয়ে গেলাম। তিনি এই রেসিপিটাও আপনার জন্য ট্রাই করবেন বলে আমি বিশ্বাস করছি। মাকলুবার প্রেম ছেড়ে দেশী আলু পুরিতে কেমন লাগে জানাবেন। খুব সহজ, আমি নিশ্চিত আপনার পুত্রবধু নিমিশেই বানিয়ে আপনাকে চমকে দিবেন।

এক কাপ ময়দায় ছোট হলে ৮/৯টা অথবা বড় হলে ৫/৬টা হতে পারে। ময়দায় তেল দিয়ে আস্তে আস্তে খামির বানাতে থাকুন।

হালকা গরম পানি মিশেয়ে নিতে পারেন। তেল খুব বেশী না দেয়াই ভাল।

ব্যস খামির রেডি। খামির বানিয়ে কয়েক ঘন্টা রেখে দিন। ভাল হয় দুই/তিনঘন্টা রেখে পরে বানালে।

আলু ভর্তার উপকরণ। ধনিয়া পাতা, মরিচ, লবন ও পেঁয়াজ কুচি সহযোগে।

ভাল করে মেখে নিন। আলুভর্তা রেডি।

আলু ভর্তা ও খামির!

এবার খামিরের ছোট ছোট টুকরায় আলু ভর্তা ভরে বেলে গোল করে নিন।

ডুবো তেলে ভাল করে ভেঁজে নিন। আপনার মন মত, কেমন পোড়া পোড়া চান।

ব্যস হয়ে গেল, আলু পুরি।

পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

কাঁচা মরিচের সাথে লাগবে বেশ। আলু পুরি শেষে এক্কাপ চা!
আমি নিশ্চিত, হুদাভাই আপনার "কী-বোর্ড টেপাটেপি" আরো বাড়ে যাবে কয়েকগুন!
কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।
মন্তব্য
এতো জোস্ আলু ভর্তা দিয়ে আলু পুরি বানানোর আগে ভাতের সঙ্গে ভাত পুরি না হয়ে যায়।
(মজা করলাম)
পোস্ট দারুন হইছে।
লেখকের মন্তব্য
পোষ্ট দারুন হলেও সকাল হবার আগেই পোষ্ট নিজ পাতায় নিয়ে যাব। চতুরের প্রথম পাতায় এখন ভাষা নিয়েই পোষ্ট থাকা দরকার। বইপত্র কিংবা কবিতা গল্প।

প্রথম হবার জন্য এই নিন।
সাহাদাত ভাই, মাকলুবারে তাত্তাড়ি মাবলুকা করেন!
লেখকের মন্তব্য
নয়ন দা, ভুল বানান কে লিখছে! আমি না হুদা ভাই! হুদাভাই প্রথম ভুল করছেন এবং সেটা আমাদের প্রচ্ছদ আপা ধরিয়ে দিয়েছেন! হা হা হা।।। কিন্তু হুদা ভাই মাবলুকা খেয়ে পোষ্ট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন বলে মনে হচ্ছে। কোন কমেন্ট রিপ্লাই নাই!
আমি আজ সারা রাত আছি!
মাকলুবা!! মাকলুবা!!! মাকলুবা!!!!!!!!
আমি ঠিক করেছি, সবাই ঠিক করে নিন।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই, এখন ঠিক করে আর কি হবে! যা হবার তা তো হয়েই গেছে!
তাইলে আমারেও কিন্তু দোষ দিতার্বেন্না। কারণ, নাজমুল ভাইয়ের সুত্রেই আমি ওই খাবারের নাম জেনেছি বা শুনেছি। রান্নাআপার পোস্টতো পড়িনি।
লেখকের মন্তব্য
এই বানান ভুলের দায়িত্ব হুদা ভাইকেই নিতে হবে। আমি তার কাছ থেকে কপি করেছি মাত্র!
আর আমি, মাকলুবা মাবলুকা করতে করতে শেষ! মাথার মধ্যে কেবল এটাই ঘুরছে!
হে হে প্রথম পুস্ট সাকসেস তাহলে ।ঃ)
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ রান্নঘর ভাই। আপনার আনন্দে আমরা সবাই আছি। কিন্তু বুঝে শুনে পথ চলবেন। তাতে আমরা যারা রান্না ভালবাসি তাদের উপকার হবে। ভুলে যাবেন না চতুর কিন্তু একটা সাহিত্য ও শিল্পকলা সমৃদ্ব ব্লগ। রান্নার পোষ্টে সে জন্য আমাদের আরো অধিক সতর্ক থাকতে হবে। আবার বেশী বেশী রান্নার পোষ্ট দিয়ে চতুরে সবার মন খারাপ করে তুলবেন না!
(আমি আমার অনেক রান্নার রেসিপি পোষ্ট আমার নিজ পাতায় প্রথম প্রকাশ করি বা রাখি, যাদের ইচ্ছা বা আমাকে চিনেন তারা আমার পাতায় যেয়ে দেখে আসেন। ব্লগে রেসিপি সবাই ভালবাসেন এমন নয়!)
এই নয়ন, মাথা থেকে নেমেছে ভুল বানান, ভুল শব্দ?? 'রান্নাঘর'-এর পোস্টে গেলেই তো তোমার মাথা থেকে ভূত নেমে যেতো!!
হাহাহা
ঠিক হয়ে গেছে!
লেখকের মন্তব্য
খাবারের নাম 'নাউন'! ভুল হলে খাবারের স্বাদ কম বেশী হবে হবে না!
ঠিক কথা! নামে কিবা আসে যায়!!
ভালো, সাথে একটু কেচ্চাপ হইলে মন্দ হইতো না
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বোন। কেচ্চাপ টমেটো না মরিচের দিব। শুভেচ্ছা।
টমাটুর হইলে ভাল
তেতুলের টক হইলো তো বাক বাকবাকুম
খানা-খাদ্যের ফটু!
শুধুমাত্র মায়ের কথা আছে বলে মাইনাচ দিলাম না!
শুভেচ্ছা, সেই পুত্রবধু-মা এবং তার শ্বশুরকে। সাথে আপনাকেও, উদরাজী ভাই।
লেখকের মন্তব্য
মানিক ভাই, এত রাতে কি করেন! ঘুমান! আমি না হয় ডিউটিতে আছি!
এমন পুত্রবধু বাংলার ঘরে ঘরে চাই।
আমার বৌমা এই পোস্ট দেখলে যা খুশি হবে!!
লেখকের মন্তব্য
আপনার বৌমার জন্য আমাদের শুভেচ্ছা থাকল।
নেট ডাউন হয়ে যাওয়াতে তখনই মন্তব্যের উত্তরটা পারিনি দেখেও, উদরাজী ভাই। এবং ঘুমোতে গেছি তখনি।
এমন পুত্রবধু বাংলার ঘরে ঘরে হোক।
আমীন।
লেখকের মন্তব্য
এমন পুত্রবধু বাংলার ঘরে ঘরে হোক।
আমিন।
সেই ছোট থাকতে বিকালবেলা টুকটুক করে হাঁটতে হাঁটতে পাশের পাড়ার পুড়ির দোকানে চলে যেতাম আর বাসার সবার জন্য আলুপুড়ি কিনে আনতাম। এখন তো চোখেই দেখি না। অনেক দিন পর আপনার পোস্টে দেখলাম।
লেখকের মন্তব্য
গরম মশলা আপা, আপনি আবার কি বানান লিখলেন! 'আলুপুড়ি'! আমি তো লিখলাম 'আলুপুরি'! বিরাট ভেজালে পড়লাম! কেনটা সঠিক? (এবার ঘরে বানিয়ে নিন, কিন্তু পুরি তেলে ভাজার সময় সাবধান, তেলের চিটকে যেন শরীরে না পড়ে।)
আলুপুরির ক্ষিদে নিয়ে লিখতে গিয়ে এই অবস্থা।
আমি আমার চতুরের ই-মেইল ঠিকানাটা বদলাইতে চাই, কারন আমার বর্তমান ই-মেইল ঠিকানাটা হ্যাক হয়ে গেছে। কি ভাবে বদলাবো বলবেন কেউ????
লেখকের মন্তব্য
মনির ভাই, আপনার প্রোফাইলে গিয়ে এডিট করুন। তা না হলে মেনুতে যোগাযোগ নামের বটনে ক্লিক করে চতুরকে বলুন। আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।
বাহ! আজ শুধু ভালো রেসিপির দিন।
লেখকের মন্তব্য
নিওলিথিক ভায়া, রাতের আড্ডায় খাবার দাবার ছাড়া চলে না। আমার পোষ্ট সকাল নাগাত সরিয়ে নিব। কিছু কবিতা, গল্পের পোষ্ট দিন। একদম তাজা। আজ অনেক পুরানো পোষ্ট পড়েছি।।।।
কাঁচা মরিচ সহযোগে গরম, সদ্য ভাজা আলুপুরি! উমমমমম!
খায়েশের তালিকায় আরও একটা যোগ হইলো, আপ্নের সাথে একসাথে চা-বিড়ি, একদিন পরোটা-সব্জি (এইটার জন্য দায়ী আরণ্যক ভ্রাতা!) একদিন আলুপুরি-কাঁচামরিচ-চা! - ভাইরে, বাঁচতে হইলে কিছু স্বপ্ন তো দেখাই লাগে, নাকি? আমিও এই সব স্বপ্ন নিয়াই আছি! সব স্বপ্নই দেখি আমার উদর-কেন্দ্রিক! আমার নামটাই উদরাজী হইলে ভালো হইতো নাকি! হাহাহা!
- আজকা রাত্রে ধুমায়া লেখেন দি, ভাইডি!
খুব ভালো থাইকেন!
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ বাপী ভাই,
আসলে লেখালেখি আমার কাজ নয়। আমি জাতে উঠতে পারব না! তবে আড্ডা মারতে পারব।।। হা হা হা।।।
আপনার ইচ্ছা আশা করি পুরন হবেই।
শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ সাহাদাত উদরাজী। আমার এ মা এখনও আপনার এই পোস্ট পড়বার সুযোগ পায় নি। তার কথা না শুনে তাই আমি বেশ কিছু বলা উচিত বলে মনে করছি না। তার অনুভূতি পরে জানাবো। আর দেখি এই আলুপুরি কবে নাগাদ খাওয়া হয় আর কী-বোর্ডে তার প্রতিফলন ঘটে?
লেখকের মন্তব্য
চমৎকার স্বাদ। আশা করি, খেয়ে তারিফ করবেন। তবে তেলে ভাজার সময় বেশী সতর্কতা নিতে বলবেন। তেলের ছিটে যে গায়ে না পড়ে।
ধন্যবাদ।
শিখে গেলাম তো!
অনেক ধন্যবাদ।
লেখকের মন্তব্য
এবার আশাকরি বানিয়ে পরীক্ষা করবেন! কেমন হয়!
শুভেচ্ছা।
দারুন একখান পোস্ট।
আচ্ছা পোস্ট প্রিয়তে রাখে কিভাবে?বানানোর আগে তো আর একবার দেখতে হবে।
লেখকের মন্তব্য
বোন সাবিনা, প্রতিটা পোষ্টের নীচে প্রিয়তে নেবার অফসন আছে। রেসিপি দেখে কিছু বানাতে চাইলে অবশ্যই রান্নাঘরে রেসিপির প্রিন্ট নিয়ে যাওয়া উত্তম। আমি তা করি, তবে নিজের ইচ্ছাতে কিছু পরিবর্তন করা যেতে পারে।
আমি এই দেশে সবচে বেশি মিস করি এই খাবার টা। চা আর পুরি খুব প্রিয় ছিল। এটা দেখালাম কিন্তু বানানোর সাহস নাই।
আপ্নারা শুধু মজার মজার খাবার পোস্ট করেন কেন ? একটু দয়া মায়া নাই কারো ?
লেখকের মন্তব্য
এত সহজ!
বানিয়ে বিদেশী বন্ধুদের খাইয়ে তাক লাগিয়ে দিন।
তেলে ভাজার সময় এবং পুরি উলটাপালটা করতে সাবধান। তেলের ছিটে যেন গায়ে না পড়ে।
ব্যস।
শুভেচ্ছা।
পুরো ভাইয়ার মত কথা ।
সবার জন্য এত মমতা, এটা আপনার পক্ষেই সম্ভব। ভাল থাকবেন।
বিকেলে চায়ের সাথে আলুপুরি/ডালপুরির তুলনা হয়না!
আমি বানালে বেশী করে বানিয়ে একটি ট্রেতে বিছিয়ে নরমাল ফ্রিজে ঘন্টা-খানেক রেখে একটি বক্সে ভরে ডীপ-ফ্রিজে রেখে দেই। মেহমান এলে বা নিজের খেতে ইচ্ছে করলে বের করে ভেজে নিলেই হয়।
লেখকের মন্তব্য
আসলেই আপা। অসাধারন।
আমরা কাবাব বা টিকিয়ার ক্ষেত্রে এমন করে থাকি। বিশেষ করে বাচ্চার টিফিনের জন্য।
আপনার আলুপুরির রেসিপি পড়ে আমার সে মা হয়েছে এতই খুশি যা বলবার নয়, এই নিন আপনার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই, আমার রেসিপি লেখার সার্থকতা এখানেই। আমিও খুব খুশি হলাম। দেখতে অসাধারণ লাগছে, স্বাদ নিশ্চয় বলার মত নয়, মুখে লেগে থাকবে। আসলে রান্নাটা একটা বিরাট ভালবাসা। মায়ের ভালবাসা রান্নাতে বেশী থাকে বলেই আমরা মায়ের হাতের রান্নাকে সবচেয়ে বেশী সুস্বাদু বলে থাকি।
আপনার মায়ের জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাছি। তিনি আপনাকে কেমন পছন্দ করেন তার প্রমান তিনি দিয়ে দিয়েছেন, এবার আপনার পালা।
আপনার পরিবারের সবাই আনন্দে দিন পার করুক এমন দোয়া করছি। যে বাসায় এমন 'মা' থাকবে, তা দুনিয়ার স্বর্গ।
ধন্যবাদ। স্বর্গেই বসবাস করছি। আপনার ধারণা সঠিক।
মন্তব্য করুন