সাহাদাত উদরাজী-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ফেব্রুয়ারী মাসে চতুরের প্রথম পাতায় রেসিপি দিলে কে কি বলবে কে জানে? ফেব্রুয়ারী মাস মানেই বই নিয়ে গবেষণা, খাওয়া দাওয়া চলে না!! তা ছাড়া প্রচুর ব্লগার এবারের বই মেলায় বই বের করছেন, তাদের প্রতিটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন, পোষ্ট যত বেশী সময় প্রথম পাতায় থাকবে তত ভাল লাগবে সবার, সবাই জানতে পারব। তাই ফেব্রুয়ারী মাসে কোন রেসিপি পোষ্ট প্রথম পাতায় দিব না বলে সিদান্ত নিয়েছি (নিজ পাতায় চলবে)। যাদের রেসিপি ভাল লাগে, খাবারের ছবি দেখতে ভাল লাগে তারা আমার নিজ পাতায় দেখে আসতে পারবেন।
আজ দুপুরে তোপখানা রোড়ের একটা হোটেলে খাবার খেয়েছি। চার পদের ভর্তা ছিল, স্বাদও ভাল লেগেছিল। কিন্তু দাম অনেক বেশী মনে হয়েছে। এ দিকে গত কয়েকদিনে বাসায়ও নানা পদের ভর্তা হয়েছে। টমেটো, মরিচ, বেগুন ও টাকি মাছ ভর্তা। ভর্তা আসলে খুবই সহজ। শুধু পরিমানের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। পরিমান মত মিক্সিং একটা ভাল ভর্তা তৈরী হয়। চলুন আজ দেখে ফেলি, টমেটো ভর্তা (পুড়িয়ে এবং পোড়া মরিচ, ধনিয়া পাতা দিয়ে)।

পাকা টমেটোর গায়ে সামান্য তেল মেখে কড়াইতে পুড়িয়ে নিন। তাওয়ায় ঢাকনা দিয়ে পুড়িয়ে নিতে পারেন।

হালকা তেলে কয়েকটা মরিচ ভেঁজে নিন। মরিচের ঝাল দেখে দেবেন। ঝাল শরীরের জন্য ভাল নাও হতে পারে!

কিছু পেঁয়াজ কুচি, লবন (প্রথমেই বেশী লবন দিবেন না), কিছু ধনিয়া পাতা ও টমেটো গুলোর চামড়া ছিলে নিন।

প্রথমে লবন দিয়ে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনিয়া পাতা মেখে নিন। এর পর সামান্য সরিষার তেল দিয়ে সব কিছু মেখে/মলে নিন। পুনরায় লবন দেখুন লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।

ব্যস হয়ে গেল। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত, টমেটো ভর্তা। অসাধারণ স্বাদ। বাংলার প্রতি ঘরে ঘরেই প্রায় তৈরি হয়।
[আজ সারা রাত আছি, আরো কিছু রেসিপি (সব ভর্তা হবে) দিব তবে প্রথম পাতায় একটাই পোস্ট থাকবে]
মন্তব্য
মুখে পানি এসে গেছে!
[আবার নাইট শিফট?]
লেখকের মন্তব্য
আহ।।।। কি আর করা! আজ ভাবীকে বানিয়ে দিতে রিকোয়েস্ট করুন!
হা আজ আমার নাইট শিফট ও করে যেতে হবে! অফিসে প্রায় ২৪ ঘন্টা না ঘুমিয়ে থাকতে হবে!
আমার মুক্তি নাই! কোপাল না থাকলে ঘি।।।।।।।! এই আর কি!
জিভে জল এসে গেল!
=============
আচ্ছা, ফেব্রুয়ারিতে কি তাহলে আমিও জোকস টোকস দেয়া বন্ধ করে দেবো?
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ নয়ন ভাই।
আমার মনে হয় যে, ব্লগারা এই মাসে রেসিপির মত জোকস বা হালকা রসিকতা সহ্য করতে পারবে না! এই মাসে সিরিয়াস ব্লগিং বা বইপত্র নিয়ে পড়ে থাকাই বুদ্দিমানের কাজ হবে বলে আমার মনে হচ্ছে।
কারণ যারা বইপত্র লিখেছেন তাদের কথা আমাদের ভাবতে হবে। আমিও প্রচুর বই পড়ব এবং বইয়ের সমালোচনা লিখব বলে ভাবছি।
ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার মাস, মাতৃভাষার মাস, বইমেলার মাস। তবুও এ মাসে বাকী এগারো মাসের মতই খেতে হয়, ঘুমাতে হয়, সকাল-সন্ধ্যা চাকরি করতেও হয়। ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রেসিপি, কৌতুক দেওয়াতে দোষের কিছু আছে বলে তো মনে হয় না।
শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
হুদা ভাই, আপনি ভাল বলেছেন। কিন্তু ব্লগার হিসাবে আমাদের অন্য ব্লগার ভাইদের কথা মনে রাখতে হবে।
ধন্যবাদ আপনাকে ভাল করে বুঝিয়ে বলার জন্য।
টমেটো আর ধনে পাতা, দুইটাই খুব প্রিয়। আর ভর্তা তো আরও প্রিয়। এই ভর্তা বানানোর এখনই ভালো মৌসুম। আপনার সহজ রেসিপির টমেটো ভর্তা নিশ্চয়ই খুব মজাদার হবে।
ফেব্রুয়ারী তো কী হয়েছে। আপনি এবার বইমেলায় একটা রেসিপি বই বের করে ফেলুন, এরপর পুরো ফেব্রুয়ারী জুড়ে চলবে তার বিজ্ঞাপন।
লেখকের মন্তব্য
গরম মশলা আপা, কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
এটা আমার মনে আসছে বলে লিখেছি মাত্র। চতুরে আমিতো রেসিপি এবং খাবার দাবারের কথা ছাড়া অন্য কিছু এখন লিখতেই পারি না বা ভাল লাগে না। হা, অনেক রেসিপি আছে, বই বের করা যেতে পারে বটে! কিন্তু বই বের করতে টাকা কে ইনভেষ্ট করবে! এত টাকা কোথায় পাই! প্রকাশকরা লেখক থেকে টাকা নিয়েই বই বের করে থাকে!
আমাদের উপরে যা দেখায় আমরা কিন্তু তা নয়। যারা বই বের করছেন তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন! হা হা হা।।।।
জিভ জল এসে গেল।
ভাই কেমন আছেন??
অনেক দিন কথা হয় না।
ফেবু থেকে একটা রিকোয়েষ্ট দিয়েছিলাম।
পাননি মনে হয়।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ করিম ভাই। আপনি কেমন আছেন? আমি ভাল আছি।
ফেইসবুকে তেমন একটা যাই না। আমাদের অফিস থেকে ফেইসবুকের লিঙ্ক ব্লক করা আছে। মাঝে মাঝে অন্য কোথায়ও থেকে সুযোগ পেলে যাই। আগামী কাল দেখব বলে আশা করি।
শুভেচ্ছা নিন।
আমি ভালো আছি।
অনেক অনেক ভালো থাকুন ভাই।
এবার জল আটকায় কেমনে?
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ জামি ভাই।
খাবার দাবার কেমন চলছে।
টমেটো আমার ভীষণ ভীষণ প্রিয়। ধনিয়া পাতার নামটা পর্যন্ত সহ্য করতে পারি না।
লেখকের মন্তব্য
আরে বলেন কি মানিক ভায়া! ধনিয়া পাতা দিলে যে কোন রান্নার স্বাদ ২৪ গুন বেড়ে যায়!
গন্ধটাই আমি একদম সহ্য করতে পারি না, উদরাজী ভাই। জোর জবরদস্তি করে খেলেও সমস্যা হয় দেখেছি। এসিডিটিও বেড়ে যায় একটু।
লেখকের মন্তব্য
দরকার নেই। যা খেলে ভাল থাকা যায় তাই খান। একবার শরীরে সমস্যা হলে আর তা সারানো যায় না।। বাড়তেই থাকে।।।।
ভাল থাকুন।।।
মানিক, তুমি গিয়ে বাপী ভাইএর সাথে গলাগলি করে এসো।
সেও ধনেপাতা সহ্য করতে পারতোনা। এখন কি করে কে জানে!
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা।।।।
বাপী ভাইকে আজকাল পোষ্টে কম দেখা যাচ্ছে। ব্যস্ততা বেশী মনে হচ্ছে।
আমিও টমেটো ভর্তা এমন করেই করি।
এক কোয়া রসুনও পুড়িয়ে মাখিয়ে নেই।
লেখকের মন্তব্য
রসুন পুড়িয়ে দিলে স্বাদ বাড়বে, কম্বে না!
ধন্যবাদ সিষ্টার। আপনার রেসিপি পোষ্ট কম মনে হচ্ছে।।।।
আহ, টমেটো ভর্তা!
আমার সবসময়ের প্রিয়।
লেখকের মন্তব্য
প্রতীপ দা, কেমন আছেন?
শুভেচ্ছা নিন।
সবাই জিভে জল আসছে, কিন্তু পোড়া মরিচ দেখে আমারতো চোখে জল এসে গেছে বন্ধু। এই একটি জিনিসকে আমি সাঙ্ঘাতিক ভয় পাই। তবে যে টমেটোর ভর্তা আমার খুবই প্রিয়, কিন্তু দিতে হবে কাঁচা মরিচ। যদিও এই জিনিস পোড়া মরিচেই বেশী মজা।
(আজ নেটে তোমার ছবি খুঁজলাম। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম কোথাও তোমার ফুল সাইজ ছবি নেই।)
লেখকের মন্তব্য
ঈশান, তোমার কথা ঠিক আছে! বয়স বাড়লে মরিচ থেকে সাবধান থাকতে হয়। মরিচে পেটের অনেক সমস্যা করে ফেলে।
(আসলেই নেটে আমার কোন ছবি নেই! যা চোহারা আমার! ভয়ে রাখি না! ছবি দিয়ে আবার কোন কচলানি দিবা! অপেক্ষায় আছি!)
হাহাহা!!!
দোস্ত, অবিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাইছি, তোমারে একজন চরম 'কচলানি' দেয়ার পাঁয়তারা করতেছে, তবে আমি না। শীঘ্রই টের পাইবা।

লেখকের মন্তব্য
হা হা হা।।।।
ভাল কচলানি ভাল!
আমাদের সুন্দরী ভাবী ও পিচকু বুলেট ভাতিজা সহ হ্যান্ডসাম রান্নাতো ভাইএর ছবি দেখেছি আমি গতকাল ফ্লিকারে। সেই সাথে অনেক মজার মজার রান্নার ছবিও!
লেখকের মন্তব্য
অনেক রান্নার রেসিপি জমা আছে। চতুরে বেশী রেসিপি দিয়ে আবার টাইপড হয়ে যেতে চাই না। দুটো বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিলাম বটে, বিবাহ পূর্ব কথা! পরে একদিন লিখে দিব ভাবছি।।। হা হা হা ।।।।। নিজের গুন নিজে!
রান্নাতো ভাইএর মডেল কাহিনী জলদি জানতে চাই!!!!
উদরাজী ভায়া, আপনার এই রেসিপী বাঁচিয়ে রেখেছে আমাকে। ওসাম এক ধারাবাহিক মানুষ আপনি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মারজুক ভায়া। এখন কোথায় মানে কোন দেশে! অনেক দিন দেখছি না যে!
শুভেচ্ছা।
টমেটো ধনেপাতা, পোড়া মরিচ খুব খুব প্রিয়। ভর্তা ভালো পাই।
লেখকের মন্তব্য
আপা, আমি যে দিন ভর্তা বানাই মোটের উপর তিন চারটা ভর্তা বানাই! আমার ব্যাটারীও ভর্তা এক্সপার্ট।
ভর্তা হলে আমার মাও চারটা ভাল খেতে পারেন আরাম করে। তবে বেশী ঝাল হলে সমস্যায় পড়ে যাই।
শুভেচ্ছা আপনাকে।
প্রথমে টমেটো চাক চাক বা গোল করে কাটতে হবে, তারপর পরিমাণ মতো হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখায়ে ১০-১২ মিনিট রেখে দিতে হবে। দ্যান, সামান্য পরিমাণ সরিষার তেলে ভেজে নিতে হবে। তারপর পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ একসাথে ভেজে আলাদ করে রাখতে হবে। এর পর পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণ একসাথে শিলপাটায় পিষতে হবে। পেষা শেষ হলে পরবর্তীতে টমেটোও একইভাবে শিলপাটায় পিষতে হবে। এরপর সবগুলো একসাথে করে প্লেটে রাখুন, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে চাইলে আস্ত মরিচ ও কিছু পেঁয়াজ কুচি, ধনেপাতা কুচি সাজিয়ে রাখুন, মনমতো পরিবেশন করুন, দেখবেন জিভে কাজ করতেছে আনমনে।।।
উদরাজীর পোষ্ট দেখে মনে হইলো এইকথাগুলো। আমার খুব প্রিয় এই টমেটো ভর্তা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ মুক্তি ভাই।
আপনার রেসিপিটা মনের মাঝে ঘেথে নিলাম। একদিন বানিয়ে খাব। পাটা পুতায় পিষা একটা ভর্তা আর একটু পর পোষ্ট করব, আশা করি দেখে যাবেন।
আপনার কমেন্টে যারপরনাই খুশি হলাম।
এবার বই মেলায় কোন কবিতার বই বের হচ্ছে কি! আশা করি জানাবেন। আপনি কবিতায় অসাধারণ।
পাটায় পিষে এই ভর্তাটা করলে অনেক মিহিন হয়। সবকিছু খুব ভালভাবে মিশে যায় এ জন্য খুব টেষ্ট হয়। তবে মরিচ একটু বেশি দিলে টেষ্টটা একটু উর্ধ্বগতি ধারণ করে। তবে যাদের জিভে মরিচ সই না তাদের জন্য অবশ্য আলাদাভাবেও করা যায়। এবার কোন বই মেলাতে আসতেছে না। আসলে আওয়াজ দিবো। পাটায় বাটা ভর্তার মজাই আলাদা। ওকে চোখ রাখবো আপনার রেসিপিতে।
লেখকের মন্তব্য
কবি ভাই, আশা করি এই ভর্তাটাও দেখে নেবেন। পাটাপুতার ব্যাবহার করা হয়েছে। আমরা দুইজনই মোটা, নীচে বসে পাটাপুতায় বাটাবাটি করা কষ্টকর। বড় পাটা টেবিলে তোলাও কষ্টকর! ছোট পাটাপুতা কিনতে হবে। পাটাপুতার ভর্তা বেশ মজা হয়।

রেসিপিঃ কাঁচা মরিচ ভর্তা (রুই মাছ যোগে)
ধন্যবাদ।
অনেক ফাটাফাটি । বানাবো আজ বা কাল।
কেমন আছেন আপনি? অনেকদিন আমার বা আপনার খবর নেই । কথা হয়নি।
ভালো থাকবেন। আমার পোস্টে এবার আপনার ইটা নাই। ইটা মিস করছি

লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সিষ্টার।
আপনার লিখা অন্য ট্যাবে খুলে রেখেছি। পড়তে যাচ্ছি।
গরম ভাতের সাথে শুধু এই ধরনের ভর্তা দিয়ে দুই প্লেট সাবার করা যায়! আশা করি বানিয়ে খাবেন এবং কেমন হল জানাবেন।
না খেয়ে থাকবেন না।।। হাতের কাছে যা থাকে তা দিয়েই ভাল কিছু করা যায়।
টমেটো ভর্তা খেয়েছি। সত্যিই ভীষণ মজাদার।
লেখকের মন্তব্য
নুতন আর একটা ভর্তা এসে গেছে! কাঁচা মরিচ ভর্তা। আসা করি সেটাও দেখবেন।
ধন্যবাদ।
আজ রাতেই খেলাম।আপনার রেসিপি দেখে আবার খেতে ইচ্ছা হচ্ছে ভাইয়া।ছবিগুলো চরম লোভনীয় এসেছে।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সিষ্টার। অনেক অনেক দিন পর আপনাকে ব্লগে দেখলাম।
কেমন আছেন? নিয়মিত লিখুন।
অনেকদিন পরই এলাম ভাইয়া।আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।আপনি ভাল তো ভাইয়া?
হ্যাঁ।লিখব আবার
দাদা দিন কেমন গেলো ?
লেখকের মন্তব্য
নানা টাইপের ব্যস্ততা। এখন বসে আছি। আর মনে বলছি, আজ রাতে যেন কেহ না মরে! সবাই যেন বেঁচে থাকে। আমার নাইটে যেন কেহ এই দুনিয়া ছেড়ে চলে না যায়!
আমার পোস্টের কমেন্টের শেষে আপনার জন্য একটা প্রশ্ন ছিল।
কিন্তু ভাইয়ার উত্তর নাই।
উত্তর না দিলে বড় ভাইয়ার ছাড় নাই।
আহারে কবে যে এইটা বানাবো! অস্থির অস্থির লাগছে!
লেখকের মন্তব্য
পানির মত সহজ কিন্তু স্বাদে অতুলনীয়। তবে ঝাল বেশী দেবেন না!
আজই বানিয়ে ফেলুন।।।।।।
মন্তব্য করুন