সাহাদাত উদরাজী-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বছরের শেষ দিন আজ। বাসায় কেউ নেই হঠাত কয়েকজন বন্ধু এসেছে। রাতে আড্ডা হবে। এমতাবস্থায় ফ্রীজ খুলে দেখলেন, কিছু চিকেন আছে (চিকেন ফ্রাই হিসাবে রেসিপি দেয়া হবে), সাথে একটা মাছ দেখলেন, আকারে বড়। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার ফাঁকে এই বড় মাছটাই বেশ মজাদার খাবার হিসাবে খুব সহজে তুলে দিতে পারেন। পার্টি উৎসবে জমবে বেশ। চলুন, কথা না বাড়িয়ে দেখে ফেলি। খুব সহজ ও সাধারন রান্না কিন্তু খেতে বেশ লাগবে।

মাছ ভাল করে পরিস্কার করে লবন পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

মশলাঃ একচামচ লাল মরিচ, হাফ চামচ হলুদ, এক চিমটি ধনিয়া গুড়া, এক চিমটি জিরা, এক চিমটি চিনি, এক চিমটি লবন, দুইচামচ বারবী কিউ সস (না থাকলে টমেটো সস) মিশিয়ে সামান্য পানি দিয়ে মশলা বানিয়ে নিন।

ভাল করে মাছের গায়ে মাখিয়ে নিন

এবং মাছের মুখে, পেটে, কাটা ভাজে ভাল করে মাখিয়ে নিন এবং কিছু ক্ষন রেখে দিন।

চওড়া কড়াই বা সস্প্যানে তেল নিন (পরিমান আপনার ইচ্ছার উপর) এবং গরম করুন। গরম তেলে মাছ ছেড়ে দিন।

এক পিট হয়ে গেলে অন্য পিট উলটে দিন। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, বেশী আগুনের আঁচে নয়, হালকা বা কম আঁচে মাছ ভাঁজতে হয়। নতুবা পুড়ে যাবে। যে কোন মাছ ভাঁজিতে ধৈর্য একটা বিরাট ব্যাপার। দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, ধৈর্য হারিয়ে অসময়য়ে উল্টা পাল্টা করলে মাছ ভেঙ্গে যায় কিংবা চামড়া উঠে যায়। সুতারাং সাবধান।

সময় মত উল্টা পাল্টা করুন। খুন্তি দিয়ে চাপ দিয়ে দিয়ে ভিতরটা যেন ভাল মজে সে দিকে লক্ষ্য রাখুন। মোটামুটি এই রকম বড় একটা মাছ ভাঁজতে অনেক সময় (মিনিট ৩০/৪০) লেগে যেতে পারে। ভাজাটা আপনি আপনার মনের মত করে নিন, হালকা পোড়া কিংবা বেশী।

ব্যস রেডী, বন্ধুদের সামনে হাজির করতে পারেন। খুটে খুটে অসাধারণ লাগবে। জমবে বছরের শেষ দিন। সাথে চানাচুর কিংবা বাদাম থাকলে কথা নেই।
(ফ্রীজে থাকা চিকেন দিয়ে আজ আর একটা রেসিপি দিব, যা বছরের শেষ রেসিপি হবে, বোতলবাজদের জন্য। সেটা রেডী হয়ে গেলে এই রেসিপিটা প্রথম পাতা থেকে নিজ পাতায় চলে যাবে। বিষয়টা সবাই হালকা ভাবে নিবেন। মনের আনন্দেই লিখা মাত্র!)
মন্তব্য
মচমচে ভাজা মাছ খেয়ে নিলাম রাত তিনটা বাজে অসুবিধা নাই আড্ডর রাতে সব চলে
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ সিস্টার। আমরা আজ রাতে ২০১১ বিদায় জানাতে রেডী, আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। আপনাদের তো এখনো অনেক সময় বাকী! হা হা হা।।।। ঢাকায় চারটা ভাম্যমান আদালত করা হয়েছে, হাতে নাতে পেলেই চালান দিবে জেলে! আমাদের আনন্দও করতে দিচ্ছে না এই সরকার।।।।।
হেপী নিউ ইয়ার ২০১২। ভাল থাকুন।
মাছ ভাজা বরাবরই আমার খুব প্রিয়। এটাও মজার হবে বুঝাই যাচ্ছে। কিন্তু তার আগে বলেন আপনি গাড়ী থামাইয়া কৈ গেছিলেন?
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ অদ্ভুত ভাই,
গত বৃহস্প্রতিবার অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। আমার ব্যাটারী/বুলেট বাসায় নাই (আখাউড়া গিয়েছে, বুলেটের নানার বাড়ী), ছুটি নিয়ে বাসায় টিভি দেখে এবং বিকালে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে সময় কাটিয়েছি। একটু হালকা মজায় সময় কাটালাম আর কি? নেটে আসতে পারি নাই।
গাড়ী নিয়ে আজ আছি।।।।। হা হা হা।।।
হেপী নিউ ইয়ার ২০১১। ভাল থাকুন।
ওয়াহ!!
মাছ ভাজিতে আমি নিজে ইদানিং বেশ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছি। এটার মূল সূত্র হলো ইনসটিংকট। মানে ঘ্রাণ আর রঙ দেখে অনুমান করা কখন উল্টাতএ হবে কখন নামাতে হবে এইসব আর কি!!!
মাছ ভাজার ছবিটা দেখে ব্যাপক পাইলাম। আজকে বাসা বদলানোর ঝামেলায় আছি। নইলে এখনি মাছ ভাজি করে ফেলতাম।
উদরাজী ভাই শুভ ইংরেজি নববর্ষ আগাম।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ শিমুল ভাই। আপনাকে আর রাতে দরকার ছিলো। আমরা বন্ধুরা এক বন্ধুর ছাদে বারবি কিউ'র ব্যবস্থা করছি। চলে আসেন।।। হা হা হা।।।।।
নুতন বছরে নুতন বাসা! জমবে বেশ।।।
আপনাকেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।।।। পরের রেসিপিটা দেখে নেয়ার আমন্ত্রন জানাছি।।।। আপনার জন্য কাজে লাগতে পারে।।। আসছে।।।
উহু। আই ডোন্ট লাইক মাছ। আমি মাছ খামুনা।
লেখকের মন্তব্য
বালক ভায়া পরের রেসিপি আসল লোকদের জন্য আসছে। লিখছি! ছবি দিয়ে যাই।।। দেখেন পছন্দ হয় কি না।।।।

শুভেচ্ছা।।।।
আমার পছন্দের তেলাপিয়া মাছ মনে হচ্ছে

মাছ পরে আগে আপনেরে খামু 
ভাই লুল ফালাইতে বাধ্য করলেন
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ তন্ময় ভায়া,
তেলাপিয়া ভাজা আগেই দেয়া হয়েছে। যে কোন মাছ ভাজা মন্দ নয়। ভাল লাগে।
নুতন বছর হয়ে উঠুক আনন্দে ভরপুর।
তাহলে কি মাছ এটা ? ?
লেখকের মন্তব্য
দেখি কেহ বলতে পারে কিনা? না পারলে আমিই বলে দিব।
কেউ তো বলতেছে না ! !
লেখকের মন্তব্য
নীচে আমার রান্নাতো আপা বলে দিয়েছেন। দেখুন।
নাকে মনে হয় ঘ্রাণটা এসে লাগছে।
ইয়ামি ইয়ামি।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ জামি ভাই।
জামি ভাই যখন মাছ ভাজা বানাবেন তখন তার ঘ্রাণটা নাকে লাগলে মনে হবে ইয়ামি ইয়ামি নয় জামি জামি।
দেখেই খেতে মন চাইছে। আসছি চলে!
লেখকের মন্তব্য
ব্যাপার না মানিক ভাই, আজ রাতে চালিয়ে দিন কোথায়ও! হা হা হা।।।
আমরা কিন্তু অবিবাহিত থাকতে।।।।।।। যেখানে রাত সেখানে কাত অবস্থায় থাকতাম।।।
সাহাদাত ভাই শুধুই কি কাত হতেন উপুর বা চিত হতেন না?

লেখকের মন্তব্য
সবই বাংলা ভাষা। আমার কিছু করার নেই।
তেলাপিয়া ভাজা মনে হইতেছে ! মাছ ভাজা খাইতে মন্চায়, কিন্তু....।
লেখকের মন্তব্য
আফসোস বন্ধু, এখনো তেলাপিয়া মাছ চিনলা না! তোমাকে দিয়া হবে! ভাবিকে দেখাও এটা কি মাছ, তিনি বলে দেবেন!
কিন্তু আবার কি! বয়স হয়েছে, সাবধানে থেকো!
বন্ধুরা, আমি না হয় ভুল করেছি, আপনারা বলুন না হয় এটা কি মাছ ? উদরাজী বলবা না।
লেখকের মন্তব্য
এটা পরিচিত মাছ। যারা মাছ বাজারে যায়, তারা সহজে চিন্তে পারবে। বাজার করার অভিজ্ঞতা চাই!
সাহাদাত ভাই প্রায় একি রকম মাছের অর্ধেক দিয়ে দুপুরে দুই প্লেট টানলাম।
এখন আপনার এই পোষ্ট দেখে শান্তি লাগছে।
নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
লেখকের মন্তব্য
ধন্যবাদ করিম ভাই।
আপনাকেও শুভেচ্ছা।
সাহাদাত ভাই, অনেক ধন্যবাদ । অনেকদিন মাছ ভাজা খাইনা। আজকে বানাব। আপনার রেসিপি দেখে উৎসাহিত হলাম। আগে যখন চতুর এ ছিলাম না তখন ই কুটুম হিশেবে পড়ে আপনার হালুয়া আর আলু কারি বানিয়েছিলাম। দারুন।
ভাল থাকবেন। অনেকদিন বিরিয়ানি খাইনা। আপ্নারে বললাম আর কি। কিছু মনে নিএন না।
লেখকের মন্তব্য
বেশ ভাল লাগল বোন।
রেসিপি দেখে ট্রাই করেছেন জেনে খুশি লাগছে। আমার রেসিপি দেয়ার এটাই উদ্দেশ্য। কাজে লাগল জেনে খুশি হলাম।
শুভেচ্ছা।
আমি বেশী কঠিন রান্নার রেসিপি দিতে চাই না। বিরিয়ানী মার্কা রেসিপি আছে তবে এ সব নেটে কমন তাই দিতে চাই না।
ঘরের বাংলা খাবার আমি পছন্দ করি।।।।
হা হা হা।।।। ব্যাপার না।।।।।
বিরিয়ানির রেসিপি দিতেই হবে কথা নাই। কিন্তু দিলে ।।। কি বলেন?
লেখকের মন্তব্য
না।।। আমি আর কি বলব।।।।।
আরে সাহাদাত ভাই, ঐদিন পোস্ট দিয়া হাওয়া হয়া গেলেনযে!
গাড়ীতো আমার হাতে দিয়া গেসিলেন!
---
আবারও ৫০০!
[বিগত ৭ দিনের] বাচালশ্রেষ্ঠ
* নয়ন ( ৫০০)
* ফজলে হাসান জামি ( ২৪১)
* কাগজের নৌকা ( ২৩০)
* সাহাদাত উদরাজী ( ২০৫)
* অদ্ভুত আচার্য ( ২০৩)
* ঈশান মাহমুদ ( ১৯৪)
* তন্ময় ( ১৫৯)
লেখকের মন্তব্য
সাব্বাস।।।। নয়ন দা।
আজ আমি ২য় স্থানে এসে যাব।
আপনি দেখছি সর্বাধিকবার ৫০০র বেশি কমেন্ট করার রেকর্ড করছেন। মারহাবা! মারহাবা!!

হুম, এটা নিয়ে তিন তিনবার হলো।
এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ হয়েছিলো, ৫৬৮।
চালিয়ে যান। আমরাও তো অনুপ্রাণিত হচ্ছি।
লেখকের মন্তব্য
ব্লগের নেশা বিরাট নেশা!
এই নেশায় পড়লে খবর আছে।।।।
এটা কি সিলভার কার্প মাছ?
ভাজাটা দারুন হয়েছে!
লেখকের মন্তব্য
হা রান্নাতো আপা।
আপনি সঠিক ধরেছেন।
ব্লগের পোলাপাইন/পাইন্যা একটাও বাজারে যায় না! বাজারে গেলে ব্লগিং করবো কে?
বাজারে না গেলেও বাসাতেই আমি মাছ, সবজি সবই নিজে কিনি। নিজের হাতে কেনার মাঝে একটা তৃপ্তি আছে। এই মাছ দেখে একটা কথা মনে হলো,- ছেলে তখন ছোট। আমি সিলভার মাছ কিনে ভেজে রুই বলে চালিয়ে দিতাম কেউ টের পেতোনা। মাছ কাটা দেখার ভিষন আগ্রহ ছিলো ছেলের। সে সবই দেখতো। কিন্তু কিছুই বলতোনা। বড় হয়ে তাকে রুই মাছ দিলেও বলতো, " মা এটা কি বোয়াল মাছ"?
আমি বলতাম, "গাধা বোয়ালের কি আশ থাকে"? সে বলতো, " আপনাকে বিশ্বাষ নাই! ছোট বেলায় দেখেছি সব মাছই রুই মাছ বলে খাওয়াতেন"। 
লেখকের মন্তব্য
হা হা হা।।।।। আপনার কথায় আমার মায়ের একটা বিষয় মনে পড়ে গেল।
আমরা চার ভাই বোন। খেতে বসে কারো পাতের শাকে দেখা গেল, পোকা! (এটা কেমনে যেন মাঝে মাঝেই হত, মানে মাস দুয়েকে একবার)। আগুলে নিয়ে সেটা হয়ত আমরা আম্মাকে দেখাচ্ছি, আম্মা দেখেন - পোকা।
আম্মা সেটা তার হাতের আগুলে নিয়েই চাপ দিয়ে গলিয়ে ফেলতেন, কি বলিস! এটা আবার কিসের পোকা! কই, কোথায়, কিসের পোকা। (যেহেতু গলে ফেলেছেন আমাদের প্রমান করার উপায় থাকত না)
হা হা হা।।। এখনো আম্মাকে আমরা বলি, পোকা আমরা দেখি আপনি দেখেন না! খেতে বসে সবাই মিলে হাসি।
এখন আর আম্মা রান্না করেন না।
মন্তব্য করুন