হযরত মামুন আব্দুল্লাহ্-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

উদাস আব্দুল্লাহ, যিনি এখন নিজের নামটা আব্দুল্লাহেল বাকি লিখতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আমাদের বাকি স্যার - আমাদের কেন্দ্রের বাইরের কেন্দ্র, যাকে ঘিড়ে অনেকগুলো আড্ডা আবর্তিত হয়, হয়েছে, হবে...যাকে নিয়ে কোন দিন লেখা হয়নি...যাকে নিয়ে, যার জন্য লিখতে বসলাম
কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরের বড় বিপদ - মনের মানুষের সাথে বেশিদিন সখ্যতা থাকে না...বন্ধুদের আড্ডা বৃত্তবন্দি হয়ে পড়লেই সেখানে একটা কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়...যাকে ঘিড়ে আড্ডা এবং আড্ডার প্রসঙ্গ আবর্তিত হয়...তো যারা কেন্দ্রের বাইরে থাকতে চায়, স্বেচ্ছায় - তারা বেশিদিন এরকম এক আড্ডায় থাকতে পারে না...থাকেনা...আর যারা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে চান - তাদের ঘিরে, তাদের পরিধির ভেতরের মানুষদের মধ্যে কেন্দ্রবিন্দুর স্তাবক না হয়ে থাকা মুশকিল বলে অনেকেই পরিধির ভেতর থেকে কেটে পরে নিয়মিত নতুন আড্ডার খোঁজে...যেখানে আড্ডাটা বৃত্তবন্দি নয়...যে আড্ডা বাদবাকীদের আড্ডা...যেখানে সবাই কেন্দ্র,পরিধি,ব্যাস এবং ব্যাসার্ধ...যেখানে সবাই বিন্দু..
তো আমাদেরো একটা বাদবাকীদের আড্ডা ছিল - কেন্দ্রের বাইরে, মফস্বলে, যেখানে কবিদের মানুষ পাগল বলে চেনে...যেখানে কবিরা অন্তরালে থাকে - প্রায় অস্তিত্বশুন্য জীবন যাপন করে...করতে বাধ্য হয় - পরিচয়ের সংকটে, বন্ধু'র অভাবে, আড্ডাহীনতার কারণে...কারণ তারা বেকার-বাউন্ডুলে-পুলিশ-চোর-মিলিটারী-মাষ্টার-সংসারী-সন্ন্যাসী কোন পরিচয়ের ব্রাকেটেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না...আপদমস্তক কবি হতে চায়, কবির জীবন যাপন করতে চায়...
আর আমাদের সুদুর মফস্বলে যারা এরকম জীবন যাপন করে তাদের ঢুড্ডে বলা হয়...যেমন আব্দুল্লাহেল বাকি এবং বাদবাকী আমরা...যারা শিক্ষিত-মধ্যবিত্ত-সুশিল সমাজের সাথে থেকে বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু অথবা পরিধি-ব্যাস-ব্যাসার্ধ হওয়ার পরিবর্তে অক্ষরজ্ঞানহীন-শ্রমজীবি-অভদ্রদের ভেতরে মুখোসহীন জীবন যাপনেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে...
তো এরকম পরিপার্শ্ব নিয়েও আব্দুল্লাহেল বাকি কে ঘিড়ে কোনদিনই আমাদের বাদবাকি ঢুড্ডেদের আড্ডাটা জমে ওঠেনি...আবার এখানে, এই পুরোনো শহরে ঘুরেফিরে তাকে নিয়েই বারবার বাদবাকিদের আড্ডা বসেছে...কারণ কেন্দ্রের বাইরে কেন্দ্রচ্যুত-বৃত্তবন্দি আমাদের তার কাছে ছাড়া যাওয়ার জায়গা নেই...আমাদের সুদুর মফস্বলে বাদবাকীদের আড্ডার একমাত্র অবলম্বন, যাকে যে কোন বছরের যে কোন মাসের যে কোন সপ্তাহের যে কোন দিনে কবিতার আড্ডার জন্য পাওয়া যায়...সেই আব্দুল্লাহেল বাকি বাদবাকী লুথা-মাখতা-ম্যাথা-দুরমুশোদের নিয়ে একদা একটা কবিতা রচেছিলেন, যা এখন লিজেন্ড হয়ে গ্যাছে...আমাদের সুদুর মফস্বলের

আব্দুল্লাহেল বাকি'র কবিতা
লুথা তোমার কথা মনে পড়ে
যে দিন আমরা স্ফুলিঙ্গশীল পুরুষের কথা
ভুলে কেবল আহত বলদগুলির পশু অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শিবের
সিংহাসনে জ্বলেছি আগুন
যে দিন হুলো বেড়ালে দল ঘুমিয়ে
ঘুমিয়ে চাটে ইঁদুরের বাট আর
শিয়ালদের
গুদাম ঘরে দেখি পোল্ট্রি
খামার
লুথা তোমার কথা মনে পড়ে
তুমি লাইস্যার চেয়ে কত নিরাপদ, কত ভাবনা হীন অজগর!
তুমি গুই সাপ এবং খাটাসের চেয়ে অর্ধেক ভালো
তোমার করাল থেকে সহজেই
রাম ছাগলের বাচ্চাগুলো
বেমালুম বেঁচে যায়
তুমি অনেকটা মাখতার মত
মাখতারা গাড়লের চেয়ে
কিছুটা ভালো
কিছুটা নাদান
দুরমুশোরা এখন বড় দাম্ভিক
দুরমুশোরাই এখন সর্বত্তম মহারাজ
ভন্ডুলেরা আছে বলেই এরকম হয়
ম্যাথারাই বা আবার কম কিসে?
ম্যাথাদের চাই শুধু মদিনার মদ
আর আফগানী প্রমোদের ভার
আর ওমেদ আলীদের যতটুকু কৃত কর্মের ফল
সবটুকু আলসে খানায় পঁচে সার
উলামবাড়্যেরা আবার এতটাই ফঁ
পাঁজেরো ছাড়া তারা মাখতাদের দুয়ারে বেড়াতেই আসেনা!
আর হার-হাভাতের দল খেয়ে ফেলছে
পতাকার কুসুম-অব্দি সব!
এখন এখানে এই সব লটকা-ঝটকার দিনকাল
এমন দিনে লুথা তোমাদের কথা মনে পড়ে
মনে হয় আমিও লুথা হয়ে
বসে থাকি অলস কোন ঘুঘুর পাশে
যেন আর কোন দিন না দেখি
ভেলস্যেদের ভাষণের ভালগার
এর চেয়ে মাখতার সাথে চলে যাবো মথুরায়
মথুরায় মাখতাদের অভয় নিবাস
শেষ সংবাদ ঃ আমাদের বাকি স্যার নির্বাণের দিকে যাচ্ছেন...তিনি ত্যাগ করতে করতে সম্প্রতি তার ই-মেইল-ফেসবুক-ব্লগের আই.ডি.ও হারিয়ে ফেলেছেন...আসুন আমরা তার সাধনা'র সিদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি...আমেন।।
মন্তব্য
বিন্দু হতে চাই
লেখকের মন্তব্য
বিন্দু হয়ে যাচ্ছি...
লেখকের মন্তব্য
বিন্দু হতে চাই.........
আমিও বিন্দু হতে চাই।
লেখকের মন্তব্য
বিন্দু হয়ে যাচ্ছি..
ভেতরের বিন্দু হতেই চাই, কেন্দ্রের না।
কেন্দ্রের বিন্দু গুলা এক কালে নিজেই আরেকটা বৃত্ত তৈরী করতে থাকে অহমে, বৃত্তে ভেতেরে বৃত্ত! সেইটা খুব ভয়ানক।
লেখকের মন্তব্য
তথাস্তু।
যথার্থ।
লেখাটা পড়ে আড্ডাইতে ইচ্ছা করতেসে, কেন্দ্রচ্যুত বিন্দুদের আড্ডা!
লেখকের মন্তব্য
হুট করে চলে আসুন একদিন বাদবাকীদের আড্ডায়...........
ঢুড্ডে একটা নতুন শব্দ শিখলাম
লেখকের মন্তব্য
যারা আড্ডা দিয়ে জীবন পার করে তাদের ঢুড্ডে বলা হয়...আমাদের মফস্বলে।
শুভ কামনা।
লুথা? লাইস্যা? মাখতা? দুরমুশো? ম্যাথা? উলামবাড়্যে? ফঁ? ভেলস্যে?
এতগুলো শব্দের অর্থ বুঝি নাই, লেখারও অনেক শব্দের মানে বুঝি নাই।
কবিতার মনে হয় কিছুই বুঝিনি, তবু ভাবটা খুব ভালো লাগছে।
এখন এখানে এই সব লটকা-ঝটকার দিনকাল - এই লাইনটা খুব ভালো লাগছে। যদিও এটাও ঠিক বুঝি নাই। কবিতাটা মনে হয় খুব ক্যাচি - না বুঝলেও অনেক আকর্ষন টের পাই।
লেখকের মন্তব্য
লুথা =দীনহীন
লাইস্যা = বেল নাই যার
মাখতা = যারা মাখিয়ে বেড়ায় (গন্ধ)
দুরমুশো = অহংকারী
উলামবাড়ে = ব্যাকরণহীন
ফঁ = টাল/মাতাল
ভেলস্যে = বোধহীন
শব্দগুলোর কাছাকাছি মানে দেওয়ার চেষ্টা করলাম, যদিও জানি অর্থহীন....কারণ শব্দগুলোর প্রয়োগ না জানলে মানে বোঝা মুশকিল... যেমন কিরে লাইস্যে, কি করিস? শালা একটা মাখতা...উলামবাড়্যের মতোন করিস না...
এগুলো প্রাকৃত জনদের ভাষা (আঞ্চলিক ভাষা নয় )...
হা হা হা -- দারুণ মজার লেখা -- খুবই মজা পেলাম পড়ে।
আপনার গল্প বলার ষ্টাইলটা দারুন ।
[ইহা একটি পিঠ থাপরা থাপরি কমেন্ট]
লেখকের মন্তব্য
আহা ! মরি মরি !!
এই কথাটা জোসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস লাগল ভাইয়া।আমি নিজেও এমন।
তন্ময় বাতাস বলেছেন
লেখাটা পড়ে আড্ডাইতে ইচ্ছা করতেসে, কেন্দ্রচ্যুত বিন্দুদের আড্ডা!
মন্তব্য করুন